ঘাটাইলের দেউলাবাড়ীতে নৌকা বাইচ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের পোয়া কোলাহা গ্রামের চকে বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল ও আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুই দিন ব্যাপী স্থানীয় নেতাকর্মী ও টাঙ্গাইল জেলা ট্রাক মালিক সমিতি, পাকুটিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ কায়ছার আলম খোকনের আয়োজনে এই নৗকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য নৌকা বাইচ দেখতে আসতে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ। এবারের বাইচে অংশ নেয়  ১৪টি নৌকা। নৌকাগুলো প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

নৌকা বাইচে অংশ নেয়া প্রতিযোগীরা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নৌকা বাইচে অংশ নেয়। সখের বশে মানুষকে আনন্দ দিতে তারা বাইচে অংশ নেয়।

আয়োজকরা জানান, গ্রামীন ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এবং মানুষকে আনন্দ দিতেই এই আয়োজন। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে, যা বর্তমানে হারিয়ে যেতে বসেছে।

তাই এই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ আয়োজন করা হয়েছে।

নৌকা বাইচ শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

(আল-আমীন রহমান, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা

আজ সোমবার (১০ আগস্ট) বিকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের কাছড়া গ্রামবাসীর যৌথ উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলার কাছড়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র কল্যাণ সংগঠন এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। কাছড়া গ্রামের স্থানীয় একটি নদীতে এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

বিরাহীমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম খানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন দিগড় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিগড় ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফ এস টেক্স মিল গেট টঙ্গী গাজীপুরের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার ফরিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বন্দরের উপ সহকারী পরিদর্শক মোঃ শফিক, সমাজসেবক আব্দুর রশিদ, ডাক্তার সুলতান মাহমুদ, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল মালেক খান, মোশারফ হোসেন বিএসসি প্রমুখ।

নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলকে পুরস্কৃত করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

(রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল ডট কম)/-

নেপালকে রেল ট্রানজিট দিচ্ছে বাংলাদেশ

রেলপথে নেপালকে ট্রানজিট সুবিধা দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এজন্য নেপালের সঙ্গে থাকা ট্রানজিট চুক্তি সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা এ বৈঠকে যোগ দেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরের লক্ষ্যে ‘অ্যাডেনডাম টু দ্য প্রটোকল টু দ্য ট্রানজিট এগ্রিমেন্ট বিটুইন দ্য গভর্মেন্ট অব দ্য পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ অ্যান্ড দ্য গভর্মেন্ট অব দ্য ফেডারেল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব নেপাল’র খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘১৯৭৬ সাল থেকে নেপালের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক ট্রানজিট এগ্রিমেন্ট আছে। সেই ট্রানজিট এগ্রিমেন্টের মধ্যে নেপাল একটি রিকোয়েস্ট করেছে আমাদের রোহনপুর আর ভারতের সিঙ্গাবাদ হয়ে যে রেলপথ আছে সেখানে আরেকটি ট্রানজিট সুবিধা দেয়ার জন্য।’

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৭৬ সাল থেকেই এই প্রোটোকলটা আছে, নতুন আরেকটা ওপেনিং হলো। রোহনপুর ও সিঙ্গাবাদ রেলপথের মাধ্যমে তারা মালামাল আনতে ও নিতে পারে সেটা।

এই সংশোধনীর প্রস্তাব অনুমোদন পেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোহানপুর থেকে ভারতের সিঙ্গাবাদ হয়ে নেপালের বীরগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথে পণ্য পরিবহন সুবিধা চালু হবে।

‘আরেকটা জিনিস এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে যে, নেপাল আমাদের সৈয়দপুর এয়ারপোর্ট ব্যবহার করতে চায়। এটা আলোচনা চলছে, আজকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ওইভাবে আর উপস্থাপন করতে পারেনি। যদি এটায় এগ্রি হয় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে সেই প্রস্তাবও এখানে আসবে, আরেকটা অ্যামেন্ডমেন্ট আসবে’ বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে দিচ্ছি। সবগুলো জায়গায় আমরা ওপেন করতে পারিনি। সুবিধা আমরাও পাব।’

কাস্টমস সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানে সৌদির সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরের লক্ষ্যে ‘এগ্রিমেন্ট বিটুইন দ্য গভর্মেন্ট অব দ্য কিংডম অব সৌদি এরাবিয়া অ্যান্ড দ্য গভর্মেন্ট অব পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ অন কো-অপারেশন অ্যান্ড মিউচুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট ইন কাস্টমস ম্যাটারস’ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে সৌদি আরবের অনেক যোগাযোগ আছে। সেই যোগাযোগের ক্ষেত্রে কাস্টম একটি বড় ফ্যাক্টর। সেজন্য সৌদি আরবের শুল্ক সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান, শুল্ক ফাঁকি রোধে সহযোগিতা করা। কীভাবে বাণিজ্য সহজ করা যায়, যদি আমরা কাস্টমস ডিউটিগুলো ইজি করে ফেলতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘এই চুক্তি করলে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও বাড়বে। দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ সুসংহত হবে। দুই দেশে অনলাইনে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবে। পণ্যের অবৈধ বাণিজ্য ও চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রাখবে এটা।’

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘দুই দেশের অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য ও অন্যান স্বার্থ রক্ষায় এটা কার্যকর হবে। গোয়েন্দা কার্যক্রমের বিষয়ে দুই দেশ পরস্পরকে সাহায্য করতে পারবে। আমাদের দেশের কাস্টম বিভাগের দক্ষতা বাড়াতেও সৌদি আরব আমাদের সহায়তা করবে।’

(জাগো নিউজ, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে এক প্যাকেট বিড়ির দামে খাসি, সিগারেটের দামে মিলছে গরুর চামড়া

বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহৎ রপ্তানি পণ্য কাঁচা চামড়ার বাজার আজ ধ্বংসের পথে। সিন্ডিকেট, প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবাধে চামড়া পাচার, ব্যাংক ঋণের অভাব, চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি চলমান থাকা সহ নানা অযুহাতের মধ্যে দিয়ে বর্তমানে রপ্তানীমুখী এই চামড়া শিল্পটি নিষিদ্ধ পণ্য বিড়ি-সিগারেটের দামে এসে পৌঁছেছে। বর্তমান শিল্পটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে, এক প্যাকেট বিড়ির দামে মিলছে একটি খাসি ও ভেড়ার চামড়া এবং এক প্যাকেট সিগারেটের দামে মিলছে গরু ও মহিষের চামড়া। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাকুটিয়া চামড়ার বাজার ঘুরে এমন চিত্র ফুটে উঠেছে।

অর্থনীতির অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ এই চামড়া শিল্পটির সাথে একদিকে যেমন দেশের নিম্ন আয়ের কয়েক লক্ষাধিক মানুষের আহার জড়িত, অপরদিকে এতিম, মিসকিন, গরীব অসহায় ও মাদরাসা পড়ুয়া ছাত্র-শিক্ষক সহ প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের আহারের ব্যবস্থা হয় এই শিল্প থেকে অর্জিত অর্থে, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দান করেন। অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে এবার চামড়া শিল্প নিয়ে চলছে ব্যাপক নাটকিয়তা ও গরীব দুঃখী মানুষের ভাগ্য নিয়ে চলছে চরম নিষ্ঠুুরতা।

বিশ্ব বাজারে ২০১২ সাল পর্যন্ত দেশীয় এই পণ্যটি প্রতাপের সাথে মাঠ দখল করে রেখেছিল। কিন্তু ২০১৩ সালে হঠাৎ করে রপ্তানিমুখী চামড়া ব্যবসায় ধ্বস নামে। দুই- তিন হাজার টাকার একেকটি চামড়ার দাম মুহুর্তের মধ্যে মাত্র এক হাজার টাকার নিচে নেমে আসে। ২০১৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত গুরত্বপূর্ণ এই শিল্পটির দিকে নজর নেই খোদ সরকার থেকে শুরু করে এই খাতে সংশিষ্ট কোন মহলের।

গত বছর অনেক চামড়া যেমন মাটিতে পুঁতে দিয়েছিল ক্ষুব্ধ জনগণ, ঠিক একই কারনে এ বছর অনেক চামড়া মানুষ বানের জলে ভাসিয়ে দিয়েছে।

সরেজমিনে এবারের ঈদের দিন বিকাল থেকে শুরু করে আজ রোববার (৯ই আগষ্ট) পর্যন্ত দেশের সর্ববৃহৎ চামড়া বাজার ঘাটাইলের পাকুটিয়ার হাট, বল্লা বাজার হাট, বটতলী কাঁচা চামড়ার হাট সহ ঘাটাইলের সব ক’টি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ি, ঋষি, ফড়িয়া, ছোট ও মাঝারি প্রকৃতির হাতে গোনা কয়েকটি ট্যানারির মালিক হাটে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় কিছু দালাল ও এজেন্টের মাধ্যমে চামড়া দর দাম করাচ্ছেন ও বিড়ালের মতো কাটা বেছে বেছে বড় আকারের চামড়াগুলো নামমাত্র মুল্য দিয়ে ক্রয় করছেন।

ঢাকা, সাভার, হেমায়েতপুর, জামালপুর, শেরপুর, সরিষাবাড়ি, রৌমারী, রাজিবপুর, নেত্রকোনা, মোহনগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মৌসুমী ও খুচরা ব্যবসায়িরা পাকুটিয়া হাটের আগের দিন রাতেই ট্রাক, বটবটি, নছিমন, ভ্যান সহ ছোট বড় যানবাহনে করে শত শত পিচ চামড়া নিয়ে হাটে এসে জড়ো হয়েছেন বিক্রি করার উদ্দেশ্য। সাড়া হাটের জায়গা সহ টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপরে বসেছে বিশাল চামড়া বাজার। সারি সারি স্তুপাকারে চামড়া উঠেছে দেশের সর্ববৃহৎ চামড়া বাজার পাকুটিয়া (পাকিস্তানের) হাটে। ছোট, বড় মৌসুমী ব্যবসায়িদের আনাগোনায় হাট মুখরিত হয়ে উঠলেও ক্রেতার দেখা সহজে খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বল্লা বাজার থেকে কয়েকটি ট্যানারী মালিক ও সাব ট্যানারী এজেন্সির কয়েকজন ক্রেতা ছাড়া বড় কোন ট্যানারী মালিক হাটে আসেনি। যাও এসেছে তারা বড় বড় চামড়াগুলো উলটপালট করে দেখছেন আর সাবধানে দরদাম করছেন। একটু ছোট ও মাঝারি আকৃতির চামড়া পড়ে রয়েছে যেখানকার চামড়া সেখানেই।

অন্যান্য বছর মাঝ রাত থেকে চমড়া বেঁচা বিক্রি শুরু হলেও এ বছর বেলা গড়িয়ে সন্ধা ঘনিয়ে এলেও তেমন চামড়া বিক্রি করতে দেখা যায়নি মৌসুমী ব্যবসায়িদের।

সরকার চামড়ার দাম নির্ধারণ ও রপ্তানির ঘোষনা দেওয়ার পরও কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি না হওয়ার কারণ সম্পর্কে বেশ ক’জন ট্যানারি মালিক ও আড়ৎদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছর গত বারের চেয়ে মাত্র পাঁচ শতাংশ চামড়া কম উঠেছে। ধারনা ছিল বন্যা ও করোনা মহামারিতে পশু কোরবানি কম হবে যার ফলে চাহিদা বেড়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

তাছাড়া ২০১৭ সালে হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তর, ট্যানারি মালিকদের আর্থিক সংকট, আড়ৎদারদের সময় মতো পাওনা পরিশোধ করতে না পারা, চামড়া প্রক্রিয়া জাত ও কাটিং খরচ দ্বিগুন বৃদ্ধি পাওয়া, শ্রমিক সংকট, বিশ্ব বাজারে চামড়ার চাহিদা কমে যাওয়া সহ গত ২/৩ বছর আগের চামড়া গোডাউনে পড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়া সহ বিভিন্ন যুক্তি দেখাচ্ছেন তারা।

অথচ সরকার এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় চামড়ার দাম ২০ থেকে ২৯ শতাংশ কমিয়ে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

ঈদের আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চামড়া শিল্পের উদ্যোক্তাদের সাথে বৈঠক করে ঢাকায় কোরবানি পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন লবণ যুক্ত গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৩৫-৪০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট ২৮-৩২ টাকা। খাসির চামড়া গত বছরের তুলনায় ১৮-২০ টাকা কমিয়ে এ বছর ১৩-১৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

তারপরও কেন এমন ছন্দপতন তার উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেউ সরকারকে দোষারোপ করছেন আবার অনেকেই সিন্ডিকেটকে দোষারোপ করছেন। ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে কোন বনিবনা নেই। কেউ চোখের পানিতে গামছা ভিজিয়ে ফেলছেন, আবার কেউ কেউ ফোকলা হাঁসি দিয়ে পানির দামে শরবত কিনছেন।

আসলে হয়েছে কি? কারন খুঁজতে ও অনুসন্ধান করতে গিয়ে ঘাটাইলডটকমকে কাছে ক্রেতা, বিক্রেতা সহ সাধারণ মানুষ তাদের নানা ধরনের মতামত দিয়েছেন।

ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ থেকে মৌসুমী ব্যবসায়ি নন্দ দুলাল এসেছেন ৭৯০ পিছ গরুর চামড়া নিয়ে।

তিনি ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, সেই ভোর থেকে এখন (বিকাল) পর্যন্ত চামড়া উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখিয়েছি প্রায় ৪৫-৫০ বার। কিন্তু এখনো এক পিস চামড়া বিক্রি করতে পারি নাই।

যে দাম বলছে তাতে চামড়ায় লবন দেয়া, শ্রমিক খরচ, গাড়ি ভাড়া ও হাটের খাজনা মিলিয়ে দেখলে অর্ধেক টাকাও উঠবে না। এই চামড়া যদি পুনরায় ফিরিয়ে নিয়ে লবন, গাড়ি ভাড়া ও শ্রমিক খরচ দিতে হয় তাহলে বাড়ি ভিটা বিক্রি করে ধার দেনা পরিশোধ করতে হবে বলে ক্ষোভের সাথে জানান তিনি।

সিরাজগঞ্জ থেকে ৬৫৭ পিস চামড়া নিয়ে এসেছেন মৌসুমী ব্যবসায়ি হাবিব মিল্লাত।

তিনি ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, অনেক বড় বড় হাই কোয়ালিটির চামড়া নিয়ে এসেছিলাম। যে দাম বলছে (বড় ও মোটা চামড়ার দাম বলছে ৩৭৫ থেকে ৪৩০ টাকা) তাতে আমার প্রতি চামড়ার পরতা আরও অনেক বেশি। এ বছর আমাকে গলায় দড়ি দিয়ে মরতে হবে।

গতকাল থেকে না খাওয়া দুলাল চন্দ ঋষি চামড়া কিনেছিলেন পাকুটিয়া বটতলী বাজার থেকে।

তিনি ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, এ বছর চামড়া কিনে ভূল করেছি। অনেক টাকা লোকসান দিয়ে চামড়া বিক্রি করতে হবে। ভিটে মাটি যা ছিল সব যাবে। মরণ ছাড়া সামনে কোন পথ খোলা নেই।

মোঃ স্বপন মিয়া ঈশ্বরগঞ্জের আঠারবাড়ি থেকে এসেছেন ৯০০ পিস ভালমানের গরুর চামড়া নিয়ে।

তিনি ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, একদিকে বন্যায় ভিটে মাটি সব হারিয়ে গেছে, অপরদিকে চামড়া নিয়ে এসে পড়েছি মহাবিপদে। ঋণ করে চামড়া কিনে নিয়ে এসেছিলাম। যে দাম (২০০/৫৫০) বলছে তাতে আমাদের যে টাকা খরচ হয়েছে তার অর্ধেক টাকাও উঠবে না। কি করবো বুঝতে পারছিনা।

মোঃ শহিদুল ইসলাম ১৭২ পিস গরুর চামড়া নিয়ে এসেছেন মুক্তাগাছা থেকে।

তিনি ঘাটাইল ডট কমকে জানান, ভাল ও মোটা চামড়া ৪৫০-৫৫০ টাকায় বিক্রি হলেও অপেক্ষাকৃত দ্বিতীয় শ্রেনীর চামড়ার দাম বলছেন ৫০-৬৫ টাকা।

মিন্টু ঋষি ১৬০ পিস খাসির চামড়া নিয়ে হাটে এসেছেন পাকুটিয়া থেকে।

তিনি ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, আমার ১৬০ পিস খাসির চামড়ার মোক্তা দাম বলছেন ৪০০ টাকা। কোথায় যাই, কি করি বুঝতে পারছি না।

এ ব্যাপারে হাটে চামড়া ক্রয় করতে আসা কয়েকজন ট্যানারি মালিকের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা ঘাটাইল ডট কমের নিকট তথ্য দিতে অপারগতা ও অনিহা দেখান। তারা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

তবে মোঃ নাঈম বিশ্বাস (পোস্তা লালবাগ ট্যানারি) ও বাপ্পি মজুমদার (বি,এন,এস ট্যানারি), মোঃ লিয়াকত আলী (এ্যাপেক্স ট্যানারি) ঘাটাইল ডট কমকে জানান, আমরা পরিস্থিতির শিকার। বিশ্ব অর্থনীতি মন্দা থাকার কারনে ও ব্রাজিল, চীন, ইন্ডিয়া সহ বেশ ক’টি দেশের চামড়া বাজার আমাদের দেশের তুলনায় কম দাম থাকায় তারা আমাদের দেশ থেকে চামড়া নিচ্ছে না।

গোডাউনে ২/৩ বছর আগের চামড়া মজুদ আছে। সেগুলো বিক্রি করতে পারিনি। আবার নতুন করে বেশি দামে চামড়া কিনে পথে নামতে হবে। কোটি কোটি টাকা লোকসানে আছি। আমাদের কিছু বলার নেই। সরকার আমাদের সহযোগিতা না করলে মাঠে মরতে হবে বলে তারা ঘাটাইল ডট কমকে জানান।

পাকূটিয়া চামড়া হাট মালিক সমিতির মোঃ আবির হোসেন সজিব ও মোঃ এমদাদুল হক খান ভুলু ঘাটাইল ডট কমকে জানান, গত রোজার ঈদে যে পরিমান চামড়া আমদানি হয়েছিল এবার কোরবানির ঈদেও সে পরিমাণ চামড়া উঠেনি। করোনা মহামারি ও বন্যার কারণে দেশের সর্ববৃহৎ চামড়া বাজারটি আজ বিলুপ্তির পথে। যে পরিমান টাকা দিয়ে হাট ডেকে আনতে হয়েছে তার অর্ধেক টাকাও এ বছর আমদানি হবে না। সব মিলিয়ে আমরাও খুব বেকায়দায় আছি বলে তারা জানান।

(আতিকুর রহমান, ঘাটাইল ডট কম/-

টাঙ্গাইলে নিম্নবিত্তের নাগালের বাইরে সবজির দাম

এক মাস ধরে বাড়তে থাকা সবজির দাম ঈদুল আজহার পর আরেক দফা বেড়েছে। চার থেকে পাঁচটি সবজির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা করে। কাঁচা মরিচের দাম কমলেও সহনীয় হয়নি। টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজির দাম এখন নিম্নবিত্তের নাগালের বাইরে। অন্যদিকে নিত্যপণ্যের বাজারও চড়া।

শহরের পার্ক বাজারের সবজি বিক্রেতা আলমগীর হোসেনের সামনে দাঁড়াতেই হতাশা জানিয়ে দামের বিষয়ে বললেন, কমেনি, আরো বেড়েছে।

কোনো সবজির দামই কমেনি? জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। তারপরও ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে কাঁচা মরিচের দাম উঠে গিয়েছিল ২০০ টাকার ওপরে।

বন্যায় অনেক মরিচক্ষেত ভেসে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ওই সময় জানিয়েছিলেন তিনি।

কাঁচা মরিচে ভোক্তার সামান্য টাকা বাঁচলেও স্বস্তি আসেনি। উল্টো দুশ্চিন্তা বেড়েছে।

ওই বাজারেই কথা হয় হাসেন আলী নামের একজন ক্রেতার সঙ্গে। বাজার পরিস্থিতি জানতে চাইলে তাঁর প্রথম কথা, ‘ভাবতে পারেন, টমেটোও কিনতে হচ্ছে এখন ১৩০ টাকা কেজি দরে। নিম্নবিত্ত তো দূরের কথা, মধ্যবিত্তদেরও এখন টমেটো খাওয়ার জো নেই।

অথচ মাস দুয়েক আগে ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে টমেটো। শুধু টমেটো নয়, সব সবজির দামই অনেক বেশি।’

টাঙ্গাইল শহরের ছয়আনী বাজার, বটতলা বাজারসহ আরো কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, টমেটো বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০-১৩৫ টাকা দরে, ঈদের আগে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় পাওয়া যেত। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে। বেগুনের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা।

এছাড়া পটোল, কাঁকরোল, ঢেঁড়স, কচুর মুখি, কচুর লতি, করলা, বরবটিসহ প্রায় সব সবজির দামই ৬০ টাকা বা তার ওপরে।

আলু বিক্রি হচ্ছে আগের মতো ৩৫ টাকা কেজি দরে। মাঝারি আকারের লেবু ২০ টাকা হালি এবং শসা পাওয়া যাচ্ছে কেজি ৪০-৫০ টাকা দরে।

সবজির দাম চড়া দেখে যাঁরা মনে করছেন এর পরিবর্তে শাক খাবেন বেশি করে, হতাশ তাঁরাও। বাজারে সবজির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শাকের দামও।

বর্ষায় সবচেয়ে কম দামের কলমিশাকের আঁটিও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা করে।

এছাড়া মুলাশাক, পালংশাক ও লালশাক কিনতে আঁটি প্রতি ভোক্তাকে খরচ করতে হচ্ছে ২০-২৫ টাকা। লাউশাক ও পুঁইশাক কিনতে হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা আঁটি।

শহরের পার্ক বাজারের সবজি বিক্রেতা বাবু হোসেন জানান, এই মাসের পুরোটাই শাকসবজির দাম এমন চড়া থাকতে পারে। তারপর ধীরে ধীরে কমে আসবে। এখন আড়তে যে পরিমাণ মাল আসে ক্রেতা থাকে তার চেয়ে বেশি। তাই আড়তদাররাও দাম কমান না।

ঈদের পর নিত্যপণ্যের বাজারও গরম হয়ে উঠেছে। সরু চালের দাম বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) ৫০ টাকা বা কেজিতে এক টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এই চালের দাম এখন ৫৩-৬৪ টাকা কেজি। মাঝারি চাল ৪৫-৫০ এবং মোটা চাল ৪০-৪৫ টাকা কেজি। বড় দানার মসুর ডাল কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ৭৫-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৮৫-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম উঠেছে ১১৫-১২০ টাকা। ঈদের আগে বিক্রি হয়েছে ১০৫ টাকা ডজন।

হাঁসের ডিম ১৩০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ১৫০ টাকা ডজন। তবে চাহিদা কম থাকায় ফার্মের মুরগির দাম কমে গেছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১৫ টাকা কেজি দরে।

কক ও সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা কেজি দরে। আর বেশির ভাগ গরুর মাংসের দোকান বন্ধ দেখা গেছে।

বাজারের ডিম বিক্রেতা রাসেল আহমেদ বলেন, ‘তিন দিন পর আজ ডিমের গাড়ি এসেছে। ডিমের সরবরাহ একেবারেই কমে গেছে। ঈদের ছুটির কারণে এমনটা হতে পারে।’

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলের আদিবাসীরা করোনায় প্রণোদনা চায়

টাঙ্গাইলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ১০টি সংগঠন আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে করোনায় প্রণোদনা সহ ১১ দফা দাবি উত্থাপন করেছে।

রোববার (৯ আগস্ট) টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আদিবাসী সংগঠন জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ, ইউসিজিএম, টিডব্লিউএ, এসিভিএফ, থাংআনী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন, আবিসা আদিবাসী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন, বাগাছাস, গাসু, জিএসএফ ও আচিক মিচিক সোসাইটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ওই দাবি উত্থাপন করে।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশের আদিবাসীরা ভাল নেই। করোনাকালে তাদের ঘরে খাবার নেই, বাইরে কাজ নেই, শহরে চাকুরি নেই। এমনকি সরকার তথা অন্য কোন সংস্থার সহায়তাও পর্যাপ্ত নেই।

আদিবাসীদের অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবে হাজার হাজার আদিবাসী নারী-পুরুষ কর্মহীন হয়ে বাড়িতে বসে আছে। বিশেষ করে বিউটি পার্লার, পোষাক শিল্প, বিভিন্ন কোম্পানী সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরি হারিয়ে অভাব-অনটনে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

তাদের দাবি, সরকার সহায়তার উদ্যোগ নিলেও আদিবাসীদের কাছে তা পৌঁচাচ্ছে না। তাই ১১ দফা দাবি মেনে নিয়ে আদিবাসীদের উন্নয়ন করা হোক।

জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সাবেক সভাপতি অজয় এ মৃ’র সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, আচিক মিচিক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সুলেখা ম্রং।

সম্মেলনে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, মধুপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান যষ্ঠিনা নকরেক, পীরগাছা থাংনা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিকেন মৃ, আইনজীবী এমএ করিম মিঞা, পরিবেশ আইনবিদ সমিতি-বেলার প্রতিনিধি গৌতম চন্দ্র চন্দসহ বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সংবিধানে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, জাতীয় সংসদে শতকরা ৫ ভাগ আসন বরাদ্দ, আদিবাসীদের ভূমির অধিকার রক্ষায় ভূমি কমিশন গঠন, আইএলও কনভেশন নং ১০৭ এর আলোকে আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন,

সরকারি চাকুরিতে শতকরা ৫ ভাগ কোটা বরাদ্দ বহাল, বন আইন ২০১৯ সংশোধন, কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহে সুনির্দিষ্ট প্রণোদনা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ইত্যাদি।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

গ্রন্থাগারিক সহ ৩ পদে ঘাটাইলের ছয়ানী বকশিয়া দাখিল মাদরাসায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

সরকারি বিধি মোতাবেক টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ছয়ানী বকশিয়া দাখিল মাদরাসায় একজন সহকারী গ্রন্থাগারিক, একজন আয়া এবং একজন নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ প্রদানের জন্য আজ রবিবার (৯ আগস্ট) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা, ছয়ানী বকশিয়া দাখিল মাদরাসা, ডাকঘর- আথাইল শিমুল, উপজেলা- ঘাটাইল, জেলা-টাঙ্গাইল লেখা রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮ অনুযায়ী সৃষ্ট শুণ্য পদে একজন সহকারী গ্রন্থাগারিক/ক্যাটালগার (ফাজিল পাস), একজন আয়া ও একজন নিরাপত্তা কর্মী (অষ্টম শ্রেণি/সমমান পাস) আবশ্যক।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্বের বৈধ আবেদনকারীদের পুনরায় আবেদন করার প্রয়োজন নেই। আয়া ও নিরাপত্তা কর্মী পদে ৫০০/-টাকা, অপর পদে ৬০০/- টাকার অফেরতযোগ্য পোষ্টাল অর্ডার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ দিনের (২৩ আগস্ট) মধ্যে সুপারিনটেনডেন্ট বরাবর আবেদন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে অনুকরণীয় ভূমিকা রেখে চলছে।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

টাঙ্গাইলের ১১টি উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি উপচে এবারের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পানিতে তলিয়ে থাকা জমির ধান, পাট, শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল বিনষ্ট হচ্ছে। ফসল হারিয়ে হাজারো কৃষক চরম বিপাকে পড়েছেন।

কৃষি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বীজতলা তৈরি করে দেওয়া সহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার কথা ভাবছে।

জানা গেছে, এবারের বন্যায় টাঙ্গাইলের ১১টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বন্যার পানির নিচে তলিয়ে থাকা বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জমির ফসল বিনষ্ট হচ্ছে। ফসলের গাছ এখন পঁচতে শুরু করেছে। ফসলসহ অনেক আবাদি জমি নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে।

ফসল হারিয়ে কৃষকদের মাঝে বিরাজ করছে চরম হতাশা। অধিকাংশ কৃষক ব্যাংক, এনজিও বা চড়া সুদে মহাজনের কাছ থেকে ঋণে টাকা এনে বিভিন্ন ফসলের আবাদ করেছেন।

এখন বন্যায় ফসলহানিতে তারা দুই চোখে অন্ধকার দেখছেন। তারা সরকারি সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বন্যায় টাঙ্গাইলের ১০টি উপজেলার ১০ হাজার ৫৪২ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে- বোনা আমন, রোপা আমনের বীজতলা, পাট, আউশ, বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজী ও তিল।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আহসানুল বাসার জানান, ভাসমান বীজতলা, আগাম সবজি উৎপাদনের জন্য চারা প্রদান ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে আর্থিক সহায়তা করা হবে।

তিনি আরও জানান, সঠিক সময়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সরকারি সহায়তা পাবেন। এতে কৃষকরা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন।

(বুলবুল মল্লিক, ঘাটাইল ডট কম)/-

বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকীতে সেলাই মেশিন পেলেন ঘাটাইলের ১৬ নারী

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯০ তম জন্মবাষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সেলাই মেশিন পেল ১৬ নারী।

আজ ৮ আগষ্ট শনিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তাদের এই সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেলাই মেশিন বিতরণ ও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনা সুলতানা, পাকুটিয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ জীবুন নেছা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন, ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমূখ।

সভা শেষে বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ও নারী উন্নয়ন ফোরামের পক্ষ থেকে নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৬ নারীকে সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়।

(নজরুল ইসলাম, ঘাটাইল ডট কম)/-

যেভাবে ভারতবর্ষ থেকে ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছে ব্রিটেন

“ব্রিটেন কি ভারতবর্ষ থেকে অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করেছে?” এই প্রশ্নটি হয়তো সরলতায় “দুই আর দুইয়ে কি চার হয়?” শ্রেণীর নিতান্ত নিরীহ প্রশ্নকেও হার মানাবে। বিশেষজ্ঞ তো নয়ই, এমনকি ইতিহাসের মনোযোগী ছাত্র হওয়ারও দরকার পড়ে না এজন্য। ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ব্যাপারে ন্যূনতম জ্ঞান রাখে এমন যে কেউই চোখ বুজে বলে দিতে পারবে, ব্রিটিশরা এই সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা ভারতবর্ষ থেকে যথেচ্ছ সম্পদ আত্মসাৎ করে নিয়ে গেছে।

কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, ব্রিটেনে এখনও মানুষকে ভুল ধারণার বশবর্তী করে রাখা হচ্ছে। সেখানে এখনও তথাকথিত মিথের প্রচলন রয়েছে যে, ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য নাকি তাদের জন্য একেবারেই লাভজনক ছিল না, বরং প্রশাসনিক কাজে প্রচুর পরিমাণে অর্থ তাদেরকে গচ্চা দিতে হয়েছে। তারপরও এটি ব্রিটিশদের বদান্যতা যে তারা দয়া করে ভারতবর্ষে মাটি কামড়ে পড়ে থেকেছে, ভারতবর্ষের ‘প্রজা’দেরকে কৃপা করে শাসন করে গেছে!

নতুন গবেষণায় মিললো যে ফল

কিন্তু আত্মবিস্মৃত ব্রিটিশদের এই ধারণা যে ঠিক কতখানি ভুল, তা ধরিয়ে দিতেই যেন কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে Dispossession, Deprivation, and Development নামক একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ উৎস পাটনায়েক। সেখানে ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের প্রায় দুই শতকের কর ও বাণিজ্যের খতিয়ান বয়ানের মাধ্যমে তিনি সোজাসাপটা হিসাব তুলে ধরেছেন, ১৭৬৫ থেকে ১৯৩৮ সালের মধ্যে ৪৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যমানের সম্পদ পাচার করে নিয়ে গেছে ব্রিটিশরা।

সংখ্যাটি সুবিশাল। এর বিশালত্বের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে একটি ছোট্ট তথ্য আপনাদের সামনে হাজির করা যাক- এই ৪৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার আজকের দিনেও যুক্তরাজ্যের জিডিপি (গ্রস ডমেস্টিক প্রোডাক্ট)-এর ১৭ গুণ বেশি!

কীভাবে সম্ভব হলো এটি?

সম্পদ পাচারের বিষয়টি প্রধানত সংঘটিত হয়েছে বাণিজ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে। সাম্রাজ্য স্থাপনের আগপর্যন্ত ব্রিটেন ভারতবর্ষ থেকে টেক্সটাইল ও চালের মতো পণ্য ক্রয় করতো সরাসরি ভারতীয় উৎপাদকদের কাছ থেকে। আর এসব পণ্যের বিনিময় মূল্য তারা পরিশোধ করতো সাধারণ উপায়ে- প্রধানত রূপার মাধ্যমে, যেমনটি তারা অন্যান্য দেশের বেলায়ও করে থাকতো।

কিন্তু ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতবর্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কুক্ষিগত করার পর থেকেই এই ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটে। তারা ভারতীয় বাণিজ্যে মনোপলি স্থাপন করে।

এবং এই মনোপলির মূল ভিত্তি ছিল কর। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উপমহাদেশ থেকে কর সংগ্রহ শুরু করে, এবং চতুরতার সাথে তারা সংগৃহীত আয়ের এক-তৃতীয়াংশ ব্যবহার করতে থাকে ব্রিটিশ প্রয়োজন মেটাতে ভারতবর্ষ থেকে পণ্য ক্রয়ের কাজে।

সহজ কথায় বলতে গেলে, ভারতীয় পণ্য কিনতে নিজেদের পকেট থেকে টাকা খরচের পরিবর্তে, ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা সেগুলো কোনো অর্থ ব্যয় না করেই সংগ্রহ করতে থাকে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, তারা কৃষক ও তাঁতিদের কাছ থেকে পণ্য দাম দিয়েই কিনছে বটে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা বিনিময়ে সেই অর্থই প্রদান করছে, যা তারা কিছুকাল আগে এই কৃষক-তাঁতিদের কাছ থেকেই হাতিয়ে নিয়েছে!

একে একপ্রকার জালিয়াতিই বলা চলে। কিংবা পুকুর চুরি বলতে আমরা যা বুঝে থাকি আর কী। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, অধিকাংশ ভারতীয়ই এই বিষয়গুলো ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি। কারণ যে প্রতিনিধিরা তাদের কাছ থেকে কর সংগ্রহ করতে আসতো, ঠিক তারাই তো আবার তাদের কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করতে আসতো না। অশিক্ষিত ভারতীয়দের পক্ষে তখন এটি বোঝা সম্ভবপর হয়নি যে গ্রহীতা ও দাতা আলাদা আলাদা ব্যক্তি হলেও, তাদের মূল উৎস আসলে অভিন্ন, এবং তাদের মাঝে যোগসাজশ বিদ্যমান রয়েছে।

ভারতবর্ষ থেকে নিয়ে যাওয়া পণ্যের গন্তব্য কী ছিল?

এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, ভারতবর্ষ থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে যে পণ্য ব্রিটিশরা নিয়ে যেত, সেই পণ্য কি কেবল তারা নিজেরাই ভোগ করত? না, ওই পণ্যের কেবল কিয়দাংশই তারা নিজেরা ভোগ করত। বরং আরও লাভের আশায় ঐ পণ্যই পরবর্তীতে তারা আরও চড়া মূল্যে ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে রপ্তানী করত। ভারতবর্ষে উৎপাদিত পণ্যের সুনাম ছিল গোটা ইউরোপ জুড়েই। এবং সেগুলো যেহেতু অন্য আর কোনো দেশের ব্যবসায়ীদের কাছে পাওয়া যেত না, তাই ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা সেই সকল পণ্যের উপর এমনকি শতভাগ লাভও করতে পারত। ভারতবর্ষ থেকে সংগৃহীত পণ্যের এরূপ পুনঃরপ্তানীর মাধ্যমেই ব্রিটেন সরাসরি কিছুর উৎপাদক না হয়েও ইউরোপের বাজারের অন্যতম বড় খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছিল।

ভারতবর্ষ থেকে আত্মসাৎ করা যেসকল পণ্য ব্রিটিশরা নিজেরাই ভোগ করত, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো লোহা, টার ও টিম্বার; কেননা এগুলো ব্রিটেনের শিল্পায়নের কাজে লাগত। এবং এভাবেই, ব্রিটেনের শিল্পবিপ্লবও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল থেকে ভারতবর্ষ থেকে করা পদ্ধতিগত চৌর্যবৃত্তির উপরই।

কাউন্সিল বিলের আগমন

১৮৪৭ সালে সিপাহী বিপ্লবের ফলস্বরূপ ব্রিটিশ রাজ সরাসরি ভারতবর্ষের ক্ষমতা নিজেদের হাতে তুলে নেয়। এর ফলে ঔপনিবেশিকদের লাভের গুড় খাওয়া কিন্তু এতটুকুও হ্রাস পায় না, বরং কর ও পণ্য ক্রয়ের ব্যবস্থায় আরও নতুন নতুন মাত্রা যোগ হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মনোপলিতে ইতি ঘটলে ভারতীয় উৎপাদকরা তাদের পণ্য সরাসরি অন্যান্য দেশে রপ্তানী করার সুযোগ লাভ করে। কিন্তু ব্রিটেন এই বিষয়টি নিশ্চিত করে যেন সব হাত ঘুরে প্রদেয় অর্থ শেষ পর্যন্ত লন্ডনেই থামে।

ভারতবর্ষ থেকে যে দেশই পণ্য ক্রয় করতে চাইত না কেন, তাদেরকে সেই পণ্য কিনতে হতো বিশেষ ধরনের কাউন্সিল বিল ব্যবহারের মাধ্যমে। কাউন্সিল বিল হলো এমন একধরনের কাগজের মুদ্রা, যা কেবল ব্রিটিশ রাজের তরফ থেকেই প্রদান করা হতো। এবং এই কাউন্সিল বিল হাতে পাওয়ার একমাত্র উপায় ছিল সরাসরি লন্ডনে গিয়ে সোনা বা রূপার বদলে তা ক্রয় করা।

তাই ব্যবসায়ীরা লন্ডনকে সোনা বা রূপা দিয়ে বিল সংগ্রহ করত, আর তারপর সেই বিল কাজে লাগিয়ে ভারতীয় উৎপাদকদের দাম মেটাত। তারপর ভারতীয় উৎপাদকরা যখন স্থানীয় কলোনিয়াল অফিসে গিয়ে সেই বিল ক্যাশ করত, তারা হাতে পেত সেসব ভারতীয় রুপি, যা ব্রিটিশ রাজ কর সংগ্রহের মাধ্যমে এই ভারতীয়দের কাছ থেকেই পেয়েছে।

সুতরাং আরও একবার, ভারতীয় উৎপাদকরা যেভাবে পণ্য রপ্তানীর মাধ্যমে অর্থ আয় করত, সেখানেও ছিল ব্রিটিশদের বড় ধরনের জালিয়াতি। কেননা যে সোনা ও রূপাগুলো সরাসরি ভারতীয় উৎপাদকদের হাতে যাওয়ার কথা ছিল, সেগুলো হাতিয়ে নিয়েছে তারা নিজেরাই। আর তার বদলে ভারতীয় উৎপাদকদেরকে তারা দিয়েছে সামান্য কিছু কাগজের মুদ্রা। আর কে না জানে, কাগজের মুদ্রার দাম বাড়ে খুবই ধীরগতিতে, কিন্তু সোনা ও রূপার দাম বাড়তে থাকে হু হু করে।

এভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত একটি ব্যবস্থার শিকার হয়ে ভারতবর্ষ বাকি বিশ্বের চেয়ে বাণিজ্যিক উদ্বৃত্তে বড় ধরনের লোকসান করতে থাকে, যার ফলে বাকি বিশ্ব ক্রমশই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে অনেক দূর এগিয়ে গেলেও, ভারতবর্ষ যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই পড়ে থাকে। আর তাদেরকে ঠকিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হতে থাকে ব্রিটেনের।

ভারতবর্ষের সম্পদে ব্রিটেনের উন্নয়ন

এই সবকিছুর প্রভাবে সময়ের সাথে সাথে ভারতবর্ষের বাণিজ্যিক ঘাটতি বাড়তে থাকেএই সবকিছুর প্রভাবে সময়ের সাথে সাথে ভারতবর্ষের বাণিজ্যিক ঘাটতি বাড়তে থাকে, যা পর্যবেক্ষণ করে সাদা চোখে অনেকেরই মনে হতে পারে, ভারতবর্ষ বুঝি ব্রিটেনের কাছে বোঝা হয়ে ছিল। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা ছিল একদমই ভিন্ন। ভারতবর্ষ ছিল ব্রিটেনের কাছে সোনার ডিম পাড়া হাঁসের মতো। ভারতবর্ষ পিছিয়ে যাচ্ছিল বলেই ব্রিটেন এগিয়ে যেতে পারছিল। কিংবা আরও অকপটে বলতে গেলে, ভারতবর্ষকে ধাক্কা মেরে পেছনে ফেলে দেয়ার মাধ্যমেই এগিয়ে যাচ্ছিল ব্রিটেন।

ভারতবর্ষ থেকে আত্মসাৎকৃত অর্থের মাধ্যমেই ব্রিটেন প্রচন্ড রকমের ধনী হয়ে ওঠে, আর নব্যলব্ধ অর্থ তারা নতুন করে বিনিয়োগ করতে থাকে নতুন উপনিবেশ সৃষ্টি ও পুরনো উপনিবেশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার কাজে। যেমন- ভারতবর্ষ থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের সাহায্যের ১৮৪০ এর দশকে চীন আক্রমণের সাহস দেখাতে পেরেছিল ব্রিটেন। আবার ১৮৫৭ সালে ভারতে সিপাহী বিপ্লব দমনের হাতিয়ারও ছিল এই অর্থই।

এজন্যই পাটনায়েক বলেন, “ভারতবর্ষের সীমানার বাইরেও নতুন সাম্রাজ্য দখল করতে ব্রিটেন যেসব যুদ্ধে জড়িয়েছে, সবসময়ই তার প্রধান ও পুরো ভাগটা এসেছে ভারত থেকে অর্জিত আয়ের মাধ্যমেই।”

এবং এখানেই গল্পের শেষ নয়। ভারতীয় অর্থনীতির আশীর্বাদধন্য হয়েই ব্রিটেন ইউরোপ এবং অন্যান্য ইউরোপীয় উপনিবেশ, যেমন কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায়, পুঁজিবাদের বিস্তার ঘটাতে পেরেছিল। তাই বলা যায়, কেবল ব্রিটেনের শিল্পায়নই নয়, গোটা পশ্চিমা বিশ্বের শিল্পায়নেই নেপথ্য ভূমিকা রেখেছে এই ভারতবর্ষই।

মোট কী পরিমাণ সম্পদ পাচার হয়েছে?

পাটনায়েক ১৭৬৫ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষকে চারটি পৃথক অর্থনৈতিক সময়কালে বিভক্ত করেন, এবং প্রতিটির মধ্য পর্যায় হতে বর্তমান পর্যন্ত ন্যূনতম ৫ শতাংশ মুনাফার হার ধরে হিসাব করে দেখান যে, ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটেনে পাচারকৃত সম্পদের মোট পরিমাণ ৪৪.৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু তার মতে এটিও খুবই রক্ষণশীল একটি অংক, যেহেতু এখানে ব্রিটিশ রাজ চলাকালীন ভারতবর্ষের উপর ব্রিটেন কর্তৃক চাপিয়ে দেয়া ঋণের বোঝাকে হিসাব করা হয়নি।

হিসাবগুলো নিঃসন্দেহে মাথা ঘুরিয়ে দেয়ার মতো। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ভারতবর্ষ থেকে ব্রিটেনে পাচার হওয়া এই বিপুল অর্থের ফলে ভারতবর্ষের ঠিক কতখানি ক্ষতি হয়েছে, তা কেবল তাত্ত্বিক পদ্ধতিতে হিসাব করে বের করা সম্ভব নয়। শুধু একটিবার ভেবে দেখুন, ভারতবর্ষের মানুষের প্রদত্ত কর যদি ভারতবর্ষের কল্যাণেই ব্যয় হতো- যেমনটি হয়েছে জাপানের ক্ষেত্রে, এবং রপ্তানির মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রাগুলো যদি সরাসরি এর উৎপাদকরাই পেত; তাহলে আজ ভারতবর্ষ বিশ্বের অর্থনৈতিক সুপারপাওয়ারগুলোর একটি হতো, শতকের পর শতক ধরে এ অঞ্চলের মানুষকে দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে টিকে থাকতে হতো না।

উপনিবেশ প্রসঙ্গে বর্তমান ব্রিটেনের জনপ্রিয় অভিমত

কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো, আজও ব্রিটেনের অনেকেই ভারতবর্ষে তাদের করা অর্থনৈতিক শোষণের বিষয়টি স্বীকার করতে চায় না।

রক্ষণশীল ইতিহাসবিদ নায়াল ফার্গুসন যেমন দাবি করেন, ব্রিটিশ শাসনের ফলে ভারতবর্ষের উন্নয়নই হয়েছে। এই চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটেছিল ২০১৪ সালের একটি জরিপেও। ব্রিটেনের সাধারণ মানুষের ৫০ শতাংশই আজও বিশ্বাস করে, ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের ফলে উপনিবেশগুলো লাভবানই হয়েছে।

অবশ্য এর বিপরীত মনোভাবও লক্ষণীয়। যেমন ডেভিড ক্যামেরন প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায়ই স্বীকার করেছিলেন, ব্রিটিশ শাসন ভারতবর্ষের জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনেনি।

শেষ কথা

ভারতবর্ষে প্রায় দু’শো বছরের ব্রিটিশ শাসন চলাকালীন এ অঞ্চলের মানুষের মাথাপিছু আয়ে কোনো উন্নতিই ঘটেনি, বরং উনিশ শতকের শেষার্ধে এসে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি থেকে ক্ষমতা ব্রিটিশ রাজের হাতে যাওয়ার সময়কালে মাথাপিছু আয় অর্ধেকে নেমে এসেছিল। ১৮৭০ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে ভারতীয়দের প্রত্যাশিত গড় আয়ু এক-পঞ্চমাংশ হ্রাস পেয়েছিল।

পলিসি-প্ররোচিত দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় অকালে প্রাণ হারিয়েছিল। ১৯০৯-১৪ পর্যন্ত যেখানে এ অঞ্চলের মানুষের বার্ষিক মাথাপিছু খাদ্যগ্রহণের পরিমাণ ছিল ১৯৭.৩ কেজি, ১৯৪৬ সাল নাগাদ তা কমে দাঁড়ায় ১৩৬.৮ কেজিতে।

তাই এ কথা দ্ব্যর্থহীন চিত্তে বলাই যায়, ভারতবর্ষের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ব্রিটেনের কোনো ভূমিকা ছিল না। বরং পাটনায়েকের গবেষণাপত্র থেকে দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার হয়ে যায় যে, ভারতবর্ষের কাঁধে চেপেই আজকের উন্নত ব্রিটেনের জন্ম।

(জান্নাতুল নাঈম পায়েল, ঘাটাইল ডট কম)/-