নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নেতারা পে-কমিশনে এই প্রস্তাব জমা দেন। প্রস্তাবে ‘সাকুল্য বেতন’ কিংবা ‘পারিশ্রমিক’ নামে বিকল্প বেতন কাঠামো গঠনের কথা বলা হয়েছে। যেখানে বিদ্যমান বেতন কাঠামোর ভাতাসহ আর্থিক ও অনার্থিক কোনো সুবিধাই থাকবে না। প্রস্তাবিত এই বেতন কাঠামো অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে চালু আছে।
বিভিন্ন কমিটির সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা যে সম্মানি কিংবা ভাতা নিচ্ছেন, তা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ পদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের জন্য পৃথকভাবে এই সম্মানি নিচ্ছেন। এতে বছরে ব্যয় হচ্ছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। এ সুবিধাও বাতিলের জন্য কমিশনের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবে সচিবালয়ে নিয়োজিত সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য ‘সচিবালয় ভাতা’ এবং ‘রেশন সুবিধা’ চালুর কথা বলা হয়েছে। এর যৌক্তিকতা দেখানো হয়, সচিবালয়ে নিয়োজিত জনবল সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনায় মূল চালিকাশক্তি। কাজের গুরুত্ব ও দায়িত্বে ভিন্নতা বিবেচনায় সরকারের বেশ কিছু দপ্তর এরূপ ভাতা দিচ্ছে। যেমন, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ‘টিপটপ ভাতা’; সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনী, দুর্নীতি দমন কমিশনে নিয়োজিত জনবলের জন্য ‘রেশন সুবিধা’ ও ‘ঝুঁকি ভাতা’ এবং জুডিশিয়ারি ক্যাডারভুক্তদের জন্য ‘বিশেষ ভাতা’ রয়েছে।
প্রস্তাবে টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড, বিশেষ ইনক্রিমেন্টসহ অন্যান্য সুবিধা পুনর্বহাল অথবা ৪টি উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার কথা বলা হয়। এছাড়া বিদ্যমান বেতন স্কেলের অপ্রয়োজনীয় কিংবা কম ব্যবহৃত গ্রেডগুলো বাদ দিয়ে মোট ১২টি গ্রেড নির্ধারণের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। এক্ষেত্রে নতুন কাঠামোতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন যে হারে বেড়েছে, অন্য গ্রেডের ক্ষেত্রে একই হারে বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। বেতন স্কেল, ১৯৭৩-এ গ্রেড ছিল ১০টি।







