Monday, January 19, 2026
spot_img
হোমঅন্যান্যনবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের অপেক্ষায় সরকারি কর্মচারীরা

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের অপেক্ষায় সরকারি কর্মচারীরা

 

দীর্ঘদিন ধরে নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপে বর্তমান বেতনে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হলে সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন সম্ভব নয়—এমনটাই দাবি কর্মচারীদের।

একাধিক কর্মচারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মতামতে তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরেছেন। মোশারফ হোসাইন লিখেছেন, “নবম পে-স্কেল না পেলে বৃদ্ধ বাবা-মা নিয়ে সংসার টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
অন্যদিকে মো. মোমিন মন্তব্য করেন, “সরকারি কর্মচারীরা ভিক্ষা চাই না, বাড়ি বা গাড়ি করতে চায় না। শুধু পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন চায়।”

কর্মচারীদের মধ্যে আশার আলো দেখছেন মো. মোমিনুল হক। তিনি লিখেছেন, “আজকের বৈঠক থেকে পে-স্কেল নিয়ে ভালো কোনো খবর আসতে পারে বলে আশা করছি।”

কিছু কর্মচারী আবেগমিশ্রিত দীর্ঘ বার্তায় তাদের হতাশা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন। জোহা খান লিখেছেন, “এই দেশের প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং তাদের পরিবার-পরিজন মিলিয়ে প্রায় তিন কোটির কাছাকাছি মানুষের কষ্ট ও চোখের পানি জড়িত নবম পে-স্কেলের সঙ্গে। আমরা চাই সম্মানের সঙ্গে পরিবার চালাতে, ঋণ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকতে এবং রাষ্ট্রের সেবা আরও মনোযোগ ও সততার সঙ্গে দিতে।”

এদিকে নবম পে-স্কেল সংক্রান্ত রুদ্ধদ্বার বৈঠক এখনও চলছে। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে কমিশনের এক সদস্য জানান, বৈঠক শেষ হয়নি এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও কিছু সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে প্রাপ্ত মতামত, বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের প্রস্তাবনা বিশ্লেষণ করে সদস্যদের নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠক করা হচ্ছে। সুপারিশ চূড়ান্ত করার চেষ্টা চললেও পে-স্কেলের সঙ্গে জড়িত নানা বিষয় ও বিশদ বিশ্লেষণের কারণে এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, “কর্মচারীরা আন্দোলন করতে পারেন, এটি তাদের অধিকার। তবে কমিশনের দায়িত্ব হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সুপারিশ প্রণয়ন করা।”

তিনি আরও জানান, প্রতিটি প্রস্তাব গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে, যাতে পেশাগত মর্যাদা ও আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রেখে একটি কার্যকর বেতন কাঠামোর সুপারিশ দেওয়া যায়। কমিশনের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, চূড়ান্ত সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মচারীরা সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবেন এবং রাষ্ট্রের সেবা আরও মনোযোগী ও সততার সঙ্গে প্রদান করতে সক্ষম হবেন।

টাঙ্গাইল উত্তর সর্বশেষ

জনপ্রিয়