সখীপুরে দুর্ধর্ষ ডাকাত রাশু গ্রেফতার

টাঙ্গাইলের সখীপুরে সৌদি আরব প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত মূলহোতা আসাদুল ইসলাম ওরফে রাশুকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে কাকড়াজান ইউপি চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম বিদ্যুতের নেতৃত্বে উপজেলার কীর্তণখোলা এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। রাশু গড়বাড়ি গ্রামের মৃত কদ্দুস মিয়ার ছেলে।

ইউপি চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম বিদ্যুৎ বলেন, গত ১৮ জুন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের গড়বাড়ি টোকপাড়া গ্রামের প্রবাসী রুহুল আমিনের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতরা দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালামাল লুটে নেয়।

এ ঘটনায় ওই প্রবাসীর স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি ডাকাতির মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব নেন। তদন্তে ডাকাতির ঘটনার মূলহোতা হিসেবে আসাদুল ইসলাম ওরফে রাশুর নাম ওঠে আসে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে আসাদুল আত্মগোপনে ছিল। মঙ্গলবার সকালে সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারি রাশু তার শ্বশুরবাড়ি উপজেলার কীর্তণখোলা গ্রামে অবস্থান করছে। পরে সেখানে গিয়ে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি (ডিবি) শ্যামল কুমার দত্ত বলেন, এর আগে এ মামলায় গ্রেফতারকৃত ৬ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তাদের জবানবন্দিতে ঘটনার মূলহোতা হিসেবে আসাদুল ইসলাম ওরফে রুশুর নাম ওঠে আসে। পরে রুশুকে গ্রেফতার করতে থানাসহ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে সহায়তা করতে বলা হয়।

(সখীপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

রেকর্ড, একাদশ সংসদের ১৩ এমপি মারা গেছেন

বর্তমান সংসদের সময় সংসদ সদস্য মারা যাওয়ার রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের (৩০ ডিসেম্বর) পর এ পর্যন্ত ১৩ জন সংসদ সদস্য মারা গেছেন। অথচ গত সংসদের পাঁচ বছরে বিভিন্ন দলের ১৫ সংসদ সদস্য মারা যান। চলতি সংসদে সাবেক এক মন্ত্রীসহ দুজন করোনায় মারা গেছেন। তবে করোনাকাল হওয়ায় পাঁচ সংসদ সদস্যের সংসদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি।

জানা গেছে, গত বছর মারা গেছেন পাঁচ সংসদ সদস্য। চলতি বছরের আট মাসে মারা গেছেন আরও আটজন। মারা যাওয়া দুজন ছাড়া সবাই আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য।

সংসদের আইন শাখা-২ সূত্র জানায়, নির্বাচনের ঠিক পরই আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম (কিশোরগঞ্জ-১) মারা যান। তিনি সংসদের একটি অধিবেশনেও যোগ দিতে পারেননি। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে মারা যান তিনি। এমনকি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথও নিতে পারেননি সৈয়দ আশরাফ। সংসদ সদস্য হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন।

একই বছরের ৯ জুলাই আওয়ামী লীগের রুশেমা বেগম (মহিলা আসন-৩৪), ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ (রংপুর-৩) মারা যান।

জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুতে সংসদে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তার সহধর্মিণী রওশন এরশাদ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

ওই বছরের ৭ নভেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের কার্যকরী সভাপতি মঈনউদ্দীন খান বাদল (চট্টগ্রাম-৮), ২৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের মো. ইউনুস আলী সরকার (গাইবান্ধা-৩) মারা যান।

চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি মারা যান আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোজাম্মেল হোসেন (বাগেরহাট-৪), ১৮ জানুয়ারি আব্দুল মান্নান (বগুড়া-১), ২১ জানুয়ারি ইসমাত আরা সাদেক (যশোর-৬), ২ এপ্রিল সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ (পাবনা-৪), ৬ মে হাবিবুর রহমান মোল্লা (ঢাকা-৫), করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৩ জুন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম (সিরাজগঞ্জ-১), ১০ জুলাই সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন (ঢাকা-১৮) ও করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৭ জুলাই ইসরাফিল আলম (নওগাঁ-৬) মারা যান।

চলতি বছরের জানুয়ারির পর মারা যাওয়া কারোরই রীতি অনুযায়ী সংসদ ভবনে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি। অথচ কোনো স্ট্যান্ডিং সংসদ সদস্য মারা গেলে সংসদে অনুষ্ঠিত জানাজায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ছাড়াও নিজ নিজ দলের পক্ষ থেকে মরদেহে শ্রদ্ধা জানানো হয়। মুক্তিযোদ্ধা হলে পান গার্ড অব অর্নার। জানাজায় সহকর্মীরা ছাড়াও সংসদে কর্মরত ও আশপাশ এলাকায় বসবাসকারীরা অংশ নেন। কিন্তু শেষ পাঁচজন এমপির ভাগ্যে এসব জোটেনি।

দলের একের পর এক সংসদ সদস্য মারা যাওয়ায় জুনে সংসদে অশ্রুসিক্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘খুব দুঃখজনক… আসলে আমার জন্য খুব কষ্টকর হচ্ছে বলতে, এভাবে সবাইকে হারানো খুবই দুঃখজনক।’

প্রাণঘাতী করোনায় আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ (এমপি নন) মারা যাওয়ায় সংসদে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বার বার চোখ মোছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিগত সংসদে যে ১৫ সংসদ সদস্যের মৃত্যু

বিগত দশম সংসদের পাঁচ বছরে দুজন মন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রী ও একজন বিরোধীদলীয় হুইপসহ ১৫ সংসদ সদস্য মারা যান। তাদের মধ্যে ১২ জন আওয়ামী লীগের এবং তিনজন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ছিলেন। এদের মধ্যে হত্যা করা হয়েছে এক সংসদ সদস্যকে। এছাড়া ওই একই আসনে মারা গেছেন দুই সংসদ সদস্য।

দশম সংসদের ২৩তম অধিবেশন শুরুর দিন উত্থাপিত শোক প্রস্তাবের বই এবং সংসদ লাইব্রেরিতে রাখা সংসদের কার্যপ্রবাহ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সংসদের আইন শাখা-২ সূত্রে জানা যায়, দশম সংসদ হারিয়েছে সুনামগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত বর্ষীয়ান পার্লামেন্টারিয়ান ও বিশিষ্ট তার্কিক সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে। তিনি এক সময় রেলমন্ত্রীও ছিলেন। এছাড়া মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন সৈয়দ মহসিন আলী (মৌলভীবাজার-৩), মোহাম্মদ ছায়েদুল হক (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১) এবং প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন (ময়মনসিংহ-১)।

প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ কুড়িগ্রাম-২ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে হারায় এ সংসদ। মারা যাওয়া আওয়ামী লীগের অন্যদের মধ্যে রয়েছেন গাইবান্ধা-১ আসনের মো. মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। ২০১৬ সালের শেষ প্রহরে নিজ বাড়িতে নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়। ওই আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচিত হন একই দলের গোলাম মোস্তফা আহমদ। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।

এছাড়া সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের মো. ইসহাক হোসেন তালুকদার, মাগুরা-১ আসনের মোহাম্মদ সিরাজুল আকবর, খুলনা-৪ আসনের এস এম মোস্তফা রশদি, বরিশাল-৫ আসনের মো. শওকত হোসেন, টাঙ্গাইল-৮ আসনের শওকত মোমেন শাহজাহান, ময়মনসিংহ-৩ আসনের মজিবুর রহমান ফকির ইন্তেকাল করেন।

জাতীয় পার্টির কুড়িগ্রাম-৩ আসনের এ কে এম মাঈদুল ইসলাম এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মো. নাসিম ওসমান মারা যান।

(সিরাজুজ্জামান, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে চিৎকার-চেঁচামেচি করলে ২ বছরের জেল

ভোটকেন্দ্রের চারশ গজের মধ্যে চিৎকার, চেঁচামেচি করলে বা ভোটাররা বিরক্ত হন এমন কোনো শব্দ সৃষ্টি করলে খাটতে হবে দুই বছরের জেল। ভোটের প্রয়োজনে নিয়োগ করা যাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাইরেও ‘অন্য কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’। এছাড়া পরিষদের মেয়াদ শেষ হলেও থাকা যাবে স্বীয় পদে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর আইন সংশোধন করে এমন বিধান আনছে নির্বাচন কমিশন।

বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনার জন্য পাঁচটি পৃথক আইন ব্যবহার করা হচ্ছে। এ সবগুলোকে একটি আইনের ভেতরে আনার জন্য নতুন একটি আইন করছে নির্বাচন কমিশন।

প্রস্তাবিত ওই আইনটির নাম দেওয়া হয়েছে- স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান আইন-২০২০। যা সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রযোজ্য হবে। এতে আগের মতোই অধিকাংশ বিষয় রাখা হলেও, বেশকিছু নতুন বিষয় যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বাংলাদেশ আনসার, গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বর্ডার গার্ডস অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং অন্য কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। এখানে ‘অন্য কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’ শব্দগুলো নতুন এসেছে।

আগে নির্বাচন কমিশনের আইনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকেও রাখা হয়েছিল। পরে সেটা সংশোধন করে সশস্ত্র বাহিনীকে বাদ দেওয়া হয়। তবে এবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী না বলে ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’ নিয়ে আসতে চায় ইসি।

স্থানীয় সরকারগুলোর নাম ও পদবি পরিবর্তন

নতুন প্রস্তাবিত আইনে সিটি করপোরেশনকে মহানগর সভা, পৌরসভাকে নগর সভা ও ইউনিয়ন পরিষদকে পল্লী পরিষদ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে সিটি মেয়রের পদকে- মহানগর আধিকারিক; পৌর মেয়রকে পুরাধ্যক্ষ বা নগরপিতা, কাউন্সিলরকে পরিষদ সদস্য, ওয়ার্ডকে মহল্লা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানকে উপজেলা পরিষদের প্রধান, উপ-প্রধান এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে পল্লী পরিষদ প্রধান করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিষদের মেয়াদ

কোনো প্রতিষ্ঠান গঠন হওয়ার পর থেকে তার মেয়াদ ধরা হয়েছে প্রথম সভা থেকে পরের পাঁচ বছর। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্বাচিত নতুন প্রতিষ্ঠান প্রথম সভায় মিলিত না হওয়া পর্যন্ত পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা তাদের কাজ চালিয়ে যাবেন। বর্তমান আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর দায়িত্ব পালনের কোনো সুযোগ নেই।

প্রার্থিতার যোগ্যতা

যে কোনো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রার্থী হতে হলে অবশ্যই বয়স হতে হবে ২৫ বছর এবং বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। থাকতে হবে নির্বাচনী এলাকার ভোটার লিস্টে নাম।

অনৈতিক কার্যকলাপ ও শাস্তি

কোনো প্রার্থী সম্পর্কে অপপ্রচার, প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার নিয়ে মিথ্যা প্রচার, সাম্প্রদায়িক বা সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে অপ্রপ্রচার ও ভোট প্রদানে বাধা দিলে ন্যূনতম ছয় মাস এবং সর্বোচ্চ দুই বছরের সাজা।

জোরপূর্বক ভোট প্রদান ও শাস্তি

ভোটকেন্দ্র থেকে কোনো প্রার্থী বা তার প্রতিনিধিকে বিতাড়ন এবং তাদের অনুপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে ভোট পরিচালনায় বাধ্য করলে, কর্মকর্তাদের বের করে দিয়ে ভোটের উপকরণ দখল এবং ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহার করলে, কাউকে ভোটদানে বিরত রেখে কেবল নিজের পছন্দের প্রার্থীর সমর্থকদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিলে ছয় মাস থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড।

অর্থের বিনিময়ে কোনো সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে কাউকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখা, কাউকে ভোট দেওয়া বা কাউকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করালে দুই বছরের কারাদণ্ড। কোনো ব্যক্তির নামে ভোট প্রদান, কাল্পনিক নাম ধারণ করে ভোট প্রদান বা মৃত ব্যক্তির ভোট দিলে ছয় বছরের কারাদণ্ড।

অবৈধ প্রভাব বিস্তার

কোনো শক্তি প্রদর্শন, ত্রাস সৃষ্টি, ভীতি প্রদর্শন, আঘাত-ক্ষতি-সম্মানহানী ঘটালে, কোনো সাধু বা পীরের অভিশাপ কামনা করার ভীতি প্রদর্শন করলে, ধর্মীয় দণ্ড প্রদান বা প্রদান করার ভীতি দেখালে এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বা প্রভাব খাটালে দুই বছরের কারাদণ্ড। এছাড়া দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণে এক বছর, সরকারি পদের অপব্যবহারের কারণে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সভা, সমাবেশ, শোভাযাত্রা ও মিছিল

ভোটগ্রহণ শুরুর আগের ৩২ ঘণ্টা থেকে ভোটগ্রহণ শেষের ৬৪ ঘণ্টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কোনো ব্যক্তি কোনো জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান করতে এবং কোনো মিছিল বা শোভাযাত্রা সংঘঠিত করতে বা তাতে যোগদান করতে পারবে না। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে কোনো আক্রমণাত্মক কাজ বা বিশৃঙ্খলামূলক আচরণ করতে পারবেন না। ভোটার বা নির্বাচনে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে পারবেন না। কোনো অস্ত্র বা শক্তিও প্রদর্শন করা যাবে না। এই বিধান না মানলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

ভোটকেন্দ্রের চারশ গজের মধ্যে কার্যকলাপ

কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের চারশ গজের মধ্যে ভোটের প্রচার চালালে, কারো কাছে ভোট চাইলে, কাউকে ভোট না দিতে দিলে দুই বছরের কারাদণ্ড। এছাড়া ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্র থেকে শোনা যায় এমনভাবে চিৎকার করলে বা এমন কোনো কাজ যা ভোটারদের বিরক্তি সৃষ্টি করে বা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের কাজে ব্যঘাত ঘটায় এবং ভোটকেন্দ্র থেকে শোনা যায় এমন কোনো মাইক্রোফোন, লাউড স্পিকার বা প্রতিধ্বনি সৃষ্টিকারী যন্ত্র ব্যবহারেও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা

রিটার্নিং অফিসারকে বাংলায় রূপান্তর করে ‘নির্বাচন অধিকর্তা’ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে উপজেলা, জেলা, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিকে নির্বাচন অধিকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেবে ইসি।

নির্বাচনের সময়

কোনো প্রতিষ্ঠান (স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান) গঠন হলে তার পরের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণ করতে হবে। আর পরবর্তী কালে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণ করতে হবে। আর বিলুপ্ত হলে সে সময় থেকে পরের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোটের বিধান রাখা হয়েছে। তবে যে কোনো পরিস্থিতিতে দৈবদুর্বিপাক হলে নির্বাচন কমিশন তার সুবিধামতো সময়ে ভোট করবে।

এ বিষয়ে ইসি সচিব মো. আলমগীর বলেন, সবগুলো প্রতিষ্ঠানের আইনকে আমরা একটি আইনে রূপান্তর করতে চাচ্ছি। এছাড়া এটা বাংলায় করা হচ্ছে। এজন্য কিছু নাম ও পদবির পরিবর্তনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। বড় কোনো পরিবর্তনের প্রস্তাব নেই। তবে এই প্রস্তাবের ওপর আমরা রাজনৈতিক দলসহ সবার মতামত নেবো। সবার মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইল ছাত্রলীগের সাবেক নেতার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ সভাপতির অভিযোগ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল-মামুন, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা কফিলুর রহমান ভূটানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। এই বিষয়ে নিজের নিরাপত্তার জন্য তিনি গত ৬ আগস্ট ঘাটাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। জিডি নং- ২০০।

সাধারণ ডায়েরিতে ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, বিবাদি কফিলুর রহমান ভুটান আমার সাথে সামাজিক বিষয়াদি নিয়ে শত্রুতা করতঃ আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা সহ খুন জখমের হুমকি দিয়ে আসছিলো।

এমতবস্থায় গত ৫ আগস্ট দুপুর বেলা ভুটান আমার বসত বাড়ীর দক্ষিণ পাশে (স’মিল রোড, ঘাটাইল পৌরসভা) জহিরুলের চায়ের দোকানের সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে আমাকে খুন জখমের হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে সাধারণ ডায়েরিতে তিনি উল্লেখ করেছেন।

কফিলুর রহমান ভূটান উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার এসআই মোঃ মতিউর রহমান বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইল বিএনপি’র প্রবীণ রাজনীতিক শহিদুর রহমান তারা মিয়া আর নেই

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার নজুনবাগ নিবাসী প্রবীণ রাজনীতিক সমাজসেবক মোঃ শহিদুর রহমান তারা মিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১ ঘটিকার সময় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

মরহুমের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার তাঁর স্ট্রোক করেছিল। পরবর্তীতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় তিনি আজ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, তিন কন্যা সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার নামাজে জানাজা আজ এশার নামাজের পর নিজ গ্রামে অনুষ্ঠিতর পর পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য: তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম মুকুলের পিতা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবদুর রউফ শোভার মামা। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ঘাটাইল উপজেলা শাখার একজন প্রবীণ রাজনীতিক ছিলেন।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা

আজ সোমবার (১০ আগস্ট) বিকালে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের কাছড়া গ্রামবাসীর যৌথ উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলার কাছড়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র কল্যাণ সংগঠন এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। কাছড়া গ্রামের স্থানীয় একটি নদীতে এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

বিরাহীমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম খানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন দিগড় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিগড় ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফ এস টেক্স মিল গেট টঙ্গী গাজীপুরের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার ফরিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম বন্দরের উপ সহকারী পরিদর্শক মোঃ শফিক, সমাজসেবক আব্দুর রশিদ, ডাক্তার সুলতান মাহমুদ, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল মালেক খান, মোশারফ হোসেন বিএসসি প্রমুখ।

নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলকে পুরস্কৃত করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।

(রবিউল আলম বাদল, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঐতিহাসিক জাহাজমারা দিবস কাল

আগামিকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় ত্বরান্বিত করার ঐতিহাসিক ‘জাহাজমারা’ দিবস।

করোনা ও বন্যার কারণে দিবসটি উপলক্ষে এবার বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহন করা হয়নি। তবে ভূঞাপুরের মাটিকাটায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জাহাজমারা কমান্ডার হাবিবের ছেলে আতিকুর রহমান।

১৯৭১ সালের এই দিনে যমুনা নদীতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার মাটিকাটা নামক স্থানে কাদেরিয়া বাহিনীর বীর মুক্তিযোদ্ধারা আধুনিক মারণাস্ত্র ও রসদ বোঝাই পাক বাহিনীর জাহাজ এসইউ ইঞ্জিনিয়ার্স এলসি-৩ ও এসটি রাজন ধংস করার মাধ্যমে হানাদারদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয়।

এ ঘটনা মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল। জাহাহমারা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন, কাদেরিয়া বাহিনীর দুর্ধর্ষ সাহসী কমান্ডার মেজর হাবিবুর রহমান বীরবিক্রম।

ঐতিহাসিক সূত্রে প্রকাশ, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মরণাস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানী ও রসদ বোঝাই ৭টি যুদ্ধ জাহাজ নারায়ণগঞ্জ থেকে উত্তরবঙ্গে যাচ্ছিল।

মুক্তিযুদ্ধের এ সময় যমুনা-ধলেশ্বরী নদী পথে মাটিকাটা নামক স্থানে করা নজরদারী করছিলেন, কাদেরিয়া বাহিনীর চৌকশ কমান্ডার মেজর হাবিবুর রহমান।

তার দূরদর্শী নেতৃত্বে অল্প সংখ্যক বীর মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দুটি অস্ত্র বোঝাই জাহাজ এসইউ ইঞ্জিনিয়ার্স এলসি-৩ এবং এসটি রাজন ধংস করা হয়।

জাহাজ দুটিতে আক্রমণ ও দখল করে ১,২০,০০০ বাক্সে ২১ কোটি টাকা মূল্যের অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ মুক্তিযোদ্ধাদের হস্তগত হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের দীর্ঘ ৯ মাসে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এক যুদ্ধে অন্য কোথাও মুক্তিবাহিনীর হাতে এত বড় ক্ষতি ও বিপর্যয়ের সম্মুখিন হতে হয়নি।

পরবর্তীতে যুদ্ধ জাহাজ ও অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করার জন্য পাকিস্তানি কমান্ডেন্ট লে. জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজি ও ব্রিগেডিয়ার কাদের খানের নেতৃত্বে ৪৭ ব্রিগেড, ৫১ কমান্ডো ব্রিগেড ও পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর দুটি এফ-৮৬ স্যাবর জেট বিমান দ্বারা মুক্তিবাহিনীর উপর চতুর্দিক থেকে আক্রমণ করে।

কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডার হাবিবুর রহমানের নেতৃত্ব ও রণ কৌশলের কাছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই যুদ্ধকে পট পরিবর্তনকারী(টার্নিং পয়েণ্ট) অধ্যায় হিসেবে গণ্য করা হয়।

কমান্ডার হাবিবুর রহমানের অসম সাহসীকতা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ‘বীরবিক্রম’ ও ‘জাহাজমারা হাবিব’ খেতাবে ভূষিত করে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

নেপালকে রেল ট্রানজিট দিচ্ছে বাংলাদেশ

রেলপথে নেপালকে ট্রানজিট সুবিধা দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এজন্য নেপালের সঙ্গে থাকা ট্রানজিট চুক্তি সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা এ বৈঠকে যোগ দেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরের লক্ষ্যে ‘অ্যাডেনডাম টু দ্য প্রটোকল টু দ্য ট্রানজিট এগ্রিমেন্ট বিটুইন দ্য গভর্মেন্ট অব দ্য পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ অ্যান্ড দ্য গভর্মেন্ট অব দ্য ফেডারেল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব নেপাল’র খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘১৯৭৬ সাল থেকে নেপালের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক ট্রানজিট এগ্রিমেন্ট আছে। সেই ট্রানজিট এগ্রিমেন্টের মধ্যে নেপাল একটি রিকোয়েস্ট করেছে আমাদের রোহনপুর আর ভারতের সিঙ্গাবাদ হয়ে যে রেলপথ আছে সেখানে আরেকটি ট্রানজিট সুবিধা দেয়ার জন্য।’

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৭৬ সাল থেকেই এই প্রোটোকলটা আছে, নতুন আরেকটা ওপেনিং হলো। রোহনপুর ও সিঙ্গাবাদ রেলপথের মাধ্যমে তারা মালামাল আনতে ও নিতে পারে সেটা।

এই সংশোধনীর প্রস্তাব অনুমোদন পেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোহানপুর থেকে ভারতের সিঙ্গাবাদ হয়ে নেপালের বীরগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথে পণ্য পরিবহন সুবিধা চালু হবে।

‘আরেকটা জিনিস এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে যে, নেপাল আমাদের সৈয়দপুর এয়ারপোর্ট ব্যবহার করতে চায়। এটা আলোচনা চলছে, আজকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ওইভাবে আর উপস্থাপন করতে পারেনি। যদি এটায় এগ্রি হয় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে সেই প্রস্তাবও এখানে আসবে, আরেকটা অ্যামেন্ডমেন্ট আসবে’ বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে দিচ্ছি। সবগুলো জায়গায় আমরা ওপেন করতে পারিনি। সুবিধা আমরাও পাব।’

কাস্টমস সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানে সৌদির সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরের লক্ষ্যে ‘এগ্রিমেন্ট বিটুইন দ্য গভর্মেন্ট অব দ্য কিংডম অব সৌদি এরাবিয়া অ্যান্ড দ্য গভর্মেন্ট অব পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ অন কো-অপারেশন অ্যান্ড মিউচুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট ইন কাস্টমস ম্যাটারস’ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে সৌদি আরবের অনেক যোগাযোগ আছে। সেই যোগাযোগের ক্ষেত্রে কাস্টম একটি বড় ফ্যাক্টর। সেজন্য সৌদি আরবের শুল্ক সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান, শুল্ক ফাঁকি রোধে সহযোগিতা করা। কীভাবে বাণিজ্য সহজ করা যায়, যদি আমরা কাস্টমস ডিউটিগুলো ইজি করে ফেলতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘এই চুক্তি করলে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও বাড়বে। দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ সুসংহত হবে। দুই দেশে অনলাইনে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবে। পণ্যের অবৈধ বাণিজ্য ও চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রাখবে এটা।’

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘দুই দেশের অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য ও অন্যান স্বার্থ রক্ষায় এটা কার্যকর হবে। গোয়েন্দা কার্যক্রমের বিষয়ে দুই দেশ পরস্পরকে সাহায্য করতে পারবে। আমাদের দেশের কাস্টম বিভাগের দক্ষতা বাড়াতেও সৌদি আরব আমাদের সহায়তা করবে।’

(জাগো নিউজ, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মিয়া স্মরণে দোয়া মাহফিল

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় ৬ নং দিঘলকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শিক্ষাবিদ, নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মিয়া স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেল ৫টায় দিঘলকান্দি ও দিগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে হামিদপুর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া মাহফিল এ আলহাজ্ব ওসমান গনির সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন, দিঘলকান্দি ইউনিয়ন চেয়াম্যান মো. নজরুল ইসলাম, দিগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মামুন, আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান মাহমুদ, হামিদপুর ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাকির হোসেন খান রতন, যুবলীগ নেতা সুমন খান বাবু প্রমুখ।

এ সময় দিঘলকান্দি ও দিগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা প্রয়াত এই বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মিয়া জীবদ্দশায় বর্ণিল কর্মময় জীবনালেখ্য তুলে ধরে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ ও লালন করে তার অসমাপ্ত সংগ্রামকে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন মিয়া এই আকস্মিক মৃত্যুু সকলকে শোক বিমুঢ় করেছে তার এই অপুরণীয় শুন্যতা ব্যথিত করেছে।

দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন দিগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজাহান মোল্লা।

(রেজাউল করিম খান রাজু, ঘাটাইল ডট কম)/-

মধুপুরে বংশাই নদী ও গুজা খাল দখল করে ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ

টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের রামকৃষ্ণ বাড়ি মৌজায় কাকরাইদ ব্রীজের পূর্ব পাশে ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন বংশাই নদীর কিছু অংশ এবং গুজা খাল দখল করে ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাকরাইদ গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলী ফকিরের ছেলে আবু হানিফার বিরুদ্ধে এ অভিযোগটি উঠেছে।

সরকারি বংশাই নদী ও গুজা খাল দখল মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক, মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ, আউশনারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মধুপুর প্রেসক্লাব বরাবর এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় রামকৃষ্ণ বাড়ি গ্রামের কাজিম উদ্দিনের ছেলে মোঃ জহুর আলী।

এতে এলাকাবাসী ও অভিযোগপত্র থেকে জানা যায় যে, “এলাকার মানুষ গুজা খালের জবর দখলকৃত জায়গায় জাল পেতে মাছ ধরতেন। কৃষকরা গরু চড়াতেন। শিশুরা গুজা খাল পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতেন। কিন্তু জায়গাটি জবর দখল করে বাড়ি ঘর নিমার্ণ করায় স্থানীয়দের মাছ ধরা, শিশুদের স্কুলে যাওয়া ও কৃষকের গরু চড়ানো বন্ধ হয়ে গেছে।”

এমতাবস্থায় তাদের দাবি, “সরকারী নদী খাল জবর দখল মুক্ত করে সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার।”

আর এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আবু হানিফা জানান, “দীর্ঘ দিন ধরে এখানে বসবাস করছি। আমার নামে এ জায়গার কাগজ রয়েছে। (যার খতিয়ান নং ৩৪৩। ডিপি ২৬। জেএল নং ১৩২ মৌজা রামকৃষ্ণ বাড়ি। জমির পরিমাণ ২৫ শতাংশ)।” কিন্তু কোন সূত্রে রেকর্ড পেয়েছেন তার কোন উত্তর দিতে পারেন নি তিনি।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা জহুরা জানান, “এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে বলা হয়েছে।”

মধুপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল করিম বলেন, “এ ব্যাপারে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। উচ্ছেদ নোটিশ প্রস্তুত হচ্ছে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

(মধুপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-