নিজেকে নবী দাবি করায় পাকিস্তানে আদালতেই যুবককে গুলি করে হত্যা

পাকিস্তানে নিজেকে নবী দাবি করায় এক ব্যক্তিকে আদালত কক্ষেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। দেশটির পেশওয়ারে এ ঘটনা ঘটেছে বলে বুধবার জানিয়েছে আল-জাজিরা অনলাইন।

পুলিশ কর্মকর্তা ইজাজ আহমেদ জানান, বুধবার ধর্ম অবমাননা মামলায় তাহির আহমেদ নাসিম নামের ওই ব্যক্তির শুনানি চলছিল। এসময় তাকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়।

তিনি বলেন, ‘হামলাকারীকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। ধর্ম অবমাননা করায় সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।’

উল্লেখ্য, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ২০১৮ সালে গ্রেপ্তার করা হয় তাহিরকে। পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননাআইনে কিছু অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

‘সেকেন্ড হ্যান্ড রেলইঞ্জিন’ উপহার দিয়েছে ভারত!

ভারত সরকারের ঈদ উপহার হিসেবে দেয়া ১০টি ব্রডগেজ রেলইঞ্জিন পার্বতীপুরে এসে পৌঁছেছে। এসব রেল ইঞ্জিন ৫ থেকে ৭ বছর ধরে ভারতীয় রেলরুটে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

বুধবার জ্বালানি তেলবাহী লরীর সাথে যুক্ত হয়ে এসব ইঞ্জিন পার্বতীপুর রেল স্টেশনে এসে পৌঁছালে রেলওয়ের কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা (কেলোকা) পার্বতীপুরের প্রধান নির্বাহী (সিইএক্স) নুর মোহাম্মদ এগুলো গ্রহণ করেন।

সুত্র জানায়, ১০টি লোকোমোটিভের মধ্যে ৮টি ২০১৩ সাল, ১টি ২০১৪ সাল ও ১টি ২০১৫ সালের মডেলের। ইঞ্জিনগুলোর ভারতীয় সিরিজ নম্বর ডাব্লিই ডি এম থ্রি ডি টাইপের লোকো নম্বর- ই সি আর ১১৪৩১, ১১৪৩২, ১১৪৩৩, ১১৪৩৪, ১১৪৩৫, ১১৫৮৭, ইকোর ১১৪৩৬, ১১৪৩৭, ইআর ১১৪০৬ ও ১১৫৭১। এসব ইঞ্জিন ভারতে রেলের বিভিন্ন রুটে ৭, ৬ ও ৫ বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছিল।

কেলোকার প্রধান নির্বাহী নুর মোহাম্মদ জানান, ইঞ্জিনগুলো সেকেন্ড হ্যান্ড। কেলোকায় প্রতিটি ইঞ্জিনের পৃথকভাবে যন্ত্রাংশ পরীক্ষা শেষে ট্রায়ালে পাঠানো হবে। এর আগে নতুন করে বাংলাদেশ রেলওয়ের আদলে রঙ পরিবর্তন ও সিরিজ লেখা হবে। পরে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্রডগেজ সেকশনের বিভিন্ন রুটে এসব ইঞ্জিন চলাচল করবে।

উল্লেখ্য, দুই দেশের রেলমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর মধ্যে ভিডিও কন্ফারেন্সের মাধ্যমে এসব ইঞ্জিন হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। গত সোমবার ভারতের গেঁদে রেল স্টেশন থেকে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গার দর্শনা জয়নগর চেকপোষ্ট দিয়ে ইঞ্জিনগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

(ভোরের কাগজ, ঘাটাইল ডট কম)/-

মধুপুরে গারোদের বন্ধু ফাদার হোমরিক যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মারা গেছেন

টাঙ্গাইলের মধুপুর বনের গারো জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বন্ধু, মুক্তিযোদ্ধা ফাদার ইউজিন হোমরিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পরলোকগমন করেছেন।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় আজ রোববার সকাল আটটায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর বনে কাটান।

ফাদার হোমরিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন মধুপুরের জলছত্র ধর্মপল্লীর পাল পুরোহিত ফাদার ডনেল স্টিফেন ক্রুশ।

ফাদার হোমরিকের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে মধুপুরের গারোদের মাঝে।

ক্যাথলিক ধর্মযাজক ফাদার হোমরিক ১৯২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মিশিগানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লেখাপড়া করেছেন মিশিগানের নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেরিনল কলেজে।

ফাদার হোমরিক ১৯৬০ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মধুপুর গড়ে থেকে ধর্ম প্রচার করেন। পাশাপাশি এই এলাকার বনবাসী গারোদের মধ্যে শিক্ষাবিস্তার এবং স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক কাজ করেছেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জলছত্র ধর্মপল্লীতে তিনি মুক্তিকামী অনেক মানুষকে আশ্রয় দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবাসহ নানাভাবে সহায়তা করেছেন। এজন্য তাকে মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেয় বাংলাদেশ সরকার।

৫৬ বছর মধুপুরে কাটানোর পর ২০১৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। সেখানে তিনি মিশিগানে অবস্থান করছিলেন।

মধুপুরের জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক বলেন, ‘মধুপুরের আদিবাসীদের উন্নয়নে ফাদার হোমরিক অনেক অবদান রেখেছেন। তাঁকে এ অঞ্চলের আদিবাসীরা চিরদিন মনে রাখবে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন অনেকেই। নকরেক পেট্রোস লিখেছেন, ‘ওপারে ভালো থাকবেন ফাদার।’ ফিডেল ডি সাংমা লিখেছেন ‘যেখানেই থাক সুখে থাক তুমি। সৃষ্টিকর্তা তোমাকে চিরশান্তি দান করুক।’

(মধুপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মালয়েশিয়ায় টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেয়ায় আটক বাংলাদেশী রায়হান কবির

মালয়েশিয়ায় করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে অভিবাসী শ্রমিকদের দুর্ভোগ নিয়ে আল জাজিরা টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেয়ার অপরাধে সে দেশের পুলিশ বাংলাদেশী নাগরিক রায়হান কবিরকে গ্রেফতার করেছে।

আল জাজিরা টেলিভিশনে প্রচারিত একটি তথ্যচিত্রে তিনি বলেছিলেন যে অনিবন্ধিত বিদেশি শ্রমিকরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, এবং ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে শত শত অভিবাসীকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসীদের প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক চলতি লকডাউনে বৈষম্যমূলক ও বর্ণবাদী আচরণ নিয়ে ‘লকডআপ ইন মালয়েশিয়াস লকডাউন’ শিরোনামে গত ৩ জুলাই ২৫ মিনিটের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আল-জাজিরা টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। সেখানে সাক্ষাৎকার দেন রায়হান কবির।

প্রতিবেদনটি প্রচারিত হওয়ার পর মালয়েশিয়া সরকার এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে আল-জাজিরার এমন প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করে।

এরপর রায়হান কবিরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির সঙ্গে সঙ্গে দেশটিতে রায়হান কবিরের (২৫) ওয়ার্ক পারমিটও (ভিসা) বাতিল করা হয়।

ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে মালয় মেইল সংবাদপত্র খবর দিয়েছে, দু’সপ্তাহ ধরে খোঁজ করার পর পুলিশ শুক্রবার সন্ধ্যায় মি. কবিরকে গ্রেফতার করেছে।

পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক খাইরুল জাইমি দাউদ জানিয়েছেন যে মি. কবিরকে এখন বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং ভবিষ্যতে তাকে আর মালয়েশিয়ায় ঢুকতে দেয়া হবে না।

আল জাজিরা গত ৩রা জুলাই ‘লকড আপ ইন মালয়েশিয়াস লকডাউন’ নামে একটি তথ্যচিত্র সম্প্রচার করে।

প্রায় ২৬ মিনিটের ঐ ডকুমেন্টারিতে মালয়েশিয়ায় আটকে পড়া অবৈধ শ্রমিকদের বেহাল দশার কথা তুলে ধরা হয়।

রায়হান কবির ঐ তথ্যচিত্রে এ সম্পর্কে কুয়ালালামপুর কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছিলেন।

ঐ ডকুমেন্টারিতে বলা হয়, মহামারির মধ্যে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ দু’হাজারেরও বেশি অনিবন্ধিত শ্রমিককে আটক করেছে এবং কঠোর ভাইরাস লকডাউনের মধ্যে তাদের আটকে রাখা হয়েছে।

ঐ ভিডিওটি প্রচারের পর থেকেই মালয় সোশাল মিডিয়াতে মি. কবিরের বিরুদ্ধে প্রবল সমালোচনা শুরু হয়।

এর জেরে কর্তৃপক্ষ তার ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে, এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

শুক্রবার গ্রেপ্তারের ঠিক আগে রায়হান কবির নিজের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ঢাকার ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, “আমার অপরাধটা কী? আমি তো কোনও মিথ্যা বলিনি। প্রবাসীদের ওপর যে বৈষম্য ও নিপীড়ন চলেছে, আমি শুধু সেই কথাগুলো বলেছি।

“আমি চাই প্রবাসে থাকা কোটি বাংলাদেশি ভালো থাকুক। আমি চাই পুরো বাংলাদেশ আমার পাশে থাকুক।”

কী বলছে আল জাজিরা?

আল জাজিরা টেলিভিশন রায়হান কবিরের গ্রেফতার নিয়ে সরাসরি কোন মন্তব্য না করলেও তারা মি. রায়হানের বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগগুলি তুলে নেয়ার ডাক দিয়েছে।

এক রিপোর্টে আল জাজিরা তাদের রিপোর্টের সত্যতা সম্পর্কে জোরালো বক্তব্য রেখেছে।

চ্যানেলটি জানিয়েছে, এই ঘটনায় পুলিশ তাদের একদল সাংবাদিককে কঠোরভাবে জেরা করেছে।

মালয়েশিয়ার পুলিশের আইজি তানশ্রি আব্দুল হামদি বাদর জানিয়েছেন, পুলিশ এবং অ্যাটর্নি জেনারেরেলের দফতর আল জাজিরার ডকুমেন্টারিটি বিশ্লেষণ করেছে এবং তাতে ‘অনেক রাষ্ট্রদ্রোহিতার উপকরণ‌’ রয়েছে বলে মনে করছে।

বাংলাদেশ দূতাবাস নি:শ্চুপ

রায়হান কবিরের গ্রেফতারের ব্যাপারে বিবিসি বাংলার তরফ থেকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এনিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তিনি শুধু জানিয়েছেন যে তিনি একটি ‘বিশেষ পরিবেশের’ মধ্যে আছেন। কিন্তু সেটা কি তার কোন ব্যাখ্যা জানা যায়নি।

গ্রেফতার হওয়ার পর বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে যে কনসুলার সেবা মি. কবিরের পাওয়ার কথা, তিনি সেটা পেয়েছেন কিনা, তাও জানা যাচ্ছে না।

(বিবিসি, ঘাটাইল ডট কম)/-

নেপালের বিদ্যুৎ ভারতীয় কোম্পানির মাধ্যমে কিনছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও ভারতের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রয়ের জন্য নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অনুমোদন দিয়েছে নেপালের সরকার।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ কেনার ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছে এবং সে বিষয়ে একটি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

কিন্তু সরাসরি নেপাল থেকে নয়, ভারতীয় একটি কোম্পানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেনার ব্যাপারে চুক্তি হয়েছে।

কীভাবে এই বিদ্যুৎ আনা হবে?

নেপালের সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশটিতে চাহিদা পূরণের পর যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকবে তা বাংলাদেশ ও ভারতের কাছে বিক্রি করতে পারবে নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

চাহিদার চেয়ে উৎপাদন কম হলে এই দুটি দেশ থেকে বিদ্যুৎ কিনতেও পারবে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, নেপাল থেকে বিদ্যুৎ কিনে বাংলাদেশের কাছে বিক্রি করবে ভারতীয় একটি কোম্পানি এমন একটি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি বলছেন, “নেপাল এবং জলবিদ্যুতের সম্ভাবনা বিশাল। এই জলবিদ্যুৎ নেবার জন্যই প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন। আমি নিজে গত বছর গিয়েছিলাম নেপালে এবং সেখানে আমাদের একটা চুক্তি সই হয়েছে।ৱ

“ইতিমধ্যে আমরা একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি, ভারতের জিএমআর কোম্পানির কাছ থেকে নেপালের বিদ্যুৎ নেয়ার। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরাসরি চুক্তি হচ্ছে জিএমআরের সাথে যে ওনারা বিদ্যুৎটা আনছেন নেপাল থেকে। তারা সঞ্চালন লাইন তৈরি করবে, আমরা সেখান থেকে বিদ্যুৎ নেবো।”

যে কারণে সরাসরি নেপাল থেকে নয়

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। তবে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা এর অর্ধেকের মতো। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই ভারত থেকে ১৩শ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ কিনছে।

নেপাল থেকেও বিদ্যুৎ কেনার ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে আলাপ আলোচনা চলছে, কিন্তু বাংলাদেশ সরাসরি নেপাল থেকে বিদ্যুৎ কিনছে না।

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম বলছেন, “ভারতের একটি ক্লজের কারণে বাংলাদেশ সেটা পারছে না। বিদ্যুতের আমদানি ব্যবসা ভারত তার একটি পলিসি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছে।”

“তাদের ক্লজ অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতাতেই শুধু বিদ্যুৎ ব্যবসা হতে পারবে। সেই কারণে নেপাল থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ নিতে পারার সুবিধাটা বাংলাদেশ পায়নি।”

বাংলাদেশের সাথে নেপালের সরাসরি সীমান্ত না থাকায় ভারতের ভেতর দিয়ে সঞ্চালন লাইন তৈরি করে এই বিদ্যুৎ আনতে হবে।

কিন্তু বাংলাদেশের বাংলাবান্ধা সীমান্ত থেকে ভারতের জলপাইগুড়ির ফুলবাড়ি হয়ে স্থলপথে নেপালের কাকরভিটা যেতে ১ ঘণ্টা মতো সময় লাগে।

ভারতের সেভেন সিস্টার নামে পরিচিত রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে পণ্য পরিবহনে ভারত ২০১৬ সালে ট্রানজিট সুবিধা পায়। ২০১০ সাল থেকে কয়েক দফায় কোনও ধরণের ফি ছাড়াই আশুগঞ্জ নৌ বন্দর ও আশুগঞ্জ-আখাউড়া প্রায় ৪৫ কিলোমিটার সড়ক ব্যবহার করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভারি মালামাল এবং খাদ্যশস্য ট্রানজিট করেছিল ভারত।

মাত্র দুদিন আগেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্দর ব্যবহারের সুবিধা দেয়ার ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির প্রথম ভারতীয় পণ্যের জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

ড. শামসুল আলম বলছেন, “এই জায়গাটায় দর কষাকষির সুযোগ ছিল। আমরা যেসব সুবিধা ভারতকে দিয়েছি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে, ট্যাক্স টোলের ব্যাপারে, সেই সব সুবিধার বিনিময়ে ভারত বাংলাদেশের জন্য এই ক্লজ বাতিল করতে পারতো। যে অসম নিয়ন্ত্রণ পলিসি দ্বারা ভারত বিদ্যুৎ আমদানির উপরে আরোপ করেছে, আমি মনে করি বাংলাদেশের এটা নিয়ে কূটনৈতিক লড়াই করা উচিৎ।”

তিনি বলছেন, বাংলাদেশের এখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য খরচ হয় ২৯ পয়সা। তার মতে নেপাল থেকে বাংলাদেশ সরাসরি সঞ্চালন করে বিদ্যুৎ আনলেও এই জল বিদ্যুতের দাম যথেষ্ট কম থাকবে। তার ভাষায় বাংলাদেশ সেই সুবিধা না নিতে পারলে সেটি হবে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যর্থতা।

দাম নিয়ে প্রশ্ন

তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ রক্ষার বিষয়ে বামপন্থীদের একটি আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ প্রশ্ন তুলেছেন এভাবে বিদ্যুৎ ক্রয়ে বাংলাদেশের জন্য কতটা লাভজনক হবে সেনিয়ে।

তিনি বলছেন, “বিদ্যুৎ একটা পাবলিক গুডস। বাংলাদেশে এর দাম নিয়ন্ত্রিত হয় পাবলিক রেগুলেটরি কমিশন দ্বারা। এর জন্য গণশুনানি হয়।”

“নেপালের ইলেক্ট্রিসিটি কোম্পানি পণ্যটি বিক্রি করবে ভারতীয় একটি কোম্পানির কাছে। সেই ভারতীয় ইলেক্ট্রিসিটি কোম্পানি আবার সেই পণ্যটি বিক্রি করবে আমাদের কাছে। সেখানে নিশ্চয়ই মুনাফার বিষয় থাকবে।”

“খুব স্বভাবতই এখানে দামের লজিকটা কাজ করবে নেপালের কোম্পানি যে দামে ভারতের কোম্পানির কাছে বিক্রি করবে তারা নিশ্চয়ই আমাদের কাছে আরও বেশি দামে বিক্রি করবে তা না হলে মুনাফা কীভাবে হবে। যেহেতু বাণিজ্যিক লেনদেন হচ্ছে। সেজন্য বিষয়টি মুনাফা ভিত্তিক হয়ে যাবে।”

এর বাইরে দামের সাথে ট্যাক্স ও টোল দিতে হবে। নেপাল ও ভারত থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ আনার জন্যে সঞ্চালন ফি সম্ভবত থাকতে পারে। সব মিলিয়ে সরাসরি নেপাল থেকে বিদ্যুৎ না আনতে পারার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য কতটা লাভজনক থাকবে সেই প্রশ্ন তুলছেন অধ্যাপক আকাশ।

(বিবিসি, ঘাটাইল ডট কম)/-

শেখ হাসিনাকে ইমরান খানের ফোন; বাংলাদেশের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক চায় পাকিস্তান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গতকাল বুধবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করে কিছু বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা খবর দিয়েছে।

বাংলাদেশের বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে ইমরান খান বাংলাদেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতির খবর জানতে চান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস সচিব ইহসানুল করিমকে উদ্ধৃত করে বাসস জানায়, দুপুর একটা নাগাদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ফোন করেন এবং জানতে চান যে ঠিক কীভাবে তাঁর সরকার করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।

দুই প্রধানমন্ত্রীর পনেরো মিনিট ধরে চলা টেলিফোন আলোচনার সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা এবং করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সে সম্পর্কে ইমরান খানকে বিস্তারিতভাবে জানান।

বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা সে সম্পর্কেও পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন বলে জানান মি. করিম।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান বা এপিপি দুই প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোন আলোচনা সম্পর্কে আরেকটু বিস্তারিতভাবে জানিয়ে একটি খবর প্রকাশ করেছে।

ওই খবরে বলা হয়েছে, আলোচনার সময় ইমরান খান উল্লেখ করেন যে পারস্পরিক বিশ্বাস, পারস্পরিক সম্মান এবং সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বমূলক সম্পর্ক গভীর করতে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এ সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতে তাঁর দেশের গুরুত্ব দেয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জানান।

এপিপি’র খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এ সময় নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে সংযোগের স্থাপনের গুরুত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

বার্তা সংস্থাটি বলছে, সার্কের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থনের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গুরুত্বারোপ করেছেন যে দুই দেশ (পাকিস্তান ও বাংলাদেশ) যৌথভাবে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই শান্তি ও উন্নয়ন অর্জনের জন্য কাজ করতে পারে।

ইসলামাবাদ থেকে পাঠানো এপিপি’র খবরে আরও বলা হয়, কোভিড-১৯ রোগে বাংলাদেশের মানুষের প্রাণহানীতে ইমরান খান দুঃখ প্রকাশ করেন এবং করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে শেখ হাসিনার সরকারের নেয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।

তিনি সাম্প্রতিক বন্যায় বাংলাদেশে প্রাণহানীতে সহানুভূতি প্রকাশ করেন।

এপিপি বলছে, টেলিফোন আলাপের সময় ইমরান খান “ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের গুরুতর অবস্থা নিয়ে পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন” এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধশালী অঞ্চল গড়ে তুলতে জম্মু ও কাশ্মীর সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাকিস্তান ভ্রমণের জন্যও পুনরায় আমন্ত্রণ জানান ইমরান খান।

কুটনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বেশ কয়েক বছর ধরেই অবনতিশীল রয়েছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের প্রকাশ্য অবস্থান এবং বিচারের বিরোধীতা করায় দুই দেশের সম্পর্ক একবারে তলানীতে পৌঁছায় বলে তারা মনে করেন।

(বিবিসি, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঢাকা বিমানবন্দর থেকে নিখোঁজ ঘাটাইলের ছাইদ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মোঃ ছাইদ মালদ্বীপ থেকে ঢাকায় এসে গত ১৮ জুলাই থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তার সন্ধান চেয়ে থানায় জিডি করেছেন তার পরিবার সদস্যরা।

জানা যায়, ঘাটাইল উপজেলার ভবনদত্ত কাপাশিয়া এলাকার আঃ লতিফের ছেলে মোঃ ছাইদ কর্মসংস্থানের জন্য মালদ্বীপ গমন করেন। পরে গত ১৮ই জুলাই মালদ্বিপ থেকে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌছলে বিকেল ৭টার দিকে এয়ারপোর্ট থেকে নিখোঁজ হয়েছেন।

এরপর তিনি বাসায় ফিরে না আসলে সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে তার পরিবার সদস্যরা ঘাটাইল ডট কমকে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানার জিডি করা হয়েছে। নং- ৬৫৩, তারিখ:-২০/০৭/২০২০।

কোন ব্যক্তি তার সন্ধান জেনে থাকলে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানা অথবা (০১৭৩৩৭৮১৬০৫, ০১৭৮৬৩৩৩০৯২, ০১৩০৮৩৯৬৭৫০) মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

গরু নিয়ে বিএসএফ-বিজিবি প্রকাশ্য রেষারেষি কি বৃহত্তর বিরোধের ইঙ্গিত?

ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু চোরাচালান বহু পুরনো পরিচিত ঘটনা। কিন্তু এ মাসে এই বিষয় নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী যেভাবে প্রকাশ্যে, বিবৃতি দিয়ে পরস্পরকে এই চোরাচালানের অংশীদার বলে দায়ী করছে, তার নজির বিরল।

পাচার করা গরু দিয়ে কোরবানি হয় কিনা, সে ধরণের কোরবানি পশু নির্যাতনের সামিল কিনা – বিবৃতি দিয়ে বিএসএফের মত একটি ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে সেই প্রশ্ন তোলার নজিরবিহীন ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশে বিস্ময় তৈরি হয়েছে।

এনিয়ে বাংলাদেশের সীমাতরক্ষা বাহিনী ক্ন্বিজিবির সাবেক প্রধান লে.জে. (অব) মইনুল ইসলাম বিবিসিকে বলেন, প্রকাশ্যে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে এক বাহিনী আরেকটি বাহিনীকে চোরাচালানে জড়িত থাকার জন্য দায়ী করার এই ঘটনায় তিনি বিস্মিত।

“বিএসএফ কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে দায়ী করেনি, প্রতিবেশী দেশের একটি পুরো বাহিনীকে দায়ী করেছে। এটা যেমন অস্বাভাবিক তেমনি অন্যায়। ফলে বিজিবির পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতি জারী করা যথাযথ হয়েছে বলে আমি মনে করি।”

ঝগড়ার শুরু যেভাবে

এই ঝগড়ার শুরু ৬ই জুলাই যখন বিএসএফের সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের ডিআইজি এসএস গুলেরিয়া ঈদের আগে গরু চোরাচালান নিয়ে একটি বিবৃতি জারি করেন।

বিএসএফের ঐ বিবৃতিতে বিজিবিকে এই চোরাচালানে মদত দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করা হয়।

একইসাথে ঐ বিবৃতিতে বলা হয়, যেভাবে কোরবানির উদ্দেশ্যে গরুগুলোকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ঢোকানো হয় তা পশু নির্যাতনের সামিল, এবং ঐ গরু দিয়ে আদৌ কোরবানি হয় কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

বিএসএফের ঐ বিবৃতির দুই সপ্তাহ পর গত রোববার বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির পক্ষ থেকে একটি পাল্টা বিবৃতি জারি করে চোরাচালানের পেছনে বিএসএফের মদতের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

ঐ বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় চোরাকারবারিদের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় ভারতের মাটিতে গরু সমাগম ও নদীপথে গরু পাচারে বিএসএফের নিস্ক্রিয়তা নি:সন্দেহে বিভিন্ন প্রশ্নের অবতারণা করে।”

কোরবানির সাথে পশু নির্যাতন নিয়ে যে প্রশ্ন বিএসএফ তুলেছে, তার তীব্র প্রতিবাদ করে বিজিবি বলেছে, এই ধরণের বক্তব্য “ঈদুল আজহার জন্য অবমাননাকর এবং মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হানার সামিল।”

চাপ তৈরির চেষ্টা?

লে.জে (অব) মইনুল ইসলাম মনে করেন, গরু চোরাচালান নিয়ে ৬ই জুলাই প্রকাশিত বিএসএফের ঐ “অস্বাভাবিক” বিবৃতি এককভাবে ঐ বাহিনী দিতে পারেনা এবং এর পেছনে ভারত সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কাজ করেছে।

“সীমান্তে নানারকম মতবিরোধ রুটিন ব্যাপারে। স্থানীয়ভাবে তার সমাধান হয়। গুরুতর মতবিরোধ দেখা দিলে কূটনৈতিক পর্যায়ে তার সমাধানের চেষ্টা হয়, কিন্তু এখানে তা হয়নি…বিশেষ করে ধর্ম নিয়ে কথা বলা একেবারেই অবিবেচকের কাজ হয়েছে।”

“আমি বুঝতে পারছি না কেন ভারত সরকার একটি বর্ডার ফোর্সকে দিয়ে এমন সব কথা বলাতে গেল!”

জেনারেল ইসলাম সন্দেহ করছেন, চীন-ভারত সীমান্ত বিরোধ নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চুপ থাকার জন্য বাংলাদেশের ওপর ভারত হয়তো কোনো চাপ তৈরির চেষ্টা করছে।

“চীন-ভারত সীমান্ত সংঘাত নিয়ে ভারতের প্রতিবেশীরা কেউ কোনো কথা বলেনি। ভারত হয়ত এটা ভালোভাবে নেয়নি…এটা হতে পারে চাপ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।”

এটা অনস্বীকার্য যে চীন-ভারত সীমান্ত বিরোধ নিয়ে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো একটি নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

কাশ্মীরে পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় ভারতীয় সৈন্যের মৃত্যুতে যেখানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সহমর্মীতা জানিয়ে বিবৃতি জারি করা হয়েছিল, সেখানে গালওয়ানে ২০ জন ভারতীয় সৈন্যর মৃত্যু নিয়ে চুপ ছিল ঢাকা।

পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন, ভারত সরকার এবং ভারতীয় সমাজ-রাজনীতির একটি অংশের মধ্যে প্রতিবেশীদের এই ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

মার্কিন সাময়িকী ব্লুমবার্গে এক মন্তব্য প্রতিবেদনে অর্চনা চৌধুরী এবং বিভুদত্ত ওরাধান লিখেছেন, “নরেন্দ্র মোদী যদি আশা করে থাকেন বিপদের সময় তিনি প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সমর্থন পাবেন, তিনি ভুল ভেবেছিলেন। যেখানে তাদের সৈন্যের নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র বা ব্রিটেন সমবেদনা জানিয়েছে, ট্র্যাডিশনাল মিত্র বাংলাদেশ এবং নেপাল সেখানে ছিল নিশ্চুপ।”

ঐ প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, নরেন্দ্র মোদীর দ্বিতীয় দফার শাসনে তার “কট্টর হিন্দু জাতীয়তাবাদী এজেন্ডায় প্রতিবেশীদের মধ্যে ভয়, সন্দেহ অস্বস্তি ঢুকেছে।”

এটা সবারই জানা যে, ভারতে এনআরসি এবং ধর্মের ভিত্তিতে করা সংশোধনী নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বাংলাদেশ একেবারেই খুশি নয়।

‘ভারত বাংলাদেশকে হারাতে চায়না‘

তবে দিল্লির জওহারলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক সঞ্জয় ভরদোয়াজ বিবিসি বাংলাকে বলেন, চীন-ভারত বিরোধে পক্ষ নেওয়ার জন্য ভারত বাংলাদেশের ওপর বড় কোনো চাপ তৈরি করবে বলে তিনি মনে করেন না।

“আমি বিশ্বাস করি, গরু চোলাচালান নিয়ে বিএসএফের বিবৃতির সাথে ভারত সরকারের বৃহত্তর নীতির কোনো সম্পর্ক নেই। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে গরু চোরাচালান কমাতে তারা প্রকাশ্যে কথা বলছে …

গরু চোরাচালান অনেকের কাছে আর দশটি ব্যবসার মত একটি ব্যবসা, কিন্তু অনেকের কাছে গরু এটি একটি ধর্ম বিশ্বাস।”

তিনি বলেন, আঞ্চলিক বড় দুই শক্তির বিরোধে ছোটো দেশগুলো যে চুপ থাকবে – এই বাস্তবতা ভারতের নীতি-নির্ধারকরা বোঝেন।

“চীন-ভারত বিরোধ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ছোটো দেশগুলো ভেতরে ভেতরে হয়তো খুশি। তারা মনে করছে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একাধিপত্যকে চীন চ্যালেঞ্জ করছে, এবং তারা মনে করছে ভারতের সাথে সম্পর্কে একটা ভারসাম্য তৈরি করার ক্ষেত্রে এটা তাদের একটি সুযোগ।”

“শীতল যুদ্ধের সময় এটা দেখা গেছে। এটা খুবই স্বাভাবিক একটি মনস্তত্ব, এবং আমার মনে হয় ভারতের নীতি-নির্ধারকরা তা বোঝেন।”

অধ্যাপক ভরদোয়াজ বলেন, চীন পরোক্ষাভাবে সেই ভারসাম্য তৈরিতে সাহায্য করছে।

তিনি মনে করেন, ভারত যদি বাংলাদেশের মত দেশের কাছ থেকে এসময় আনুগত্য প্রত্যাশাও করে, তার জন্য বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরির ঝুঁকি নেবেনা।

বাংলাদেশকে হারানোর কোনো ঝুঁকি ভারত এখন নেবেনা। আর তাছাড়া, চীনের সাথে “বাফার স্টেট“ হিসাবে নেপাল বা ভুটানকে নিয়ে ভারতের যে উদ্বেগ, বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে ততটা নেই।

উপরন্তু, অধ্যাপক ভরদোয়াজের মতে, ভারত এখনও চীনের সাথে পুরাদস্তুর বিরোধে জড়াতে অনিচ্ছুক, এবং “অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে এখনও চীনকে একটি সুযোগ হিসাবে দেখে ভারত।”

“নিরাপত্তার উদ্বেগ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক চাইছে ভারত, কিন্তু ভারত এখনও যুক্তরাষ্ট্রের একটি ক্লায়েন্ট স্টেট হতে অনিচ্ছুক। এবং সেজন্য ইন্দো-প্যাসিফিক জোটে পুরোপুরি ঢোকার ব্যাপারে ভারতের মধ্যে এখনও কুণ্ঠা রয়েছে।”

ভারসাম্য তৈরি করছে চীন

তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, চীনের সাথে সীমান্ত নিয়ে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে তৈরি চীন-বিরোধী জোটগুলোতে আরো ঘনিষ্ঠভাবে ঢুকে পড়তে বাধ্য হবে। আর সেইসাথে বদলে যাবে তাদের বৈদেশিক এবং কৌশলগত সম্পর্কের নীতি।

বাংলাদেশের মত দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুদ্র প্রতিবেশীদের পক্ষে তখন নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকা দিনদিন দুরূহ হয়ে পড়তে পারে।

অবশ্য হংকংয়ের দৈনিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টে এক সাক্ষাৎকারে চীনা সাবেক কূটনীতিক এবং বেইজিংয়ে ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ঝাং জিয়াডং বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একাধিপত্যের ভয়ে ছোটো দেশগুলোর চীনের দিকে ঝুঁকছে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তাদের একটি শিবিরেই থাকতে হবে।

“যতক্ষণ পর্যন্ত চীন ও ভারতের মধ্যে শক্তির ভারসাম্য রয়েছে ততক্ষণ ছোটো দেশগুলোর স্বতন্ত্র অবস্থান নেওয়ার সুযোগ থাকবে। জবরদস্তি করে কোনো একটি পক্ষে তাদের নেওয়া যাবেনা।”

(বিবিসি, ঘাটাইল ডট কম)/-

পানি ও স্নায়ু যুদ্ধ, মজলুমের কথা

‘খরা কালে পোড়াও, বর্ষাকালে ভাসাও’ এ কেবল আর বাংলাদেশ-ভারত পানি সমস্যার উপাখ্যান নয়। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশ নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, পাকিস্তান এমনকি চীনও এই পানি সমস্যা নিয়ে ভাবছে এবং একে অপরকে ভাবাচ্ছে।

বাংলাদেশ অবশ্য বছরের পর বছর ধরে খরা-বন্যা সহ্য করেও সর্বোচ্চ সহনশীলতা দেখিয়ে ভারতের বন্ধুত্বের মর্যাদা রক্ষা করে আসছে। এক্ষেত্রে ভারত খুব সহজেই ফারাক্কা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর সমস্যা সমাধান করে বাংলাদেশকে আস্থায় নিতে পারতো।

বিশেষ করে অবস্থাটা যখন এমন খোদ ভারতের অভ্যন্তরেই ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে কথা উঠছে, প্রতিবাদ হচ্ছে। কিন্তু ভারত সেদিক থেকে খুব বেশি বাস্তবিক সমাধানের পথে হাঁটেনি। তার চেয়ে বরং লাল ফিতার ঘেরাটোপে প্রলেপ দেয়ার চেষ্টা করেছে।

ক্ষতটা তাই ক্রমেই করোনার মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

হঠাৎ করেই নেপাল কিংবা ভুটানের প্রতিবাদী আচরণ শুধু ভারতকেই ভাবিয়ে তুলছে না; এতদঞ্চলের শান্তি ও সংহতির পথকে কন্টকাকীর্ণ করে তুলছে।

কথায় আছে ছোটও বটে\ফুল তবে\অবহেলা করো না। আমার তো মনে হয় এই অঞ্চলের ছোট দেশগুলোর প্রতি ভারতের দীর্ঘদিনের অবহেলার সুযোগ চীন, আমেরিকাকে প্রলুব্ধ করছে।

বিশেষ করে চীন তো পানি নিয়ে রীতিমতো পানি ঘোলা করে সেই পানিতে শুধু মাছ নয় হাঙর তিমি শিকার করার চেষ্টা করছে।

ভারত-চীন দ্বন্দ আর আমেরিকার ইন্ধন রীতিমতো এই অঞ্চলকে ঘিরে আধিপত্যের নতুন খেলায় মেতে উঠেছে। পানি পথের রূপক যুদ্ধকে বাস্তবে পানি যুদ্ধের ক্ষেত্র বানাতে চাইছে। উভয় দেশই নিজেদের শক্তিমত্তা আর মোড়লগিরি চটাতে চাইছে। এতে করে বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলাচালে শুধু আঞ্চলিক নয় অভ্যন্তরীণ সংহতিও হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে।

পানি যতটা না তৃষ্ণা নিবারণের উপকরণ, তার চেয়ে বেশি রাজনীতির ঘুঁটি হচ্ছে। সেই পানিতে বড় নাক ছোট নাক দেদারছে গলে যাচ্ছে। আর আমাদের মতো নাক ছাড়া ছোট দেশগুলো টিভি সেটের সামনে বসে সেই থ্রিল দেখছি। মাঝে মাঝে খেদ প্রকাশ করছি।

বাস্তবে শুকনো মৌসুমে চুইয়ে পড়া পানির আশায় জিহবা টান টান করে রাখি আর বর্ষাকালে ভাসাইলিরে ডুবাইলিরে গান গাই। ভুলে গেলে চলবে না প্রকৃতির চেয়ে মানুষ কি বেশী শক্তিশালী? যদি তাই না হয় প্রকৃতির বিরুদ্ধাচারণ করে তৈরীকৃত বাঁধ, ব্যারেজ, ড্যাম, রাবার ড্যাম নিদান কালে কারোর জন্য কোনো কাজে আসবে না। দিন শেষে মানুষের ভোগান্তি বাড়াবে।

জনতার মৈত্রী ও সংহতি নষ্ট হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে দূরত্বই বাড়তেই থাকবে। অন্ততঃ করোনাকাল আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে একা একা ভালো থাকা যায় না; সবাইকে নিয়েই ভালো থাকতে হয়।

তাই এখনও অনুধাবন করার সময় আছে ‘সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।’

য়তো সবাই মিলে একদিন পানির জন্য কারবালার কোরাস গাইতে হতে পারে।

আবারো বলছি উজান ভাটির দেশসমুহের পানিসহ অন্যান্য অমীমাংশিত বিষয়সমূহ ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমাধানে ভারতকেই অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোকে আস্থায় নিতে হবে।

অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য ভারত বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধুপ্রতিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও বহু দিন ধরে যৌথনদীগুলোর সমস্যা সমাধানে তালবাহানা ছাড়া কার্যকরী কোন ভূমিকা পালন করছে না।

তাই এতদঞ্চলের জনসাধারণের মনে ভারতের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই বড় হচ্ছে। এই মনোভাবের প্রকাশ্য বিরোধীতাও সরব হচ্ছে। বল এখন ভারতেরই কোর্টে। তাদের সহনশীল ও মানবিক উপলব্ধির ওপর এতদঞ্চলের শান্তি ও সংহতি অনেকাংশে নির্ভর করছে।

আমার মনে হয় ভারত যদি আজ তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সমস্যা সমাধানে আন্তরিক হতো তাহলে চীনও এতোটা আশকারা পেতো না।

সমাধানের পথ হিসেবে ২০১৪ সালের ১৭ আগষ্ট কার্যকর হওয়া ‘আন্তর্জাতিক নদীধারা সনদ’টিকে সামনে আনা যেতে পারে।

এই সনদের ৭.১ ধারায় বলা হয়েছে যে, উজানে কোন দেশ আন্তর্জাতিক নদীর পানি এমনভাবে ব্যবহার করতে পারবে না যাতে ভাটির দেশের কোন ক্ষতি হয়। অববাহিকার এসব দেশের ক্ষতি ও ক্ষতিপূরণ, পানি ব্যবহার নিয়ে বিরোধ, আন্তর্জাতিক আদালত, পরিবেশ রক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে ওই সনদে।

ধারা ৭.২ তে বলা হয়েছে যে, উজানের দেশের পানি ব্যবহারের ফলে ভাটির দেশের ক্ষতি হয় তাহলে তাকে (ভাটির) দেশের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

সনদটিকে কার্যকর করতে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক নদী কমিশন গঠন করা যেতে পারে। যাতে করে এক দেশ বা অঞ্চল ওপর কোন দেশ বা অঞ্চলের ওপর যেন উদ্দেশ্যমূলকভাবে পানি আগ্রাসন চালাতে না পারে।

স্নায়ুযুদ্ধের কৌশল হিসেবে মরুকরণ বা বন্যায় ভাসাতে না পারে। এসব দিক বিবেচনায় রেখে অত্রাঞ্চলের জীববৈচিত্র রক্ষাসহ জনগণের মৈত্রী ও সংহতিকে প্রাধান্য দিয়ে এখনই সময় প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সন্দেহ, অবিশ্বাস, দূরন্ত কমিয়ে আনা।

এক্ষেত্রে অত্রাঞ্চলের জনসাধারণের মাঝে অভিন্ন ভ্রাতৃত্ব ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন আমাদের পথ দেখাতে পারে। হাজার বছর ধরে একসাথে শান্তিতে বসবাস করার নজীর আমাদের রয়েছে।

জনগণের এই ঐক্যকে পানি আগ্রাসন দিয়ে নস্যাৎ করার প্রচেষ্টা রুখতে হবে। আসুন সবাই মিলে আওয়াজ তুলি, পানি আগ্রাসন নিপাত যাক। জনতার মৈত্রীর জয় হোক।

(আজাদ খান ভাসানী/ সভাপতি, মওলানা ভাসানী কৃষক সমিতি ও সাধারণ সম্পাদক, ভাসানী পরিষদ, মাভাবিপ্রবি সন্তোষ, টাঙ্গাইল)/-

করোনা ঠেকাতে অক্সফোর্ডের টিকা নিরাপদ ও প্রতিশ্রুতিশীল

করোনাভাইরাস ঠেকাতে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির উদ্ভাবিত টিকাটি মানব শরীরের জন্য নিরাপদ এবং সেটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উজ্জীবিত করে তুলতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে।

প্রায় ১,০৭৭ মানুষের ওপর পরীক্ষার পর দেখা গেছে, এই টিকার ইনজেকশন তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি এবং হোয়াইট ব্লাড সেল বা শ্বেতকণিকা তৈরি করে, যা শরীরের ভেতর করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।

একে একটি বড় রকমের প্রতিশ্রুতিশীল আবিষ্কার হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। তবে এটি পুরোপুরি সুরক্ষা দিতে পারবে কি-না, তা বলার সময় এখনও আসেনি। এ নিয়ে ব্যাপক আকারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও চলছে।

যুক্তরাজ্য এর মধ্যেই ১০ কোটি টিকার জন্য চাহিদা জানিয়েছে।

টিকা কীভাবে কাজ করে?

ChAdOx1 nCoV-19 নামের এই টিকাটি তৈরি করতে অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে কাজ চলছে।

শিম্পাঞ্জির শরীরের সাধারণ সর্দিকাশি তৈরি করে, এমন একটি ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তন করে এই টিকাটি তৈরি করা হচ্ছে।

এটাকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে এটা মানব শরীরে সংক্রমণ তৈরি না করে। এটাকে করোনাভাইরাসের কাছাকাছি একটা সাদৃশ্যও দেয়া হয়েছে।

যে টিকাটি তৈরি করা হচ্ছে, তার ভেতরে করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের জিনগত বৈশিষ্ট্য ঢুকিয়ে (যে অংশটি আমাদের কোষকে আক্রমণ করে) দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

এর মানে হলো, টিকাটি করোনাভাইরাসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং তখন শরীরের ভেতর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বুঝতে পারে যে, কীভাবে করোনাভাইরাসকে আক্রমণ করে পরাস্ত করা যাবে।

অ্যান্টিবডি এবং টি-সেল কী?

করোনাভাইরাসের প্রতিরোধে বেশিরভাগ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে অ্যান্টিবডির দিকে, যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার একটি অংশ মাত্র।

অ্যান্টিবডি হচ্ছে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার তৈরি করা ছোট আকারের প্রোটিন, যা ভাইরাসের সঙ্গে সেটে গিয়ে সেটাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে।

অ্যান্টিবডি করোনাভাইরাসকে অকার্যকর করে দিতে পারে।

টি-সেল, রক্তের সাদা একটি অংশ আক্রান্ত কোষগুলোকে খুঁজে বের করতে আর ধ্বংস করতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সাহায্য করে।

প্রায় সব কার্যকর টিকা অ্যান্টিবডি এবং টি-সেল ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তোলার মাধ্যমে কাজ করে।

টিকা দেয়ার ১৪ দিন পরে টি-সেলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায় আর অ্যান্টিবডির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায় ২৮দিনের মধ্যে।

তবে দীর্ঘমেয়াদী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ব্যাপারটি কেমন হতে পারে, সেটি এখনো যাচাই করে দেখতে পারেননি গবেষকরা।

এটা কি নিরাপদ?

এটা নিরাপদ, তবে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। যদিও সেগুলো খুব বিপদজনক কিছু নয়।

পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৭০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন যে, টিকা নেয়ার পর তাদের জ্বর অথবা মাথাব্যথা হয়েছিল।

গবেষকরা বলছেন, প্যারাসিটামল খেয়ে এটা সামলানো যেতে পারে।

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সারাহ গিলবার্ট বলেছেন, ” কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় আমাদের টিকা কাজ করবে, সেটা বলার আগে আমাদের আরও অনেক কিছু করার বাকি রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে পাওয়া ফলাফল বেশ আশা যোগাচ্ছে।”

পরীক্ষার পরবর্তী ধাপে কি হবে?

এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফল যদিও যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক, কিন্তু এর মূল উদ্দেশ্য হলো সব মানুষকে দেয়ার জন্য নিরাপদ কিনা, সেটা নিশ্চিত করা।

গবেষণায় এটা জানা যায়নি যে, এটা মানুষজনকে অসুস্থতা থেকে রক্ষা করবে নাকি তাদের কোভিড-১৯ উপসর্গ কমিয়ে দেবে।

পরবর্তী ধাপের পরীক্ষায় যুক্তরাজ্য জুড়ে ১০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেবে।

তবে এই পরীক্ষাটি অন্যান্য দেশেও করা হবে। যেহেতু যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাস রোগীর সংক্রমণের হার এখন কম, তাই টিকাটি কতটা কার্যকর তা সেখানে বের করা কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের ওপর পরীক্ষা চলবে বলে জানা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই হাজার আর ব্রাজিলে পাঁচ হাজার মানুষের ওপর পরীক্ষা করা হবে।

(বিবিসি, ঘাটাইল ডট কম)/-