ঈদের আগের রাতে পুলিশের গুলিতে সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে পুলিশের গুলিতে সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে ঘটে এ ঘটনা।

নিহত সেনা কর্মকর্তার নাম সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান (৩৬)।

জানা গেছে, নিহত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান যশোরের ১৩ বীর হেমায়েত সড়কের সেনানিবাস এলাকার মৃত এরশাদ খানের ছেলে।

এদিকে, ঘটনাটি তদন্তের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাজাহান আলীকে প্রধান করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসির একজন প্রতিনিধিকে নিয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মেরিন ড্রাইভ সড়কে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা নিহতের ঘটনা নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য রয়েছে।

এমনকি পুলিশ যদিওবা দাবি করেছে, দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত বাহিনীর সদস্য পাহাড় থেকে নেমে আসার খবর পেয়েই বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত পরিদর্শক লিয়াকতের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মেরিন ড্রাইভে অবস্থান নিয়েছিল।

লোকজনের দেওয়া খবর অনুযায়ী টেকনাফ থেকে কক্সবাজারমুখী একটি প্রাইভেটকারের আরোহীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বাহারছড়া ফাঁড়ির দায়িত্বরত পুলিশ ইন্সপেক্টর লিয়াকত গুলি চালান।

পুলিশের দাবি, ওই সেনা কর্মকর্তা নিজের পিস্তল বের করে পুলিশের দিকে তাক করেছিলেন। ঘটনার পর পরই কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা গুলিবিদ্ধ মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর শনিবার বিকালে মেরিন ড্রাইভ রোডের বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর একটি তদন্ত দল ঘটনা তদন্তে যায়।

এসময় এলাকার লোকজন সেনাবাহিনীর তদন্ত দলটিকে দেখে এগিয়ে আসেন। স্থানীয়দের কাছে তদন্ত দলের কর্মকর্তারা শুক্রবার রাতের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের ব্ক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র ফুটে ওঠে।

তদন্তের সময় উপস্থিত একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, স্থানীয় একটি হেফজখানার ইমাম, মুয়াজ্জিন ও দুজন হাফেজ সেনা কর্মকর্তাদের কাছে বলেছেন, শনিবার রাতে প্রাইভেট কার থেকে যে ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে সেটা ছিল একটি নির্মম ঘটনা।

তারা জানান, প্রাইভেট কারের ওই আরোহী (মেজর সিনহা) ফাঁড়ির পুলিশ ইন্সপেক্টর লিয়াকতের নির্দেশমতে ওপরে দুই হাত তুলে বলেন, ‘বাবা আপনারা অহেতুক আমাকে নিয়ে উত্তেজিত হবেন না। আপনারা আমাকে নিয়ে একটু খোঁজ নিন।’

সাক্ষীরা বলেন, মেজর সিনহা এমন কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই ‘কুত্তার বাচ্চা’ বলেই তাঁর (মেজর সিনহা) বুকে গুলি চালাযন পুলিশ ইন্সপেক্টর লিয়াকত হোসেন। তৎক্ষণাৎ তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

স্থানীয় শামলাপুর বাজারের আবদুল হামিদ নামের একজন ফেরিওয়ালা সেনা দলের কর্মকর্তাদের বলেছেন, এটা সাংঘাতিক অন্যায় কাজ হয়েছে। আমাকে যেখানেই নিয়ে যান আমি সত্য কথা বলব। পুলিশ ক্রস ফায়ারের মতো করে একজন জ্যান্ত মানুষকে হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, গাড়ি থেকে নামার পর পরই পুলিশ ইন্সপেক্টর গাড়ির আরোহীকে (মেজর সিনহা) বুকে গুলি চালিয়ে দেয়।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন শনিবার সকালে কালের কণ্ঠকে এ বিষয়ে জানিয়েছেন, ঈদের সময় দেশে জঙ্গি হামলা হতে পারে মর্মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তরের সতর্ক বার্তা রয়েছে। এ নিয়ে বাড়তি সতর্কতায় রয়েছে জেলা পুলিশ। বিশেষ করে উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এক প্রকার রেড এলার্টে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

এমনই সময়ে শুক্রবার রাতে শাপলাপুরের একটি পাহাড় থেকে নেমে আসা বোরকা সদৃশ বস্তু পরিহিত লোকজনের খবর শুনে পুলিশ হয়তোবা ডাকাত নতুবা জঙ্গি সন্দেহ করে ওই গাড়িটিকে টার্গেট করে আসছিল।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, নিহত ব্যক্তি সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর। তিনি কক্সবাজারের হিমছড়ি মেরিন ড্রাইভের একটি হোটেলের দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতেন।

তারা একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম করছিলেন বলে জানতে পারেন পুলিশ সুপার। তল্লাশি চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবা মিলেছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।

আহত অবস্থায় তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে টেকনাফ থানায় ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, ঘটনাটি তদন্তের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাজাহান আলীকে প্রধান করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসির একজন প্রতিনিধি সহকারে এ কমিটি গঠন করা হয়।

(কালের কণ্ঠ, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঈদের আগের রাতে গোপালপুরে আ’লীগ নেতা খুন

কলেজে শিক্ষক এবং টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম নিক্সনকে শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে খুন করা হয়েছে।

জানা যায়, রাত সোয়া ১১টায় দুর্বৃত্তেরা এলোপাথাড়ি চাকু দিয়ে আঘাত করে তাকে খুন করা হয়।

নিহত আমিনুল ইসলাম ইউনিয়নের আজগড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক আলাউদ্দিন তালুকদার তারা মিয়ার পুত্র। তিনি টাঙ্গাইলের লায়ন নজরুল ইসলাম ডিগ্রী কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। সপরিবারে ধনবাড়ী উপজেলা শহরে বাস করতেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আমিনুল শুক্রবার বিকালে ধনবাড়ী থেকে আজগড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে আসেন। দলের সাংগঠনিক কাজ শেষে আজগড়া মোড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে আরেক দফা বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে পৌনে ১১টার দিকে মোটর সাইকেলে রওনা হন তিনি।

এ সময় আজগড়া খালের ব্রিজ পার হওয়া মাত্র সেখানে ওৎপেতে থাকা দুর্বৃত্তরা ছুরি চাকু নিয়ে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলে শরীরের আরো কয়েক স্থানে আঘাত করা হয়।

পরে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে মধুপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত সোয়া ১১টায় মধুপুর হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মৃত্যুর আগে তিনি খুনিদের নাম বলে গেছেন।

মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রুবিনা ইসলাম জানান, তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়।

গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমীর খসরু খুনের ঘটনা নিশ্চিত করেন। গোপালপুর থানার ওসি ঘটনাস্থলে রয়েছেন বলে জানান তিনি। বহুবার রিং করলেও ওসি মোস্তাফিজুর রহমান ফোন রিসিভ করেননি।

মধুপুর থানার ওসি তারেক কামাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, নিহত নিক্সনের লাশ মধুপুর হাসপাতালে রয়েছে। ঈদের আগের রাতে এমন নৃশংস খুনের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

(গোপালপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

বদলে গেছে টাঙ্গাইল জেলা কারা হাসপাতালের চিত্র

কারাগারের অভ্যন্তরে হাসপাতাল। কারাবন্দী, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী বা প্রভাবশালী ব্যাক্তি এমনকি শীর্ষ অপরাধীদের জন্যে লোভনীয় একটি আবাসস্থল এই কারা হাসপাতাল। রোগী না হয়েও সুস্থ ও স্বাভাবিক একজন কারাবন্দী কারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে হাসপাতালে থাকার ব্যবস্থা করা যেন একটি স্বাভাবিক বিষয়।

টাঙ্গাইল জেলা কারাগারেও এমনি চিত্র ছিল দীর্ঘদিন। কিন্তু বর্তমানে সে চিত্র পুরোটাই পাল্টে গেছে। এখন আর রোগী ছাড়া কারাবন্দি কোন ব্যাক্তির কারা হাসপাতালে থাকার সুযোগ নেই।

হাসপাতালে থাকতে হলে তাকে অবশ্যই কারাবিধি মেনে শুধুমাত্র রোগীর থাকার সুযোগ রয়েছে। যত প্রভাবশালী ব্যাক্তিই হোক না কেন নিয়মের ব্যক্তয় ঘটিয়ে কারো কারা হাসপাতালে থাকার সুযোগ নেই এখন।

আর টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের এই সফলতা আনতে গিয়ে অনেক সময় নানা চাপের মুখে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে কারা প্রশাসনকে। কারা হাসপাতালের চিরাচরিত চিত্র পাল্টানোর পেছনে যে কয়জন কর্মকর্তা পরিশ্রম করেছেন তারমধ্যে অন্যতম ভুমিকা পালন করেছেন কারা চিকিৎসক ডাঃ মোঃ আবিবুর রহমান।

টাঙ্গাইল জেলা কারাগার সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারী ডাক্তার আবিবুর রহমান কারা চিকিৎসক হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে প্রায় সাড়ে চারবছর তিনি টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কারাগারে কয়েদী ও হাজতি ছাড়াও কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চিকিৎসা সেবা দেয়াই হচ্ছে কারা চিকিৎসকের প্রধান দায়িত্ব। দায়িত্ব নিয়েই ডাক্তার আবিবুর রহমান কারা হাসপাতালে প্রকৃত হাজতি ও কয়েদিদের ভর্তি করানোর পদক্ষেপ গ্রহন করেন।

প্রাথমিকভাবে কাজটি অতটা সহজ ছিলনা। তবে কারা তত্বাবধায়কসহ অন্যান্য কর্মকর্তার সহযোগীতায় অবশেষে সফল হন তিনি। টাঙ্গাইল কারা হাসপাতালে মোট বেডের সংখ্যা ২৪ টি।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ভর্তি থাকত ৩০/৩৫ জন। যাদের অধিকাংশই প্রকৃতপক্ষে রোগী ছিলনা। সুস্থ ও সবল দেহে শুধুমাত্র অর্থ আর ক্ষমতার জোরে হাসপাতালে জায়গা করে নেয় তারা। এদেরকে সরিয়ে প্রকৃত রোগীদের জায়গা করে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন ডাক্তার আবিবুর রহমান।

বর্তমানে কারা হাসপাতালে প্রকৃত রোগীরাই অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।ডাক্তার আবিবুর রহমান টাঙ্গাইল প্রতিদিনকে জানান, যদি মনে করা হয় একজন কারাবন্দীর হাসপাতালে ভর্তি থাকা প্রয়োজন তখন তাকে শারিরীক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে হাসপাতালে রাখা হচ্ছে।

মিথ্যা তথ্য দিয়ে বা অর্থের লোভ দেখিয়ে এখন আর কারা হাসপাতালে থাকার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে কোন প্রভাবশালী মহলের চাপের সাথে সমঝোতা করা হচ্ছে না। ব্যাথানাশক ও ঘুমের ঔষুধ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ব্যাথানাশক ও ঘুমের ঔষুধ দিয়ে বিভিন্ন কারাবন্দী ও হাজতীরা নেশার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করত বলে এমন একাধিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ভাল বিছানা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, খাওয়া দাওয়া ও গোসলের সু-ব্যবস্থার কারনে কারা হাসপাতাল অনেকটাই লোভনীয় বিষয় কারাবন্দীর কাছে।

কারা সূত্র জানায়, হাসপাতাল বর্তমান অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়। যেমন- ওষুধের অপব্যবহার বন্ধ করতে একজন রোগী ওষুধ নেয়ার পর সেই ওষুধের খোসা জমা দিয়ে পুনরায় ওষুধ গ্রহন করতে পারবে।

এছাড়াও অপ্রয়োজনে কাউকে ওষুধ দেয়া বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও আরো কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কারনে হাসপাতালে চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে। এদিকে করোনার ভয়াবহতা শুরুর পরপরই কারা হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা করা হয়।

যার ফলে এখনো পর্যন্ত কারাগারে কোন করোনা সংক্রমনের মত ঘটনা ঘটেনি। করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ার পর বেশ কয়েকজন কারাবন্দির পরীক্ষা করা হলে ফলাফল নেগেটিভ আসে। কঠোর নজরদারির কারনে টাঙ্গাইল জেলা কারাগার এখনো পর্যন্ত করোনামুক্ত অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কতৃপক্ষ।

কারা অভ্যন্তরে অবস্থিত হাসপাতালে দীর্ঘদিনের এই অনিয়ম এত অল্প সময়ের মধ্যে দুর করা কিভাবে সম্ভব হয়েছে জানতে চাইলে টাঙ্গাইল কারাগারের জেল সুপার মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন টাঙ্গাইল প্রতিদিনকে জানান, কোন কিছু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিজস্ব সৎ ইচ্ছাই যথেষ্ট।

রাজনৈতিক বা অন্য কোন চাপ আসতেই পাড়ে সে ক্ষেত্রে তাদের বুঝানোর মতো নিজস্ব কিছু উপস্থাপনা থাকতে হবে। সঠিক ভাবে তাদের বুঝাতে পারলেই সব কিছুই সহজ ভাবে করা সম্বভ। তবে এ ক্ষেত্রে টাঙ্গাইল কারাগারের জেলার মোঃ আমান উল্লাহ, ডা: আবিবুর রহমান-এর সহযোগিতার রয়েছে।

তাদের কারণেই জেলা কারাগার হাসপাতালের সকল অনিয়ম দূর করা সম্বভ হয়েছে। এখানে কর্মরত সকলেই অনিয়মের বিপক্ষে থাকায় জেলা কারাগারের চিত্র এখন পরিবর্তণ হয়ে সকলের সামনে পরিস্কার হয়েছে। তবে কিছু লোক আছে যারা বিভিন্ন ভাবে ধান্দা করার চেষ্টায় থাকে।

পর্যায়ক্রমে তাদেরও বিভিন্ন ভাবে কন্টোল করা হয়েছে। এখানে কোন অনিয়মের সুযোগ নেই। সুতরাং সব কিছুর মূলে নিজের সৎ ইচ্ছা। সকলের সহযোগীতা আর অর্থের লোভ সামলাতে পারলে আগামী দিনগুলোতেও কারা হাসপাতালে প্রকৃত রোগীরা চিকিৎসা সেবা পাবে।

একইসাথে কারা হাসপাতাল নিয়ে মানুষের মাঝে নেতিবাচক ধারনার পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন টাঙ্গাইলের অভিজ্ঞমহল।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

কালিহাতীতে জেএমবির সক্রিয় সদস্য আটক

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের বল্লা পূর্ব পাড়া এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

আটক হওয়া জেএমবির ওই সদস্যের নাম জিয়ারুল ইসলাম ওবায়দা ওরফে রুমি। আটককৃত জেএমবি সদস্য কালিহাতী উপজেলা বল্লা পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত সুলতানের ছেলে।

কালিহাতী থানার ওসি হাসান আল মামুন বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সাংবাদিকদের জানান, নারায়ণগঞ্জ ও ফতুল্লা থানা একাধিক বোমা ও বিস্ফোরক মামলায় ২০০৫ সালে গ্রেপ্তার হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলে ১৫ বছর পর গত ২৭ জুলাই জামিনে বের হয়। জামিনে বের হয়ে গ্রেপ্তারকৃত জেএমবি সদস্য জিয়ারুল ইসলাম ওবায়দা ওরফে রুমি তার নিজ গ্রাম কালিহাতী উপজেলা বল্লা এলাকায় অবস্থান করছেন। ফতুল্লা থানায় বিস্ফোরণ মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি তিনি।

এমন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এই সময় জেএমবির সক্রিয় সদস্য জিয়ারুল ইসলাম ওবায়দা ওরফে রুমিকে আটক করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন চলছে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

সরকারি কাজে বাঁধা, বাসাইলে ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

টাঙ্গাইলের বাসাইলে হাবিবুর রহমান চৌধুরী হবি নামের এক ইউপি চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। হাবিবুর রহমান চৌধুরী উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামছুন নাহার স্বপ্না এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে- ‘টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান কর্তৃক অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি প্রদান করায় জেলা প্রশাসক টাঙ্গাইল বর্ণিত ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন- যেহেতু টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব, মো. হাবিবুর রহমান কর্তৃক অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি প্রদান করায় তার দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদে ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন নয় মর্মে সরকার মনে করে; সেহেতু টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মো. হাবিবুর রহমান কর্তৃক সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিষদসহ জন স্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩৪ (১) অনুযায়ী উল্লিখিত ইউপি চেয়ারম্যানকে তার স্বীয় পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। এ আদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে জারী করা হলো এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুন বাসাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে এলাহী জেলা প্রশাসক বরাবর ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান চৌধুরী হবির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি লিখিত আবেদন করেন।

(বাসাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ভুঞাপুরে ২০ কেজি গাঁজাসহ আটক ৩

টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে ২০ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর সদস্যরা। বুধবার ভোরে ভূঞাপুর উপজেলার সিরাজকান্দি বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হচ্ছে সিরাজকান্দি দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত জাল আলী শেখের ছেলে মো. ইমাম হোসেন (৫০), হবিগঞ্জের মাদবপুর উপজেলার মো. রুস্তম আলীর ছেলে মো. কাওছার মিয়া (২৮) ও টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ভল্লববাড়ী গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. মুক্তার হোসেন (২৮)।

র‌্যাব-১২, সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের কোম্পানী কমান্ডার মো. রওশন আলী জানান, তার নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল সিরাজকান্দি বাজারে জনৈক ইসমাইল খাঁন এর বন্ধ থাকা বিসমিল্লাহ বস্ত্রালয়ের সামনে তিন মাদক কারবারীকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ২০ কেজি গাঁজা, ০৪টি মোবাইল ফোন এবং ০৭টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

সাক্ষীদের সামনে আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ গাঁজা অবৈধভাবে সংগ্রহ পূর্বক তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলার ভূয়াপুর থানাধীন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গাঁজা বিক্রয় করার কথা স্বীকার করে। পরে র‌্যাব বাদি হয়ে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করে আসামীদের ভূঞাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

র‌্যাবের এ ধরনের অবৈধ মাদক বিরোধী আভিযানিক কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরো জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মধুপুরে মন্দিরের জায়গা দখল করতে না পেরে উল্টো মামলা

টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌর এলাকার চৌধুরী পাড়ার দুর্গামন্দির দখল করতে না পারায় উল্টো মন্দির কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নিরঞ্জন ঘোষের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মধুপুর পৌরসভার চৌধুরী পাড়ার বংশাই নদীর পাড়ে সরকারি জায়গায় চৌধুরীপাড়া বংশাইপাড় সাবর্জনীন দূর্গামন্দির। মন্দিরটি ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। মন্দিরের সামনে দিয়ে পৌরসভা পাকা রাস্তা নির্মাণ করছে।

রাস্তার অপরপাশের বাসিন্দা নিরঞ্জন ঘোষ মন্দিরের জায়গা দখল করার জন্য অবৈধভাবে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ করেছিল। পরে বাউন্ডারী ওয়াল স্থানীয়রা ভেঙে দেয়।

জানা গেছে, মধুপুরের প্রভাবশালী নিরঞ্জন ঘোষ তার ভাইয়েরা মিলে রাতের আধারে মন্দিরের জায়গা দখলের জন্য বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ করে। এছাড়া মন্দিরের প্রতিমাগুলো বংশাই নদীতে ফেলে দেয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাঁধা প্রদান করে। এসময় মন্দিরের কালী প্রতিমার মূর্তি ভেঙে যাওয়ায় মন্দিরের সামনেই ফেলে রেখে চলে যারা তারা।

পরে এঘটনায় স্থানীয়রা অবৈধভাবে মন্দিরের জায়গায় বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ ও জমি দখলের প্রদিবাদ জানিয়ে এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। এতে নিরঞ্জন ক্ষিপ্ত হয়ে মন্দির কমিটির সদস্য ও স্থানীয় ১৩জনের নাম উল্লেখসহ ৩০/৪০ জন অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেন নিরঞ্জন।

অন্যদিকে গত ১৪ এপ্রিল চৌধুরীপাড়া বংশাইপাড় সাবর্জনীন দূর্গামন্দির কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় সরকার বাদী হয়ে নিরঞ্জনসহ ৭জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫জনের বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয়রা জানান, বংশাই নদীর পাড়ে মন্দিরটি নির্মাণ করার পর থেকেই নিরঞ্জন তা দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠে। এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। করলেই মিথ্যা মামলা দায়ের করে যা প্রতিবাদ করে তাদের বিরুদ্ধে।

মধুপুর চৌধুরীপাড়া বংশাইপাড় সাবর্জনীন দূর্গামন্দির কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ সিং ও সম্পাদক বিদ্যুত কুমার ঘোষ বলেন, এলাকার প্রভাবশালী নিরঞ্জন মন্দিরের জায়গা দখলের পায়তারা করছিল। মন্দিরের সামনে অবৈধভাবে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ করেছিল।

মন্দিরের মধ্যে যে মূর্তিগুলো ছিল সেগুলো রাতের আধারে নদীতে ফেলে দিয়েছে। স্থানীয়রাসহ আমরা এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করি। পরে ক্ষোভে নিরঞ্জন থানায় মামলা দায়ের করে। এরআগেও মন্দির কমিটির সদস্যদের নামে আরো চারটি মামলা দায়ের করে।

চৌধুরীপাড়া বংশাইপাড় সাবর্জনীন দূর্গামন্দির কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় সরকার বলেন, মিথ্যা মামলা করে আমাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। মন্দিরটি সরকারি জায়গায় নির্মিত।

অথচ মন্দিরের জায়গা নিজের দাবী করে মন্দিরের মূর্তিগুলো নদীতে ফেলে দিয়ে সেখানে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা করেছে নিরঞ্জন।

(মধুপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঘাটাইলে বাল্য বিবাহ বন্ধে কাজীদের লাল কার্ড প্রদর্শন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বাল্য বিবাহ বন্ধে বিবাহ নিবন্ধন আইন ও কাজীদের ভূমিকা শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্টিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ওয়ার্ল্ড কনসার্ন বাংলাদেশ এর কার্যালয়ের প্রশিক্ষন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় অংশগ্রহনকারী কাজীরা বাল্য বিবাহ বন্ধে বাল্য বিবাহকে লাল কার্ড প্রর্দশন করেন।

ওয়ার্ল্ড কনসার্ন বাংলাদেশ এর উদ্যোগে কর্মশালায় প্রধান অতিথী ছিলেন ঘাটাইল উপজেলা কাজী সমিতির সভাপতি কাজী মাওলানা মোঃ আব্দুল মালেক।

এতে বিশেষ অতিথী ছিলেন ঘাটাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কালের কন্ঠের ঘাটাইল প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম।

উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য মিনারা বেগমের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন কাজী খন্দকার আব্দুর রহিম, ওয়ার্ল্ড কনসার্ন বাংলাদেশ ঘাটাইল শাখার প্রোগ্রাম অফিসার জেমস্ সানি বৈরাগী প্রমূখ।

কর্মশালায় উপজেলার সকল কাজীগণ অংশগ্রহন করেন। এছাড়া এনজিও প্রতিনিধি, শিক্ষকমন্ডলী ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালা শেষে উপস্থিত কাজীসহ সকলে বাল্য বিবাহকে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন এবং বাল্য বিবাহ না বলেন।

(রেজাউল করিম খান রাজু, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে সিসি টিভির ফুটেজ দেখে মোটসাইকেল চোর আটক

টাঙ্গাইলে সিসি টিভির ফুটেজ দেখে চোর শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়েছেন টাঙ্গাইল সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মোশারফ হোসেন।

এসময় তাদের কাছ থেকে চুরিকৃত মোটরসাইকেটিও উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মোটরসাইকেল তিনজন হলো, মধুপুর উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের হলুদিয়া গ্রামের মৃত আবু তালিবের ছেলে রাজীব (৩৫), সদর উপজেলার সাবালিয়া চরজানা এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে রবিউল ইসলাম রবিন (৩০), একই এলাকার মজিদ ভুইয়ার ছেলে মুগ্ধ (২২)। মুগ্ধ টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর উপজেলার কাগমারী পাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।

এবিষয়ে টাঙ্গাইল সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মোশারফ হোসেন জানান, গত ১৬ জুলাই নিজ বাসার সামনে থেকে আব্দুল কদ্দুস নামে এক ব্যক্তির মোটরসাইকেল চুরি হয়। পরে তিনি একটি মামলা দায়ের করেন। পরে এসপি স্যারের নির্দেশনায় পার্শ্ববর্তী একটি ভবনে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করি।

ক্যামেরার ফুটেজ থেকে চোর শনাক্ত করে ঐ এলাকারই বাসিন্দা রবিন ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করি। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে মধুপুরের আউশনারা থেকে রাজিবকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হই। পরে তার নিকট হতে চুরিকৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।

এসময় তিনি আরো আরো, তারা আন্তঃজেলা মোটসাইকেল চোর দলের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

 

মালয়েশিয়ায় টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেয়ায় আটক বাংলাদেশী রায়হান কবির

মালয়েশিয়ায় করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে অভিবাসী শ্রমিকদের দুর্ভোগ নিয়ে আল জাজিরা টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেয়ার অপরাধে সে দেশের পুলিশ বাংলাদেশী নাগরিক রায়হান কবিরকে গ্রেফতার করেছে।

আল জাজিরা টেলিভিশনে প্রচারিত একটি তথ্যচিত্রে তিনি বলেছিলেন যে অনিবন্ধিত বিদেশি শ্রমিকরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন, এবং ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে শত শত অভিবাসীকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসীদের প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক চলতি লকডাউনে বৈষম্যমূলক ও বর্ণবাদী আচরণ নিয়ে ‘লকডআপ ইন মালয়েশিয়াস লকডাউন’ শিরোনামে গত ৩ জুলাই ২৫ মিনিটের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আল-জাজিরা টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। সেখানে সাক্ষাৎকার দেন রায়হান কবির।

প্রতিবেদনটি প্রচারিত হওয়ার পর মালয়েশিয়া সরকার এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে আল-জাজিরার এমন প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করে।

এরপর রায়হান কবিরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির সঙ্গে সঙ্গে দেশটিতে রায়হান কবিরের (২৫) ওয়ার্ক পারমিটও (ভিসা) বাতিল করা হয়।

ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে মালয় মেইল সংবাদপত্র খবর দিয়েছে, দু’সপ্তাহ ধরে খোঁজ করার পর পুলিশ শুক্রবার সন্ধ্যায় মি. কবিরকে গ্রেফতার করেছে।

পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক খাইরুল জাইমি দাউদ জানিয়েছেন যে মি. কবিরকে এখন বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং ভবিষ্যতে তাকে আর মালয়েশিয়ায় ঢুকতে দেয়া হবে না।

আল জাজিরা গত ৩রা জুলাই ‘লকড আপ ইন মালয়েশিয়াস লকডাউন’ নামে একটি তথ্যচিত্র সম্প্রচার করে।

প্রায় ২৬ মিনিটের ঐ ডকুমেন্টারিতে মালয়েশিয়ায় আটকে পড়া অবৈধ শ্রমিকদের বেহাল দশার কথা তুলে ধরা হয়।

রায়হান কবির ঐ তথ্যচিত্রে এ সম্পর্কে কুয়ালালামপুর কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছিলেন।

ঐ ডকুমেন্টারিতে বলা হয়, মহামারির মধ্যে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ দু’হাজারেরও বেশি অনিবন্ধিত শ্রমিককে আটক করেছে এবং কঠোর ভাইরাস লকডাউনের মধ্যে তাদের আটকে রাখা হয়েছে।

ঐ ভিডিওটি প্রচারের পর থেকেই মালয় সোশাল মিডিয়াতে মি. কবিরের বিরুদ্ধে প্রবল সমালোচনা শুরু হয়।

এর জেরে কর্তৃপক্ষ তার ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করে, এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

শুক্রবার গ্রেপ্তারের ঠিক আগে রায়হান কবির নিজের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ঢাকার ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, “আমার অপরাধটা কী? আমি তো কোনও মিথ্যা বলিনি। প্রবাসীদের ওপর যে বৈষম্য ও নিপীড়ন চলেছে, আমি শুধু সেই কথাগুলো বলেছি।

“আমি চাই প্রবাসে থাকা কোটি বাংলাদেশি ভালো থাকুক। আমি চাই পুরো বাংলাদেশ আমার পাশে থাকুক।”

কী বলছে আল জাজিরা?

আল জাজিরা টেলিভিশন রায়হান কবিরের গ্রেফতার নিয়ে সরাসরি কোন মন্তব্য না করলেও তারা মি. রায়হানের বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগগুলি তুলে নেয়ার ডাক দিয়েছে।

এক রিপোর্টে আল জাজিরা তাদের রিপোর্টের সত্যতা সম্পর্কে জোরালো বক্তব্য রেখেছে।

চ্যানেলটি জানিয়েছে, এই ঘটনায় পুলিশ তাদের একদল সাংবাদিককে কঠোরভাবে জেরা করেছে।

মালয়েশিয়ার পুলিশের আইজি তানশ্রি আব্দুল হামদি বাদর জানিয়েছেন, পুলিশ এবং অ্যাটর্নি জেনারেরেলের দফতর আল জাজিরার ডকুমেন্টারিটি বিশ্লেষণ করেছে এবং তাতে ‘অনেক রাষ্ট্রদ্রোহিতার উপকরণ‌’ রয়েছে বলে মনে করছে।

বাংলাদেশ দূতাবাস নি:শ্চুপ

রায়হান কবিরের গ্রেফতারের ব্যাপারে বিবিসি বাংলার তরফ থেকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এনিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তিনি শুধু জানিয়েছেন যে তিনি একটি ‘বিশেষ পরিবেশের’ মধ্যে আছেন। কিন্তু সেটা কি তার কোন ব্যাখ্যা জানা যায়নি।

গ্রেফতার হওয়ার পর বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে যে কনসুলার সেবা মি. কবিরের পাওয়ার কথা, তিনি সেটা পেয়েছেন কিনা, তাও জানা যাচ্ছে না।

(বিবিসি, ঘাটাইল ডট কম)/-