টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী–গারোবাজার আঞ্চলিক সড়কের বেইলা নামক স্থানে চলছে খেজুরের রস বিক্রির ধুম। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে প্রতিদিন শত শত মানুষ ছুটে আসছেন তাজা খেজুরের রসের স্বাদ নিতে। স্থানীয় গাছিরা জানাচ্ছেন, এখানে দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ লিটার রস বিক্রি হচ্ছে।
রসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভোর থেকে সকাল ৯টার মধ্যেই পুরো বাজার সরগরম হয়ে ওঠে। কলস, বোতল হাতে পাইকারি ব্যবসায়ীরাও আসছেন অনেক দূর থেকে। উদ্যোক্তাদেরও রয়েছে বাড়তি উৎসাহ—ভালো লাভের আশায় তারা রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছরের মতো এবারও রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জ থেকে কয়েকজন গাছি এসে সাগরদিঘী এলাকায় খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করছেন এবং এগুলো দিয়ে জাল গুড় তৈরি করছেন। সাগরদিঘী–গারোবাজার সড়কের বেইলায় ভোরে বসে রসের বিশেষ বাজার। এখানে প্রতি কেজি রস ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর জাল গুড় বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে।
গাছি ইমান আলী বলেন, “গাছ থেকে রসের হাঁড়ি নামাতে সময় লাগে, কিন্তু হাঁড়ি শেষ হতে সময় লাগে না। সকাল ৯টার আগেই সব শেষ হয়ে যায়। চাহিদা এত বেশি যে গুড় বানানোর আগেই রস বিক্রি হয়ে যায়।”
হামিদপুর থেকে বন্ধুদের নিয়ে রস খেতে আসা রিফাত মন্ডল জানান, “এখানে রস বিক্রি হয় শুনে চলে এলাম। খেজুরের রস খেয়ে খুব ভালো লাগলো। পাহাড়ি এলাকায় এভাবে বাজার বসার দৃশ্য অনেক আকর্ষণীয়।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, “খেজুরের রসের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। শীতের তীব্রতার কারণে রস সংগ্রহ ও বিক্রি বেড়েছে। খেজুর গাছের রস, ফল—সবকিছুই অত্যন্ত উপকারী। রসের চাহিদা ধরে রাখতে বাজার ব্যবস্থাও আরও সুশৃঙ্খল করা হবে।”
খেজুরের রসকে কেন্দ্র করে বেইলার এই মৌসুমি বাজার ঘাটাইলের মানুষের কাছে একটি আনন্দঘন শীতের অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে।







