জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সুস্পষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরলেন লন্ডনে
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। বিজয় দিবস উপলক্ষে লন্ডনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, আমি আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে যাব।”
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে অনুষ্ঠিত এই সভায় তারেক রহমান আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আর মাত্র দুই মাস পর দেশে বহুল প্রত্যাশিত জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের সামনে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
দেশে ফেরার সময় লন্ডনের বিমানবন্দরে ভিড় বা হট্টগোল না করার জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কেউ যেন বিমানবন্দরে না যান। বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
তারেক রহমান বলেন, তিনি কোনো স্বপ্নের মধ্যে নেই, বরং পরিকল্পনার মধ্যেই রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সংকটময় সময়ে দেশকে খাদ্যসংকটের কিনারা থেকে উদ্ধার করেছিলেন। বিএনপি বিশ্বাস করে, আগামী নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারবে দলটি। তবে তিনি স্বীকার করেন, সামনে পথ অত্যন্ত কঠিন।
তিনি বলেন, “এই কঠিন পথ পাড়ি দিতে হলে আমাদের সুপরিকল্পিতভাবে এগোতে হবে।”
সভায় তারেক রহমান বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের অসচ্ছল পরিবারের জন্য মাইক্রোচিপ সংযুক্ত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যা পরিবারের গৃহকর্ত্রীদের হাতে দেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য চালু করা হবে ‘কৃষক কার্ড’।
শিক্ষা খাতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে শিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলা, সহশিক্ষা কার্যক্রম, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদারের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। সরকার গঠন করলে ‘নতুন কুঁড়ি’ টেলিভিশন অনুষ্ঠান নতুনভাবে সাজিয়ে সেখানে খেলাধুলা যুক্ত করা হবে বলেও উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া প্রবাসীদের জন্য ভাষা শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবায় রোগ প্রতিরোধে জোর দেওয়া এবং স্বাস্থ্য খাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি আশ্বাস দেন, সরকার গঠন করলে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যেই এসব উদ্যোগের সুফল জনগণ পাবে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয় বাড়াতে সরকারি সহযোগিতা, ছোট ওয়ার্কস্পেস, ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা এবং ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে প্রবাসীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “ঐক্য বজায় রাখতে পারলেই একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।”
যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব খসরুজ্জামান খসরুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহিদুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।







