Thursday, April 16, 2026
spot_img
হোমআজকের পত্রিকাজিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্ম

জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্ম

বিশ্বের সকল মনীষীই যুগচাহিদার ফসল। যখন কোনো দেশ ও জাতি ভ্রান্তির বেড়াজালে আবদ্ধ হয়, তখন মহান আল্লাহতায়ালা দিশেহারা জাতিকে মুক্তি ও কল্যাণের লক্ষ্যে ক্যারিসমা ও ডায়নামিক নেতৃত্বের অধিকারী করে মনীষীদের ইহজগতে প্রেরণ করেন। তারা সম্মোহনী শক্তির বলে জনগণকে তাদের প্রতি আকৃষ্ট করেন। জনগণও তাদের অতি আপনজন মনে করে বরণ করে নেয়। এমনভাবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া স্রষ্টার আশীর্বাদ বহন করে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি ও কল্যাণের জন্য ক্যারিসমা ও ডায়নামিক লিডার সুলভ নেতৃত্বের অধিকারী হয়ে আবির্ভূত হন। এ জন্যই শহীদ হওয়ার পরও তিনি বেঁচে আছেন এদেশের জনগণের মনের মণিকোঠায়। তিনি বহুগুণে গুণান্বিত। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা, সার্কের উদ্যোক্তা হিসেবে তাকে জমুকেনিয়াত্তা, মার্শাল টিটো প্রমুখের সাথে তুলনা করতে পারি। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার ধারণা ছিল, ‘মা জন্ম দেয়, মাটি লালন করে, এক সময় মায়ের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়, কিন্তু মৃত্যুর পরেও মাটির প্রয়োজন থেকে যায়।’ কাজেই দেশ ও দেশের মাটির প্রতি গভীর মমত্ববোধ থেকেই শহীদ জিয়ার উদ্ভাবিত বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের উৎপত্তি।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল মনসুর রহমান এবং মাতার নাম জাহানারা খাতুন। তাঁদের পাঁচ পুত্র সন্তানের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছিলেন দ্বিতীয়, তার ডাক নাম ছিল কমল। শিশু কমল ছিল বাড়ির সকলের প্রিয়। শৈশবে তাঁকে বাগবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। পড়াশোনায় তিনি ছিলেন খুবই মনোযোগী। বাগরাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দু’বছর লেখাপড়া করে তিনি পিতার কর্মস্থল কোলকাতায় গিয়ে হেরার স্কুলে ভর্তি হন। ইতোমধ্যে ১৯৪৭ সালে বৃটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাঁর পিতা চাকরির খাতিরে কলকাতা ছেড়ে পাকিস্তানের করাচী শহরে চলে আসেন এবং কিশোর জিয়াকে ১৯৪৮ সালের ১ জুলাই করাচি একাডেমী স্কুলে ৭ম শ্রেণিতে ভর্তি করেন। তিনি ছিলেন শান্ত স্বভাবের, সত্যবাদী। তিনি একা থাকতে পছন্দ করতেন। জিয়াউর রহমান ১৯৫২ সালে একাডেমী স্কুল হতে মেট্রিক পাশ করেন। অতঃপর উচ্চ শিক্ষার জন্য করাচীর ডি.জি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। তাঁর ইচ্ছে ছিল ডাক্তার হওয়া এবং দেশ ও দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করা, পরবর্তীতে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। তিনি ভাবলেন সৈনিক হয়েও দেশ সেবা করা যায়। তাই তিনি ১৯৫৩ সালে একজন অফিসার হিসেবে পাকিস্তান সামরিক একাডেমিতে যোগদান করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে তিনি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং ১৯৫৫ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন লাভ করেন। অতঃপর তিনি ১৯৬০ সালে তিনি মামাত বোন খালেদা খানম পুতুলকে বিয়ে করেন। তখন থেকেই খালেদা খানম পুতুল বেগম খালেদা জিয়া নামে পরিচয় লাভ করেন।

শহীদ জিয়া এদেশের মাটি ও মানুষকে আন্তরিকভাবে ভালবাসতেন বলেই তিনি ছিলেন একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। তাঁর কর্মবহুল জীবনে এসবের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তিনি ছিলেন বহু গুণে গুণান্বিত। দেশ ও দেশবাসীর কল্যাণে তাঁর যুগান্তকারী দুঃসাহসী পদক্ষেপগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

নির্ভিক সৈনিক: জিয়াউর রহমান ছাত্র হিসেবে যেমন ছিলেন মেধাবী, তেমনি সৈনিক হিসেবেও মেধার পরিচয় দিয়ে দুর্ধর্ষ সৈনিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৬৩ সালে তিনি সামরিক গোয়েন্দা বিভাগে যোগদান করেন এবং অল্প দিনের মধ্যেই উচ্চ পদস্থ অফিসারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ১৯৬৫ সালে শুরু হয় পাক-ভারত যুদ্ধ। সে সময় তিনি ফাস্ট ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি ব্যাটালিয়ান কোম্পানির কমান্ডার ছিলেন। তিনি পাক-ভারত যুদ্ধে লাহোরের খেমকারান সেক্টরে ভারতের দুর্ধর্ষ রাজপুত বাহিনীর বিরুদ্ধে নিপুণ কলা-কৌশল ও সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করে জয় লাভ করেন। সে সময়ে বাঙালি অফিসারদের মধ্যে তাঁর সমান প্রশংসা আর কেউ লাভ করতে পারেননি। তাঁকে বীরত্বের জন্য পদক প্রদান করা হয়। অতঃপর তাঁকে ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সামরিক একাডেমির প্রশিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এভাবে যতই দিন যায়, সামরিক জীবনে ততই উন্নতি আসে তাঁর। ১৯৬৯ সালে তাঁকে জয়দেবপুর সাব ক্যান্টনমেন্টের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের দ্বিতীয় ব্যাটালিয়ানের সেকেন্ড ইন কমান্ড নিযুক্ত করা হয় এবং ঐ বছরই তাঁকে ৪ মাসের উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য পশ্চিম জার্মানি পাঠানো হয়। অতঃপর তাঁকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সময়ের দাবি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনগণের জন্য তিনি ছিলেন আল্লাহর আশীর্বাদস্বরূপ। গায়ের জোরে, বন্দুকের নলের মাধ্যমে ক্যারিসমেটিক ও ডায়নামিক লিডার হওয়া যায় না। অতএব, জিয়ার মতো নেতা বাংলাদেশে জন্ম গ্রহণ করায় দেশ ও জাতি গর্বিত ও সৌভাগ্যবান।

স্বাধীনতার ঘোষক: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাঙালিরা নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীর বুক কেঁপে উঠে। তারা বুঝতে পারে বাঙালিকে আর শাসন ও শোষণ করা যাবে না। তাই কায়েমী স্বার্থ অক্ষুণœ রাখার মানসে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরে তালবাহানা শুরু করে এবং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। জেনারেল ইয়াহিয়া ভিত্তিহীন ও যুক্তিহীন অজুহাত দাঁড় করিয়ে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডাকার ও ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কালক্ষেপণ করতে থাকেন এবং গোপনে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান (বর্তমানে পাকিস্তান) থেকে সৈন্য ও অত্যাধুনিক অস্ত্র শস্ত্র বাংলাদেশে পাঠাতে থাকেন। অতঃপর পশ্চিমা হানাদার বাহিনী অতর্কিতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে বাঙালির উপর আক্রমণ চালায় এবং শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করে। আওয়ামী নেতারা ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন। তখন নেতাহারা জাতি হয়ে পড়ে দিশেহারা। উক্ত দুর্যোগ মুহূর্তে জেনারেল জিয়াউর রহমান দেশ ও জাতিকে দিক নির্দেশনের লক্ষ্যে চট্টগ্রামস্থ কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ফলে নেতৃত্বহীন জাতি স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও উজ্জীবিত হয়ে ওঠে এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। জিয়ার নিজের নামের আদ্যাক্ষরে জেডফোর্স গঠন করা হয়। এ ফোর্স মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। মাত্র ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়।
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের উদ্ভাবক: আবহাওয়া, জলবায়ু, মাটির গঠন ও প্রকৃতি মানুষের মানসিকতার উপর প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশের আবহাওয়া জলবায়ু বৈচিত্র্যময় তাই এদেশের মানুষের মন মানসিকতাও বৈচিত্র্যময়। শহীদ জিয়া তা গভীরভাবে উপলব্ধি করেন এবং তিনি লক্ষ করেন যে, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রতি অনীহা প্রকাশ করে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতি আগ্রহ দেখানো জাতির জন্য শুভ লক্ষণ নয়, যা অনেক বামপন্থী নেতা দেরীতে হলেও বুঝতে পেরে পরবর্তীতে ডাকসাইটে নেতা হিসাবে খ্যাতি লাভ করেন। প্রতিটি উন্নত দেশের নীতি নির্ধারকগণ তাদের নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ, জনগণের সামর্থ, মন মানসিকতা সৃষ্টি ও সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতি প্রণয়ন করেন, যা সংশ্লিষ্ট দেশের জন্যই প্রযোজ্য। সে দৃষ্টিকোণ থেকেই শহীদ জিয়া বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের উদ্ভাবন করেন এবং একে ভিত্তি করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেন।

সার্কের উদ্যোক্তা: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া শুধু বাংলাদেশের উন্নয়নের চিন্তা করেন নাই। তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ২০০ কোটি মানুষের সার্বিক মঙ্গল, কল্যাণ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথা চিন্তা করে সার্ক গঠনের প্রস্তাব করেন, যা পরবর্তীতে বাস্তবায়িত হয়। তিনি উপলব্ধি করতে সক্ষম হন, কোনো মানুষ যেমন সর্বক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় তেমনিভাবে কোনো দেশ ও জাতি সকল ক্ষেত্রে স্বাবলম্বী হয় না। কাজেই পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়া যেমন সহজ হয়, একক প্রচেষ্টায় তা সম্ভব নয়। তাই সার্কভুক্ত দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণ এ মহান প্রস্তাবে সাড়া দেন ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসেন।

বহুদলীয় গণতন্ত্রের স্থপতি: মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম নিজ স্বার্থকে অপরের স্বার্থের চেয়ে প্রাধান্য দেওয়া। বিশ্বের ইতিহাস পর্যালোচনান্তে দেখা যায়, অনেক রাষ্ট্র প্রধান গণতন্ত্রের বুলি আওড়িয়ে জনগণকে ধোঁকা দিয়ে, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসে এক দলীয় স্বৈরশাসন কায়েম করেছেন। কিন্তু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেনানায়ক হয়েও আইয়ুবখানের মতো ডিক্টোরশিপ কায়েম না করে এদেশের জনগণকে গণতন্ত্র উপহার দেন। এ প্রেক্ষিতে তৎকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনৈক রাজনৈতিক ভাষ্যকার মন্তব্য করেছিলেন, ‘বাংলাদেশের মতো এত গণতন্ত্র তৃতীয় বিশ্বের কোথাও নেই।’

সমাজ সংস্কারক: স্বাধীনতার পরবর্তী শাসককূল অপরিপক্ব, অদক্ষ হওয়ায় স্বজনপ্রীতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। দেশে অনাচার, অবিচার, দুর্নীতি ব্যাপক হারে সম্প্রসারণ ঘটে। শান্তিপ্রিয় জনগণ তাদের মৌলিক অধিকার হারায়, বাক স্বাধীনতা খর্ব হয়, স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি বিনষ্ট হয়। অর্থাৎ দেশ ও জাতি অন্ধকার যুগের মতো পাপ-পংকিলে আকণ্ঠ নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। বিদেশিরা এদেশকে ‘বটমলেস বাসকেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এহেন দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে দেশ ও জাতির হাল ধরেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি আরামকে হারাম করে দেশ ও জাতির উন্নয়নে ১৯ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি আইনের শাসন কায়েম করে ধ্বংসপ্রায় দেশকে পুনর্গঠিত করেন। সমাজ কঠামোর বিনির্মাণে পরিশ্রমী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া সর্বক্ষণ দেশের মেহনতি মানুষের কল্যাণের চিন্তা করতেন। তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েও প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণের অবস্থা স্বচক্ষে দেখার জন্য উচ্চাবিলাসী আমলাদের নিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে যেতেন, নিজ হাতে কোদাল ধরে খাল কাটায় অংশগ্রহণ করতেন।
কৃষক দরদী: শহীদ জিয়া কৃষি প্রধান দেশের কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে সর্ব প্রথম ১০০ কোটি টাকার সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেন। অধিক খাদ্য ফলানোর লক্ষ্যে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য স্বেচ্ছাশ্রমে খাল কাটার ব্যবস্থাসহ নামমাত্র মূল্যে লাখ লাখ টাকা মূল্যের গভীর নলকূপ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেন। ফলে বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি বহুলাংশে হ্রাস পায় এবং মহাজনী ঋণের অক্টোপাশ থেকে কৃষককূল মুক্তি পায়।

শিক্ষানুরাগী: শহীদ জিয়াকে শিক্ষানুরাগী হিসাবে স্যার সৈয়দ আহম্মদ ও নওয়াব আব্দুল লতিফের সাথে তুলনা করতে পারি। তিনি শিক্ষা ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেন এবং আমূল সংস্কার সাধন করেন। শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য এদেশে শত শত স্কুল স্থাপন করেন। অবহেলিত মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিক ছাঁচে ও ধাঁচে যুগোপযোগী করেন। ফলে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতদের পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষিত আলেম-ওলামাও মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হতে পারছেন।

সৎ আদর্শবান ও ন্যায়পরায়ন: শহীদ প্রসিডেন্ট জিয়া ছিলেন অত্যন্ত সৎ, আদর্শবান ও ন্যায়পরায়ন। তিনি রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে এক কপর্দকও গ্রহণ করতেন না, ন্যায়ের প্রশ্নে অতি আপনজনকেও প্রশ্রয় দিতেন না, শাসক হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ। তার শাসন আমলে দেশে আইনের শাসন কায়েম হয়।

ক্যারিসমেটিক ও ডাইনামিক লিডার: প্রেসিডেন্ট জিয়া স্বাধীনচেতা ছিলেন। তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ধর্ম নিরপেক্ষতার পরিবর্তে সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম সংযোজন করেন।’ তিনি ভারততোষণ নীতি পরিহার করে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি চালু করেন। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘ভারত কর্তৃক দখলকৃত দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ আমাদের, আমরা যে কোনমূল্যে তা উদ্ধার করবই।’ মোদ্দাকথা হলো, শহীদ জিয়ার বলিষ্ঠ ও গতিশীল নেতত্বে দেশে কৃষির বিকাশ ঘটে। শিল্পকারখানা গড়ে উঠে। বেকার যুবকদের কর্ম সংস্থানের সুযোগ হয়। চুরি, ডাকাতি, খুন, রাহাজানি, ছিনতাই হ্রাস পায়। দেশে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হয়।

টাঙ্গাইল উত্তর সর্বশেষ

জনপ্রিয়