Thursday, April 30, 2026
spot_img
হোমঅন্যান্যঘাটাইলে ফুটপাত দখল করে দোকান, পৌরসভার টোল আদায় — ভোগান্তিতে পথচারী

ঘাটাইলে ফুটপাত দখল করে দোকান, পৌরসভার টোল আদায় — ভোগান্তিতে পথচারী

 

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌর এলাকার কলেজ মোড় থেকে পুরোনো বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ফুটপাত দখল করে বসানো হয়েছে সারি সারি দোকান। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন ২০ থেকে ৫০ টাকা করে ‘টোল’ আদায় করছে পৌরসভা— কো’থাও রসিদের মাধ্যমে, আবার কোথাও রসিদ ছাড়াই। এতে ফুটপাত দখলবাজরা পাচ্ছে পরোক্ষ বৈধতা, আর ভোগান্তিতে পড়ছেন পৌরবাসী ও পথচারীরা।

ঘাটাইল কলেজ মোড় বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী যাতায়াত করেন। কিন্তু রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচার মতো কোনো যাত্রী ছাউনি নেই। বৃষ্টিতে সড়কে সৃষ্টি হয় কাদা ও জলাবদ্ধতা। ফুটপাতের সামান্য শুকনো জায়গাটুকুও দখল হয়ে গেছে চা, পান, ফলসহ নানা দোকানে।

এই দোকানদারদের কাছ থেকে প্রতিদিন পৌরসভা টাকা তুলছে— এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। দোকানদাররা জানান, পৌরসভার লোকজন এসে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে নিচ্ছে। এক বিক্রেতা বলেন, “দিনে বিক্রি হয় ২০০–৩০০ টাকা। তার মধ্যে ৫০ টাকা দিতে হয় টোল নামে চাঁদা। না দিলে পরদিন দোকান বসতে দেয় না।”

দোকানদারদের দেখানো চারটি রসিদে দেখা যায়, প্রতি রসিদে লেখা আছে ‘টোল আদায়’। তাঁদের দাবি, শুরুতে রসিদ দেওয়া হলেও এখন অনেক সময় শুধু টাকা নিয়ে চলে যায় পৌরসভার লোকজন। জানা গেছে, ঘাটাইল পুরোনো বাসস্ট্যান্ড থেকে কলেজ মোড় পর্যন্ত ৪৮টি দোকান থেকে টাকা তোলার দায়িত্বে আছেন এক ওমর আলী। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, প্রতিদিন এসব দোকান থেকে টোল আদায় করেন তিনি।

এদিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জলাবদ্ধতা যেন নিত্যসঙ্গী। সামান্য বৃষ্টিতেই জমে থাকে নোংরা পানি। পথচারী আকলিমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দাঁড়ানোর জায়গা নেই ফুটপাতেও। কেউ কি দেখবে না এসব?” কলেজছাত্রী নুসরাত জাহান বলেন, “ফুটপাত দখল আর জলাবদ্ধতা— দুটো মিলেই দুর্ভোগ চরমে। অথচ পৌরসভা ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো টাকা তুলছে, এটা লজ্জার।”

সোনিয়া কাউন্টারের মালিক সুফি সিদ্দিকী বলেন, “বাসা থেকে মসজিদে নামাজে যেতে গেলেও নোংরা পানি বাসের চাকার ছিটে কাপড়ে লাগে। পৌরসভার কোনো উদ্যোগ নেই।”

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সোহেল মাহমুদ বলেন, “ফুটপাত ও সড়ক সওজের জায়গা। এই জায়গা থেকে কোনো পৌরসভা টোল আদায় করতে পারে না। টাকার বিনিময়ে অবৈধ দখলদারদের বৈধতা দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।” তিনি আরও জানান, স্থানীয়রা সড়কের দুই পাশে মাটি ফেলে উঁচু করায় জলাবদ্ধতার সমস্যা তৈরি হয়েছে। “ড্রেন নির্মাণের কোনো প্রকল্প বর্তমানে হাতে নেই,” যোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, “পৌর এলাকায় ইজারা না থাকলে খাস রাজস্ব হিসেবে পৌরসভা কিছু আদায় করতে পারে। তবে ফুটপাত নাগরিকের চলাচলের জন্য— বাজারের জন্য নয়।” তিনি আরও জানান, “রসিদ ছাড়া টাকা তোলা বেআইনি। এমন অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

টাঙ্গাইল উত্তর সর্বশেষ

জনপ্রিয়