টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রিার অফিস এখন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভোগান্তির কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। সাব-রেজিস্টারের নাম নিয়ে অফিস স্টাফ এবং এক শ্রেণীর দলিল লেখক প্রকাশ্যে পারিতোষিক আদায় করছেন। ফলে জমি কেনাবেচার জন্য আসা মানুষ চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। জানা যায়, জমির দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে জমি বিক্রেতার স্বত্ব নিশ্চিত করার জন্য পর্চা, খাজনা-খারিজ, এনআইডি, ছবিসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র নিশ্চিত হওয়ার পর সরকারি রেজিস্ট্রেশন ফি ১হাজার একশ টাকা ও ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে দলিল মূল্যের সাড়ে ৭ ভাগ ও পৌর এলাকায় সাড়ে ৯ ভাগ হারে কর জমা দিতে হয়। তারপরই একটি দলিল সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের কথা। কিন্তু সেই নিয়ম মানা হয় না। নানা বাহানায় বাড়তি অর্থ আদায় করছে এসব অসাধু কর্মচারীরা।
আয়েজউদ্দীন আজাদ নামক একজন জমি ক্রেতা মধুপুর সাব-রেজিস্ট্রিার অফিসে জমি ক্রয়ের দলিল করতে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হন। তিনি টাঙ্গাইল জেলা রেজিস্টারের নিকট লিখিত অভিযোগে জানান, মধুপুর পৌরশহরের মালাউড়ি মৌজার মুহাম্মদ আব্দুল মজিদের ৬ শতাংশ জমি কেনার জন্য নিয়মানুযায়ী সকল সরকারি ফি ব্যাংকে জমার পর দলিল প্রস্তুত করে নিবন্ধনের জন্য সাব-রেজিস্টারের নিকট কাগজপত্র জমা দেন। জমি দাতা ৮১ বছর বয়সী আব্দুল মজিদ শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় হুইল চেয়ারে করে অফিসে আসেন।
সাব-রেজিস্ট্রিার অঞ্জনা রাণী দেবনাথকে দলিল সম্পাদনের বিষয়ে অবহিত করলে তিনি অফিসের নকলনবিস জসিম উদ্দীনকে দাতার শরিরীক অবস্থা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জমিদাতা আব্দুল মজিদ হুইল চেয়ারে বসে নকলনবিস জসিম উদ্দীনের নিকট জমি বিক্রির বিষয়ে হা সূচক জবাব দেন। কিন্তু নকলনবিস জসীম উদ্দিন সাব-রেজিস্ট্রিার অঞ্জনা রাণী দেবনাথের সাথে শলা পরামর্শ করে দলিল লেখক আব্দুস সামাদ ও জমি ক্রেতা আয়েজউদ্দীন আজাদকে জানান, দাতা শারীরিকভাবে সুস্থ নয়। তাই দলিল সম্পাদনে সাব-রেজিস্ট্রিার ৫০ হাজার টাকা পারিতোষিক দিতে হবে।
জমির ক্রেতা পারিতোষিক দিতে অস্বীকার করলে সাব-রেজিস্টার জমি নিবন্ধন করবে না বলে জানিয়ে দেন। ঘুস না দেয়ায় দলিল সম্পাদন হয়নি বলে অভিযোগ তুলে জমির ক্রেতা তদন্ত ও প্রতিকার দাবি করেন।
এ বিষয়ে নকলনবিস মো. জসিম উদ্দিন বক্তব্য দিতে অস্বীকার করেন। তবে দলিল লেখক আব্দুস সামাদ জানান, যা বলার জমির ক্রেতাকে বলেছি। সংবাদকর্মীদের কিছু বলার নেই।
সাব-রেজিস্ট্রিার অঞ্জনা রাণী দেবনাথ জানান, দাতা আব্দুস মজিদ শারীরিকভাবে অসুস্থ বলে তিনি কর্মচারীর মাধ্যমে শুনেছেন। তাই দলিলটি করা হয়নি। অফিসে কেউ ঘুস বা পারিতোষিক নেয় না। কেউ এমনটি করে থাকলে ব্যবস্থা নিবেন।
‘মধুপুর সাব-রেজিস্ট্রিার অফিসে ভোগান্তির শিকার সেবাগ্রহীতারা’ এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা রেজিস্টার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জার টাকা পারিতোষিক দিতে হবে।







