Monday, January 19, 2026
spot_img
হোমটাঙ্গাইল উত্তরঘাটাইলঅনলাইন জুয়ার নেশায় বুঁদ ঘাটাইলের মানুষ

অনলাইন জুয়ার নেশায় বুঁদ ঘাটাইলের মানুষ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় মুঠোফোন অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। লোভে পড়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণেরা এই জুয়ায় বেশি আসক্ত হচ্ছেন। জুয়ার নেশায় বুঁদ হয়ে সর্বস্ব হারাতে বসেছেন তাঁদের অনেকে। এ কারণে বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি ও দাম্পত্য কলহ। দিনমজুর থেকে শুরু করে কোটিপতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, ভ্যানচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। পিছিয়ে নেই নারীরাও। সরকারের কাছে পর্নোসাইটের মতো এই জুয়ার সাইটও বন্ধের দাবি তুলেছেন এলাকার সচেতন লোকজন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পৌর এলাকা থেকে শুরু করে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোয় এই জুয়া বিস্তার লাভ করছে। সহজে প্রচুর টাকা উপার্জনের লোভে পড়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সের অসংখ্য মানুষ এই জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছেন। তরুণদের অনেকেই কৌতূহলবশত এই খেলা শুরুর পরেই নেশায় পড়ে যাচ্ছেন। প্রথমে লাভবান হয়ে পরবর্তী সময় খোয়াচ্ছেন হাজার হাজার টাকা।

অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্মার্টফোনে নির্ধারিত কয়েকটি অ্যাপস ডাউনলোড করে সেখানে জুয়া খেলা চলে। বিভিন্ন নামের প্রায় ১০ থেকে ১২টির মতো অ্যাপসে সবচেয়ে বেশি জুয়া খেলা হয়। এসব অ্যাপসে ১০ টাকা থেকে শুরু করে যেকোনো অঙ্কের টাকা দিয়ে শুরু করা যায়।

জুয়ায় জড়িত ব্যক্তিরা বলছেন, এসব অ্যাপসের বেশির ভাগই পরিচালনা করা হচ্ছে রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে। বাংলাদেশে এগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি (এজেন্ট) রয়েছে। ঘাটাইল উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাজারেই রয়েছে এই ধরনের এজেন্ট। তারা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জুয়ায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ বা প্রদান করে থাকে। এজেন্টরা বিদেশি অ্যাপস পরিচালনাকারীদের কাছ থেকে হাজারে কমপক্ষে ৪০ টাকা কমিশন পায়। এজেন্টদের মাধ্যমেই বিদেশে টাকা পাচার হয়।

উপজেলার দেউলাবাড়ী ইউনিয়নের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সিয়াম হোসেন বলেন, ইন্টারনেট সংযোগসহ স্মার্টফোনের আবদার তার মা বছর দুই আগেই পূরণ করেছেন। ১৫ রাতে তার আয় ছিল ৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। এই টাকা আসা-যাওয়ার পথ একই। তাই আসার পথেই চলে গেছে লাভসহ আসল। একসময় জুয়ায় আসক্ত থাকলেও এখন আর তিনি এ পথে নেই। তবে অনেক ছাত্র এতে আসক্ত।

দেওপাড়া ইউনিয়নের সৌদি আরব প্রবাসীর স্ত্রী রমিছা খাতুন (২৭)। তিনি বলেন, ‘যখন বাজি ধরি, তখন হার্ট চরম পর্যায়ে লাফালাফি শুরু করে। কি না কি হয়। এ পর্যন্ত আমার অনেক টাকা ক্ষতি হয়েছে।’
জুয়ায় অনেকেই সর্বস্ব হারিয়ে ঋণ নিচ্ছেন এনজিও ও ব্যাংক থেকে। ঋণের টাকায়ও ধরছেন বাজি। অন্যের কাছ থেকে দৈনিক উচ্চ সুদে টাকা নিয়েও জুয়ায় মাতছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চলতি বছরের এক এসএসসি পরীক্ষার্থী বলেন, প্রথমে ৩৬ টাকা বিনিয়োগ করে ১৬ হাজার টাকা পান তিনি। এতে লোভে পড়ে এই খেলায় মারাত্মক আসক্তি চলে আসে তাঁর। গত ছয় মাসে এই জুয়ার নেশায় পড়ে মোটরসাইকেল বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি। এমনকি চলতি এইচএসসি পরীক্ষার মধ্যেও তিনি খেলা ছাড়তে পারেননি।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রকিবুল ইসলাম জানান, অনলাইন জুয়ার ব্যাপারে তাঁরা শুনেছেন। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছেন। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইল উত্তর সর্বশেষ

জনপ্রিয়