বিশ্বের ভূমিকম্পঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। দেশের ভৌগোলিক গঠনে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চলগুলোর একটি হলো টাঙ্গাইলের মধুপুর। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, বাংলাদেশের সক্রিয় ত্রুটিসরলগুলোর (ফল্ট লাইন) মধ্যে মধুপুর ফল্ট অত্যন্ত বিপজ্জনক। যেকোনো সময় এখানে শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে টাঙ্গাইলসহ রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত।
‘আনারসের রাজধানী’ খ্যাত মধুপুরে গত দুই দশকে ব্যাপক হারে বেড়েছে জনবসতি, বাড়ছে বহুতল ভবন। তবে এসব ভবনের অধিকাংশ নির্মাণেই মানা হয়নি বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড। ফলে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে ভবনধস, প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে বহুগুণে।

স্থানীয়রা জানান, পাঁচ-ছয় বছর আগে মধুপুর উপজেলায় মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হলে ইদিলপুরসহ তিনটি গ্রামে টিলা ও রাস্তায় ৫০ থেকে ১০০ মিটার দীর্ঘ ফাটল দেখা দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও সাধারণ মানুষ এখনো জানেন না ভূমিকম্পের সময় করণীয় কী। তাদের দাবি, বড় ধরনের বিপর্যয়ের আগেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ, সচেতনতা কার্যক্রম ও আগাম সতর্কতা প্রয়োজন।
মধুপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমরা কোনোদিন ভূমিকম্প বিষয়ে প্রশিক্ষণ পাইনি। হঠাৎ বড় কিছু হলে কী করতে হবে, সেটাই জানি না।’
আরেকজন বলেন, ‘ফল্ট লাইনের কথা শুনেছি, কিন্তু ঝুঁকি কতটা তা আমাদের কেউ জানাননি।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঢাকা ও মধুপুর অঞ্চলের পুরনো ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনশীল নয়। ফলে ভূমিকম্পের কেন্দ্র মধুপুর হলে ঢাকাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে অপরিকল্পিত নগরায়ন, দুর্বল অবকাঠামো ও বিল্ডিং কোড না মানার কারণে ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
মধুপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘ভূমিকম্প সচেতনতা বা প্রস্তুতি বাড়াতে কোনো বিশেষ প্রকল্প নেই। আমাদের কাছে আলাদা কোনো প্রকল্প না থাকায় ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে যে কোনো দুর্যোগ মোকাববিলায় প্রস্তুতি ও সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এখনই যদি সচেতনতা, প্রস্তুতি ও শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ে তোলা না যায়Íতাহলে মধুপুর ফল্ট হয়ে উঠতে পারে দেশের বড় দুর্যোগের কেন্দ্র।







