পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন স্থগিতের সিদ্ধান্তে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। এতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ, হতাশা ও নানা গুঞ্জন। দীর্ঘদিন পর আওয়ামী লীগের ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত এই আসনটি পুনর্দখলের সুযোগ এসেছে বলে মনে করছিলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। কিন্তু হঠাৎ মনোনয়ন স্থগিতের সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে দলের ভেতরে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি ঘোষিত ২৩৭টি আসনের তালিকায় পটুয়াখালী-৩ না থাকায় স্থানীয় নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মনোনয়ন দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন।
দশমিনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম শানু সিকদার বলেন,
“হাসান মামুন দুই যুগ ধরে শ্রম ও ত্যাগে আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসাবে পরিচিত দশমিনা-গলাচিপায় বিএনপিকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গেছেন। তার বিকল্প ভাবা কঠিন। দলের বাইরে কাউকে চাপিয়ে দিলে আমরা তা মেনে নেব না।”
অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন—গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল হক নুর-এর জন্যই বিএনপি আপাতত মনোনয়ন স্থগিত রেখেছে। দশমিনা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিলন মিয়া বলেন,
“নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন। বিএনপির সঙ্গে জোট গঠনের আলোচনা চলছে। জোট না হলেও তিনি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।”
এদিকে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনিকে ঘিরেও রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। রনির ছোট ভাই গোলাম জিলানি জিল্লু নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন—
“প্রিয় গলাচিপা-দশমিনাবাসী, আপনারা ধৈর্য ধরুন, ভালো কিছু হবে ইনশাআল্লাহ।”
তার এই রহস্যময় পোস্ট ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে। অনেকেই ধারণা করছেন, বিএনপির মনোনয়ন না পেলেও গোলাম মাওলা রনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে অংশ নিতে পারেন।
গোলাম জিল্লু বলেন,
“বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে আমার ভাই অতটা আগ্রহী নন, তবে নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূলে থাকলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পটুয়াখালী-৩ আসনে এখন তিন দিকের টানাপোড়েন চলছে—বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ ও গোলাম মাওলা রনি। এই ত্রিমুখী সমীকরণ নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে বড় ধরনের চমক সৃষ্টি করতে পারে বলে সাধারণ ভোটারদের ধারণা।







