Wednesday, April 29, 2026
spot_img
হোমঅন্যান্যজুলাই সনদে স্বাক্ষর হলেও বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা, কয়েক দল এখনো সই করেনি

জুলাই সনদে স্বাক্ষর হলেও বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা, কয়েক দল এখনো সই করেনি

বহুল আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণয়নে গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেও এখনো সবার স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি। রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে ঐকমত্য হলেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না করেই সনদ স্বাক্ষর শুরু করায় নতুন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের নতুন দল **জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)**সহ কয়েকটি দল সনদে সই করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি সনদ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও অংশগ্রহণকারী অন্য কয়েকটি দলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এদিকে, সনদ বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি ও পদ্ধতি নির্ধারণে এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে, যা চলতি মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ার কথা। ফলে মতভিন্নতা থাকলেও সব দলের নজর এখন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার দিকেই নিবদ্ধ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছালেও বাস্তবায়নের কাঠামো ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়েই মূল জটিলতা তৈরি হয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এ বিষয়ে বিভিন্ন দলের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো দল নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার পড়েছে কমিশনের ওপর।

এছাড়া, অঙ্গীকারনামার ধারাসমূহ ও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ নিয়েও সমঝোতা হয়নি। ভিন্নমত থাকা বিষয়গুলোসহ মোট ৮৪টি প্রস্তাব চূড়ান্ত সনদে অন্তর্ভুক্ত রেখে স্বাক্ষরের আয়োজন করা হয়।

সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ৩০টি দল ও জোটকে দুজন করে প্রতিনিধির নাম দিতে বলা হয়েছিল। যদিও কয়েকটি দল সময়মতো সাড়া দেয়নি, তবুও সরকার শুরুতে সব দলের অংশগ্রহণ নিয়ে আশাবাদী ছিল।

বিএনপিসহ বেশিরভাগ দল আগেভাগেই সইয়ের সম্মতি জানায়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেষ মুহূর্তে বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি নিশ্চিতের শর্তে সই করে। তবে এনসিপি সনদ বাস্তবায়নের আদেশ ও কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ খসড়া না দেখে সই করতে রাজি হয়নি। তাদের রাজি করাতে সরকার ও ঐকমত্য কমিশন সক্রিয় ভূমিকা রাখলেও ব্যর্থ হয়।

একইভাবে, সিপিবি, বাসদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী)বাংলাদেশ জাসদ সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সই না করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। ফলে অনুষ্ঠানে মোট ২৪টি দল সই করে, পরে গণফোরামও এতে যুক্ত হয়।

এদিকে সনদ স্বাক্ষরের পর বাস্তবায়নের উপায় ও আইনি কাঠামো নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করছে ঐকমত্য কমিশন। কমিশনের মেয়াদ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সূত্র মতে, এখন পর্যন্ত কমিশন যে প্রস্তাবগুলো প্রায় চূড়ান্ত করেছে, তার মধ্যে রয়েছে—

  • গণঅভ্যুত্থানকে ভিত্তি ধরে ‘সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান) আদেশ’ প্রণয়ন,
  • ওই আদেশে গণভোটের অধ্যাদেশ যুক্ত করা,
  • পরবর্তী সংসদকে দ্বৈত ভূমিকা দিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংবিধানে সনদ অন্তর্ভুক্ত করা।

সবকিছু ঠিক থাকলে অক্টোবরের মধ্যেই কমিশন তাদের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ সরকারকে দেবে বলে জানা গেছে।

 

টাঙ্গাইল উত্তর সর্বশেষ

জনপ্রিয়