টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে শহিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক রাজমিস্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে নাসরিন আক্তার (২৮) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের নাজিরপাড়া এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত শহিদুল ইসলাম রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর গ্রামের মৃত আলম মিয়ার ছেলে। গ্রেপ্তার নাসরিন আক্তার মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পারদিঘী গ্রামের আজম খানের মেয়ে। জানা গেছে, নাসরিন ছিলেন শহিদুলের তৃতীয় স্ত্রী।
রোববার (৯ নভেম্বর) নিহতের বোন আলেয়া বেগম বাদী হয়ে নাসরিনসহ চারজনের নামে মির্জাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শহিদুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মুন্নী ও দ্বিতীয় স্ত্রী আতিকা। প্রথম স্ত্রীর ঘরে সাত বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে, আর দ্বিতীয় স্ত্রী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। শহিদুল মির্জাপুরের গোড়াই এলাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন। কয়েক বছর আগে তিনি নাসরিনকে বিয়ে করেন, তবে প্রায় এক বছর আগে তালাক দেন। কিন্তু তালাকের পরও নাসরিন নিজেকে শহিদুলের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে গোড়াই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
সম্প্রতি নাসরিন শহিদুলকে তার বাসায় আসতে নিষেধ করেন। পরে নাসরিন তার আপত্তিকর কিছু ছবি দেখিয়ে শহিদুলকে নিজের সঙ্গে থাকতে বাধ্য করার চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো।
শনিবার দুপুরে শহিদুল নাসরিনের ভাড়া বাসায় গেলে নাসরিন স্থানীয় কিছু যুবককে দিয়ে তাকে মারধর করান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে শহিদুল অজ্ঞান হয়ে পড়লে নাসরিন স্থানীয়দের সহায়তায় কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসক শহিদুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী মুন্নী বেগম বলেন, “আমরা গ্রামের বাড়িতে থাকতাম। তার এই তৃতীয় বিয়ে সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। তিনি কাজের প্রয়োজনে বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন।”
মামলার বাদী আলেয়া বেগম জানান, “শনিবার সকাল ১১টার দিকে ভাইকে বাসা থেকে উঠিয়ে দিই। কিছুক্ষণ পর তিনি ফোনে জানান, মির্জাপুরে নাসরিন নামে এক নারী তাকে মারধর করাচ্ছে। এরপর থেকেই তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।”
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী নাসরিন আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”







