ঢাকাই সিনেমার অপ্রতিদ্বন্দ্বী নায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ন্যায়বিচার দাবিতে শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রাঙ্গণ আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তাল হয়ে ওঠে। প্রায় ত্রিশ বছর অতিত হলেও কাঙ্ক্ষিত বিচার না পেয়ে আগত শতাধিক ভক্ত—চলচ্চিত্রকর্মী ও সমর্থক এক মানববন্ধন করে এবং দ্রুত, ন্যায়সঙ্গত তদন্ত ও দণ্ড নিশ্চিত করার দাবি তুলেন।
মানববন্ধনে ভক্তরা বলেন, তারা বিশ্বাস করেন সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি — তাকে হত্যা করা হয়েছে — এবং মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। ভক্তদের স্লোগান ছিল: “রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়”, “আপস না সংগ্রাম”, “সামিরার ফাঁসি চাই” — যেগুলো থেকে বিচারের অমন শান্ত নয়, সক্রিয় তাগিদ প্রতীয়মান ছিল।
এদিন কিছু উল্লেখযোগ্য বক্তব্যে একজন ভক্ত বলেন, “৩০ বছর হয়ে গেল—কখনই বিচার পাইনি। কেন মামলার আসামিরা আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন? আইন যদি অদৃশ্য হয়, তাহলে আমরা কীভাবে ন্যায় চাইব?”
আরেক ভক্ত অবক্ষেপ করে বলেন, “এদেশে অসংখ্য সরকার বদলেছে, তবু কেন এই মামলার সুষ্ঠু সমাধান হচ্ছে না? আমরা চাই—আইন যেন সমানভাবে কার্যকর হয়।”
ভক্তরা সামিরা নামের এক জনের আগাম জামিন নেওয়ার চেষ্টা ও মামলার ধীরগতির তদন্তের প্রতি কড়া আপত্তি তুলে ধরেন। মানববন্ধনে একজন বলেন, “সালমানকে হত্যা করা হয়েছে—এটার প্রমাণ আছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তৎক্ষণাৎ ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং প্রয়োজনে গ্রেপ্তার করা হোক।”
অনুষ্ঠানে আবেগের ঢেউ আলোচিত হয়—কেউ শিশু বয়সে জমা রাখা ভিউ কার্ড নিয়ে কাঁদেন, কেউ সালমান শাহের মায়ের (নীলা চৌধুরী) দীর্ঘ কষ্টের কথা স্মরণ করে বেদনাভরা ভাষায় বলেন, “একটি মায়ের কাঁধে সন্তানের মৃতদেহ বহন করার বেদনা কল্পনার অতীত। ৩০ বছর—এই মায়ের দু:খের কোনও মূল্য কি নেই?”
ভক্তদের প্রতিনিধি থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন স্থগিত করবে না এবং শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় অবস্থান অব্যাহত রাখবে। তারা দ্রুত ঘটনাটির সুষ্ঠু, স্বতন্ত্র ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন এবং বিচার প্রয়োগে জোর দিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি ভক্তদের আর্জি ছিল—আদালতের নির্দেশনা মেনে আসামিদের গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা হোক। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক নেতার বক্তব্যে বলা হয়, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সেই শ্রদ্ধার ভিত্তিতেই বলছি—ন্যায়বিচার ফিরিয়ে দিন।”
পটভূমি: সালমান শাহের মৃত্যু নিয়ে তুমুল বিতর্ক ও তদন্ত দীর্ঘদিন ধরে চলতেছিল। ভক্তদের ক্ষোভ, মামলা ও তদন্তের ধীরগতি—এসব মিলিয়ে মানববন্ধনে নতুন করে বিচার দাবি জোরালোভাবে সামনে এসেছে। ভক্তরা মনে করেন—সঠিক, স্বচ্ছ ও দ্রুত বিচার হলে দেশের চলচ্চিত্রমহল ও প্রচুর সাধারণ মানুষই মানসিকভাবে সান্ত্বনা পাবে।
(সংবাদসংগ্রহ: জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা — অনূর্ধ্বগত সংকলন ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনার ভিত্তিতে)







