Thursday, April 30, 2026
spot_img
হোমঅন্যান্যআসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে সরগরম রাজনীতি, তৎপর বিএনপি–জামায়াতসহ...

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে সরগরম রাজনীতি, তৎপর বিএনপি–জামায়াতসহ অন্যান্য দল

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে কয়েকগুণ। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাকের পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণসংহতি আন্দোলন, এনসিপি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমে পড়েছেন ভোটের প্রচার-প্রচারণায়।

১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপি’র ৫ জন, জামায়াতে ইসলামী একক প্রার্থী এবং অন্যান্য দলের মোট ৬ জন সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে উঠান বৈঠক, সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং অনুদান প্রদানসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ঘাটাইল আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি’র দুর্গ হিসেবে পরিচিত। দলের নেতা–কর্মী ও সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন—যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন পেলে এবারও বিএনপি এ আসনে বিজয় অর্জন করতে পারবে।

এই আসনে বিএনপি থেকে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন দলের চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান খান আজাদ। তিনি ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন। তিনবার তিনি বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায়ও স্থান পেয়েছিলেন। তবে ২০১৮ সালের একতরফা নির্বাচনে অংশ নিলেও ফল বর্জন করেন তিনি।

কিন্তু এবারের নির্বাচনে আজাদ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল নেতা এডভোকেট ওবায়দুল হক নাসির উঠে এসেছেন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে। দলের দুঃসময়ে ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির হাল ধরেন তিনি এবং অল্প সময়ের মধ্যে ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় নতুন কমিটি গঠন করেন। বর্তমানে তিনি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, বিএনপির একাংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন লুৎফর রহমান খান আজাদ এবং অপর অংশের নেতৃত্বে আছেন এডভোকেট ওবায়দুল হক নাসির—এমন বিভক্তি দলীয় কর্মীদের মধ্যেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিগুলোও তারা আলাদা আলাদা ভাবে পালন করছেন বলে জানা গেছে।

তাছাড়া, বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য মাইনুল ইসলামও দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে আছেন। পাহাড়ি অঞ্চলের এই নেতা নিজের ‘ক্লিন ইমেজ’ ও সংগঠনের শৃঙ্খলার জন্য পরিচিত। তাঁর তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা ভালো থাকলেও দলের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ঘাটাইল আসনে জামায়াতে ইসলামী একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলটির টাঙ্গাইল জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ হোসনী মোবারক বাবুল জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। তিনি বলেছেন,

“যদি জামায়াতে ইসলামী জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসে, তাহলে ঘাটাইলের অবহেলিত পাহাড়ি মানুষকে সহায়তা করব, বেকার সমস্যা সমাধান, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ও চাঁদাবাজি নির্মূল করব। আধুনিক ঘাটাইল গড়াই আমার লক্ষ্য।”

টাঙ্গাইল জেলা (পূর্ব) জাকের পার্টির সভাপতি মো. আব্দুল আজিজ খান অটল একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন,

> “জাকের পার্টির চেয়ারম্যান পীরজাদা মোস্তফা আমীর ফয়সল মুজাদ্দেদী সারা দেশে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এবং কালো টাকা ও পেশিশক্তি মুক্ত ভোট হলে জাকের পার্টি এবারও জনগণের ভোটে জয়ী হবে।”

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে মোট ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা মিলে ১২২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।
মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৭২,৯৩২ জন।
এর মধ্যে—

পুরুষ ভোটার: ১,৮৮,৪৫৮ জন

মহিলা ভোটার: ১,৮৪,৪৭১ জন

তৃতীয় লিঙ্গ: ৩ জন

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসন এখন নির্বাচনী উত্তেজনায় সরগরম। ঐতিহ্যের দুর্গ বিএনপি এবার অভ্যন্তরীণ বিভাজনে চ্যালেঞ্জের মুখে, তবে আশাবাদী তাদের সমর্থকরা। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, জাকের পার্টি ও অন্যান্য ছোট দলগুলোর প্রার্থীরাও সক্রিয় হয়ে মাঠ গরম রাখছেন। ফলে এ আসনে আসন্ন নির্বাচনে একাধিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠবে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

টাঙ্গাইল উত্তর সর্বশেষ

জনপ্রিয়