Tuesday, May 26, 2026
spot_img
হোমটাঙ্গাইল উত্তরঘাটাইলঘাটাইলে ডাকাত আতঙ্কে মাইকিং, পুলিশ বলছে গুজব

ঘাটাইলে ডাকাত আতঙ্কে মাইকিং, পুলিশ বলছে গুজব

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় ডাকাতের গুজবে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মহল্লার মসজিদে মসজিদে মাইকিং করে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে এলাকায় ডাকাত ঢোকার খবর। এমন সংবাদে জনমনে সৃষ্টি করেছে আতঙ্ক। মানুষের এ আতঙ্কে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো উপজেলা। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ‘বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব’।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার মসজিদে চলতে থাকে এ ডাকাত আতঙ্কের ঘোষণা।

জানা যায়, সখীপুর উপজেলায় প্রথম ডাকাতের খবরে মাইকে প্রচার করা হয়। এরপর থেকে শুরু হয় বিভিন্ন এলাকায় ডাক-চিৎকার, মাইকিং, গ্রামের মোড়ে মোড়ে পাহারা। পরে ডাকাত গুজবের এ খবর ছড়িয়ে পড়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায়। আস্তে আস্তে উপজেলা থেকে উপজেলা।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও প্রচার করা হয় ডাকাত গুজবের তথ্য। মুহূর্তেই সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের তিন-চার উপজেলায়। এতে করে উপজেলা ও জেলাজুড়ে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ঘাটাইলে আতঙ্কে মানুষজন লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসতে দেখা যায়। এ সময় আতঙ্কিত মানুষের ডাক-চিৎকারের শব্দ শোনা যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেখা যায়, ‘পার্শ্ববর্তী ভালুকা উপজেলার মল্লিক বাড়ি এলাকায় দু’ ডাকাত জনতার হাতে আটক’ লেখা পোস্ট। এছাড়া সখীপুর উপজেলার অন্য আরেকটি পোস্টে একজন লিখেছেন, ‘ঘাটাইলের সাগরদিঘি এলাকার কাইকারচালা গ্রামে দু’ ডাকাত আটক’।

তবে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ফেসবুক পোস্টের কোনো ভিত্তি নেই।

ঘাটাইল উপজেলার কাইকারচারা গ্রামের স্কুল শিক্ষক মতিউর রহমান বলেন, ‘আমাদের গ্রামে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। সংবাদটি সম্পূর্ণ গুজব।’

সাগরদিঘি এলাকার বাসিন্দা ইদ্রিস আলী লিটন জানান, ‘মসজিদের মাইকে এলাকায় ডাকাত প্রবেশ করার খবর প্রচার করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। কিছুক্ষণ পরে আশপাশের মসজিদের মাইক থেকেও একই ঘোষণা দেয়া হয়। তবে ঘাটাইলের কোথাও এমন ঘটনা ঘটেনি।’

ভালুকা উপজেলার মল্লিক বাড়িতে ডাকাত আটকের ঘটনাটি ফেসবুকে ভাইরাল হলেও এর সত্যতা পাওয়া যায়নি।

ভালুকা উপজেলার গণমাধ্যমকর্মী হুমায়ুন আহমেদ ও আশিকুর রহমান ইমরান জানান, ‘ভালুকার মল্লিক বাড়িতে ডাকাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে শ্রমিক দলের এক নেতার দোকান ঘরে গাড়ি চাপা দিলে ড্রাইভারকে ধরে স্থানীয়রা মারধর করে। ওই ভিডিও বিউটিফুল ভালুকা নামের একটি পেইজ থেকে ডাকাত আটক বলে চালিয়ে দেয়া হয়। পরে এ পোস্ট ছড়িয়ে পরে তিন-চার উপজেলায়। শুরু হয় ডকাত আতঙ্ক। চলতে থাকে মাইকিং।’

ভালুকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ‘খবরটি আমরাও শুনেছি। বিভিন্ন এলাকা থেকে ফোন এসেছে। তবে ভালুকায় ডাকাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি গুজব বলে মনে হচ্ছে।’

এদিকে সখীপুর থানার ওসি মো: জাকির হোসেন জানান, ‘সখীপুরে এমন ঘটনার কোনো তথ্য পাইনি। তবে আমার থানার ছয়টি টিম মাঠে ছিল। পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও রাত জেগে পাহারা দিয়েছে।’

ঘাটাইলের সাগরদিঘি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মধ্যরাতে মসজিদের মাইকে ডাকাত পরার যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে তার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। প্রতিটি এলাকায় টহল দিচ্ছে পুলিশ। গুজব থেকে সবাই সতর্ক থাকুন।’

টাঙ্গাইল উত্তর সর্বশেষ

জনপ্রিয়