বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, একাত্তর বাংলাদেশের ইতিহাস ও জাতির গৌরবের অংশ। এটি কোনো ব্যক্তি বা দলের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ একাত্তরের চেতনাকে নিজেদের রাজনৈতিক পুঁজিতে রূপ দিয়েছে, যা জাতীয় চেতনার অবমাননা।
সোমবার সকালে রংপুরের ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল কলেজের শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত নবীনবরণ ও বিভাগীয় মেধাবী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর শাখা।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, “জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের পতনের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। আজ তারা নিজেদের অতীতের অন্যায় ও পাপের প্রায়শ্চিত্ত করছে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা পাকিস্তানের বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, তাদের স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া। কিন্তু স্বাধীনতার পর যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন, তারা সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন না করে স্বৈরশাসকের রূপ নিয়েছেন। ফলে সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি।”
শিবির সভাপতি বলেন, “দীর্ঘদিন বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ ধারার ছাত্ররাজনীতি স্থবির ছিল। আলহামদুলিল্লাহ, এখন পরিবর্তনের স্রোত বইছে। ইতোমধ্যে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য ক্যাম্পাসেও এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর শিক্ষাঙ্গনে ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। শিক্ষার্থীরা চায় ফ্যাসিবাদমুক্ত, অংশগ্রহণমূলক ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতি। এই চাহিদার প্রতিফলন হিসেবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রসংসদ নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে—যা দেশের শিক্ষাঙ্গনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক ইতিবাচক পদক্ষেপ।”
দেশে ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, “একাত্তরের শহীদদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে চব্বিশের প্রজন্মের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। পুরোনো, ফ্যাসিবাদী ও একচেটিয়া রাজনীতির দিন শেষ। যারা এখনো সেই ধারা বজায় রাখতে চায়, তাদের ব্যর্থতার দায় নিতে হবে।”
প্রশাসনের প্রতি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সবসময়ই আলোচনা, সংস্কার ও আইনি প্রক্রিয়ার পক্ষে। প্রশাসন যদি ছাত্রশিবিরের সহযোগিতা চায়, আমরা দায়িত্বশীলভাবে পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ। তবে প্রক্রিয়াটি যেন স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও আইনসম্মত হয়—সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রংপুর মহানগর শিবিরের সভাপতি নুরুল হুদা এবং সঞ্চালনা করেন কারমাইকেল কলেজ শিবির সভাপতি আবু সুফিয়ান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক আরমান পাটোয়ারী, এবং কারমাইকেল কলেজ শাখার সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান প্রমুখ।







