ghatail.com
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ / ০১ ডিসেম্বর, ২০২২
ghatail.com
yummys

দেবী বোধনে শুরু দুর্গোৎসব


ghatail.com
স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম
০১ অক্টোবর, ২০২২ / ১৫৪ বার পঠিত
দেবী বোধনে শুরু দুর্গোৎসব

ষষ্ঠী তিথিতে দেবী দুর্গাকে বিল্ল নিমন্ত্রণ পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় আয়োজন ‘দুর্গোৎসব’। আজ মহাষষ্ঠী। কল্পারম্ভে ঘট স্থাপন, অকালবোধন, অধিবাস শেষে আমন্ত্রণ জানানো হবে দেবীকে।

ঢাক-ঢোল আর কাঁসার বাদ্যে আজ শনিবার শুরু হলো দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। পরদিন সপ্তমী তিথীতে নবপত্রিকা স্নান ও সিদ্ধিদাতা গণেশের পাশে কলাবউ স্থাপন করা হবে। এইদিনেই প্রাণ সঞ্চার করা হবে দেবীর মৃন্ময়ীতে।

সোমবার মহা অষ্টমী তিথিতে সনাতনী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর-বৃদ্ধ সকলে মিলে দেবীকে পুষ্পাঞ্জলি দেবে। এইদিনই হবে সন্ধীপূজা। মাতৃরূপে কুমারী কন্যাকে জীবন্ত প্রতিমা কল্পনা করে জগজ্জননীর উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করে হবে ‘কুমারী পূজা’। শাস্ত্রমতে, এদিন পূজিত কুমারী কন্যার নামকরণ করা হয় দেবীর ৬ষ্ঠ রূপ ‘উমা’।

ভক্তদের মতে, এটি একাধারে ঈশ্বরের উপাসনা, মানববন্দনা আর নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। মূলত: নারীর সম্মান, মানুষের সম্মান আর ঈশ্বর আরাধনাই কুমারী পূজার অন্তর্নিহিত শিক্ষা। নবমীতে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর মহা প্রসাদ বিতরণ করা হবে।

৫ই অক্টোবর দশমী তিথিতে দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হবে দেবী দুর্গাকে। আর দেবীর এই আগমনকে ঘিরেই ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজধানী শহর ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি অঞ্চলের পূজা সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকার খামারবাড়ী কৃষি ইনস্টিটিউটের দুর্গাপূজা মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, কৃষি ইনস্টিটিউটের সামনের রাস্তায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল প্রবেশদ্বার। 

রাস্তার উপর সাজানো হয়েছে লাল-নীল বাতি দিয়ে। হলুদ কাপড়ের ওপর সাদা শোলার বাহারি ডিজাইনে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে মূল মণ্ডপ। চোখ ধাঁধানো মণ্ডপে প্রবেশে নারী-পুরুষ উভয় দর্শণার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। আছে নির্ধারিত আসন ব্যবস্থাও। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো পূজাঙ্গন।

লাল-সবুজ আর সাদা রঙে মা দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, কার্তিকের অবায়ক অন্য রকম শোভা বাড়াচ্ছে।  এদিকে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে প্রতিমা আবার রেখে দেয়া হয় বছরজুড়ে। তাই এখানকার প্রতিমা তৈরিতে একটু বেশিই নজর দেয়া হয়। রঙ-তুলির আঁচড় শেষে ত্রিশূল, চক্র, ঢাল-তলোয়ারসহ নানা অস্ত্রে সজ্জিত করা হয়েছে দশভূজাকে।

রাস্তার পাশে গেট, প্যান্ডেল, আলোকসজ্জা, বিভিন্ন ব্যানার দিয়ে জমকালো সাজে সাজানো হয়েছে পুরো ঢাকেশ্বরী মন্দিরের অন্দর-বাহির। পাশেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের মন্দিরেও দুর্গাপূজায় থাকছে বিশেষ আয়োজন। পূজায় আগত দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে হলের গেট থেকে শুরু করে মন্দির, মাঠ, পুকুর পাড় সবখানেই আলোর ছটা। 

ঐতিহ্যবাহী বনানী মাঠে আয়োজিত দুর্গা মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবারের ন্যায় এবারো প্রস্তুত করা হয়েছে মহামায়া দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা। বাহারি সব রঙ দিয়ে সাজানো হয়েছে এসব প্রতিমা। রঙ- বেরঙের আলোকসজ্জা আর নানা রঙের ডিজাইনের কাঠামো দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো পূজাঙ্গন।

গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সন্ধ্যারতি, ধূনচী নাচসহ পূজার পাঁচদিনই থাকছে নানা আনুষ্ঠানিকতা। অপরদিকে, রামকৃষ্ণ মিশন, মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির, শাঁখারী বাজার, রমনা কালী মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী পূজামণ্ডপ, পশ্চিম ধানমণ্ডির দুর্গা মন্দির, আখড়া মন্দির, নিমতলা মন্দির, ফার্মগেট, বনশ্রীসহ রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও জমকালোভাবে আয়োজন করা হয়েছে দুর্গাপূজার। 

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী বলেন, এবছর উমা’র আগমন গজে এবং ফিরে যাবেন নৌকায়। মায়ের গজে আগমনের ফলশ্রুতি হচ্ছে শস্যপূর্ণ বসুন্ধরা। আর নৌকায় গমনের ফলশ্রুতি শস্যবৃদ্ধি এবং জলবৃদ্ধি। 

এ বছর দেশের অনেক স্থান বন্যা-জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে, অনেক শস্যাদি নষ্ট হয়েছে।  তারই একটা প্রভাব আসছে। বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার বলেছেন, সারা দেশে ৩২ হাজার ১৬৮টি মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আগের তুলনায় এবারও কিছু পূজার আয়োজন বেড়েছে।

গত বছরে দুর্গাপূজার সময় দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক অস্থিতিশীলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বছর প্রশাসন অনেক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণলয়, মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের কয়েকদফা বৈঠক হয়েছে। তারা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন।

তাই বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই বিশাল আয়োজন সকলের অংশগ্রহণে উৎসবমুখরভাবে পালনে আমরা আশাবাদী।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

সর্বশেষ - প্রচ্ছদ