ghatail.com
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ আশ্বিন, ১৪২৯ / ০৪ অক্টোবর, ২০২২
ghatail.com
yummys

টাঙ্গাইল প্রতিদিন এর সম্পাদক সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা


ghatail.com
স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ / ৭৬ বার পঠিত
টাঙ্গাইল প্রতিদিন এর সম্পাদক সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার দাপনাজোর এলাকায় ‘ওযাটার গার্ডেন রিসোর্ট এন্ড স্পা সেন্টার’ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় টাঙ্গাইল থেকে প্রকাশিত বহুল প্রচারিত “দৈনিক টাঙ্গাইল প্রতিদিন” পত্রিকার সম্পাদকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাসাইল আমলী আদালতে ১৮ সেপ্টেম্বর রোববার ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড: আহসান হাবিব মনসুর এ মামলা করেন। এ মামলায় মো: আবুল কালাম মোস্তফা লাবু, দৈনিক টাঙ্গাইল প্রতিদিনের সম্পাদক, মো: মনছুর রহমান, মো: জাকির হোসেন আরমান, মো: নিক্সন মিয়া, মো: হাসান আহম্মেদ বাবলু ও মো: শহিদুল ইসলাম টিটুকে আসামী করা হয়েছে।

চলতি বছরের গত ২৩ আগস্ট মঙ্গলবার দৈনিক টাঙ্গাইল প্রতিদিন পত্রিকায় “বাসাইলের দাপনাজোরে অভিজাত রিসোর্টের কারনে ধ্বংসের পথে এমপিওভুক্ত একটি বালিকা বিদ্যালয়” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, “ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্ট এন্ড স্পা সেন্টার” এর নামে মিথ্যা ও কাল্পনিক বক্তব্য প্রচার করিয়া বাদী ও বাদীর প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন করেছে। এতে করে বাদী ও প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যাহা কোন অর্থের মানদন্ডে পরিমাপ যোগ্য নহে।

প্রসঙ্গতঃ টাঙ্গাইল প্রতিদিন পত্রিকায় ‘বাসাইলে অভিজাত রিসোর্টের কারনে-ধ্বংসের পথে এমপিওভুক্ত একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ শিরোনামে বিশেষ একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। সংবাদটি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে পাঠকদের মাঝে।

বিশাল জায়গা জুড়ে মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠা বিদ্যালয়টির ছাত্রীর সংখ্যা দিনদিন কমে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের পাশে ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্ট এন্ড স্পা সেন্টারের বেড়াতে আসা লোকজনের নানা অশ্লিলতার কারনে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে স্থানীয়রা। এলাকায় বিতর্কিত ওই রিসোর্টের আলাদা কোন ফটক না থাকায় বালিকা বিদ্যালয়ের উপর দিয়ে প্রতিদিন শতশত দর্শনার্থী সেখানে প্রবেশ করছে।

এছাড়াও রিসোর্টে আসা উঠতি বয়সী যুবক যুবতীদের নানা অশ্লীল চলাফেরা ও প্রতিদিন প্রচুর সংখ্যক ব্যাক্তিগত যানবাহন অবাধে চলাচল এবং পার্কিয়ের কারনে বিদ্যালয়ের লেখা পড়ার পরিবেশ দিনদিন নষ্ট হচ্ছে। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে অভিবাবকরা মেয়েদের অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে বলে জানিয়েছে স্কুলের কতৃপক্ষ।

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার দাপনাজের গ্রামে ১৯৯২ সালে সুদুর নরওয়ের নাগরিক কার্ল ফ্রেডরিক লিন্ডষ্ট্রম ও তার এদেশীয় বন্ধু দাপনাজোর গ্রামের স্থপতি আখতার হামিদ মাসুদ তাদের দু’জনের মায়ের নামে একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তারা এ প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করেন ‘মার্থা লিন্ডস্ট্রম-নুরজাহান বেগম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’। এর আগে বাংলাদেশে নরওয়ে দূতাবাসের পদস্থ কর্মকর্তা ও নরওয়ের নাগরিক কার্ল ফ্রেডরিক লিন্ডষ্ট্রম তার বন্ধু আখতার হামিদ মাসুদের আমন্ত্রনে দাপনাজের গ্রামে বেড়াতে আসেন।

সবুজে ঘেরা ছায়া শ্যামল দাপনাজোর গ্রামের মানুষের আতিথিয়তায় মুগ্ধ হন তিনি। এরপর সময় পেলেই এ গ্রামে বেড়াতে আসতেন। এভাবে গ্রামের মানুষের কাছে তিনি খুবই জনপ্রিয় একজন মানুষ হয়ে উঠেন। এক পর্যায়ে দাপনাজোর গ্রামের পিছিয়ে পড়া মেয়েদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগ্রহ থেকে তিনি তার মা ও বন্ধুর মায়ের নামে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন।

বিদ্যালয়ের জমিদাতা আখতার হামিদ মাসুদ ও বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী নেতা আবুল কালাম মোস্তফা লাবু। এছাড়াও সে সময়ে আর্থিক সহযোগীতার হাত বাড়ান টাঙ্গাইলের বিশিষ্ট কবি ও লেখক এবং কলেজ শিক্ষক মাহমুদ কামালসহ স্থানীয় অনেকে। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি।

১৯৯৩ সালের ৯ এপ্রিল খুবই জাকজমকপুর্ন আয়োজনের মধ্যদিয়ে স্কুলের উদ্বোধন করা হয়। সেদিন দেশী-বিদেশী মেহমানদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে দাপনাজোর গ্রাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নরওয়ের এদেশীয় কাউন্সিলর মি. রোয়ার উইক, ডেপুটি কাউন্সিলর টোরেং টোরেং ও মি. হোলটিনসহ নরওয়ের ৩৫ জন নাগরিক দাপনাজোর গ্রামে আসেন।

বিদেশীদের পদচারনা ও স্থানীয়দের আনন্দ উৎসবের মধ্যদিয়ে স্কুলটির শ্রেনীকক্ষে পাঠদানের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি রিসোর্র্ট ও স্পা সেন্টারের কারনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

গ্রামের মনোরম পরিবেশে বিশাল জায়গা নিয়ে গড়ে উঠা এ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সুনাম অর্জন করে। মানসম্মত শিক্ষাদান ও চমৎকার পরিবেশের কারনে দাপনাজোর এলাকা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ছাত্রীরা ভর্তি হতে শুরু করে। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ থাকায় অল্প সময়ের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে ব্যাপক সুনাম অর্জন করে স্কুলটি।

একপর্যায়ে সরকারী এমপিওভুক্ত হয় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি। বর্তমানে সরকরী অর্থায়নে একটি দোতলা ভবন, বিশাল খেলার মাঠ ও প্রধান শিক্ষকের আবাসিক ভবন রয়েছে এখানে। স্কুলের ছাত্রীর সংখ্যা আশি থেকে নব্বই জন। যদিও এক বছর আগে ছাত্রীর সংখ্যা ছিল তিন শতাধিক।

রিসোর্টের কারনে বর্তমানে ছাত্রীর সংখা ৮০ থেকে নব্বই জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও শিক্ষক ও কর্মচারী মিলে প্রায় ১৭ জন দায়িত্ব পালন করছে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-