ghatail.com
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ আশ্বিন, ১৪২৯ / ০৪ অক্টোবর, ২০২২
ghatail.com
yummys

পাওয়ারলুমে কর্মমুখর টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লি


ghatail.com
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ / ৫৮ বার পঠিত
পাওয়ারলুমে কর্মমুখর টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লি

করোনার পর আবার কর্মমুখর হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লি। শাড়ি উৎপাদন থেকে শুরু করে বিক্রি পর্যন্ত সংশ্লিষ্টরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। করোনাকালের ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছেন তারা। কম সময় ও খরচে বেশি ডিজাইনের শাড়ি তৈরির চেষ্টা করছেন তাঁতশ্রমিকরা। এতে তারা হ্যান্ডলুমের পাশাপাশি পাওয়ারলুমে ঝুঁকছেন। কারণ এই পাওয়ারলুমে অল্প সময়ে বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ি বানানো সম্ভব, এতে খরচও অনেক কম হয়।  

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন তাঁত বন্ধ থাকায় অসংখ্য শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন। ফলে শ্রমিকরা তাদের পরিবার নিয়ে পড়েন চরম বিপাকে। বেঁচে থাকার তাগিদে এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যোগ দেয় অসংখ্য শ্রমিক। সংকটকাল পেরিয়ে ধীরে ধীরে তাঁত চালু শুরু করেছেন মালিকরা। শাড়ির চাহিদা পূরণ করতে পুরো তাঁতপল্লি এখন কর্মমুখর।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল শাড়িতে যোগ হয়েছে বাহারি রঙ আর নতুন সব কারুকাজ।

টাঙ্গাইল সদরের বাজিদপুর, দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল, চন্ডী, নলশোধা, ধুলটিয়া, কালিহাতীর বল্লা রামপুরের তাঁতের শাড়ি তৈরি হলেও দেলদুয়ারের চণ্ডি-পাথরাইল মূলত তাঁতপল্লি হিসেবে পরিচিত। দেশের চাহিদা পূরণ করে এখানকার উৎপাদিত তাঁতের শাড়ি বিদেশেও রফতানি হয়। 

এদিকে, তাঁত শিল্পের উন্নয়ন ও প্রসারে জেলার ১২টি উপজেলায় বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের (বাতাঁবো) দুটি বেসিক সেন্টার রয়েছে। সংস্থাটির বাজিতপুর ও বল্লা বেসিক সেন্টারের নিয়ন্ত্রণে ৩০ হাজারের উপরে তাঁত রয়েছে।

কাজ নিয়ে পাথরাইল এলাকার তাঁতশ্রমিক তাপস চন্দ্র সাহা বলেন, ‘আগে হ্যান্ডলুমে শাড়ি তৈরি করতাম। এখন পাওয়ারলুমে শাড়ি তৈরি করছি। একদিনে চারটি শাড়ি তৈরি করা যায়। প্রতিটি শাড়িতে ২১০ টাকা করে মজুরি পাই। হ্যান্ডলুমে আগে তিন দিনে একটি শাড়ি করতাম। তবে হ্যান্ডলুমে সব দামি দামি শাড়ি তৈরি হয়। পাওয়ারলুমে সেটা সম্ভব না।’ 

বিজয় সাহা নামের আরেক তাঁতশ্রমিক বলেন, ‘একত্রে একজনে দুটি পাওয়ারলুম চালানো যায়। হ্যান্ডলুমের চেয়ে পাওয়ারলুমে সময় কম লাগে। পাওয়ারলুমে দিনে চারটি শাড়ি তৈরি করা হয়। প্রতিটি শাড়িতে ২০০ থেকে ২১০ টাকা করে মজুরি পাওয়া যায়।’

পাথরাইল এলাকার তাঁতি সুব্রত রাজবংশী বলেন, ‘আমার ৫০টির ওপরে তাঁত ছিল। করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন সেগুলো বন্ধ ছিল। এখন ৩৫টি তাঁত চালু করেছি। এছাড়া আরও আটটি পাওয়ারলুম এনেছি। পাওয়ারলুমে নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ি তৈরি করা যায়। তবে পাওয়ারলুমের শাড়ির দাম কম। হ্যান্ডলুমের মতো দামি শাড়ি পাওয়ারলুমে তৈরি করা সম্ভব না। পাওয়ারলুমে সময় ও খরচ কম লাগায় অনেক এলাকাতেই তাঁতিরা এই পাওয়ারলুমে ঝুঁকছেন।’

টাঙ্গাইলের শাড়ি ব্যবসায়ী আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দেশের বাইরে থেকেও পাইকাররা আসছেন শাড়ি কিনতে। এখন করটিয়া হাটে শাড়ির চাহিদা ভালো। দীর্ঘদিন পর বেচা-কেনা ভালো হচ্ছে।’

এদিকে, টাঙ্গাইলের সবচেয়ে বড় শাড়ির হাট করটিয়া ঘুরে দেখা যায়, তাঁত শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা উৎপাদিত কাপড় নিয়ে বিক্রির প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। স্থানীয় ও দূর থেকে আসা অধিকাংশ ক্রেতাদের চাহিদা টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি। কারণ এখানকার শাড়ির মান ভালো, আর মূল্যও হাতের নাগালে।

এসব শাড়ির খুচরা মূল্য তিন থেকে চারশ’ টাকা। তবে সিল্ক, সপসিল্ক, রেশন ও দুতারের মধ্যেও রয়েছে উন্নতমানের টাঙ্গাইলের শাড়ি। যার বাজারমূল্য তিন থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর টাঙ্গাইলের জামদানি শাড়ির আবেদন সব সময় রয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। 

শাড়ির রাজধানী হিসেবে খ্যাত চণ্ডি-পাথরাইল এলাকার শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক বলেন, ‘করোনার ধাক্কা কাটিয়ে তাঁতপল্লি আবারও কর্মমুখর হয়ে উঠেছে। তবে এখনও জেলায় ৭০ শতাংশ তাঁত বন্ধ রয়েছে। পূজাকে কেন্দ্র করে বাজারে শাড়ির চাহিদা বেড়েছে। এখন শাড়ি ভালোই বিক্রি হচ্ছে।’

টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির ভারতেও বেশ চাহিদা রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘পাওয়ারলুমে দামি শাড়ি তৈরি করা যায় না। হ্যান্ডলুমে সব দামি দামি শাড়ি তৈরি করা হয়। কম দামি শাড়ির জন্য কিছু কিছু তাঁতিরা পাওয়ারলুম এনেছেন। পাওয়ারলুমে শাড়ি তৈরিতে সময় ও শ্রমিকও কম লাগে। তবে হ্যান্ডলুমের মতো পাওয়ারলুমে শাড়ি তৈরি করা সম্ভব না।’

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-