ghatail.com
ঢাকা সোমবার, ২৩ শ্রাবণ, ১৪২৯ / ০৮ আগস্ট, ২০২২
ghatail.com
yummys

চলন্ত বাসে ডাকাতি-ধর্ষণ নিয়ে যা বললেন টাঙ্গাইলের এসপি


ghatail.com
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম
০৪ আগস্ট, ২০২২ / ৬৫ বার পঠিত
চলন্ত বাসে ডাকাতি-ধর্ষণ নিয়ে যা বললেন টাঙ্গাইলের এসপি

কুষ্টিয়া থেকে নারায়ণগঞ্জগামী ঈগল পরিবহনের চলন্ত বাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডাকাতির ঘটনা বিষয়ে সংবাদ ব্রিফিং করেছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মোহাম্মদ কায়সার। আজ বৃহস্পতিবার তিনি নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ঘটনা সম্পর্কে জানান।

টাঙ্গাইলের এসপি সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে ঈগল এক্সপ্রেসের বাসটি গত মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করে। বাসটি সিরাজগঞ্জের একটি রেস্তোরাঁয় থামে রাত ১১টা ১০ মিনিটে। সেখানে ২০ মিনিটের যাত্রাবিরতি দেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি যাত্রা করে।

এসপি বলেন, বাসটি সেখান থেকে যাত্রা করার পাঁচ মিনিট পর চার যাত্রী বাসে ওঠার জন্য চালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেখান থেকে চার যাত্রী বাসে ওঠেন। এর পাঁচ মিনিট পর আরও তিন যাত্রী ওঠেন। বাসটি চলতে শুরু করার পাঁচ মিনিট পর আবার তিনজন যাত্রী ওঠেন। এই ১০ জন সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সদস্য ছিলেন।

টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের এ শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে টাঙ্গাইল সীমানায় ঢুকে বাসটি চলতে থাকে। বাসটি নাটিয়াপাড়া পার হওয়ার পর এই ১০ জনের একজন চালকের সিটের কাছে যান। অন্য দুজন চালককে সিট থেকে তুলে নিলে ওই ব্যক্তি চালকের আসনে বসেন।

বাসটি মির্জাপুরের গোড়াই ওভারপাস পার না হয়ে নিচ দিয়ে ইউটার্ন নিয়ে টাঙ্গাইলের দিকে চলে যায়। বাকি ৯ দুর্বৃত্ত যাত্রীদের সিটের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের জিম্মি করে। পুরুষ যাত্রীদের পোশাক খুলে হাত–মুখ বেঁধে ফেলা হয়।

বাসের পর্দা ও সিটের কাভার খুলে নারী যাত্রীদের হাত, মুখ ও পা বেঁধে ফেলে দুর্বৃত্তরা। যাত্রীদের কাছ থেকে সবকিছু কেড়ে নেওয়া হয়।

টাঙ্গাইলের এসপি সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, বাসটি টাঙ্গাইল থেকে এলেঙ্গা হয়ে কালিহাতী লেন দিয়ে মধুপুরের দিকে যেতে থাকে। রাত ৩টা ২৫ মিনিটে বাসটি মধুপুর সীমানায় ঢোকে। দুর্বৃত্তরা একে একে নেমে যায়। বাসটি রাস্তার পাশে খাদের মধ্যে বা কাত হয়ে পড়ে যায়। ডান দিক দিয়ে বাসের চালক বেরিয়ে পালিয়ে যান।

এই ঘটনায় মধুপর থানার মামলা নং-০৩, তারিখ-০৩-০৮-২০২২, ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড তৎসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধনী-২০০৩) ধারা- ৯(৩) রুজু হয়।

উক্ত ডাকাতি ও গণধর্ষণ মামলার ঘটনাটি লোমহর্ষক এবং চাঞ্চল্যকর হওয়ায় অফিসার ইনচার্জ ডিবি (উত্তর), টাঙ্গাইল এর নেতৃত্বে ডাকাতি ও গণধর্ষণ ঘটনার রহস্য উঘাটন ও আসামী গ্রেফতার করার জন্য ডিবি (উত্তর), টাঙ্গাইলের একটি চৌকস টিম নিরন্তর প্রচেষ্টার মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে।

পরে ডাকাতি ও গণধর্ষণ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তির অবস্থান সনাক্ত পূর্বক আসামী মোঃ রাজা মিয়া (৩২) কে টাঙ্গাইলের দেওলায় তার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সে সময় তার হেফাজত হতে ডাকাতি করা ৩টি লুন্ঠিত মোবাইল ফোন সেট উদ্ধার করা হয়।

রাজা মিয়াসহ ডাকাতি ও গণধর্ষণের সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার ও বাস যাত্রীদের নিকট হতে লুন্ঠিত হওয়া মালামাল উদ্ধার করার জন্য অভিযান পরিচালনা করার লক্ষ্যে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয় এবং ডাকাতি ও গণধর্ষণের সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-