ghatail.com
ঢাকা সোমবার, ২৩ শ্রাবণ, ১৪২৯ / ০৮ আগস্ট, ২০২২
ghatail.com
yummys

ভূঞাপুরে যমুনায় বিদ্যালয়ের ভবন বিলীনে এক বছর ধরে বন্ধ পাঠদান


ghatail.com
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম
০১ আগস্ট, ২০২২ / ৪৯ বার পঠিত
ভূঞাপুরে যমুনায় বিদ্যালয়ের ভবন বিলীনে এক বছর ধরে বন্ধ পাঠদান

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে চরচন্দনী সরকারি প্রার্থমিক বিদ্যালয়ের ভবণ বিলীন হওয়ার এক বছরেও চালু হয়নি পাঠদান। বিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম চালু না হওয়ায় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শত শত শিশু।

অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক নাজমুল মোর্শেদের গাফিলতির কারনে দীর্ঘ এক বছরের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা হয়নি। এতে শিশুরা লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে অভিভাবকরা।

স্থানীয়রা জানায়, ১৯৩৮ সালে ভূঞাপুর সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে চরচন্দনী সকরারি প্রার্থমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০২১ সালের ১৮ জুলাই যমুনার ভাঙনে বিদ্যালয় ভবনটি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির বিদ্যালয়টি নদীর পশ্চিম পাশে স্থানান্তরের জন্য ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সুপারিশ করেন।

বিদ্যালয়টি নদীর পশ্চিম পাশে স্থানান্তর করার জন্য ২৫ অক্টোবর তৎকালীন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল আজিজ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর এক প্রতিবেদন পাঠান। ২২ নভেম্বর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল আজিজ সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেন।

প্রতিবেদনে শিক্ষা কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ২০২১ শিক্ষাবর্ষে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ১৫৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তি ছিলো। নদীর পূর্ব পাড়ের আশে পাশের এলাকায় একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠান থাকায় বিদ্যালয়টি পশ্চিম পাশে করা যেতে পারে বলে তিনি প্রতিবেদনের উল্লেখ করেন।

২৩ নভেম্বর প্রতিবেদনটি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর প্রেরণ করেন। ৭ ডিসেম্বর চিঠির মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সেকশন-২ এর সহকারী পরিচালক (পলিসি এন্ড অপা.) নাসরিন সুলতানা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিদ্যালয়টি নদীর পশ্চিম পাড়ে পুনঃরায় স্থাপনের জন্য জমি প্রদানে আগ্রহী জমিদাতার অঙ্গীকারনামা, জমির দাগ, খতিয়ান নং ও জমির পরিমান জানতে চান।

২৬ ডিসেম্বর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জমিদাতার অঙ্গীকার নামা, দাগ ও খতিয়ান নং এবং জমির পরিমান উল্লেখ করে চিঠির মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবগত করেন।

গত ৩০ জুন বিদ্যালয়টি পুনঃস্থাপনের জন্য রেকর্ড পত্র সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেন সহকারী পরিচালক (পলিসি এন্ড অপা.) নাসরিন সুলতানা। ১৪ জুলাই বিদ্যালয়টি নদীর পশ্চিম পাড়ে স্থাপনের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ প্রয়োজনীয় সকল তথ্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করেন।

সাদিয়া, লামিয়া ও আছিয়া নামের তিন ছাত্রী বলেন, বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হওয়ার পর আমরা পড়াশোনা করতে পারছি না। আমাদের আশে পাশে কোন স্কুল নাই, তাই বাড়িতে থেকে খেলাধুলা করি। স্কুলটি নদীর পূর্বপাড়ে হলেও আমাদের যাতায়াতের অসুবিধা হবে। বন্যার সময় ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়টি নদীর পশ্চিম পাশে চালুর দাবি জানাচ্ছি।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, করোনার আগে স্কুলে গিয়েছি। করোনাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের ভবন নদীতে বিলীন হয়েছে। করোনার পর অন্যান্য স্কুলে ক্লাশ হলেও আমাদের ক্লাশ এখনও চালু হয়নি। আগের পড়ার সময়ে লেখাপড়া করলেও এখন পড়ার সময়ে খেলাধুলা করি আর ঘুরে বেড়াই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, প্রধান শিক্ষক নাজমুল মোর্শেদের যাতায়াত সুবিধার জন্য তিনি বিদ্যালয়টি নদীর পূর্বপাড়ে দাবি করছেন। এছাড়াও তার গাফিলতির কারনে এখনও বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি। তিনিসহ শিক্ষকরা বসে বসে সরকারি বেতন নিচ্ছেন। এতে করে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মাদক এবং সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

অভিভাবক সাইফুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ও শাহজাহান মিয়া জানান, স্কুল না থাকায় আমাদের ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মেয়ে শিক্ষার্থীরা বাড়ি খেলাধুলা করে আর ঘুরে বেড়ায়। ছেলে শিক্ষার্থীরা বাপের সাথে মাছ ধরতে নদীতে যায়। স্কুলটি পূর্বপাড়ে হলে নদী পাড় হয়ে অনেকেই স্কুলে যেতে পারবে না। এতে অনেক শিক্ষার্থী ঝড়ে পরবে। স্কুল না থাকাতে অনেক শিক্ষার্থী অনমানুষ হয়ে যাচ্ছে।

বসে বসে সরকারি বেতনের কথা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল মোর্শেদ জানান, এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করবো না।

বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি আব্দুল লতিফ আকন্দ জানান, বিদ্যালয় চালু না হওয়ায় নদীর পশ্চিম প্রান্তের ছেলে মেয়েরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিদ্যালয়টি দ্রুত সময়ের মধ্যে আরও উন্নত করে চালু করার জোড় দাবি জানাচ্ছি।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, স্কুলটি নদীর পশ্চিম পাশে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করা হবে।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-