ghatail.com
ঢাকা সোমবার, ২৩ শ্রাবণ, ১৪২৯ / ০৮ আগস্ট, ২০২২
ghatail.com
yummys

আইএমএফ বলছে ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ


ghatail.com
ঘাটাইল ডট কম প্রতিবেদন
২৭ জুলাই, ২০২২ / ৫৩ বার পঠিত
আইএমএফ বলছে ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ

সরকারের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হলেও আইএমএফ বলছে, বাংলাদেশ ঋণ চেয়ে তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক মুখপাত্র এই খবর নিশ্চিত করেছেন।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ বলেছে, তাদের কাছে ‘রিসাইলেন্স ট্রাস্ট’-এর অধীনে ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে একটি ইংরেজি দৈনিক খবর দেয় যে, আইএমএফের কাছে বাংলাদেশ ৪৫০ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে। অবশেষে আইএমএফ নিজেই সে কথা জানান দিল।

তারা বলেছে, আইএমএফের ‘রিসাইলেন্স অ্যান্ড সাসটেইন্যাবলিটি ট্রাস্টের (আরএসটি)’ অধীনে নতুন করে ঋণ নিয়ে আলোচনা শুরুর জন্য তাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

কোনো দেশের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আরএসটি সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে। এসব কথা মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক ডিপার্টমেন্টের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ভিত্তিক এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এশিয়া থেকে প্রথম দেশ হিসেবে ৪১৬ কোটি ডলার সহায়তার জন্য অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কিভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে মনোযোগ বাড়াতে চায়।

কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন রয়টার্সকে বলেছে, (আপার ক্রেডিট ট্রাঞ্চ) কর্মসূচির পাশাপাশি আসে আরএসটি।

চলমান অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে আইএমএফফের কাছ থেকে বাংলাদেশের ঋণ চাওয়ার বিষয়টি বেশ কিছু দিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে।

গত সপ্তাহে সংস্থাটির একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে এসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করলে সেই আলোচনা আরও জোর পায়।

তবে গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তা নাকচ করে বলেন, “বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আইএমএফের কাছে কোন অর্থ সহায়তা চায়নি। আইএমএফও বাংলাদেশের কাছে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব করেনি। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের আইএমএফের কোন সহযোগিতার প্রয়োজন নেই।”

কিন্তু মঙ্গলবার কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে আইএমএফ এর কাছে বাংলাদেশের ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চাওয়ার খবর আসে।

অর্থমন্ত্রীর দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তারাও খবরটি অস্বীকার করে যান।

পরে আইএমএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের কাছ থেকে ঋণের প্রস্তাব পাওয়ার কথা জানানো হয়।

আইএমএফ এর সদর দপ্তরের একজন মুখপাত্র মঙ্গলবার রাতে বলেন, “বাংলাদেশ আইএমএফের রেসিলিয়ান্স অ্যান্ড সাসটেইনেবলিটি ফ্যাসিলিটিস বা আরএসএফ ফান্ড থেকে অর্থ পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার বিভিন্ন পদক্ষেপ এগিয়ে নিতে অর্থ ব্যবহার করা হবে বলে তারা জানিয়েছে। আইএমএফের এই প্রকল্পের অর্থ পেতে আলাপ-আলোচনা শুরু করার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।”

আইএমএফ বাংলাদেশকে অর্থ সহায়তা দিতে ‘প্রস্তুত’ জানিয়ে ওই মুখপাত্র বলেন, আইএমএফের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করে একটি প্রকল্প প্রস্তুত করার কাজে হাত দেবে।

মহামারীর মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের অভিঘাতে শ্রীলঙ্কার মতো দেউলিয়া হওয়ার প্রান্তে না পৌঁছলেও বাংলাদেশের অর্থনীতিও ঝুঁকির মুখে বলে আইএমএফের মূল্যায়ন।

সঙ্কট বড় নয় বলে বাংলাদেশ সরকার দাবি করে এলেও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে জ্বালানির আমদানি ব্যয় মেটাতে গিয়ে ইতোমধ্যে রিজার্ভে টান পড়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমানোসহ ব্যয় সাশ্রয়ী নানা পদক্ষেপ নেওয়ার মধ্যেই আইএমএফ থেকে ঋণ চাওয়ার খবরটি এল।

যে তহবিল থেকে বাংলাদেশ অর্থ চেয়েছে বলে আইএমএফের তরফে বলা হচ্ছে, তা থেকে নিম্ন আয়ের দেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে ঋণ দেওয়া হয়।

কোভিড মহামারী এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলার জন্য নীতি সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দেওয়া হয় এই প্রকল্পে। ২০ বছর মেয়াদে এই ঋণ দিয়ে থাকে আইএমএফ, তার প্রেস পিরিয়ড ১০ বছর। আর ঋণে সুদের হার আলোচনার মধ্য দিয়ে ঠিক হবে।

তাই এটা হলো যৌথ উদ্যোগ। যে পরিমাণ অর্থ চাওয়া হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা হবে। এর অর্থ হলো বাংলাদেশকে নিয়মিত আইএমএফ সমর্থিত কর্মসূচির প্রয়োজন হবে। যেমন নতুন ধরনের অর্থ পাওয়ার জন্য স্ট্যান্ডবাই চুক্তি অথবা  বর্ধিত তহবিল সুবিধায় সক্ষম হতে হবে বাংলাদেশকে। 

রয়টার্স বলছে, অক্টোবরে আরএসটি থেকে অর্থ ধার দেয়া শুরু করতে পারে আইএমএফ। তাদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেতে আবেদন করতে পারে নিম্ন আয়ের এবং মধ্যম আয়ের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো। 

(ঘাটাইল ডট কম প্রতিবেদন)/-