ghatail.com
ঢাকা সোমবার, ২৩ শ্রাবণ, ১৪২৯ / ০৮ আগস্ট, ২০২২
ghatail.com
yummys

মধুপুরে রাসায়নিকে পাকানো কাঁঠালে স্বাস্থ্যঝুঁকি


ghatail.com
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম
০৬ জুলাই, ২০২২ / ৭৮ বার পঠিত
মধুপুরে রাসায়নিকে পাকানো কাঁঠালে স্বাস্থ্যঝুঁকি

টাঙ্গাইলের মধুগড় অঞ্চলে কাঁঠাল পাকাতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করছেন অনেক ব্যবসায়ী। দ্রুত বাজার ধরার জন্য এই রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয় বলে জানিয়েছেন কাঁঠালচাষি ও ব্যবসায়ীরা। রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কাঁঠাল বা অন্য যেকোনো ফল মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাই ফল পাকাতে রাসায়নিকের ব্যবহার রোধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ৪ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে কাঁঠালগাছ রয়েছে। যার বেশির ভাগ মধুপুর, ঘাটাইল ও সখীপুরের পাহাড়ি এলাকায়। এসব জমিতে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়। পাহাড়ি এলাকায় উৎপাদিত কাঁঠাল মধুপুরের জলছত্র, গারো বাজার, ঘাটাইলের সাগরদিঘি এবং সখীপুরের বড় চওনা ও কচুয়া বাজার থেকে পাইকারি বিক্রি হয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কাঁঠালের মৌসুমে এসব ব্যবসায়ী আসেন।

কাঁঠালবাগান মালিক ও চাষিরা জানান, তাঁদের বাগান বা বাড়ি থেকে কাঁঠাল সংগ্রহ করে পাইকাররা বাজারে নিয়ে যান। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যবসায়ীরা পাইকারদের কাছ থেকে কাঁঠাল কেনেন। পাইকার ও ব্যবসায়ীরা কাঁঠাল পাকানোর জন্য রাসায়নিক প্রয়োগ করেন। কৃষকেরা রাসায়নিক প্রয়োগ করেন না।

সরেজমিন মধুপুরের গারো বাজার ও জলছত্র বাজারে গিয়ে কয়েকজন কাঁঠাল ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বাজার থেকে কাঁঠাল কেনার পর তাতে রাসায়নিক স্প্রে করা হয়। এতে কাঁঠালগুলো ঢাকা বা যেকোনো স্থানে বাজারে নিতে নিতেই পেকে যায়। এতে দ্রুত বিক্রি হয়।

তাঁরা জানান, ‘ইথিফন’ জাতীয় রাসায়নিক পানির সঙ্গে মিশিয়ে কাঁঠাল পাকানোর জন্য স্প্রে করা হয়। কখনো কখনো এই ইথিফনের সঙ্গে মেশানো হয় লবণ ও পটাশ সার।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন রাসেল জানান, ১৬ লিটার পানির মধ্যে ৫০ মিলিলিটার ইথিফন হচ্ছে সহনীয় মাত্রা। এর চেয়ে উচ্চ মাত্রায় এ পদার্থের ব্যবহার মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।

মধুপুর গারোবাজারে পটুয়াখালী থেকে আসা ফল ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন জানান, এ বাজার থেকে তিনি সপ্তাহে দুই ট্রাক কাঁঠাল নেন। প্রতি ট্রাকে ১৫০০–১৬০০ কাঁঠাল থাকে। তবে রাসায়নিক দেওয়া কাঁঠাল তিনি নেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী রাসায়নিক স্প্রে করার কথা স্বীকার করে বলেন, স্প্রে করে ট্রাকে ওঠালে গন্তব্যে যেতে যেতে সব কাঁঠাল পেকে যায়। দ্রুত কাঁঠালগুলো বিক্রি করা যায়। তাই কাঁঠাল পাকানোর জন্য রাসায়নিক স্প্রে করেন। তবে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কাঁঠাল মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কি না, তা তাঁদের জানা নেই।

নাগরিক সংগঠন নিরাপদ খাদ্য আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শহীদ মাহমুদ জানান, মূলত পাইকারি ব্যবসায়ীরা ফল পাকাতে রাসায়নিক ব্যবহার করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলে যাঁরা রাসায়নিক প্রয়োগ করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ করা ফল মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এ ফল খেয়ে মানুষের লিভার, ফুসফুসে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন রাসেল জানান, তাঁরা ফলে রাসায়নিকের অপব্যবহার রোধ করতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। কৃষকদের এ ব্যাপারে সচেতন করা হচ্ছে। তারপরও এর অপব্যবহার রয়েছে বলে তিনি জানান।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-