ghatail.com
ঢাকা বুধবার, ২২ আষাঢ়, ১৪২৯ / ০৬ জুলাই, ২০২২
ghatail.com
yummys

যমুনায় বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব জরিনা


ghatail.com
স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম
২২ জুন, ২০২২ / ৭১ বার পঠিত
যমুনায় বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব জরিনা

জরিনা বেগম। বয়স ৭২। যমুনার ভয়াবহ কালো থাবায় পাঁচবারের মতো ভাঙনের শিকারে নিঃস্ব হয়েছেন তিনি। এখন তিনি সব হারিয়ে দিশেহারা। গত বছরের বন্যায় বসতভিটা না ভাঙলেও চরাঞ্চলের বিঘাখানেক জমি নদীর পেটে চলে গেছে।

জমি হারানোর পর এবার বসতভিটা হারানোয় পথে বসেছি। ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। বাড়িটাও এবার শেষ রক্ষা পাবে না। নিঃস্ব হয়ে গেলাম। বন্যার কারণে ঘরে চাল-ডালের সংকট। এক বেলা কোনো রকম খেয়ে দিনপার করতে হচ্ছে। সরকারি কোনো ত্রাণ পায়নি।

কথাগুলো বলছিলেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের কোনাবাড়ী গ্রামের চরাঞ্চল এলাকার বাসিন্দা করিম হোসেনের স্ত্রী জরিনা বেগম।

তিনি বলেন, এ নিয়ে পাঁচবার ঘর সরাতে হচ্ছে। যমুনার কালো থাবায় জীবন এখন অতিষ্ঠ। বসতভিটা হারাতে হচ্ছে এ বন্যায়। এখন কোথায় থাকব এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। বসতভিটা ভাঙনের মুখে। পানি উঠেছে বাড়িতে। রাস্তার পাশে পলিথিনের ছাউনিতে থাকতে হবে।

জরিনা বেগমের স্বামী করিম হোসেন বলেন, চরাঞ্চলের মধ্যে কয়েক শতাংশ মাত্র বসতভিটা। আর কিছু জমি-জমা রয়েছে। এ নিয়ে ক্ষেত-খামারে কৃষি কাজ করে সংসারের হাল ধরে আছি বৃদ্ধ বয়সেও। পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে। সবাইকেই বিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাঁচ ছেলে থাকলেও তারা আলাদা থাকে। কয়েক বছরে বন্যায় বাড়িতে শুধু পানি উঠেছে। তখন উঁচু স্থানে গিয়ে আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। গত বছর যমুনায় জমিও ভেঙে গেছে।

তিনি বলেন, জমিগুলো ভাঙনেও শুকনো মৌসুমে বিভিন্ন ফসল চাষবাস করেছি। গবাদিপশু লালন-পালন করেছি। কিন্তু এ বছর বন্যার পানির স্রোতের তীব্রতা বেশি। নদী ভাঙতে ভাঙতে বসতভিটা ধরেছে। এবার বন্যায় আর রক্ষা পাব না। তাই ঘরের আসবাবপত্র পানিতে ভেসে যাওয়ার আগেই নৌকায় করে গোবিন্দাসী উঁচু কোনো স্থানে আশ্রয় নিচ্ছি পরিবারকে নিয়ে। চরাঞ্চলে বিশুদ্ধ পানিরও তীব্র সংকট। গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি।

শুধু জরিনা বেগম ও তার স্বামী করিম হোসেন নন, তার মতো রহিম হোসেন ও ফরিদা বেগমসহ অনেকেই বলেন, গতবারের তুলনায় এবার অনেক ভাঙন। নদী তীরবর্তীর চেয়ে চরাঞ্চলের ফসলি জমি বেশি ভাঙছে। চরে থাকা ঘরবাড়িগুলো ভাঙনের মুখে পড়ছে। বাড়িতে পানি উঠছে। যার কারণে আমরাও পরিবার ও গবাদিপশু নিয়ে উঁচু স্থানে চলে যাচ্ছি। গত কয়েকদিন ধরে বিশুদ্ধ পানিসহ খাবার সংকট দেখা দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ত্রাণ সহায়তা পাইনি। মানবেতর জীবনযাপন করে আসছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. ইশরাত জাহান জানান, এখন পর্যন্ত উপজেলায় বন্যাকবলিত পরিবারদের জন্য তিনি ত্রাণ সহায়তা পাননি। তবে ত্রাণ সহায়তার জন্য বরাদ্দ চেয়েছেন। বরাদ্দ পেলেই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম শুরু করবেন বলেও জানান তিনি।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোছা. নার্গিস আক্তার জানান, বন্যাকবলিত মানুষদের জন্য এখনো ত্রাণ পাইনি। ত্রাণের জন্য চাহিদা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত ত্রাণ পাওয়া যাবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-