ghatail.com
ঢাকা বুধবার, ২২ আষাঢ়, ১৪২৯ / ০৬ জুলাই, ২০২২
ghatail.com
yummys

ছাত্রের এমন মৃত্যুর দায় কিভাবে এড়াবে টাঙ্গাইলের সৃষ্টি?


ghatail.com
রেজাউল করিম, ঘাটাইল ডট কম
২২ জুন, ২০২২ / ৩২৩ বার পঠিত
ছাত্রের এমন মৃত্যুর দায় কিভাবে এড়াবে টাঙ্গাইলের সৃষ্টি?

একটি জীবনের মূল্য অনেক। টাকা দিয়ে মাপা যাবে না। হতে পারে মা-বাবার একমাত্র সন্তান। সন্তানকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো মা-বাবার দায়িত্ব। তাকে আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত করার দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তার দায় এড়াতে পারে না।

টাঙ্গাইলে সম্প্রতি সৃষ্টি শিক্ষা পরিবারের আবাসিক কক্ষ থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত্যুটা অপমৃত্যু নাকি নির্যাতনে মৃত্যু এ নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। যেভাবেই মৃত্যু হোক, প্রতিষ্ঠানে মৃত্যু মানেই প্রতিষ্ঠানের দায়। 

প্রতিষ্ঠান বলছে আত্মহত্যা। পরিবার বলছে হত্যা। শরীরেও অসংখ্য দাগের চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি ধুম্রজাল।

এতো ছোট্ট শিশু আত্মহত্যা করবে কেন? আত্মহত্যা হলেও আত্মহত্যার পরিস্থিতি সৃষ্টির দায় প্রতিষ্ঠানের। এমন মনোভাব পর্যবেক্ষণ এবং পরিবারকে বিষয়টি না জানানাটোটা প্রতিষ্ঠানের অন্যায়। পরিবারকে ছাত্রের অবস্থান বা মনোভাব জানানো উচিত ছিল।

ছাত্রটিকে নির্যাতনের ফলে মৃত্যু হলে সরসরি প্রতিষ্ঠান দায়ি। এমন ঘটনার দায় সৃষ্টি এড়াতে পারবে না। ইতোমধ্যে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগ বিষয়টির সঠিক তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করেছে।

একজন শিশু বাবা-মায়ের অমূল্য সম্পদ। তার জীবন নিয়ে অবহেলা করার সুযোগ নেই। প্রতিষ্ঠানকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় অভিভাবকর সন্তানদেরকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে স্বস্তি পাবে না। বই নিয়ে এসে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরবে এটা কারও কাম্য না। এর জন্য প্রয়োজন আরও তদন্ত। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা সম্ভব।

আমি আপনি যে চেয়ারেই থাকি না কেন, ভুলে গেলে চলবে না আমাদেরও সন্তান আছে।  তারও এমন পরিস্থিতি হতে পারে। আগামী প্রজন্মকে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

বাবা-মায়েদেরকে বলব, শিশুদের আবাসিকে রাখা উচিত না। শিক্ষা অর্জন যেমন জরুরী। শিশুর জীবন উপভোগটাও তেমন জরুরী। বাবা-মায়ের আদরটাও জরুরী। খেলাধুলাও জরুরী। যদি আপনি শহরে থাকতে পারেন তাহলে আপনি সন্তানকে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করুন। বাসায় আপনার সাথে রেখে ক্লাসটাইমে ক্লাসে পাঠান। এতে শিশু প্রকৃত শিক্ষা পাবে।

শিশু বয়সে আবাসিকে রেখে শিশুর মস্তিস্ককে অসুস্থ বানাবেন না। শিশুটি যখন পরিপক্ষ হয়, নিজের বুঝ বুঝে তখন তাকে আবাসিকে দিতে পারেন।

মনে রাখবেন, টাকা দিয়ে সব হয় না। পড়ালেখা করে সার্টিফিকেট পেলেও আদর্শ শিক্ষা পাবে না। আদর্শ শিক্ষার জন্য চাই, পারিবারিক শিক্ষা। নৈতিক শিক্ষা। আপনি আপনার শিশু সন্তানকে যেভাবে দুরে রাখছেন আপনার সন্তান বড় হয়ে আপনাকেও কিন্তু দুরে রাখবে। তখন আপসোস করে লাভ হবে না।

সৃষ্টিকেও বলব, সৃষ্টির সুনাম দেশব্যাপী।  এ সুনাম ধরে রাখতে আরও নজরদারি বাড়াতে হবে। শিক্ষকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। ছাত্র বাড়ানোর যেরকম দায়বদ্ধতা আছে, ছাত্র হ্রাসেও তেমন জবাবদিহিতা আছে। শুধু বাড়াতে হবে এমন ঘটনার জবাবদিহিতা। 

আল্লাহ, শিশুটিকে জান্তান দান করুন। শিশুটির শোকতপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধরার তওফিক দান করুন।

(রেজাউল করিম, ঘাটাইল ডট কম)/-