ghatail.com
ঢাকা বুধবার, ২২ আষাঢ়, ১৪২৯ / ০৬ জুলাই, ২০২২
ghatail.com
yummys

মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের সম্মান করুন


ghatail.com
রেজাউল করিম, ঘাটাইল ডট কম
১৯ জুন, ২০২২ / ১৬৭ বার পঠিত
মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের সম্মান করুন

আপনি জানেন কি মেডিকেল রিপ্রেজেন্টটিভ কারা? এদের কাজ কি? এরা কতোটা মেধাবী? এই পেশাকে নিয়ে যারা বিভিন্ন সময় নেগেটিভ কথা বলেন, সেটা কি ঠিক হয়?

মেধাবী ছাত্রছাত্রীরাই এই মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ। অথবা সরকারী চাকুরির সোনার হরিণ যেসব দূর্ভাগ্যবানদের কাছে ধরা দেয়নি তারাই এই রিপ্রেজেন্টেটিভ। এদের অধিকাংশই সাইন্সের শিক্ষার্থী। অধিকাংশ মেধাবীরাই সাইন্স নিয়ে থাকেন। এটা একটি বিশেষ চ্যালেঞ্জিং পেশাও।

এরা কাজ করে মানুষের জীবনের জন্য তৈরি অপরিহার্য ঔষধ বিপননে। এই পেশায় রয়েছে অনেক দায়বদ্ধতা। এরা আছে বলেই আমরা আপডেট ঔষধ সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছি। চিকিৎসকরাও নতুন ঔষধ সম্পর্কে জানছেন।

একজন রিপ্রেজেন্টেটিভ হতেও তাকে মিনিমাম গ্রাজুয়েট হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে পোষ্ট গ্রাজুয়েশন। বিজ্ঞান বিষয়টিও খুবই গুরুত্বপূর্ন কারন তাকে জানতে হবে হিউম্যান বডি সম্পর্কে, তাকে জানতে হবে হিউম্যান বডির বিভিন্ন সিস্টেম সম্পর্কে, রোগ, রোগতত্ব,শরীরের কোন অংশে কি রোগ হয়,ওই রোগের কোন ওষুধ দিতে হবে ইত্যাদি, ইত্যাদি।

মাইক্রোবায়লোজী এবং এন্টিবায়টিক্স সম্পর্কে ঔষধের কাজ করার প্রক্রিয়া, ইনডিকেশন ওষুধের ডোজ, ডোজেজ গাইড লাইন, ডিজিজ প্রোফাইল, ওষুধের সীমাবদ্ধতা সহ অনেক কিছু।

একজন রিপ্রেজেন্টেটিভকে কোম্পানি নূণ্যতমপক্ষে একমাস হিউম্যান বডি এবং ওষুধের ওপর ট্রেনিং করিয়ে তৈরি করে তার কর্মস্থলে প্রেরন করেন।

বর্তমান অনেক বি ফার্ম (ব্যাচেলর অব ফার্মেসী), এম ফার্ম (মাষ্টার্স অব ফার্মেসী) করা ছাত্র এই পেশায় নিজেদরকে মানিয়ে নিয়েছেন।

অনেক ডাক্তারগণ তারা তাদের নিজ পেশায় না গিয়ে এই ঔষধ কোম্পানির প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট, ট্রেইনিং ডিপার্টমেন্টে চাকুরি করে এই রিপ্রেজেন্টেটিভদের তৈরি করছেন।

আর আপনারা এই উচ্চ শিক্ষিত কঠোর পরিশ্রমী লোকদেরকে কি-না দালাল বলেন। যে বা যারা এই পেশা নিয়ে নেগেটিভ চিন্তা করছেন তারা কি একবারের জন্যও ভেবেছেন যদি এই রিপ্রেজেন্টেটিভরা না থাকত, এই কোম্পানিগুলো না থাকত, তাহলে কি হত ?

কিছুই হতনা! আপনি এখন দেশী ওষুধ যেটা ৫ টাকা দিয়ে কিনে খাচ্ছেন। আপনি সেই একই ওষুধ বিদেশী কোম্পানির ১৫/২০ টাকা বা আরো বেশি দিয়ে কিনে খেতেন।

সহজ উদাহরণ দিলে সহজে বুঝতে পারবেন। কিছুদিন পূর্বেও GSK Pharma বাংলাদেশে ছিল। তখন তাদের খুব পরিচিত প্রডাক্ট Betnovate N ointment যার দাম ছিল মাত্র 5gm ১৮ টাকা এবং 10gm ২৬ টাকা। সেই একই ঔষুধ আপনি এখন পাবেন না। আর পেলেও ৫ গুন বেশি টাকা দিয়ে কিনতে হবে। অন্যান্য জরুরী ঔষধের কথা বাদই দিলাম।

এখন হাতের নাগালেই সব ওষুধ পাচ্ছেন তখন নির্দিষ্ট দোকান থেকে পুরো মাসের সকল ওষুধ কিনে নিতে হত। যার ফলে এখন যে সম্মান পাচ্ছেন সেটা আর থাকত না। এটা একটি মনোপলি মার্কেট তৈরি হয়ে যেত। কোন বিকল্প থাকত না।

আপনার জীবন রক্ষাকারী ওষুধটি হাজার হাজার টাকা দিয়েও আপনি সঠিক সময় পেতেন না। কারণ ডাক্তার তারঁ রোগীর প্রয়োজনে যেকোন কোম্পানির ঔষধ প্রিসক্রিপশন করবেনই। হোক সেটা দেশী অথবা বিদেশী। দেশী না থাকলে বিদেশী লিখবে।

অনেক জেনেরিক আছে যেটা ডাক্তার পড়াশুনার সময়ে বিশ্ব মার্কেটে ছিলনা পরবর্তি সময়ে আসছে। সেই তথ্যটা শুধু এই রিপ্রেজেন্টেটিভরা আছে বলেই দ্রুত পায়।

আর রোগীরা পায় কাংখিত সেবা। যেমন নতুন নতুন রোগ বের হচ্ছে ঠিক তেমনি আসছে নতুন নতুন মলিউকুলও । বাংলাদেশের অনেক কোম্পানিই এখন ক্যান্সারসহ নানান জটিল রোগের ঔষধ তৈরি করছে। যা একসময় বাংলাদেশ আমদানি করত ফলে অনেক বেশি দামে কিনতে হত। এই রিপ্রেজেন্টেটিভ ও কোম্পানিগুলোর জন্যই আজ সব হাতের মুঠোয়।

এরপরেও যদি মনে করেন এই পেশা খারাপ তবে খারাপ। প্রত্যেক পেশার কিছু নেগেটিভ দিক থাকবেই। এই পেশার ও কিছু নেগেটিভ দিক রয়েছে।

প্রিসক্রিপশন একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় এটি অবশ্যই অন্যের দেখা ও জানা উচিৎ নয়। তবে রোগী ও কোম্পানির স্বার্থেই প্রিসক্রিপশন দেখতে হয় দেখাতে হয়। তবে আপনি না চাইলে কখনও দেখতে পারবে না।

সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেরই মার্কেট রিসার্স ও মার্কেটিং স্ট্রাটেজি থাকে। ঔষধ কোম্পানি গুলোও তার ব্যতিক্রম নয়। কারন ডাক্তারের প্রিসক্রিপশন প্রোফাইল জানা এবং কোন ধরনের রোগের কোন ধরনের ঔষধ লিখেন সেটা যেমন জানা জরুরী ঠিক তেমনি বিশ্ব মার্কেটে এর বিকল্প বা এর চেয়ে ভাল ঔষধ আছে কিনা সেটা জানাও সমান জরুরী।

বিকল্প ভাল ঔষধ বিশ্ব মার্কেটে থাকলে তা বাংলাদেশী কোম্পানি গুলো তৈরি করতে হলে এই তথ্য গুলো দরকার। কারন সেবার পাশাপাশি ব্যবসারও একটি বিষয় জড়িত। কোম্পানি গুলো বিশ্বমার্কেটের ঔষধ আপনাদের হাতের নাগালে তো বিনামূল্যে দিবে না। তাদের হাতে থাকতে হবে পর্যাপ্ত মার্কেট জড়িপ।

আপনি প্রিসক্রিপশন ধরতে দিবেন না, তাইলে কোম্পানিগুলো নতুন নতুন ঔষধে কোটি কোটি টাকা ইনভেষ্ট করবে কেন?

প্রত্যেক চাকুরির একটা অবজেক্টিভ থাকে। ঔষধ কোম্পানির চাকুরির অবজেক্টিভ হল প্রিসক্রিপশন করানো সাথে সাথে ঔষধ বিক্রি করা। যারা বাজে মন্তব্য করছেন তারা নিজের দিকে তাকিয়ে মন্তব্য করবেন কোম্পানী আপনাকে কেন বেতন দিবে? কিসের বিনিময় দিবে?

প্রত্যেকটি ছেলে মেয়ে গ্রাজুয়েট। বাজে মন্তব্য করার আগে এই শিক্ষিত আড়াই লক্ষ রিপ্রেজেন্টিটিভ ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট ফ্যামিলির কর্ম সংস্থান করে মন্তব্য করবেন। আর না হয় আল্লাহ চাইলে এই কাজ আপনার/ আপনার ছেলের দ্বারাও আল্লাহ করিয়ে নিতে পারে।

অনেক উদাহরণ আছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার,পুলিশ কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন ভাল পেশার ব্যক্তিদের ছেলেরা এবং অনেক বড় পেশার কর্মকর্তাদের প্রথম জীবন কেটেছে এই পেশায়।

একজন ছোট্ট সাংবাদিক না বুঝেই লিখছেন রিপ্রেজেন্টেটিদের দৌরাত্মা বেড়েছে। একজন এসএসসি পাস পল্লী চিকিৎসক বিল বা অর্ডারের জন্য

ঘণ্টার পর ঘণ্টা এদের ওয়েট করাচ্ছে? আসলে এটা কি ঠিক হচ্ছে?

তাই আসুন এই সুন্দর মহৎ পেশাকে আরো সুন্দর করতে সম্মিলিত সকলে মিলে একটি সুন্দর নীতিমালা প্রনয়নের জন্য আন্দোলন করি। এই পেশাকে কলংক মুক্ত করি। অন্যকে সম্মান করতে শিখুন, নিজেও সম্মানিত হবেন।

(রেজাউল করিম, ঘাটাইল ডট কম)/-