ghatail.com
ঢাকা বুধবার, ২২ আষাঢ়, ১৪২৯ / ০৬ জুলাই, ২০২২
ghatail.com
yummys

বিশ্ব বাবা দিবস আজ


ghatail.com
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম
১৯ জুন, ২০২২ / ৭১ বার পঠিত
বিশ্ব বাবা দিবস আজ

প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্ববাসী বাবা দিবস হিসেবে পালন করে। বাবার সঙ্গে স‍ুন্দর সময় কাটানোসহ নানা উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয় দিনটি। কিন্তু কোথা থেকে বা কবে থেকে বাবা দিবস পালনের সূচনা, তা আমাদের অনেকেরই অজানা।

হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর আজ পড়েছে বাবা দিবস। বিশ্বের কয়েকটি দেশ ভিন্ন মাসের কয়েকটি ভিন্ন তারিখে বাবা দিবস পালন করলেও, একটি বিশাল অংশ যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, চিলি, কলাম্বিয়া, কোস্টারিকা, কিউবা, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ফ্রান্স, গ্রিস, হংকং, ভারত, আয়ারল্যান্ড, জ্যামাইকা, জাপান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ড, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা, সুইজারল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভেনিজুয়েলা ও জিম্বাবুয়েসহ আরও কিছু দেশে জুনের তৃতীয় রোববার এ বিশেষ দিনটি পালিত হয়।

গ্রেস গোল্ডেন ক্লেটন প্রথম ব্যক্তি যিনি বাবা দিবসের প্রচলন শুরু করেন। পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টবাসী গ্রেস প্রথম বাবা দিবস পালনের জন্য আবেদন করেছিলেন।

১৯০৭ সালের ডিসেম্বর। ভার্জিনিয়ার মোনোনগাহ্‌য় ভয়াবহ খনি বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ৩৬০ জন পুরুষ। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিলেন সন্তানের বাবা। ফলে প্রায় এক হাজার শিশু পিতৃহারা হয়ে পড়ে। এ বিষয়টি গ্রেস গোল্ডেন ক্লেটনকে পীড়া দেয়। তিনি স্থানীয় মেথোডিস্ট গির্জার যাজককে শহীদ বাবাদের সম্মানে ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই রোববার বাবা দিবস হিসেবে উৎসর্গ করার অনুরোধ করেন। ৫ জুলাইকে বাবা দিবস করার দাবি জানানোর কারণ, এটি ছিল গ্রেসের মৃত বাবার জন্মদিন।

এরপর ১৯৮৫ সালে রাষ্ট্রপক্ষ একটি ঐতিহাসিক ফলক স্থাপনের মাধ্যমে ফেয়ারমন্টকে বাবা দিবসের জন্মস্থান হিসেবে ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে প্রতি বাবা দিবসে গির্জায় বাবা দিবসের মাহাত্ম বর্ণনা করা হতো।

বাবা দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে রয়েছে আরেক নারীর অগ্রণী ভূমিকা। ১৯০৯ সালের আগে ওয়াশিংটনে বাবা দিবস বলে কোন বিশেষ দিন ছিল না। সে সময় স্থানীয় গির্জায় সোনোরা স্মার্ট নামে ওয়াশিংটনবাসী এক নারী মা দিবস পালনের কথা শোনেন। মা দিবস পালনের রীতি রয়েছে কিন্তু বাবা দিবস পালনের রীতি নেই জেনে তিনি ভীষণ অবাক হন।

তাই বাবা দিবস পালনের আবেদন জানিয়ে তিনি স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সে বছরের ৫ জুন নিজ বাবার জন্মদিনের দিন বাবা দিবস ধার্য করার অনুমতি চান। তবে হাতে কম সময় থাকায় ওই বছরের ১৯ জুন প্রথম এ অঙ্গরাজ্যে বাবা দিবস পালন করা হয়।

সোনোরা তার বাবা উইলিয়াম স্মার্টকে আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাতেই এ দিনের সূচনা করেন। গৃহযুদ্ধ চলকালীন উইলিয়াম স্মার্ট ছিলেন একজন সৈনিক। ষষ্ঠ সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় তার স্ত্রী মারা যান। এরপর শত দুঃখ-কষ্টের মধ্যে থেকেও ছয় সন্তানকে একাই লালন-পালন করেন উইলিয়াম।

পরে, ১৯১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংসদে বাবা দিবসকে ছুটির দিন করার একটি বিল তুলে ধরা হয়। ১৯১৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন বিলটি অনুমোদন করেন ও তার সাতবছর পর ১৯২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০তম প্রেসিডেন্ট কেলভিন ক্যুলিজ বাবা দিবসকে জাতীয় দিবসের মর্যাদা দেন।

সবশেষে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন রাষ্ট্রীয়ভাবে জুনের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস বলে ঘোষণা দেন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত বিশ্বের সব বাবাদের সম্মানে পালিত হয়ে আসছে বাবা দিবস।

বাবা দিবসটি স্মরণীয় করে রাখতে বাবাকে উপহার দিন কিছু উপহার।

বই: অবসরে সবচেয়ে ভালো সঙ্গ দেয় বই। বাবার পছন্দের লেখকের কয়েকটি বই এই দিনে উপহার দিতে পারেন। কারণ একটি বই অনেক স্মৃতি ধরে রাখে।

পোশাক: বাবা সবসময় সন্তানের আবদার মেটাতে ব্যস্ত থাকেন। পুরোনো পোশাকই পরে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন বাবা। পোশাক কেনার কথা বললে হয়তো তিনি বলেন ‘আমার তো অনেক আছে, আর প্রয়োজন নেই!’ তাই এই দিনে বাবার পছন্দের শার্ট, প্যান্ট, ব্লেজারেইত্যাদি কিনে দিতে পারেন।

ইলেক্ট্রিক ট্রিমার: দাড়ি বা চুল কাটার জন্য বাবাকে কিনে দিতে পারেন ইলেক্ট্রিক ট্রিমার। তাহলে আর বারবার সেলুনে গিয়ে দাড়ি কাটতে হবে না।

ফিটনেস ওয়াচ: বর্তমানে ফিটনেস ওয়াচের কদর অনেক। তাহলে এবার বাবাকে দিন ফিটনেস ওয়াচ। সকালে বা বিকেলে হাঁটতে যাওয়ার সময়, হাতে এই ঘড়ি থাকলে তিনি দেখতে পারবেন, কত ক্যালোরি বার্ন হলো বা কয় কদম হাঁটলেন ইত্যাদি।

ঘড়ি: হাতঘড়ির কদর কখনও কমবে না। শৌখিন মানুষের কাছে হাতঘড়ির মূল্য অনেক। তাই আজকের দিনে বাবার জন্য একটি ভালো মানের ঘড়ি কিনে উপহার দিতে পারেন।

বেল্ট: ফরমাল বা ক্যাজুয়াল পোশাকের সঙ্গে একটি সুন্দর বেল্ট পরা আবশ্যক। চাইলে চামড়ার একটি উন্নতমানের বেল্ট বাবাকে আজ উপহার দিতে পারেন।

বাঁধাই করা ছবি: বাবার সঙ্গে কাটানো সুন্দর মুহূর্তের একটি ছবি আজ বাঁধাই করে উপহার দিতে পারেন। এই স্মৃতি সারাজীবন ঘরে ফ্রেমবন্দী হয়ে থাকবে। বাবার সঙ্গে সন্তানদের বাঁধাই করা ছবি হতে পারে বাবা দিবসের সেরা উপহার।

ফুলের তোড়া: বাবা দিবসের শুভেচ্ছা জানাতে এক তোড়া ফুল তো তার হাতে দিতে পারেন তাই না! এক তোড়া ফুল হাতে পেয়ে নিশ্চয়ই আপনার বাবা খুব খুশি হবেন।

বাবা দিবসে বিশ্বের সব বাবার প্রতি রইলো গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-