ghatail.com
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ / ১৯ মে, ২০২২
ghatail.com
yummys

শ্রীলঙ্কায় সংঘর্ষে ক্ষমতাসীন দলের এমপি নিহত


ghatail.com
অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম
০৯ মে, ২০২২ / ৭০ বার পঠিত
শ্রীলঙ্কায় সংঘর্ষে ক্ষমতাসীন দলের এমপি নিহত

শ্রীলঙ্কায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর পর ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতা অমরাকীর্থি আথুকোরালা এর লাশ উদ্ধার হয়েছে। আজ সোমবার (৯ মে) রাজধানী কলম্বোর কাছের নিত্তামবুয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

শ্রীলঙ্কা পুলিশের বরাত দিয়ে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অমরাকীর্থি আথুকোরালা নামের ওই এমপি নিত্তামবুয়া এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সামনে পড়েন। এ সময় তাঁর গাড়ির পথরোধ করলে তিনি গুলিবর্ষণ করেন। এতে দুইজন গুরুতর আহত হন।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে কাছের একটি ভবনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন ওই এমপি। পরে অমরাকীর্থি আথুকোরালা এর লাশ পাওয়া যায়।  

১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। এই সংকটের জন্য সরকারের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছে দেশটির জনগণ। বেশ কিছুদিন ধরে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে বিরোধীরা।

আজ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরকার সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সংকট সমাধানে আজকেই পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে।

সহিংসতা বন্ধে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করেছে শ্রীলঙ্কা পুলিশ।

শ্রীলঙ্কার সরকারি কর্মকর্তাদের সূত্র জানায়, কলম্বোর কেন্দ্রস্থলে সহিংসতায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

তবে কলম্বো ন্যাশনাল হাসপাতালের মুখপাত্র পুস্পা সোয়সা এএফপিকে বলেন, এরই মধ্যে আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন ৭৮ জন।

৯ এপ্রিল থেকে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের কার্যালয়ের বাইরে বিরোধীরা শিবির করে থাকছিলেন। তাঁদের ওপর রাজাপক্ষের অনুগত ‘সশস্ত্র বাহিনী’ লাঠি নিয়ে চড়াও হয়। যেসব সরকার-সমর্থক পুলিশের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের তাঁবু এবং অন্যান্য কাঠামো ভেঙে দিয়েছেন, তাঁদের ওপর পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও জলকামান ছুড়েছে।

তখন মাহিন্দা রাজাপক্ষে সাধারণ জনগণকে সংযত আচরণ করতে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, মনে রাখতে হবে, সহিংসতা কেবল সহিংসতার জন্ম দেয়। তিনি টুইট করেন, অর্থনৈতিক এ সংকটের সমাধান অর্থনৈতিকভাবে করতে হবে। আর এটি করতে প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পুলিশ তখনই কলম্বোতে কারফিউ জারি করলেও পরে দেশজুড়ে তা জারি করা হয়।

গত শুক্রবার শ্রীলঙ্কার সরকার সেনাবাহিনীকে ধরপাকড়ের ক্ষমতা দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করে।

এরপর গতকাল রোববার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা ‘উসকানিমূলক এবং হুমকিস্বরূপ’ আচরণ করছে এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা খাতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

ট্রেড ইউনিয়নগুলো বলছে, জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারে সোমবার থেকে প্রতিদিনই তারা বিক্ষোভ করবে। ইউনিয়নের নেতা রবি কুমুদেশ বলেন, ১৭ মে পার্লামেন্টে পরবর্তী অধিবেশন শুরু হলে তাঁরা জাতীয় সংসদের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য সরকারি ও বেসরকারি, উভয় ক্ষেত্রের কর্মীদের একত্র করবেন।

এক বিবৃতিতে কুমুদেশ তখন বলেন, ‘আমরা যা চাই তা হলো প্রেসিডেন্ট ও তাঁর পরিবারের বিদায়।’

৩১ মার্চ প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিমালিকানাধীন বাসভবনে কয়েক হাজার ব্যক্তি হামলা চালানোর চেষ্টা করেন। এর পর থেকে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

এর আগে সরকারি সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, প্রেসিডেন্ট এই সংকটের মধ্যে দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনার স্বার্থে একটি ঐকমত্যের সরকার গঠনের পথ তৈরির জন্য তাঁর ভাই মাহিন্দাকে সরে দাঁড়াতে বলতে পারেন। কিন্তু এরই মধ্যে দেশটির সবচেয়ে বড় বিরোধী দল জানিয়ে দিয়েছে, রাজাপক্ষের বংশের কারও দ্বারা পরিচালিত সরকারে যোগ দেবে না তারা।

ঋণে জর্জরিত শ্রীলঙ্কায় বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আশঙ্কাজনক কম। এ জন্য জ্বালানিসহ অন্যান্য পণ্য আমদানির মূল্য পরিশোধ করতে পারছে না দেশটি। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক পণ্যের আমদানি বন্ধ করতে হয়েছে দেশটিকে। গত মাসে দেশটি জানিয়েছিল, তারা ৫ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার বিদেশি ঋণখেলাপি।

১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর এমন সংকটের মুখে আগে কখনো পড়েনি শ্রীলঙ্কা। জনগণ এই সংকটের জন্য সরকারের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছে।

(অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইল ডট কম)/-