ghatail.com
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ / ১৯ মে, ২০২২
ghatail.com
yummys

আটিয়ার চাঁদের মৃত্যুবার্ষিকী


ghatail.com
স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম
২৫ এপ্রিল, ২০২২ / ৭৬ বার পঠিত
আটিয়ার চাঁদের মৃত্যুবার্ষিকী

ওয়াজেদ আলী খান পন্নী ছিলেন টাঙ্গাইলের করটিয়ার জমিদারদের মধ্যে সবচেয়ে প্রজাহিতৈষী এবং সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ। তার ডাক নাম চাঁদ মিয়া। স্থানীয় জনগণের নিকট তিনি আটিয়ার চাঁদ নামে পরিচিত ছিলেন। 

তিনি করটিয়ার বিখ্যাত জমিদার পরিবারে ১৪ নভেম্বর ১৮৭১ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৫ এপ্রিল (শনিবার) ১৯৩৬ সালে করটিয়ায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তার পিতার নাম হাফেজ মাহমুদ আলী খান পন্নী।

সোমবার (২৫ এপ্রিল) দিনব্যাপী নানা কর্মসুচীর মধ্য দিয়ে এ দিনটি পালন করবেন করটিয়ার আপাময় জনসাধারণ। করটিয়াবাসী গভীর শ্রদ্ধার সাথে পালন করে এ দিনটি। এ দিনটি যথাযথ মর্যাদার সাথে পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন করটিয়া সা'দত বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সায়মন তালুকদার রাজীব।

আটিয়ার চাঁদ গৃহশিক্ষকের নিকট শৈশবশিক্ষা গ্রহণ; নিজের প্রচেষ্টায় আরবি, ফারসি, উর্দু ও ইংরেজি ভাষায় অসামান্য পান্ডিত্য অর্জন করেন। ১৮৯২ সালে তাঁর পিতার পৃষ্ঠপোষকতায় কবি মুহম্মদ নঈমউদ্দীন কর্তৃক চার খন্ডে ফতোয়ায়ে আলমগীরী-র অনুবাদ করা হয়। ওয়াজেদ আলী এ কাজে শরিক হন। 

১৯১৩ সালে তাঁর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহর সভাপতিত্বেব করটিয়ায় ‘মুসলিম এডুকেশন কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত হয়। ১৯১৯ সালে তিনি করটিয়ায় ‘হাফেজ মাহমুদ আলী খান হাই স্কুল’ স্থাপন করেন। তিনি স্ত্রীর নামানুসারে করটিয়াতে ‘রোকেয়া আলিয়া মাদ্রাসা’ প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি ১৯২১ সালে জমিদার তথা ময়মনসিংহ জেলা কংগ্রেস ও খেলাফত কমিটির সভাপতি, বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটির সহ-সভাপতি এবং নিখিল ভারত কংগ্রেসের নির্বাহী পরিষদ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ব্রিটিশ বিরোধী আযাদী আন্দোলন করে ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে গ্রেফতার হয়ে ময়মনসিংহ জেলে কারাবরণ করেন।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তাঁর অনমনীয় মনোভাব ও দৃঢ়তার জন্য ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রক্ষিত তাঁর তৈলচিত্রের নিচে লেখা রয়েছে- “One who dified the British.”

তিনি অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খাঁর সহযোগিতায় ১৯২৬ সালের জুলাই মাসে নিজ গ্রাম করটিয়ায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং পিতামহ সা’দত আলী খান পন্নীর নামানুসারে এর নামকরণ করেন ‘সা’দত কলেজ’।

তিনি অত্যন্ত দানশীল ছিলেন এবং প্রত্যহ সকালে স্বহস্তে দরিদ্রদের দান করতেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি সকলের খোঁজ-খবর নিতেন। ওয়াজেদ আলী খান জমিদারির বার্ষিক আয়ের শতকরা ২০ ভাগ শিক্ষাবিস্তার ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতেন। তাঁর জমিদারিতে প্রজাপীড়ন ছিল না, বরং দুর্ভিক্ষ ও বন্যায় খাজনা মওকুফ করার ব্যবস্থা ছিল।

অসাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন চাঁদ মিয়া হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে সৌহার্দ্য স্থাপনের প্রচেষ্টায় অসামান্য অবদান রেখেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি ওয়াক্ফ রাহেলিল্লাহ করে যান। 

তিনি তাঁর জমিদারি ’সেরেস্তায় শরিয়ত’ বিভাগ নামক একটি আলাদা বিভাগের মাধ্যমে প্রজাদের মধ্যে ইসলাম প্রচারের ব্যবস্থা করেন। প্রায় ৭০০ আলেম এ প্রচার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

তিনি ব্যক্তিজীবনে পত্নী রোকেয়া এবং নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ কর্তৃক প্রভাবিত ছিলেন। ১৯৩৬ সালে ওয়াজেদ আলী খান পন্নীর মৃত্যু হয়।

তিনি বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পত্র-পত্রিকা, বই পুস্তক প্রকাশনায় অর্থ দান করেছেন। দানের ক্ষেত্রে ওয়াজেদ আলী খান পন্নী অদ্বিতীয় ছিলেন। এজন্যই তাকে ‘দানবীর’, ‘দ্বিতীয় মহসিন’ উপাধিতে ডাকা হতো। 

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-