ghatail.com
ঢাকা শনিবার, ৩০ আশ্বিন, ১৪২৮ / ১৬ অক্টোবর, ২০২১
ghatail.com
yummys

২৭ বছরের সংসার নাঈম-শাবনাজের


ghatail.com
স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম
০৫ অক্টোবর, ২০২১ / ১৩৭ বার পঠিত
২৭ বছরের সংসার নাঈম-শাবনাজের

একে অপরকে ভালোবাসা, প্রেম, পরে বিয়ে করে সুখে সংসার করছেন নব্বইয়ের দশকের সেরা জুটি শাবনাজ-নাঈম। টানা অভিনয় করতে গিয়ে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাদের মধ্যে। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর দুজনই অভিনয়ের জগৎ থেকে সরে দাঁড়ান।

আজ নাঈম ও শাবনাজ দম্পতির বিয়ের ২৭ বছর পূর্ণ হলো। ১৯৯৪ সালের এই দিনে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। সিনেমার পর্দায় যেমন তারা নিজেদের ভালোবাসা সফল করেছেন, আঁকড়ে ছিলেন; বাস্তবজীবনেও তা-ই করলেন। শোবিজ দুনিয়ার অন্যতম সফল দম্পতি হিসেবে তারা এখনো সুখেই সংসার করে যাচ্ছেন।

তারকাদের মধ্যে অন্যতম আদর্শ দম্পতিতে পরিণত হয়েছেন নব্বই দশকের দর্শকনন্দিত জুটি নাঈম-শাবনাজ। 

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে নাঈম-শাবনাজ নামের একটি পেজ রয়েছে। মঙ্গলবার সেখান থেকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে খবরটি ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করে নেন এ তারকা জুটি। সেখানে বিয়ের সময়ের ও বর্তমান সময়ের দুটি ছবি শেয়ার করেছেন তারা।

এর ক্যাপশনে নাঈম-শাবনাজ লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ, একসঙ্গে পথ চলার ২৭টি বছর পার করলাম। সুখ, দুঃখ, আনন্দ, ত্যাগ, ভালোবাসা মিলে মিশে কাটানো সম্ভব হয়েছে একই মন মানুষিকতা ও আল্লাহ রহমতের কারণে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে নেক হেদায়েত দান করুন। আমিন।

১৯৯১ সালের ৪ অক্টোবর এহতেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী’ মুক্তি পায়। সিনেমাতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে নাঈম-শাবনাজ জুটির অভিষেক হয়। শফিউল আলম পরিচালিত ‘বিষের বাঁশি’ সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়েই নাঈম ও শাবনাজের প্রেমের সম্পর্কের গভীরতা বাড়ে। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর বিয়ে করেন তারা।

নাঈম-শাবনাজ জুটি দর্শকদের বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন। তাদের অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে- ‘দিল’, ‘সোনিয়া’, ‘চোখে চোখে’, ‘বিষের বাঁশি'’, ‘অনুতপ্ত’, ‘টাকার অহংকার’, ‘সাক্ষাৎ’, ‘জিদ’।

সবশেষ ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’ সিনেমায় জুটি হয়ে অভিনয় করেছিলেন তারা। নাঈম সর্বশেষ ‘মেয়েরাও মাস্তান’ এবং শাবনাজ সর্বশেষ  ‘ডাক্তার বাড়ি’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

আপাতত সিনেমায় ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের। দু’জনই এখন বর্তমান জীবন নিয়ে ব্যস্ত রয়েছন।

২৭ বছরের সংসার জীবনে দু’জনই তাদের দুই সন্তান নামিরা ও মাহাদিয়া। দু’জনই কানাডায় পড়াশোনা করছেন। নামিরা পড়ছেন ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে, এনভারমেন্টাল ম্যানেজম্যান্ট-এ এবং মাহাদিয়া একই ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ-তে পড়ছেন।

এই দম্পতী দীর্ঘদিন টাঙ্গাইলের করোটিয়ায় অবস্থান করে কৃষি কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছেন।

শাবনাজ বলেন, মাটি ও মানুষের সঙ্গে না মিশলে জীবনের অনেক দিকই অজানা থেকে যায়। বিশেষ করে গ্রামের সহজ-সরল কৃষক ভাইদের সঙ্গে আমাদের দু’জনার জীবনের আরেকটি দিক উন্মোচন হলো। যে জীবনে নেই কোনো কপটতা, নেই কোনো ভনিতা। আছে শুধুই ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর দু’মুঠো অন্নের জন্য যুদ্ধ।

তিনি বলেন, আমরা প্রথমদিকে টানা সাত মাস টাঙ্গাইলে ছিলাম; অবশ্য এর মাঝে হয়তো দু’-একদিনের জন্য ঢাকায় যেতাম। সেই ভোরবেলা নামাজ দিয়ে শুরু আমাদের দিন। এর মধ্যেই আমাদের কৃষক ভাইদের আনাগোনা শুরু হয় মাঠ থেকে সবজি, ধান, ফল-ফলাদি তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া। আর নাঈমের মাছ শিকারের শখ সেই শৈশব থেকেই। ঢাকায় এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে বাণিজ্যিকভাবে টিকিট কেটে মৎস্য শিকার প্রতিযোগিতা হতো, আর নাঈম সেগুলোতে অংশ নেয়নি। এখন তো নিজেদের বিশাল পুকুর- যেখানে সব রকম মাছের চাষ করছি আমরা। নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে অতিরিক্ত মাছ বাজারে বিক্রি করে দেই। নাঈম নিজেও বড়শি দিয়ে বসে যায় মাছ ধরতে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বাড়ির উঠোনে অনেক রকম পাখির সমাগম হয়। আমি ও নাঈম বসে দেখি এবং তাদের জন্য খাবার ছিটিয়ে দেই। তারা আনন্দচিত্তে নির্ভয়ে সেগুলো খায়। সত্যি বলতে ঢাকায় বসে কোনোদিনই প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় না।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-