ghatail.com
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৮ আশ্বিন, ১৪২৮ / ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ghatail.com
yummys

গোপালপুরে বিলডগা গ্রামের ডগাবিলের ইতিকথা


ghatail.com
জয়নাল আবেদীন, ঘাটাইল ডট কম
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ / ৮৯ বার পঠিত
গোপালপুরে বিলডগা গ্রামের ডগাবিলের ইতিকথা

গ্রামের নাম বিলডগা। আর বিলের নাম ডগাবিল। দুটোর নামই খুব কাছাকাছি। মানে ঠোট আর ওষ্ঠের মতো। টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়নের বিলডগা ও ডগাবিলের নামকরন নিয়ে খটকা বহুদিনের। মানে গ্রামের নামটা আগে এসেছে নাকি বিলের নামটা আগে। 

কেউ বলেন, বিলডগা গ্রামের গোড়াপত্তন আগে হয়েছে। তারপর গ্রামের মানুষ গ্রামের ধারের বিলের নামকরন করেছেন ডগাবিল। আবার কেউ বলেন, ডগাবিলের অস্তিত্ব ও পরিচিতি বহু আগেই ছিল। কিছু মানুষ সেই বিলের ধারে গিয়ে জনবসতি গড়ায় বিলের সাথে মিল রেখে গ্রামের নামকরন করেন বিলডগা। শুধু আগের শব্দ পিছে এবং পিছের শব্দ আগে লাগিয়ে গ্রাম আর বিলের নামকরণ।

কিন্তু গ্রাম আগে না বিল আগে অথবা বিল পরে না গ্রাম পরে সে বিতর্ক থেকেই যায়। অনেকটা মুরগী আগে না ডিম আগে বিতর্কের মতো।

ওই যে বিলডগা গ্রাম তার সামনে আবার রয়েছে ডগা খাল। মানে ডগাবিল, বিলডগা তারপর ডগা খাল। বিল, খাল আর ডগার সমাহার। ডগাখালের জন্ম ধনবাড়ী উপজেলার ইসপিঞ্জারপুর গ্রামের ঝিনাই নদী থেকে। পাঁচপোটল, কাকনিআটা, দরবারপুর, হরিদেববাড়ী, চাতুটিয়া, মাহমুদপুর, হাউলভাঙ্গা, ভারারীয়া, মাইজবাড়ী ও চককাশির দুই প্রান্ত ছুঁয়ে খাল বিলডগা গ্রামে প্রবেশ করেছে। 

ডানে বনমালী আর বামে বিলডগা রেখে জামতৈল মৌজার ঝিনাই নদীতে মিশেছে খাল। কি চমৎকার! ঝিনাইয়ে জন্ম যে খালের সেটি আবার লীন ঝিনাইয়ে। চলার পথে এ খাল ইসপিঞ্জার বিল, পাঁচপোটল বিল, চতলবিল, মাহমুদপুর পূর্ব বিলকে টাচ করেছে।

এ খালের কঙ্কালসার দৃশ্য এখনো বিদ্যমান। আমার বাড়ির পাশ দিয়ে বহে যাওয়া এ খাল ছিল বেশ গভীর। বাল্যে কতো সাঁতরিয়েছি এ খালে। দুচোখ লাল না হলে এবং মা জননী বাঁশের কঞ্চি নিয়ে না তাড়ানো পর্যন্ত চলতো বালিহাসের মতো অবিরাম ডুবসাঁতার। 

বলছিলাম বিলডগা আর ডগাবিলের কথা। পশ্চিমে ডগাবিল, পূর্বে ডগা খাল আর দক্ষিণে ঝিনাই নদীকে তিনপাশে রেখে বিলডগা গ্রাম গড়ে উঠার মূল কারণ জলপথে সহজ যোগাযোগ। বিলের দক্ষিণে মজিদপুর, পশ্চিমে পাথালিয়া ও চাতুটিয়া। উত্তরে হাউলভাঙ্গা ও চককাশি। পূর্বে লক্ষিপুর ও বিলডগা।

১৯১০ সালের ময়মনসিংহ ডিস্ট্রীক গেজেটীয়ার রিপোর্টে দেখা যায়, সেসময় ডগাবিলের আয়তন ছিল প্রায় তিন হাজার একর। সম্ভবত মজিদপুর, লক্ষীপুর, পাথালিয়া ও চাতুটিয়া গ্রামের বিরাট অংশ তখন ডগাবিলের অন্তর্ভূক্ত ছিল। ডগাবিল ছিল মাছের আগার। প্রতি বছর পৌষ-মাঘে হাটবাজারে ঢোল দিয়ে হাজার হাজার মানুষ বিলের মাছ ধরার জন্য বাওয়া বাইতো। শুদ্ধ ভাষায় গণ মাছ শিকার। গণ মাছ শিকার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হতো। 

১৯৬৮ সালের ডিস্ট্রীক গেজেটীয়ারে দেখা যায়, পুর্ববর্তী পাঁচ বছরে বিলের মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে পৃথক তিন সংঘর্ষে ৫৬ জন আহত এবং দুইজন নিহত হয়। খুনের মামলায় যে সাত জনের যাব্বজীবন কারাদন্ড হয় তাদের সবাই একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে জেল থেকে বেরিয়ে আসেন। 

ডগাবিলের এখন করুণদশা। শুকনো মৌসুমে প্রায় পুরোটাই শুকিয়ে যায়। খাসজমি বন্দোবস্ত নিয়ে পুরো বিলে বোরো চাষাবাদ চলে। বিলের মাঝখানে পাঁচ কোটি টাকা খরচ করে এক ইউপি চেয়ারম্যান কয়েক বছর আগে দেড় কিলো দীর্ঘ গাইডওয়াল আচ্ছাদিত পাকা বাঁধ এবং দুটো ব্রীজ নির্মাণ করেন। ফলে বিলের পানিপ্রবাহ  এবং বর্ষাকালে মাছের অবাধ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।

বাঁধ ও ব্রীজ কোন কাজে আসবেনা বুঝতে পেরে এলজিইডি প্রকল্পের কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যায়। মাঝখানে পাঁচ কোটি টাকার বাঁধ ও ব্রীজ বর্ষাকালে জলে ভাসে। বিলডগা গ্রামের দুই কৃতি সন্তান হলেন বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডাঃ রফিকুল ইসলাম এবং ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন।

(জয়নাল আবেদীন, ঘাটাইল ডট কম)/-

সর্বশেষ - প্রচ্ছদ