ghatail.com
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৮ আশ্বিন, ১৪২৮ / ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ghatail.com
yummys

ঘাটাইলের ওয়াজেদ আলীর প্রাণ গেল প্রবাসে, দেশে গেল টাকা


ghatail.com
মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঘাটাইল ডট কম
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ / ২০৯ বার পঠিত
ঘাটাইলের ওয়াজেদ আলীর প্রাণ গেল প্রবাসে, দেশে গেল টাকা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিঘলকান্দি গ্রামের ওয়াজেদ আলী (৪৫)। তাঁর জীবনের প্রায় অর্ধেকই কাটিয়েছেন মালয়েশিয়ায়। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ৩১ আগস্ট মালয়েশিয়াতেই তিনি মারা যান। সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে যখন এই পরিবারটি শোকে মুহ্যমান, তখন দেশে ঘটল আরেক মর্মান্তিক ঘটনা। ওয়েজেদের জমানো ৯২ হাজার টাকা মালয়েশিয়া প্রবাসী তার ভাগনে মো. এরশাদুল ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে পাঠিয়েছিলেন।

গত রোববার সেই টাকা ব্যাংক থেকে তুলে বাড়ি ফিরছিলেন ওয়াজেদের ভাগনি হেলেনা খাতুন। কিন্তু ব্যাংক থেকে কয়েক কদম এগোতেই এক প্রতারক হেলেনা খাতুনের কাছ থেকে পুরো ৯২ হাজার টাকাই হাতিয়ে নিয়েছেন।

এদিকে স্বামী হারানো শোকে ভেঙে পড়েছেন ওয়াজেদ আলীর স্ত্রী চম্পা বেগম। এর মধ্যে টাকা হারানোর খবর পেয়ে স্তব্ধ হয়ে গেছেন তিনি।

হেলেনা খাতুন জানান, ওয়াজেদ আলী মারা যাওয়ার পর জমানো ৯২ হাজার টাকা মালয়েশিয়া প্রবাসী তাঁর ভাগনে মো. এরশাদুল (হেলেনা খাতুনের ভাই) অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠান। গত রোববার দুপুর ১২টায় হেলেনা অগ্রণী ব্যাংক থেকে টাকা তুলে রাস্তায় বের হন। এ সময় মাস্ক পরা এক ব্যক্তি নিজেকে ঘাটাইল উপজেলার কর্ণা গ্রামের সুমন মিয়া পরিচয় দেয় এবং বলেন যে, তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী। এরশাদুল হেলেনার জন্য তাঁর কাছে ষাট হাজার টাকা পাঠিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, টাকাগুলো তাঁর বাসা থেকে নেওয়ার জন্য তিনি হেলেনাকে তাঁর বাসায় যেতে বলেন। এ সময় হেলেনা তাঁর সঙ্গে পৌরসভার শান্তিনগর এলাকার হরিমন্দিরের কাছে যান। তখন কথিত সুমন হেলেনার কাছে চল্লিশ হাজার টাকা চান এবং বলেন যে, তাঁর কাছে থাকা ষাট হাজার টাকা দিয়ে এক লাখ টাকার একটা বান্ডিল মিলিয়ে দেবেন।

এ সময় হেলেনার তার কাছে থাকা ৯২ হাজার টাকার পিন মারা বান্ডিলটি সুমনকে দিয়ে সেখান থেকে চল্লিশ হাজার টাকা খুলে নিতে বলেন।

হেলেনা বলেন, ‘৯২ হাজার টাকার বান্ডিলটি নিয়ে প্রতারক লোকটা বাসার যাওয়ার নাম করে মন্দিরের পাশের গলিতে ঢুকে পড়ে। তারপর আর তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি।’

হেলেনা খাতুন আরও বলেন, মামা মারা যাওয়ার পর কোম্পানি কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। নিয়মিত রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মামার সংসারে আর্থিক টানাটানি চলছে। এই টাকাগুলো থাকলে অনেক উপকার হতো। স্বামীহারা মামিকে এখন আমি কী বলে সান্ত্বনা দেব।

ওয়াজেদ আলীর স্ত্রী চম্পা বেগম স্বামী হারানোর শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিতে পারলেও ছেলে কামরুল হাসান এখনো বেকার। এ অবস্থায় তাঁদের রোজগারের একমাত্র অবলম্বন চলে গেল।

চম্পা বলেন, ‘মানুষটারে শেষ বারের মতো দেখতেও পারলাম না। টাকা আসার সংবাদ পেয়ে খুশি হয়েছিলাম। এখন আমার কিছু বলার নেই। আমি নিরুপায়।’

(মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঘাটাইল ডট কম)/-

সর্বশেষ - প্রচ্ছদ