ghatail.com
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৮ আশ্বিন, ১৪২৮ / ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ghatail.com
yummys

ঘাটাইলের পাহাড়ী অঞ্চলে বনবিভাগের দৌরাত্ম্য


ghatail.com
নজরুল ইসলাম, ঘাটাইল ডট কম
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ / ৫০১ বার পঠিত
ঘাটাইলের পাহাড়ী অঞ্চলে বনবিভাগের দৌরাত্ম্য

ঐ এলাকা (খাঁনমোড়) আমার বিট এরিয়ায় নয়। ফরেষ্ট্রী জমিতে ঘর দিলে টাকা তো দিতেই হবে। আমি ঘর দেওয়ার ব্যাপারে জানিনা। পরে প্রশ্নের মুখে স্বীকার করেন, আমি জানি, তবে ওটা সাগরদিঘী বিটের অধীনে এবং সাগরদিঘী বিট অফিসার বিষয়টি জানেন। বলেছিলাম, শুনলাম ২৫-৩০ হাজার (টাকা) নিয়েছেন। উত্তরে বিট অফিসার বললেন, মানুষ খুব খারাপ! ১০ টাকা দিলে ১০ হাজার টাকার কথা বলে বেড়ায়। 

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া রেঞ্জে দায়িত্বরত বিট অফিসার জহিরুল ইসলামের কথা শেষ হতেই চলে গেলাম সাগরদিঘী বিট অফিসার সিদ্দিক হোসেনের কাছে। 

তিনি সাফ জানালেন, খাঁনমোড় বাজার আমার বিটের অন্তর্ভুক্ত না, ওটা ধলাপাড়া বিটের অধীন। আর আমি এ ঘর দেওয়ার ব্যাপারে কিছুই জানিনা। টাকা-পয়সা লেনদেনের তো প্রশ্নই উঠে না। 

ধলাপাড়া বিট অফিসার বলছে, এটি তার এরিয়ায় নয়, আপনিও বলছেন আপনার এরিয়ায় নয়। তাহলে জায়গাটি কোন বিটের অধীন? উত্তরে সাগরদিঘী বিট অফিসার সিদ্দিক হোসেন যা বললেন তা সন্তোসজনক নয়। 

কথা হয় ১০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার।

ঘাটাইলের পাহাড়ী এলাকা রামদেবপুর, পোড়াবাসা (খাঁনমোর বাজার) বাজারটি প্রায় দেড়যুগ আগে প্রতিষ্ঠিত। বনবিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে একটা সমন্বয় (ঘুষ লেনদেন) করেই বাজারটির যাত্রা শুরু হয়। কারন জায়গাটি বনবিভাগের অধীন।

শুধু বাজার নয়, পাহাড়ী এলাকার অধিকাংশ জায়গাই বনবিভাগের করায়ত্ত। প্রাচীনকাল থেকেই এ এলাকাগুলোতে জনবসতি বিদ্যমান। কৃষিই এখানকার মানুষের মূল পেশা। উৎপাদিত ফসল যেমনঃ ধান, গম, বেগুন, ফুলকপি, কলা, কচু, আনারস ইত্যাদি।

পরিতাপের বিষয় হলো, এসব শস্য আবাদ করতেও বনবিভাগের কঠোর শাসন ও অর্থ লেনদেনে স্বচ্ছতা থাকতে হয়। 

শুধু তাই নয়, ছোট্টছোট্ট ছেলেমেয়েরা খেলাধুলার জন্য খুপরি ঘর বানালেও গার্জিয়ানদের গুনতে হয় অর্থকড়ি। শুধু ছাগলের খাবারের জন্য একটা গাছের ডাল কেটেছেন তো কাহার বদৌলতে যেনো উপস্থিত হইয়া ধর-পাকড় অথবা টাকাকড়ি। এভাবেই ঘাটাইলের পাহাড়বাসীর প্রতিদিনের জীবন-যাপন।

প্রসঙ্গে চলে আসি, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ও সখীপুর উপজেলার কিছু অংশ ধলাপাড়া রেঞ্জ অফিসের নিয়ন্ত্রনে। 

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, পোড়াবাসা খাঁনমোড় বাজারে (সখীপুর অংশে) একটি ঘর দিতে গিয়ে সেকান্দর মিয়াকে গুণতে হয়েছে প্রায় ২৫-৩০ হাজার টাকা। যা ঘাটাইলের ধলাপাড়া রেঞ্জে দায়িত্বরত বিট অফিসার জহিরুল ও সাগরদিঘী বিটে দায়িত্বরত সিদ্দিক হোসেন ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। অবশ্য এসব হাদিয়া উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত পৌঁছায় বলেও জানা যায়। 

ঘর মালিক সেকান্দর সেকা (৫৫) বলেন, এ ঘরটা দিতে অনেক দৌড়ঝাঁপ করতে হয়েছে। এখানে টাকা ওখানে টাকা। প্রথমে সাগরদিঘী বিটে মিট (সমন্বয়) করেছিলাম তারপর আবার ধলাপাড়া বিটে মিট করে এ ঘর দিচ্ছি। অনেক টাকা গেলো আমার।

টাকার পরিমান জানতে চাইলে তিনি মামলার ভয়ে সংবাদকর্মীকে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আপনার সাথে গোপনে বলবো। এতোগুলো লোকের সামনে বলা যাবে না। তবে অনেক টাকা দিতে হয়েছে।

স্থানীয় মালেক মন্ডল বলেন, শুনেছি ২০-২৫ হাজার টাকা লেগেছে। আর এসব মিট বা সমন্বয়কারী হিসেবে দু'জন ব্যক্তির নামও বলেন তিনি।

স্থানীয় সংবাদকর্মী মামুন সিকদার মাহিন বলে, আমার বাড়িটা বাজার ঘেঁষা। আমি লক্ষ্য করেছি, বাজারে যে কয়টা ঘর হয়েছে প্রত্যেকটা ঘর থেকে ৩০-৪০ হাজার করে টাকা নিয়েছেন বিভিন্ন সময়ে আসা বিট অফিসাররা। এ নিয়ম কি আদৌ পরিবর্তন হবে?

স্থানীয় মোসলেম উদ্দিন যেনো আরও ক্ষ্যাপাটে স্বরে বলেন, আমার নিজ হাত দিয়ে ধলাপাড়া রেঞ্জ অফিসে অনেক টাকা দিয়েছি বাজারে ঘর প্রতিষ্ঠার জন্য।

সর্বোপরি স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে আর কতোদিন আমরা বন কর্মকর্তাদের টাকা দিয়ে যাবো? আমাদের পূর্বপুরুষরা এখানেই ছিলেন আমারও আছি। এ বাণিজ্য কবে বন্ধ হবে? আমরা মুক্তি চাই।

বিষয়টি নিয়ে ধলাপাড়া রেঞ্জ অফিসার সিরাজুল ইসলামের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কথা বলার চেষ্টা করি জেলা বন কর্মকর্তা (ডিএফও)  জহিরুল ইসলামের সাথে। শুক্র থেকে রবিবার পর্যন্ত ফোন করলেও মোবাইল রিসিভ করেননি তিনি।

বিষয়টি নিয়ে সবশেষ কথা হয় উপ-প্রধান বন সংরক্ষক ডঃ মোঃ জগলুল হোসেন (পরিকল্পনা উইং, বন ভবন, আগারগাঁও ঢাকা)-র সাথে। তিনি বলেন, ডিএফও'র সাথে কথা বলেছি কিনা? তিনি ফোন রিসিভ করনেনি বললে উপ-প্রধান জায়গার নাম ও ঠিকানা মেসেজ করতে বলেন তার নম্বরে। 

(নজরুল ইসলাম, ঘাটাইল ডট কম)/-

সর্বশেষ - প্রচ্ছদ