ghatail.com
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৮ আশ্বিন, ১৪২৮ / ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ghatail.com
yummys

মির্জাপুরে মসজিদের টাকা আত্মসাতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ


ghatail.com
স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম
২৯ জুলাই, ২০২১ / ১৬০ বার পঠিত
মির্জাপুরে মসজিদের টাকা আত্মসাতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের সরকারপাড়া জামে মসজিদের প্রায় ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বাদল মিয়ার বিরুদ্ধে।তিনি মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের মৃত. আব্দুস ছামাদ মিয়া ওরফে চাঁন মিয়ার ছেলে। এ নিয়ে গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করতেছে। যে কোন মূহুর্তে ঘটতে পারে এলাকায় সংঘর্ষ।

এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মির্জাপর থানায় অফিসার ইনচার্জ বরাবর গত ২৪ জুলাই একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ভাওড়া ইউনিয়নের সরকারপাড়া জামে মসজিদের বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিবাদী সাবেক মসজিদ কমিটির সভাপতি মৃত. দবির উদ্দিনের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন ও সেক্রেটারী আব্দুল কাদের মিয়ার সহযোগিতায় কোষাধ্যক্ষ ভাওড়া ইউনিয়নের মৃত. আব্দুস ছামাদ মিয়া ওরফে চাঁন মিয়ার ছেলে মো. বাদল মিয়া বিভিন্ন সময়ে টাকা আত্মসাতের জন্য বিভিন্ন কায়দায় প্রতারণামূলকভাবে সরকারপাড়া জামে মসজিদের নামে বাৎসরিক ধানের টাকা, সাপ্তাহিক মুসুল্লিদের দানের উত্তোলনের টাকা ও বাৎসরিক ২ টি ওয়াজ মাহফিলের টাকাসহ প্রায় ২০,০০০০০/-( বিশ লক্ষ) টাকা আত্মসাৎ করেছে।

এই টাকার বিষয়ে গ্রামের মুসুল্লিদের নিয়ে একটি বিচার মজলিশ বসা হয় এবং টাকা আত্মসাতের প্রমান হয়। এমনকি মসজিদের হিসাবের খাতার মধ্যেও হিসাবের দুর্নীতির বিভিন্ন প্রমান রয়েছে।

মসজিদের হিসাব নিকাস সাবেক সেক্রেটারী আব্দুল কাদেরের পরিবর্তে সাবেক কোষাধ্যক্ষ বাদল মিয়া দায়িত্ব পালন করতো। এই টাকা চাইতে গেলে বিবাদী মো. বাদল মিয়া কোন টাকা না দিয়ে গত ২১ জুলাই তার ছেলেসহ ৫/৭ জন নিয়ে মেরে ফেলাসহ বিভিন্ন হুমকী প্রদর্শন করে।

ফলে এ ঘটনায় গ্রামে বড় ধরনের সংঘর্ষ হওয়ার উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন সময় বিবাদী পক্ষ আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করতে পারে।

এ বিষয়ে ভাওড়া এলাকার সেনাবাহীনী (অব:) সার্জেন মোকতার হোসেন লেবু, সরকারপাড়া জামে মসজিদের কোষাধক্ষ্য সাহাদৎ হোসেন, মাহফুজুল হক পিন্টু করিম মিয়া,মির্জাপুর এস কে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক লিয়াকত আলী খাঁন, আল মামুন খাঁন, রিপন মিয়াসহ অনেকে্ই এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

বিবাদী সাবেক মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ মো. বাদল মিয়া সাথে মোবাইলে কথা বললে বিষয়টি অস্বিকার করে।

অপর দিকে মসজিদের দানবাক্স ভেঙ্গে ও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে বর্তমান কমিটি প্রায় ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে সাবেক কমিটি অর্থাৎ বিবাদী অবসর প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় গত ২৬ জুলাই একটি পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন।

এদিকে মসজিদ কমিটি ও অর্থ আত্মসাৎ নিয়ে দুই পক্ষ থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সরকারপাড়া জামে মসজিদের সাবেক সাধারন সম্পাদক মো. আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, মসজিদের সেক্রেটারী আমি ছিলাম। আমার চাকুরীর কাজে ব্যাস্ত থাকায় মসজিদের হিসাব নিকাসের সমস্ত দায়িত্ব বাদল মিয়া পালন করত। দুইটি অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন বর্তমান সভাপতি /সাধারন সম্পাদক থানায় অভিযোগ করায় দ্বিতীয় পক্ষও থানায় অভিযোগ করেছে। তালা ভেঙ্গে টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমি জানিনা।

বিগত দির্ঘ সময় যাবৎ আমাদের ভাওড়া এলাকায় এই দুই পক্ষের সাথে পাল্টাপাল্পি রেশারেশি হয়ে আসছে। শেষ বয়সে মানসম্মান নিয়ে চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ভাওড়া ইউনিয়নের সরকারপাড়া জামে মসজিদের টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ পেয়েছি অতি শিগ্রই তদন্ত সাপেক্ষে এর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মির্জাপুর থানার এস আই মো.আরিফ তালুকদার বলেন, সাবেক কমিটির হিসেবে কিছু গরমিল আছে। টাকা আত্মসাতের প্রমান পাওয় গেছে। অপরদিকে বিবাদী পক্ষও একটি একটি অভিযোগ দায়ের করেছে তদন্ত চলমান আছে। সম্পূর্ন ভাবে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগ প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

(স্টাফ রিপোর্টার, ঘাটাইল ডট কম)/-

সর্বশেষ - প্রচ্ছদ