ghatail.com
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ শ্রাবণ, ১৪২৮ / ০৩ আগস্ট, ২০২১
ghatail.com
yummys

হারানো যৌবন ফিরিয়ে দিয়ে শক্তি বৃদ্ধি করে রসুন


ghatail.com
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম
১৮ জুলাই, ২০২১ / ১৭৩ বার পঠিত
হারানো যৌবন ফিরিয়ে দিয়ে শক্তি বৃদ্ধি করে রসুন

রসুন কেবল একটি মসলাই নয়, এর একাধিক ওষুধিগুণ রয়েছে, এ কথা কম বেশি সবারই জানা। আয়ুর্বেদ ও হেকিমিশাস্ত্রে অনেক আগে থেকেই ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রসুনে জীবাণু ও কীটনাশক গুণও রয়েছে। মূলত মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হলেও রসুনের পুষ্টিমূল্যও কম নয়। এছাড়াও ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখার পাশাপাশি বয়স ধরে রাখার জন্যও রসুনের কোনো বিকল্প নেই।

রসুন হল পিঁয়াজ জাতীয় একটি ঝাঁঝালো সবজি যা রান্নার মশলা ও ভেষজ ওষুধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। গাছ একটি সপুষ্পক একবীজপত্রী লিলি শ্রেণীর বহুবর্ষজীবী গুল্ম। বৈজ্ঞানিক নাম অ্যালিয়াম স্যাটিভাম (Allium sativum)।

রসুনের নানা উপকারের কথা জানা যায়। ঘাটাইল ডট কম কম পাঠকদের জন্য এগুলো তুলে ধরা হল-

১। ব্রণের সমস্যায় ভোগেন অধিকাংশ নারী। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নানা রকম পদ্ধতি অবলম্বন করেন তারা। কিন্তু খুব অল্প সময়ে ব্রণ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য রসুনের কোনো বিকল্প নেই। এক কোয়া রসুনের রস ব্রণের উপর লাগিয়ে পাঁচ মিনিট রেখে তা ধুয়ে ফেলুন। কয়েকদিন পরে ফলাফল দেখলে চমকে যাবেন আপনি।

২। এক কোয়া রসুন এবং অর্ধেক টমেটো দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। ওই মিশ্রনটি মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন গোটা মুখ। ট্যান উঠে গিয়ে দেখবেন চকচক করছে আপনার ত্বক।

৩। সন্তান জন্মের পর অনেক নারীর পেটে দাগ হয়ে যায়। শাড়ি পড়লে সেই দাগ মোটেও দেখতে ভালো লাগে না। এই সমস্যার জেরে শাড়ি পরার সময় অনেক ভাবনাচিন্তা করতে হয়। জানেন কী, এই সমস্যা থেকেও মুক্তি দিতে পারে এক কোয়া রসুন। অলিভ অয়েলের সঙ্গে রসুনের রস মিশিয়ে কয়েকদিন ব্যবহার করলেই মিলবে ফল।

৪। অনেকের ত্বকেই লাল-লাল দাগ দেখা যায়। দানা দানা আকারে বেরোয় ব়্যাশ। হাত, কনুই এমনকি মুখেও মাঝে মাঝে এই দাগ দেখা যায় অনেকের। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে রসুনের জুড়ি মেলা ভার।

৫। এ তো গেল ত্বকের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে রসুনের ব্যবহার। কিন্তু জানেন, শুধু ত্বকের সমস্যাই নয়, হারানো যৌবনকে ফিরিয়ে দিতে পারে এক কোয়া রসুন। মধু এবং লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে এক কোয়া করে রসুন খান। দেখবেন, বয়সের কোঠা ৪০ পেরোলও, আপনাকে দেখলে মনে হবে বছর ২০ এর তন্বী।

৬। ব্যবহার মসলা হিসেবে রসুন ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া বিভিন্ন আচার ও মুখরোচক খাবার তৈরিতে রসুনের ব্যবহার রয়েছে। রসুন যেমন আমাদের রসনাতৃপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়, তেমনি রসুন দিয়ে নাকি ভ্যাম্পায়ার তাড়ানো হয়। শতকের পর শতক ধরে রসুন নিয়ে এমনই সব কাহিনি ছড়িয়ে রয়েছে। এর মধ্যে এমনকিছু ‘মিথ’ আছে, যা ৭০০০ বছরেরও বেশি পুরানো।

৭। ইউরোপে ‘হোয়াইট ম্যাজিক’-এর নাকি মূল মাধ্যমই হচ্ছে রসুন। এমনকী, এই রসুন দিয়ে ইউরোপিয়ানরা ভ্যাম্পায়ারদের মোকাবিলা করেন। রসুনের মালা বা রসুন ঘরের সামনে ঝুলিয়ে রাখলে ভ্যাম্পায়াররা আসতে পারে না বলে বিশ্বাস।

৮। ইসলাম মতে রসুন খেয়ে মসজিদে যাওয়া মানা। কারণ, রসুনের গন্ধে আল্লার নাম করতে গিয়ে মন অন্যদিকে চলে যেতে পারে। হিন্দুরাও এই একই কারণে ভগবানের পুজো-অর্চনার সময়ে বা মন্দিরে যেতে গেলে রসুনকে এড়িয়ে চলেন। কারণ, রসুনের গন্ধে মনের পবিত্রতা নষ্ট হয় বলে বহু হিন্দু মনে করেন।

৯। কর্পূরের সঙ্গে পোড়া রসুন মেশালে মশা, মাছি, পোকামাকড়ের হাত রেহাই পাওয়া যায়। রসুনকে পিষে পানির সঙ্গে মিশিয়ে ঘর মুছলেও পোকা-মাকড়ের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

১০। রসুনে ১৭ মাত্রার অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে। এই অ্যামিনো অ্যাসিড শরীরের ভিতরের অঙ্গ-প্রতঙ্গগুলোকে কাজ করতে সাহায্য করে। কারণ, মানুষের শরীরে ৭৫ শতাংশে থাকে এই অ্যামিনো অ্যাসিড।

১১। চাইনিজ খাবারে রসুন বেশি ব্যবহার হওয়ার কারণ সেখানে বিশ্বের ৬৬% রঁসুন উৎপাদন হয়।

১২। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জখম সৈনিকদের গ্যাংগ্রিনের চিকিৎসাতে সালফারের ভাণ্ডার কম পড়লে রসুন ব্যবহার করা হত।

১৩। রসুন হার্টের পক্ষে খুবই ভাল। কারণ, কাঁচা রসুন খেলে কোলেস্টোরল কমে। সর্দি-কাশিতেও রসুনের পথ্য মারাত্মক রকমের কার্যকারি।

১৪। হাত থেকে রসুনের গন্ধ দূর করতে, ঠান্ডা জলের মধ্যে স্টিলের বাসনে হাত ঘসুন। গন্ধ দূর হবে।

১৫। বিভিন্ন মিষ্টি জাতীয় খাবারেও রসুন ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘লাসুন কি ক্ষীর’।

১৬। ভেষজ ব্যবহার রসুন বিশ্বে বাণিজ্যিক ভেষজ হিসাবে সফলতম। ২০০৪ সালে ২৭ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ভেষজ রসুনজাত ওষুধ বিক্রয় হয়

১৭। রসুন নিম্নলিখিত উপকার করে বলে মনে করা হয়ঃ রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম করে। রক্তচাপ কম করে। করনারি (হার্ট) ধমনী রোগে উপকারী। ক্রিয়া প্রণালী দুর্গন্ধযুক্ত ভেষজ গুণবাহী যৌগ অ্যালিসিন এর প্রধান সক্রিয় উপাদান অ্যালিসিন নামক সালফারযুক্ত জৈব যৌগ। অ্যালিসিন রসুনের কুখ্যাত গন্ধ ও বিখ্যাত ভেষজ গুণ দুইয়ের-ই প্রধাণ কারণ। অক্ষত রসুনে অ্যালিসিন থাকে না, থাকে অ্যালিইন - একটি অ্যামিনো অ্যাসিড যা প্রোটিন তৈরীতে অংশ গ্রহণ করে না (যা নিজে আরেক অ্যামিনো অ্যাসিড সিস্টিন থেকে তৈরি হয়)। রসুনকে কাটলে বা ক্ষত করলে অ্যালিনেজ নামে একটি উৎসেচক অ্যালিইন থেকে অ্যালিসিন তৈরি করে। অ্যালিসিন খুবই স্বল্পস্থায়ী। রান্না করলে বা অ্যাসিডের প্রভাবে অ্যালিনেজও নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। তাই ভেষজ গুণের জন্য কাঁচা রসুন বেশি উপকারী। অ্যালিসিন দেহে কোলেস্টেরল তৈরির উৎসেচক এইচএমজিকোএ রিডাক্টেজকে বাধা দেয় বলে জানা গেছে। অনেকে বিশ্বাস করেন অণুচক্রিকার উপরে কাজ করে এটি রক্ততঞ্চনে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, যা হৃদরোগে উপকারী।

১৮। পুষ্টি মূল্য রসুনে আমিষ, প্রচুর ক্যালসিয়াম ও সামান্য ভিটামিন ‘সি’ থাকে।

১৯। ভেষজ গুণ ১) কৃমি নাশক ২) শ্বাস কষ্ট কমায় ৩) হজমে সহায়তা করে ৪) প্রস্রাবের বেগ বাড়ায় ৫) শ্বাসনালীর মিউকাস বের করে দেয় ৬) এ্যাজমা রোগীর উপশম দেয় ৭) হাইপারটেনশন কমায় ৮) চুল পাকানো কমায় ৯) শরীরে কোলেস্টেরল লেভেল কমায় ১০) হাড়ের বিভিন্ন রোগ সারায়।

রসুন বীর্য ও যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে

বীর্য ও যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে পুরুষের যৌন অক্ষমতার ক্ষেত্রে রসুন খুব ভালো ফল দিয়ে থাকে। রসুনকে 'গরীবের পেনিসিলিন' বলা হয়। কারণ এটি অ্যান্টিসেপ্টিক হিসাবে কাজ করে আর এটি অতি সহজলভ্য সবজি যা আমারা প্রায় প্রতিনিয়ত খাদ্য হিসাবে গ্রহন করে থকি।

আপনার যৌন ইচ্ছা ফিরে আনার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার খুবই কার্যকরী।

কোন রোগের কারণে বা দুর্ঘটনায় আপনার যৌন ইচ্ছা কমে গেলে এটি আপনাকে তা পুনরায় ফিরে পেতে সাহায্য করে। এছাড়া যদি কোন ব্যক্তির যৌন ইচ্ছা খুব বেশী হয়বা তা মাত্রাতিরিক্ত হয় যার অত্যধিক প্রয়োগ তার নার্ভাস সিস্টেমের ক্ষতি করতে পারে এমন ক্ষেত্রে ও রসুন বেশ কার্যকর।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি মিলিলিটার শুক্রাণুতে ২০ মিলিয়নের কম স্পার্ম থাকলে যেকোনো পুরুষ অনুর্বর হতে পারেন। বাজে খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, অ্যালকোহল, অনিয়ন্ত্রিত জীবন, ব্যায়ামে অনীহা প্রভৃতি কারণে দিন দিন অনুর্বরতা বাড়ছে। এক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক মসলা রসুন। কেননা সুস্থ Semen (বীর্য) তৈরিতে রসুনের জুড়ি মেলা ভার।

ব্যবহার প্রণালী:

প্রতিদিন নিয়ম করে কয়েক কোয়া কাঁচা রসুন খেলে শরীরের যৌবন দীর্ঘ স্থায়ী হয়। যারা পড়ন্ত যৌবনে চলে গিয়েছেন, তারা প্রতিদিন দু'কোয়া রসুন খাঁটি গাওয়া ঘি-এ ভেজে মাখন মাখিয়ে খেতে পারেন। তবে খাওয়ার শেষে একটু গরম পানি বা দুধ খাওয়া উচিত। এতে ভালো ফল পাবেন।

যৌবন রক্ষার জন্য রসুন অন্যভাবেও খাওয়া যায়।

কাঁচা আমলকির রস ২ বা ১ চামচ নিয়ে তার সঙ্গে এক বা দুই কোয়া রসুন বাটা খাওয়া যায়। এতে স্ত্রী-পুরুষ উভয়ের যৌবন দীর্ঘস্থায়ি হয়।

সতর্কতা:

যাদের শরীর থেকে রক্তপাত সহজে বন্ধ হয় না, অতিরিক্ত রসুন খাওয়া তাদের জন্য বিপদ জনক। কারণ, রসুন রক্তের জমাট বাঁধার ক্রিয়াকে বাধা প্রদান করে। ফলে রক্তপাত বন্ধ হতে অসুবিধা হতে পারে।

তাছাড়া অতিরিক্ত রসুন শরীরে এলার্জি ঘটাতে পারে। এসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রসুন না খাওয়াই উত্তম। রসুন খাওয়ার ফলে পাকস্থলীতে অস্বস্তি বোধ করলে রসুন খাওয়া বন্ধ রাখুন। শিশুকে দুগ্ধদানকারী মায়েদের রসুন না খাওয়াই ভালো। কারণ রসুন খাওয়ার ফলে তা মায়ের দুধের মাধ্যমে শিশুর পাকস্থলীতে ঢুকে শিশুর যন্ত্রণার কারণ ঘটাতে পারে। বিষয়গুলি সম্পর্কে সতর্ক থাকবেন। 

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-