ghatail.com
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ শ্রাবণ, ১৪২৮ / ০৩ আগস্ট, ২০২১
ghatail.com
yummys

ঘাটাইলে কামারদের এখন দুর্দিন


ghatail.com
মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঘাটাইল ডট কম
১৮ জুলাই, ২০২১ / ১৫০ বার পঠিত
ঘাটাইলে কামারদের এখন দুর্দিন

বিদেশী কমদামী পণ্যের কারণে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে টিকছে না। অপরদিকে কাঁচামালের দাম ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ দ্বিমুখী সমস্যায় বিপর্যস্ত টাঙ্গাইলে ঘাটাইলের কামারশিল্প। ফলে এ শিল্পের সাথে জড়িত মালিক এবং শ্রমিকদের এখন ভীষণ দুর্দিন।  

তাদের জীবনে বিপর্যয় শুরু হয় ১৯৯৫ সালের পর। এর আগে তারা দেশীয় প্রযুক্তি ও কাঁচামাল ব্যবহার করে পাওয়ার টিলারের ফাল উৎপাদ করে দারুণ সাফল্য পায়। দামে সস্তা হওয়ায় দেশব্যাপী এর ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়।

তখন এ শিল্পকে ঘিরে ঘাটাইলের পাকুটিয়া বাজারের আশপাশে চার শতাধিক কামারসহ প্রায় ৩হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। সেই সঙ্গে বেড়ে যায় তাদের আয় রোজগার। সে সময় চীনের এক সেট ফালের দাম ছিল ১হাজার ২০০টাকা। পক্ষান্তরে পাকুটিয়ার এক সেট ফালের দাম ছিল তিনশ পঞ্চাশ টাকা। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়।

কামার মঙ্গল চন্দ্র আদিত্য জানান, মাত্র তিন বছরের মধ্যে চীনের ফালের দাম ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে কমে ছয়শ টাকা হয় আর পাকুটিয়ার ফালের দাম ৩৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০০ টাকা হয়। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণেই এই বিপর্যয় নেমে আসে বলে মঙ্গল চন্দ্র জানান। 

বর্তমানে পাকুটিয়ার কামারদের বড় দুর্দিন। ফালশিল্প ধ্বংসের পর তারা অ্যাঙ্গেল তৈরির কাজ করতো। এটাও বেশ লাভজনক ছিল। কিন্তু বাজারে স্বয়ংক্রিয় কারখানায় প্রস্তুত অ্যাঙ্গেল চলে আসায় হাতে তৈরি অ্যাঙ্গেলের চাহিদা কমে গেছে।

দোলক কুমার রায় এই পেশার সাথে জড়িয়ে আছেন বংশ পরম্পরায়। আর্থিক দেনায় বিপর্যস্ত দোলক কুমার বলেন, ‘আমরা যে ডাল ধরি সে ডাল ভাইঙ্গা পড়ি।’

কারখানার মালিক বাবুল কিরিটি বলেন, প্রচলিত পণ্য যেমন দা, বটি, ছুরি বানিয়ে তো আর শিল্প চলে না। এর সাথে বিপুল সংখ্যক মালিক, শ্রমিক এবং বড় অংকের পুঁজি জড়িত। তাই বিপুল পরিমাণ পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত না করতে পারলে তো শিল্প টিকবে না। 

কাজকর্ম না থাকায় এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ কামরই এখন বেকার।

বাবুল কিরিটি জানান, মাত্র ৪০টি পরিবার বর্তমানে এ শিল্পের সাথে জড়িত আছে। অন্যরা এ পেশায় টিকতে না পেরে রিকশা-ভ্যান চালাচ্ছে। কেউ কেউ গার্মেন্টসে কাজ করছে। 

ভোলা কর্মকার, প্রভাত কর্মকার, গৌতম কর্মকার, সুশীল আদিত্য বলেন, আমাদের সংসার আর চলছে না। তারা আরও বলেন, আগে দেশের ফাল চাহিদার প্রায় পুরোটাই পাকুটিয়ার ফাল দ্বারা পূরণ হতো। ফালশিল্পকে কেন্দ্র করে সহযোগী অনেক শিল্প গড়ে ওঠেছিল। এর মধ্যে কাটিং, ড্রিলিং ও গ্রাইন্ডিং অন্যতম। এ ছাড়া বিপুল সংখ্যক শ্রমিক উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করণের সাথে যুক্ত ছিলেন। তারা সবাই আজ বেকার। 

(মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঘাটাইল ডট কম)/-