ghatail.com
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ শ্রাবণ, ১৪২৮ / ০৩ আগস্ট, ২০২১
ghatail.com
yummys

ছাতা নিয়ে কিছু কথা


ghatail.com
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম
১৫ জুলাই, ২০২১ / ১২০ বার পঠিত
ছাতা নিয়ে কিছু কথা

বৃষ্টির দিনে এখন কত মানুষ তো রেনকোট বা বর্ষাতি পরেন। কিন্তু বর্ষাকালের আসল ‘প্রোটেকশন’ বা ‘অ্যান্টিবায়োটিক’ তো ছাতা! ছাতা, ছত্র, ছত্রী, ছাতি, রোদ বা বৃষ্টি হতে মাথা বাঁচাবার জন্য প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। পরে রংবেরঙের ছাতা কখনো ফ্যাসন কখনো মর্যাদার প্রতীক হিসাবেও বহুভাবে ব্যবহার হয়েছে ।

বর্ষা মানেই ছাতা। সবাই এমনটাই ভাবেন। অথচ, ছাতার আবিষ্কার কিন্তু একেবারেই বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য তৈরি হয়নি। বরং, ছাতার আবিষ্কার হয়েছে রৌদ্র থেকে বাঁচার জন্য! আমব্রেলা শব্দটি এসেছে ল্যাটিন ‘আমব্রা’ শব্দ থেকে। এই ‘আমব্রা’ শব্দের অর্থ হল, ছায়া। সূর্য থেকে রক্ষা পেতে কৃত্রিম ছায়ার জন্যই আবিষ্কার ছাতা কিংবা আমব্রেলার!

ছাতার আবিষ্কার চীনে। এবং সেটাও প্রায় তিন হাজার বছর আগে! জাপানিরা আবিষ্কার করার পর, ছাতার ব্যবহার শুরু করেন, কোরিয়ানরা। তারপর এশিয়ার আরও কিছু দেশ। এরপরই ছাতা পাড়ি দেয় ইউরোপে। রোমানদের কাছে তো ছাতা খুবই পছন্দের এবং প্রিয় হয়ে উঠেছিল। ইউরোপের নবজাগরণের সময়েও ছাতার ব্যবহারের কথা জানা যায়।

চীনে যখন ছাতা আবিষ্কার শুরু হয়, তখন ছাতার ব্যবহার ছিল শুধুমাত্র মেয়েদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পুরুষ কিন্তু ছাতার ব্যবহার শুরু করেছে, অনেক পরে। আর মেয়েদের ব্যবহারের জিনিস হলেও, সব মেয়েরা শুরুর দিকে ছাতার ব্যবহার করতে পারত না। শুধুমাত্র সমাজের সম্ভ্রান্ত এবং আর্থিকভাবে শক্তিশালী পরিবারের মহিলারাই ছাতার ব্যবহার করতেন। ছাতা ছিল সামাজিক প্রভাব, প্রতিপত্তির প্রতীক।

জানেন কি আজকের দিনেও সব চেয়ে বেশি ছাতা কোন শহরে তৈরি হয়? অবশ্যই চীনে। সে দেশের সংজিয়া শহরে পৃথিবীর সবথেকে বেশি ছাতা তৈরি হয়। সেই জন্যই সংজিয়াকে ‘পৃথিবীর ছাতা’-ও বলা হয়। গোটা চীনে যত পরিমাণ ছাতা তৈরি হয়, তার ৩০ শতাংশেরও বেশি তৈরি হয় সংজিয়াতেই। শুধু এই শহরেই ছাতার হাজারেরও বেশি কারখানা রয়েছে!

এই শহরের একজন ছাতা কর্মচারী সারাদিনে কম করে ৩০০ টি ছাতা তৈরি করেন। আরও ভালো করে বললে, তাঁরা প্রতি ঘণ্টায় ৪০ টি ছাতা তৈরি করেন গড়ে!

যেহেতু ছাতা ছিল মেয়েদের ব্যবহারের জিনিস, তাই ছেলেদের এটা ব্যবহার করা হত না। জানেন প্রথম প্রকাশ্যে ছাতা ব্যবহার করেছিলেন কোন পুরুষ? এক ইংরেজ। নাম, জোনাস হানওয়ে। তাঁকে দেখার পর থেকেই ইউরোপে পুরুষরা ছাতা ব্যবহার করা শুরু করেন।

পুরুষরা ছাতা ব্যবহার করার পর থেকে, এটা আর শুধু রোদ্র থেকে বাঁচার জিনিস রইল না। বরং, ছাতাই হয়ে গেল, আত্মরক্ষার অন্যতম অস্ত্র! বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট জিওর্জি মারকোভ তো নিজের নিরাপত্তার জন্য ছাতার মধ্যে সরু তরোয়াল লুকিয়ে রাখতেন!

ছাতার বাঁট বাংলাদেশের মাথাল সদৃশ বাঁটহীন। হাতে ধরার দণ্ড। অনেক সময় হাতল ধরার বা ঝুলিয়ে রাখার সুবিধার্থে আঁকশির মত বাঁকা হয়। অনেক ক্ষেত্যে ছাতার বাঁট থাকে না, মাথায় সাঁটানো হয়। ছাতার উপরের অংশ কাপড়ের ছাতা তালপাতার ছাতা কাঠের ছাতা হিউয়েন সাঙ ইত্যাদি পরিব্রাজকদের পিঠে বাঁধা ছাতা ভাঁজ করা ছাতা ছত্রবাহক রাজারাজড়াদের সঙ্গে তাদের মাথায় ছাতা ধরে ছত্রবাহক ঘুরত।

ব্যাঙের ছাতা বেসিডিওমাইসেটস জাতীয় ছত্রাককে ব্যাঙের ছাতা বলা হয়, কারণ এরা দেখতে অনেকটা খোলা ছাতার মত লাগে। সাহিত্যে কল্পবিজ্ঞানে ছাতা হতে পারে প্যারাশুট, নৌকা ইত্যদি।

(নিজস্ব প্রতিবেদক, ঘাটাইল ডট কম)/-