ghatail.com
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ শ্রাবণ, ১৪২৮ / ০৩ আগস্ট, ২০২১
ghatail.com
yummys

টেস্টে মাহমুদউল্লাহ বিদায়ের মঞ্চে রেকর্ড গড়া জয় বাংলাদেশের


ghatail.com
তরিকুল ইসলাম সজল, ঘাটাইল ডট কম
১১ জুলাই, ২০২১ / ৯৯ বার পঠিত
টেস্টে মাহমুদউল্লাহ বিদায়ের মঞ্চে রেকর্ড গড়া জয় বাংলাদেশের

দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের আসরের ফাইনালের রেশ তখনও কাটেনি। ২৮ বছর পর শিরোপা উল্লাসে মেতেছে আর্জেন্টিনা। এতে বৈশ্বিক কোনও আসরের বিজয় মুকুট উঠেছে সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির মাথায়। সেই আঁচ নিশ্চয়ই জিম্বাবুয়ে বসে টের পেয়েছেন সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালরা। এ ম্যাচের কথা অবশ্য ভুলে থাকতে চাইবেন তামিমের মতো ব্রাজিল সমর্থকরা।

সাকিব, তাসকিনরা প্রিয় দলের বিজয় আনন্দ নিয়েই হারারে টেস্টের পঞ্চম দিনে (রোববার) মাঠে নামেন। আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মেসির হাতে বড় কোনও শিরোপা উঠার দিনে গোটা দেশকে বড় এক ধাক্কাই তো দিলেন তিনি। দিন দুয়েক আগে টেস্ট ফরম্যাট থেকে তার অবসরের গুঞ্জন উঠলেও সেটি নিয়ে তিনি নিজে কোনও মন্তব্য করেননি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকেও দেওয়া হয়নি কোন বার্তা। সবাই যেন নিশ্চুপ।

তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের পঞ্চম দিনের শুরুতেই বিষাদ ছুঁয়ে যায় এদেশের ক্রিকেটে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় না বললেও এদিন খেলা শুরুর আগে মাহমুদউল্লাহকে গার্ড অব অনার দেন সতীর্থরা। এতে আর বুঝতে বাকি রইলো না, সাদা পোশাকের ক্রিকেটে আর দেখা যাবে না মাহমুদউল্লাহকে। টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কের এমন বিদায়ের মঞ্চ আলোকিত করেছে বাংলাদেশ দল।

পূর্ণাঙ্গ সিরিজের সফরের একমাত্র টেস্টে স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে ২২০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে টাইগাররা।

ইতিহাস জানাচ্ছে, রানের হিসেবে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। এর আগে এই হারারেতেই ২০১৩ সালে ১৪৩ রানে জিতেছিল সফরকারীরা। এমনকি প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়েতে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল টাইগাররা।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই জয়ের পর নিন্দুকেরা বলতেই পারেন, এ আর এমন কি! তুলনামূলক দুর্বল জিম্বাবুয়েকে বাগে পেয়ে নাস্তানাবুদ করবে বাংলাদেশ, সেটিই তো স্বাভাবিক বৈকি! আর এটি তো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশও নয়। র‍্যাঙ্কিংয়ের নিচে থাকা জিম্বাবুয়ে বিপক্ষে একটি জয়ই তো! তবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের কাছে এটি কেবলই কি একটি জয়?

তার থেকেও বেশি কিছু নিশ্চয়ই। সবশেষ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে কোনও ম্যাচই জিততে পারেনি অধিনায়ক মুমিনুল হকের দল। এই ফরম্যাটে সবশেষ জয়টিও এসেছে ৫ ম্যাচ আগে। এই জয় দিয়ে লাল-সবুজ শিবিরে স্বস্তি ফিরেছে, সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে পরিষ্কার ফেভারিটের তকমা নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। তার ছাপ মেলে গোটা দলের অনবদ্য পারফম্যান্সে। দুই ইনিংস মিলিয়ে জিম্বাবুয়ের মাথায় পাহাড়সম রানের বোঝা চাপিয়ে দেয় সফরকারীরা। বিশাল রানের লক্ষ্য টপকাতে নেমে অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর ছাড়া স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের আর কেউই সুবিধা করতে পারেননি।

৪৭৭ রানে লক্ষ্য তাড়ায় নেমে পঞ্চম ও শেষদিনের দ্বিতীয় সেশনে ২৫৬ রানে থামে জিম্বাবুয়ের ইনিংস। এতে একমাত্র টেস্টে ২২০ রানে জয় পায় বাংলাদেশ। হারারে টেস্টের প্রথম ইনিংসে বল হাতে সফল ছিলেন টাইগার স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। সাকিব আল হাসান ৪ উউকেট নিলেও ৫ উইকেট নিয়ে সফল বোলারের তালিকায় উপরে এই অফ স্পিনার।

দ্বিতীয় ইনিংসে প্রতিপক্ষ বধে আপসহীন মিরাজ। ২২০ রানে জয়ে এনে দিতে পরে বল হাতে নেন আরও ৪ উইকেট। দুই ইনিংস মিলিয়ে মিরাজ শিকার করেন ৯ জিম্বাবুইয়ান ব্যাটসম্যানকে। এর আগে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অভিষেক সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে ৫ রানের আক্ষেপে পুড়তে হয় লিটন দাসকে। এই ফরম্যাটে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে ৯৫ রানে আউট হন তিনি।

শেষদিকে অনবদ্য ব্যাটিংয়ে ৭৫ রান করেন রাসকিন। লিটন না পারলেও বাজিমাত করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর টেস্ট দলের বাইরে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। এবারের জিম্বাবুয়ে সফরের আগে হঠাৎ করেই ডাক পড়ে তার টেস্ট দলে। দলের দুই সিনিয়র ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের ইনজুরির শঙ্কায় তাকে শেষদিকে দলে নেয় নির্বাচকরা। এরপর একাদশেও সুযোগ আসে।

সেটি কাজে লাগাতে ভুল করেননি ৩৫ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার, নিজের পঞ্চাশ তম টেস্ট খেলতে নেমে ক্যারিয়ার সেরা দেড়শ রানের ইনিংস উপহার দেন তিনি। এই ম্যাচ খেলেই অবশ্য সাদা পোশাকের ক্রিকেটকে বিদায় বলছেন তিনি। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দেড়শ রানের সৌজন্যে স্কোর বোর্ডে ৪৬৮ রান তোলে টাইগাররা। পরে জিম্বাবুয়ে তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামলে মিরাজ ও সাকিবের ঘূর্ণির সামনে সুবিধা করতে পারেনি।

স্বাগতিকদের ইনিংস থামে ২৭৬ রানে। এতে ১৯২ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে অধিনায়ক মুমিনুল হকের দল। পরে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পান সফরকারী ব্যাটসম্যানরা। ওপেনার সাইফ হাসান ৪৩ রান করে আউট হলেও দমানো যায়নি সাদমান ইসলাম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে। দীর্ঘদিন ধরেই রান খরায় ভুগছিলেন দুজন।

সুযোগ কাজে লাগিয়ে সপ্তম টেস্ট খেলতে নেমে নিজের অভিষেক সেঞ্চুরি তুলে নেন সাদমান, অপরাজিত থাকেন ১১৫ রানে। টেস্টে নিজের দ্বিতীয় শতকের স্বাদ পাওয়া শান্ত অপরাজিত থাকেন ১১৭ রানে। এতে ১৮৪ রান তুলে ইনিংসে ঘোষণা করে বাংলাদেশ।

আগের ইনিংসের লিড মিলিয়ে জিম্বাবুয়ের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭৭ রানের। এই রান টপকানোরে জন্য প্রায় সাড়ে চার সেশন বা ১৩০ ওভারের মতো সময় পায় জিম্বাবুয়ে। রীতিমতো অসম্ভব এই টার্গেট টপকাতে নেমে ব্যক্তিগত ১১ রানেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার মিল্টন শুম্বা। এরপর ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন টেলর। তুলে নেন এই ফরম্যাটে নিজের ১২তম ফিফটি। পরে অবশ্য টেলর ঝড় থামান মিরাজ, টেলর আউট হন ৯২ রান করে।

ম্যাচের শেষদিনে আজ (রোববার) জয়ের জন্য বাংলাদেশ দলের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট।

প্রথম সেশনে তাসকিন-মিরাজরা ৪ উইকেট তুলে নিলেও পথ আগলে দাঁড়ান ডোনাল্ড ত্রিপানো। খেলেন ৫২ রানের ইনিংস। এতে অবশ্য জয় আটকানো যায়নি টাইগারদের। পরে খানিক সময় লাগলেও জিম্বাবুয়েকে ২৫৬ রানে আটকে ফেলে সফরকারীরা।

এতে প্রথম এবং একমাত্র টেস্টে ২২০ রানের জয় পায় বাংলাদেশ।

লাল-সবুজের পক্ষে এ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪টি করে উইকেট পান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস :

৪৬৮/১০, ১২৬ ওভার (মাহমুদউল্লাহ ১৫০*, লিটন ৯৫, তাসকিন ৭৫; মুজারাবানি ৪/৯৪)

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস : ২৮৪/১ ডিক্লেয়ার, ৬৭.৪ ওভার (শান্ত ১১৭*, সাদমান ১১৫*, সাইফ ৪৩; এনগারাভা ১/৩৬)

জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস : ২৭৬/১০, ১১১.৫ ওভার (কাইতানো ৮৭, টেলর ৮১, শুম্বা ৪১; মিরাজ ৫/৮২)

জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংস : ২৫৬/১০, ৯৪.৩ ওভার (টেলর ৯২, ত্রিপানো ৫২, মুজারাবানি ৩০*; মিরাজ ৪/৬৬)

ফল : বাংলাদেশ ২২০ রানে জয়ী।

(তরিকুল ইসলাম সজল, ঘাটাইল ডট কম)/-