ghatail.com
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৮ আশ্বিন, ১৪২৮ / ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ghatail.com
yummys

সংবাদ প্রকাশের সপ্তাহ না যেতেই দেলদুয়ারে বৃদ্ধার বাড়িতে নতুন ঘর


ghatail.com
রেজাউল করিম, ঘাটাইল ডট কম
২৭ জুন, ২০২১ / ১৬৮ বার পঠিত
সংবাদ প্রকাশের সপ্তাহ না যেতেই দেলদুয়ারে বৃদ্ধার বাড়িতে নতুন ঘর

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ভাঙা চালের বৃষ্টি ফেরাতে পলিথিনের মশারি টাঙিয়ে থাকা সেই বৃদ্ধা এখন নতুন ঘরে। গত ১৮ জুন ঘাটাইল ডট কমে বৃষ্টি ফেরাতে দেলদুয়ারে বৃদ্ধের বিছানায় পলিথিনের মশারি শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

এরপর টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গণি ওই বৃদ্ধের ঘরের ব্যবস্থা করতে দেলদুয়ার উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। পরদিন দেলদুয়ার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা আক্তার, উপজেলা পিআইও, দেউলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. কামরুল ইসলাম (সাচ্চু), দেউলী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার (ইউপি সদস্য) মান্নান ওই বৃদ্ধের বাড়িটি পরিদর্শন করে তার ঘরটি বাসযোগ্য করার আশ্বাস দেন।

সংবাদ প্রকাশের সপ্তাহ না যেতেই ওই বৃদ্ধার বাড়িতে একটি নতুন ঘরের জন্য সরকারি সহযোগিতায় নতুন ঘর নির্মাণ হয়েছে। জড়াজীর্ণ ঘরটি ভেঙে নতুন ঘর নির্মাণ হওয়ায় বর্তমানে তিনি এখন নতুন ঘরে। এদিকে নতুন ঘর পেয়ে তিনি আনন্দে আত্মহারা।

বৃদ্ধা রাহেলা খাতুন জানান, সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় প্রশাসন তার ঘরটি পরিদর্শন করেন। দুদিন পরই সরকারি তহবিল থেকে ৯ হাজার টাকা এবং ৬ বান টিন তাকে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঘরের কাজ শুরু করেন। বর্তমানে ঘরের কাজ শেষ। চলছে ঘরের ডোয়া পাকাকরণ। দুদিনের মধ্যেই পাকাকরণ শেষ হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন ঘর পেয়ে আমি অনেক খুশি। কখনও ভাবিনি আমার থাকার জন্য নতুন ঘর হবে। এতো তাড়াতাড়ি ঘর পেয়ে তিনি সহযোগীদের জন্য দোয়া করেন।

দেলদুয়ার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা আক্তার বলেন, আমি ওই বৃদ্ধের ঘরটি পরিদর্শন করে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দিযেছি। অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঘর শেষ পর্যায়ে। পাকাকরণ শেষ হলে ওই বৃদ্ধা নতুন ঘরে উঠবে।

দেউলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামরুল ইসলাম (সাচ্চু) বলেন, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঘরটি নির্মাণ হয়েছে। প্রশাসনকে ধন্যবাদ। এছাড়া তিনি ঘরটি নির্মাণে সবসময় খোঁজ-খবর রাখছেন বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (দেউলী ইউনিয়ন) পাশর্^বর্তী চকতৈল গ্রামের খন্দকার মোশারফ বাপ্পী বলেন, বৃদ্ধের এমন অবস্থা দেখে আমি অনেকের কাছে সাহায্য চেয়েছিলাম। সরকারিভাবে ওই বৃদ্ধা ঘরের জন্য সহযোগিতা পেয়েছে। সরকারিভাবে ঘরটি পুনর্নির্মাণ হয়েছে। প্রথম থেকেই আমি নিজে, বর্তমান চেয়ারম্যান মো. কামরুল ইসলাম (সাচ্চু) ও স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) মান্নান সবসময় কাজের তদারকি করছি। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনও সবসময় খবর রাখছেন।

উপজেলা প্রশাসন ঘরের খরচের হিসাব রাখতে বলেছেন। ঘাটতি পরলে বাকি টাকা দেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে কেউ সহযোগিতা করলে সে অর্থ দিয়ে ওই বৃদ্ধাকে চলার একটি ব্যবস্থা করে দেওয়ারও পরিকল্পনা করছেন স্থানীয়রা।

প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের মাইঠাইন গ্রামের মৃত জয়েদ আলীর স্ত্রী রাহেলা খাতুন নামে ওই বৃদ্ধা দীর্ঘদিন যাবত একটি ভাঙা জড়াজীর্ণ ঘরে বসবাস করে আসছেন। ভাঙা চাল দিয়ে রোদ বৃষ্টি সহজেই ঘরে ঢুকত। বৃষ্টি ফেরাতে বিছানার মশারির উপর দিয়ে আরেকটি পলিথিনের মশারি টাঙিয়ে রাত্রি যাপন করতেন।

(রেজাউল করিম, ঘাটাইল ডট কম)/-

সর্বশেষ - প্রচ্ছদ