ghatail.com
ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ শ্রাবণ, ১৪২৮ / ০৩ আগস্ট, ২০২১
ghatail.com
yummys

অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা!


ghatail.com
রেজাউল করিম, ঘাটাইল ডট কম
১৫ জুন, ২০২১ / ১৯৬ বার পঠিত
অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা!

‘দেশের সব কিছু সচল, শুধু শিক্ষাব্যবস্থা অচল’ অধিকাংশ মানুষ এখন এমনটাই ভাবছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সময়সীমা বারবার বাড়ানোর সিদ্ধান্তে অদ্বিগ্ন পুরো জাতি। শিক্ষাব্যবস্থাকে সচল করার জোড়ালো পদক্ষেপ না থাকায় অনিশ্চয়তার পথে শিক্ষাব্যবস্থ। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির মেয়াদ ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে শিক্ষামন্ত্রনালয়।

১২ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে করোনা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়া এবং দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে আংশিকভাবে কঠোর লকডাউন কার্যকর থাকায়, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী ও অভিভাবকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তার বিবেচনায় এবং কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে পরামর্শক্রমে এ ছুটি বাড়ানো হয়েছে।

২০২০ সালের ১৭ মার্চ শেষ কর্মদিবসের পর ১৮ মার্চ থেকে লম্ভা সময় ছুটির কবলে দেশের সব ধরণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গত ২৬ মে এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ১২ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেন। ১৩ জুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত ছিল শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ওই ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে।

১২ জুন শনিবার ফের ৩০ জুন পর্যন্ত ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন শিক্ষা মন্ত্রনালয়। এ নিয়ে ২০ বার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সময়সীমা পেছালো। শিক্ষার্থী-অভিভাবক শিক্ষার্থীর আগাম দিনগুলো নিয়ে হতাশায় পড়েছেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি সমিক্ষায় দেখা গেছে, দেশের ৯৭ শতাংশ মানুষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পক্ষে। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এই অবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পরিস্থিতি হয়নি। এতে উভয় পক্ষের মতে ব্যাপক পার্থক্য থাকায় শিক্ষাব্যবস্থা অনেকটাই অনিশ্চয়তার পথে।

সবশেষে ১৩ জুন জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দ্বীপু মনি বলেছেন, পরীক্ষা না হলে এমন কোন বিরাট ক্ষতি হবে না। শিক্ষামন্ত্রীর এমন বক্তব্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়টি আরও অনিশ্চয়তা প্রকাশ পেয়েছে।

করোনার প্রভাবে লম্ভা সময় ধরে ক্যাম্পাস বন্ধ। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা থমকে আছে। বিশেষ করে, মফন্বল অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থা নাজুক। করোনা ভেঙে দিয়েছে শিক্ষার ভিতকে। কবে খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেউ জানেনা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে শিক্ষার্থীরা ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে।

দেশের সব কিছু সচল। রাস্তায় নিয়মিত যানবাহন চলছে, নদীতে লঞ্চ-স্টিমার সচল। ক্রেতারা নিয়মিত শপিংমলে যাচ্ছে। বিলাসবহুল শপিং মলের ফুড কোডগুলোতে ভোজনরসিক মানুষের প্রচন্ড ভিড়। পথেঘাটে পা রাখার জায়গা নেই। হাটবাজারে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো তোয়াক্কা নেই। কলকারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক। রাজনৈতিক মিছিল-সমাবেশে জনসমুদ্র। নির্বাচনী প্রচারণায় মানুষের ওপর মানুষ। বলা যায় দেশের সবকিছুই স্বাভাবিক।

অস্বাভাবিক শুধু দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। কিন্তু কেন এতোদিনেও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সচল করা গেল না, তা দেশের প্রতিটি মানুষকে চরমভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা আউটডোর গেম থেকে এখন আসক্ত হচ্ছে ইনডোর গেমে। স্মার্টফোন নামক যন্ত্রের পিছনে ঘুরে অল্প বয়সে হারাচ্ছে নৈতিকতা। বাড়ছে শিশুশ্রম,বাল্য বিবাহ। শিশু গ্যাং নিয়েও আতঙ্কে অভিভাবকরা।

গতবছরের ১৮ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়, যা আজও চলমান। সরকার শিক্ষা ব্যবস্থা সচল করার কিছু উদ্যোগ নিলেও সেগুলো আলোর মুখ দেখেনি। কবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছেনা।

কখনো বলা হচ্ছে আক্রান্তের হার ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে। আবার কখনও বলা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান করার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে।

বর্তমানে আমরা করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যদিয়ে যাচ্ছি। সীমান্তবর্তী জেলাসমূহে আক্রান্তের হার গড়ে ৪০ শতাংশেরও বেশি। দেশের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টিকা প্রদান করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাছাড়া যেসব শিক্ষকের বয়স ৪০ বছরের কম তাদের টিকা কার্যক্রম এখনও শুরুই করা যায়নি। আবার যারা টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন টিকা স্বল্পতার কারণে তাদের দ্বিতীয় ডোজ গগ্রহণ অনিশ্চিত ছিল।

যদিও টিকা এসেছে। টিকা কার্যক্রম বিঘ্ন হওয়ায় সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সকল শিক্ষার্থীকে সময়মত টিকা দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম সচল করা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের মানুষ শিক্ষা নিয়ে এমন সংকটে কোনদিন পড়েনি। করোনা দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে এমন সংকট সৃষ্টি করবে তা কেউ স্বপ্নেও ভাবেনি।

করোনার ভয়াবহতা সত্তে¡ও জীবন-জীবিকার তাগিদে শিল্প-কলকারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে হয়েছে। কলকারখানায় নিয়মিত শ্রমিক কাজ করছে। কিন্তু কেন জানি কোনো এক অজানা কারণে সবকিছু সচল থাকার পরও একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অচল করে রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে, মিছিল করছে ক্লাসে ফেরার দাবিতে।

শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন নিয়ে শঙ্কিত। তাদের বয়স বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ বৃদ্ধি করা হচ্ছে না চাকরিতে আবেদন করার বয়সসীমা। দেশে দিনদিন কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধনী-গরিবের ব্যবধান বাড়ছে।

দেশের উচ্চবিত্ত ও হোমরা-চোমরা গোছের অধিকাংশ মানুষের সন্তানেরা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করেনা বললেই চলে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় যে সমস্থ শিক্ষার্থী টিউশনি করে বা খন্ডকালীন চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করত বা তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করত, করোনা তাদের সে পথও রুদ্ধ করে দিয়েছে।

মূলত গ্রাম অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থায় পুরোটাই অচল। প্রযুক্তির অপ্রæতুলতা, সচেতনতার অভাব, অভিভাকদের অসচেতনতা, প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণে গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের অনীহা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। সরকার গ্রামীণ জনপদে শিক্ষাব্যবস্থাকেও সচল রাখার চেষ্টা করেছে তবে সেটা সফল হয়নি প্রযুক্তির অপ্রতুলতা ও অভিভাবকদের আর্থিক অসঙ্গতির কারণে।

১৫ মাস যাবৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় একবার এইচএসসি অটোপাস হয়েছে। এই সুযোগটা শিক্ষার্থীরা কাজে লাগাতে অনেক শিক্ষার্থী অন্যান্য ক্লাসেও অটোপাস চেয়ে রাস্তায় নেমেছিল। এরপরও আটকে আছে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা।

ফেব্রুয়ারির এসএসসি এখনও ফরম পূরণ শেষ হয়নি। একবার ফরম পূরণ শুরু হলেও অজ্ঞাত কারনে আবার বন্ধ রয়েছে। কোথাও কোথাও আবার শেষ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অনার্স মাস্টার্স পরীক্ষাও আটকে আছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে সেশনজট। কোন কোন পরীক্ষায় কয়েকটি পরীক্ষা শুরু হলেও মাঝপথে আটকে আছে বাকী পরীক্ষাগুলো।

একবার অটোপাস হওয়াতে পরীক্ষা ও পড়ালেখার প্রতি অনিহা চলে এসেছে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষাব্যবস্থা সচল করা না গেলে আবারও সরকারকে অটোপাসের দিকেই হাঁটতে হবে। এভাবে অটোপাস হলেও শিক্ষার মেরুদন্ড ভেঙে পড়বে। সুতরাং শিক্ষাকে সচল করার বিকল্প নেই।

দেশের বেসরকারি স্কুল গুলো ( বিশেষ করে কেজি স্কুল) ধ্বংসের শেষ প্রান্তে। স্টাফদের বেতনভাতা বন্ধ ও ঘরভাড়া দিতে না পারায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। এক্ষেত্রে শিক্ষিত বেকারত্ব বাড়ছে, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ পড়ছে। যেখান থেকে প্রাথিম শিক্ষা ঘুরে দাঁড়ানোটা কঠিন হয়ে পড়বে।

শিক্ষামন্ত্রীর কিছু বক্তব্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হতাশায় ফেলে। সেদিন শিক্ষামন্ত্রী বললেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য নাকি তাঁর প্রতি অভিভাবকদের কোনো চাপ নেই। আমরা গণমাধ্যমে দেখছি, শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর দাবিতে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এসব সংবাদ তো শিক্ষামন্ত্রীর অজানা থাকার কথা নয়।

শিক্ষার্থীরা কতোটা জোরালো দাবি জানালে শিক্ষামন্ত্রী স্বীকার করবেন যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে চাপ রয়েছে।

দেশের অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েছে। ইউনিসেফের মতে, বিশ্বের প্রায় ৯১ শতাংশ শিক্ষার্থী করোনা মহামারীর কারণে ক্ষতির শিকার হয়েছে।

করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাব ও লকডাউনের কারণে প্রায় ১৬০ কোটি শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছেনা। ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, অপুষ্টি, পরিবারের আয় কমে যাওয়া বা বন্ধ হওয়া, স্থূলতা, শৃঙ্খলা বোধ ও খেলাধুলার অভাব, শিক্ষা হতে ঝরে পড়া, সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়াসহ নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

এরপরও রাষ্ট্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে জোড়ালো কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

দেশে ৪৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে সকল ধরনের পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতিক্রম। তারা শুরু থেকেই নিজেদের মতো করে পরীক্ষা নিচ্ছে। ফলে একই শিক্ষা বর্ষে ভর্তি হওয়া সত্তে¡ও সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে।

অথচ, ইউজিসি দু’ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়কেই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। যদিও এসব পরীক্ষার গুণগতমাণ নিয়ে সমাজে ব্যাপক আলোচন-সমালোচনা রয়েছে। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে আজও অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণ করার একটা সার্বজনীন পদ্ধতির উদ্ভাবন করতে পারলাম না, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য হতাশাজনক।

দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। তৃতীয় ঢেউ আসবে কি আসবে না তা এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছেনা। তৃতীয় ডেউ যদি আসে তাহলে কতদিন তা চলবে এসব নিয়ে স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরাই এখনো নিশ্চিত করে বলতে কিছু বলতে পারছেননা।

এমন একটি জটিল পরিস্থিতিতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এক চরম সংকটকাল অতিক্রম করছে। আগামী প্রজন্মকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা পরীক্ষাগুলো পুনরায় চালু করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন সচল করতে না পারলে জাতি হিসেবে আমরা পিছিয়ে পড়বো।

বিষয়টি নিয়ে আর বিলম্ব না করে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমস্যা সমাধানে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে যথেষ্ট ক্ষতি হয়ে গেছে। এবার শিক্ষাঙ্গন সচল করার সকল উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিৎ। তা না হলে আমরা মেধাহীন জাতিতে পরিণত হবো।

যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রæত খোলা না হয়, আটকে থাকা পরীক্ষাগুলো চালু করা না হয়, তাহলে শিক্ষাক্ষেত্রে যে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে তা কোনদিনই পূরণ হবার নয় । দেশের সবকিছু সচল, শিক্ষাব্যবস্থা অচল থাকবে কেন?

করোনা অবশ্যই একটি মহামারী। কিন্তু এই মহামারীতে শিক্ষাকে পিছিয়ে রাখার কোন সুযোগ নেই। কোরনা যদি আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেক্ষেত্রে বন্ধের সময়সীমা আর কতো বাড়ানো হবে? দেশের সব কিছু যেমন সচল তেমনি শিক্ষাব্যবস্থাকেও সচল করা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে জাতির পরবর্তী প্রজন্মকে বাঁচাতে হবে।

(রেজাউল করিম, ঘাটাইল ডট কম)/-