ghatail.com
ঢাকা সোমবার, ৭ আষাঢ়, ১৪২৮ / ২১ জুন, ২০২১
ghatail.com
yummys

‘রূপকথা’য় ফিরতে চান সালমারা


ghatail.com
অনলাইন ডেস্ক, ঘাটাইলডটকম
১০ জুন, ২০২১ / ৫৮ বার পঠিত
‘রূপকথা’য় ফিরতে চান সালমারা

বাংলাদেশের ক্রিকেট বললে সাকিব-তামিম-মুশফিক-মোস্তাফিজদের চেহারাগুলোই ভেসে ওঠে আগে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের হাসি-কান্নার উপলক্ষ যেন শুধু তাঁদের সাফল্য-ব্যর্থতাই। কিন্তু যাঁদের হাত ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রথম কোনো বহুজাতিক টুর্নামেন্ট জেতে, তাঁরা কিন্তু এই সাকিব-তামিমরা নন। সেই ট্রফিটা এসেছিল বাংলাদেশের মেয়েদের হাত ধরে।

২০১৮ সালের আজকের এই ১০ জুনেই মালয়েশিয়ায় নারী এশিয়া কাপের শিরোপা জেতে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। বাংলাদেশের ক্রিকেটেই সেটি ছিল প্রথম কোনো বহুজাতিক টুর্নামেন্ট জয়ের ঘটনা। তিন বছর আগের সেই স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে এখনো রোমাঞ্চিত হন বাংলাদেশ নারী টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সালমা খাতুন, ‘মেয়েদের ক্রিকেট তো বটেই, বাংলাদেশের ক্রিকেটেরই একটি বড় অর্জন ছিল সেই ফাইনাল জয়। ভারতের মতো শক্তিশালী দলকে হারানো! আমি তো কয় দিন পরপরই ওই ম্যাচের হাইলাইটস দেখি।’

মেয়েদের এশিয়া কাপের ইতিহাস মানেই শিরোপা ভারতের, এমন একটা ধারণা সবারই হয়ে গিয়েছিল। ভারতের ধারেকাছে আসার মতো কোনো দলই এশিয়ার নারী ক্রিকেটে ছিল না অনেক দিন। ২০১৮ এশিয়া কাপের ফাইনালে সেই ভারতকেই ৩ উইকেটে হারায় সালমার দল। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ভারতের ১১২ রান বাংলাদেশ টপকে যায় শেষ বলে। প্রথমে বল হাতে ও পরে ব্যাটিংয়েও রুমানা আহমেদের দারুণ পারফরম্যান্সের পর সালমাকে নিয়ে জাহানারা আলমের শেষ বলে ২ রান নিয়ে ম্যাচ জেতানোর মুহূর্তটি রূপকথাকেও হার মানিয়েছিল সেদিন।


১ বলে ২ রান, জাহানারার সেই ছোট্ট ইনিংসটিই যেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস! সেদিনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে জাহানারা বলছিলেন, ‘আমাকে নামানো হয়েছিল জোরে দৌড়ানোর জন্য। ব্যাটে লেগে বল যেদিকেই যাক না কেন, দৌড় দিতে হবে, বাংলাদেশকে জেতাতে হবে। কিন্তু চাইলেই তো সব হয় না। সেদিন হয়তো আল্লাহর রহমত আমাদের সঙ্গে ছিল।’

মেয়েদের এশিয়া কাপ জেতার পরই যেন বাংলাদেশ ক্রিকেটে ট্রফির খরা কাটে। পরের বছরই ছেলেদের দল জেতে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ। ২০২০ সালে ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ দল জিতেছে যুব বিশ্বকাপ। অথচ ট্রফি জয়ের পথ দেখানো সেই নারী ক্রিকেটই যেন পড়ে আছে এক জায়গাতে। গত বছর সর্বশেষ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। এরপর করোনাকালে তো থমকেই গেছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট!


২০১৮ সালের ফাইনালে ম্যাচসেরা রুমানার কণ্ঠে তাই হতাশা। তবে বাস্তবতা মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায়ও দেখছেন না তিনি, ‘এ নিয়ে আসলে কিছু করারও নেই। করোনার কারণে সব দেশের নারী ক্রিকেটই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। করোনায় ছেলেদের ক্রিকেট নিয়মিত হলেও মেয়েদের খেলা হচ্ছে না। আমরা সেই এশিয়া কাপের পর থেকে কতটুকু উন্নতি করেছি, সেটা বিশ্বকে দেখানোর খুব একটা সুযোগ পাইনি। সময়টাই যে কঠিন!’

২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকেই বাংলাদেশের মেয়েরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে। এ বছর এপ্রিলে নারী ইমার্জিং দলের মোড়কে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছে। এ মাসেও কথা ছিল শ্রীলঙ্কায় দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলার। করোনার কারণে হচ্ছে না সেটিও। এখন আবার দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের বাংলাদেশ সফরের কথা শোনা যাচ্ছে। তবে করোনার মধ্যে সবই আসলে অনিশ্চিত। নারী ক্রিকেটাররা এখন দিন গুনছেন জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরুর।


ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কায় নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব হওয়ার কথা। নিউজিল্যান্ডে ২০২২-এর শুরুতে হবে বিশ্বকাপ। এর আগে কখনোই ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলেননি বাংলাদেশের মেয়েরা। বাংলাদেশকে নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সফর পরিকল্পনায় (এফটিপি) ঢুকতে হলে বাছাইপর্ব উতরে খেলতে হবে বিশ্বকাপে। বাংলাদেশের মেয়েরা ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারলে সেটি হবে এ দেশের মেয়েদের ক্রিকেটের উন্নতির পথে বড় একটা ধাপ। ক্রিকেটাররাও চাইছেন নারী ক্রিকেটকে আরেকটু ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে। জাহানারা যেমন বলছিলেন, ‘আমরা না হয় কষ্ট করলাম। কিন্তু পরের প্রজন্মের খেলোয়াড়দের যেন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে না হয়, সেটি করে যেতে চাই।’

তবে এর জন্য হওয়া চাই মাঠের খেলা। করোনা সেখানেই তুলে দিয়েছে বাধার দেয়াল। ট্রফি জয় পরে, এখন তো ক্রিকেট খেলাটাই রূপকথার মতো মনে হয় সালমা–রুমানাদের! তবু সেই ‘রূপকথা’য় ফেরারই অপেক্ষায় আছেন তাঁরা।

সর্বশেষ - প্রচ্ছদ