ghatail.com
ঢাকা সোমবার, ৭ আষাঢ়, ১৪২৮ / ২১ জুন, ২০২১
ghatail.com
yummys

ফ্রি ফায়ার গেমে মত্ত যুবকরা একঘরে হয়ে পড়ছে


ghatail.com
জাকির হোসেন, ঘাটাইল ডট কম
০৯ জুন, ২০২১ / ৮১ বার পঠিত
ফ্রি ফায়ার গেমে মত্ত যুবকরা একঘরে হয়ে পড়ছে

দেশজুড়ে ইন্টারনেটে ফ্রি ফায়ার গেম খেলে জীবন কাটছে কিশোর, ছাত্র ও যুবকদের। রাত দিন ফ্রি ফায়ার গেম খেলার কারণে কিশোর, ছাত্র ও যুবকদের মেধাশুন্য হওয়ার আশঙ্খা করছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু কথা বলার জন্য ছোট মোবাইল ফোন যেন ব্যবহার হচ্ছে না। শিশু, কিশোর, কিশোরীদের হাতেও এখন স্মার্টফোন। পিতা মাতার আদরের সন্তানদের আবদার মিটাতে ফোন, ইন্টারনেটের ডাটা ও গেম কিনতে গুণতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ।


দেশ জুড়ে ফ্রি ফায়ার গেম ছাত্র ও যুবকদের জন্য মরণ ফাদে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে শিশু-কিশোরদের প্রিয় গেম খেলতে যে কোনভাবে অভিভাবকদের নিকট থেকে নিচ্ছে অর্থ। শিশু কিশোরদের দেখা যায় খেলার মাঠে, স্কুলের মাঠে, গাছের নিচে, রাস্তার পাশে বসে ফ্রি ফায়ার গেম খেলছে।


স্মার্টফোন হাতে পেয়ে শিশু, কিশোর, কিশোরীদের চোখ এখন মোবাইলের পর্দার মধ্যে সর্বসময়। শিশুরা আসক্ত হয়ে পড়ছে ভিডিও গেম, ফেসবুকে। হয়তোবা অভিভাবকদের চোখ এড়িয়ে পর্নোগ্রাফি ও দেখছে কেউ কেউ। এগুলোর কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি মন স্থির করতে পারছে না।


করোনা ভাইরাসের কারণে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা মোবাইলে গেমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। দেশের প্রতিটি জেলা গ্রাম ও সদর প্রতিটি অঞ্চলে ইন্টারনেট লাইন চালু রয়েছে। যে কারণে স্থানীয় কিশোর, তরুণ ও যুবকরা ফ্রি-ফায়ার গেম খেলতে ঝুঁকে পড়ছে।


উপজেলা প্রতিটি ইউনিয়নে উঠতি বয়সের শিক্ষার্থীরা ও পুরো যুব সমাজ দিন দিন ফ্রি-ফায়ার নামক গেম খেলছে। যে সময় তাদের ব্যস্ত থাকার কথা শিক্ষা, বই পড়া, খেলা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সাথে। সে সময়ে তারা ব্যাস্ত থাকছে মোবাইল ফোনে গেম খেলতে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র জানান, প্রথম দিকে তার কাছে ফ্রী ফায়ার গেম ভালো লাগত না। কিছু দিন বন্ধুদের দেখাদেখি খেলতে গিয়ে এখন সে আসক্ত হয়ে গেছে। এখন গেমস না খেললে তার ভাল লাগে না। করোনায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী আসক্ত হচ্ছে এ খেলায়। শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা। কিন্তু লেখাপড়া বাদ দিয়ে তারা ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ফ্রি ফায়ার নামক গেম নিয়ে ব্যস্ত যা শিক্ষার্থীকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


এ ব্যাপারে র্কীত্তন খোলা সরকারি (প্রাঃ) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হামিদা বেগম বলেন, ‘আমাদের সময় আমরা অবসর সময়টা বিভিন্ন খেলাধুলার মধ্য দিয়ে পার করতাম, কিন্তু এখনকার যুগে এ প্রজন্মের সন্তানদের দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। শিক্ষার্থীরা অনেকে পড়ার টেবিল ছেড়ে খেলছে এসব গেম, কখনো ইন্টারনেটে বিভিন্ন সাইটে পর্নোছবি দেখছে। এতে একদিকে তাদের ভবিষ্যৎ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে কিশোর অপরাধসহ বিভিন্ন সামাজিক নানা অপরাধ বেড়েই চলছে।


তিনি বলেন, খেলার সময় এদের কোন কিছুই খেয়াল থাকে না, নজর থাকে মোবাইলের দিকে। সময় মত খাবার ও খায় না। অনেক মায়েরা শিশুকে খাবার খাওয়াতে, কান্না থামাতে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনে ভিডিও গেমস দেখার অভ্যাস করাচ্ছেন। এতে করেও শিশুরা ক্রমান্বয়ে ঝুঁকে পড়ছে ভিডিও গেমের প্রতি।


তিনি আরও বলেন, এক সময়ে যেখানে শিশুরা অন্য শিশুদের সাথে খেলাধুলা, ধুলোবালি আর কাদায় মাখামাখি করতো, বর্তমান মায়েরা সেখানে অন্য শিশুদের সাথে মিশলে খারাপ হবে, ধুলোবালি ও কাদায় মাখামাখি করলে শরীর, জামা নষ্ট হচ্ছে বলে ধমকও দেন। মায়ের বকুনি থেকে বাঁচতে শিশুরা মাউসের বাটন, ল্যাপটপ কিংবা মোবাইল ফোনেই গেম খেলে খেলাধুলার আনন্দ খুঁজে ফিরছে এবং ধীরে ধীরে তারা আসক্ত হয়ে পড়ছে ভিডিও গেমসের উপর। বঞ্চিত হচ্ছে শিশু-কিশোররা তাদের শৈশব- কৈশোরের আনন্দ থেকে। বিশেষ করে বাসার সামনের রাস্তা ও বাগানে উঠতি বয়সের তরুন- যুবকরা সারিবদ্ধ ভাবে বসে অনলাইন ভিত্তিক গেমে মত্ত থাকছে। পড়াশুনাতো দুরের কথা, বাসার টুকিটাকি কাজেও তাদের সহযোগিতা পাওয়া যায় না।


জানা যায়, ইন্টারনেট ভিত্তিক ভয়ঙ্কর এইসব খেলায় কেউ কেউ এতোটাই আসক্ত যে অভিভাবকদের সাথে খারাপ আচারণও করছে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ব্যাপক জনপ্রিয় ফ্রী ফায়ার গেম অ্যাপ। এইসব অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে এক দিকে যুব সমাজ নষ্ট হচ্ছে। অনেকক্ষণ মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার কারণে ভার্চুয়াল-সম্পর্ক বা বন্ধু তৈরিতে যতটা মনোযোগ দিচ্ছে শিশুরা, তার সিকিভাগও নেই বাস্তব বন্ধুত্বে। গেমিংয়ে ভয়ানক আসক্ত হয়ে পড়ায় পড়াশোনার সময় চলে যাচ্ছে স্ক্রিনে। বাচ্চাদের সামাজিক কারণে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। তারা বেড়ে উঠছে অসহিষ্ণু হয়ে। না আছে বন্ধু, না হচ্ছে পরিবারের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। একঘরে হয়ে পড়ছে তারা।


(জাকির হোসেন, ঘাটাইল ডট কম)/-

সর্বশেষ - প্রচ্ছদ