ghatail.com
ঢাকা রবিবার, ২৫ বৈশাখ, ১৪২৮ / ০৯ মে, ২০২১
ghatail.com
yummys

অবরুদ্ধ ‘স্বাধীনতা’র সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব


ghatail.com
রেজাউল করিম, ঘাটাইল ডট কম
৩০ মার্চ, ২০২১ / 15 views
অবরুদ্ধ ‘স্বাধীনতা’র সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব

প্রাণ খুলে কথা বলব। এটাই স্বাধীনতা। ফেসবুক বন্ধ থাকবে, কথা বলার সুযোগ থাকবে না এটা কেমন স্বাধীনতা? এর জবাদিহিতাই বা কতোটুকু? ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে ভাষার জন্য আর ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতার জন্য মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। আবার ১৬ ডিসেম্বর আনন্দ উল্লাসে বাঙালিরা রাস্তায় বের হয়েছিল।

৫০ বছরের স্বাধীনতার জমানো স্বাদ সূবর্ণজয়ন্তীতে প্রকাশ করবে এটাই ছিল সবার প্রত্যাশা। কিন্তু সব উল্টো। মানুষ রাস্তায় বেরুতে পারিনি। গাড়ি বন্ধ। মানুষ ছিল অবরুদ্ধ। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এমন তো হওয়ার কথা ছিল না।

যেভাবেই চলুক দেশেতো অশান্তি ছিল না। মোদিজিকে দেশে আনার কি প্রয়োজন ছিল? দেশে আনাতেই বা কতোটুকু ক্ষতি হয়েছে? এসেই বা কতোটুকু ক্ষতিকারক চুক্তি হলো ? দেশে না আসলেও এর চেয়ে বড় চুক্তি ভারতে গিয়েও করা যেত। অতএব মোদি রক্তপাতের মতো ইস্যু হওয়াটা ততোটা যৌক্তিক বলে মনে হয় না ।

জনস্বার্থে আন্দোলন বা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বের করার অনেক সুযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিটি বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক গন্ধ বের করা উচিৎ হয় না। আবার জনগনের অমতে জোর করে কোন সিদ্ধান্ত চাপিয়েও দেওয়াও ক্ষমতাসীনদের উচিৎ হয় ন। এতে অহেতুক সাধারণ মানুষের উৎকণ্ঠা বাড়ে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী কিন্তু সার্বজনিন হতে পারতো। দল-বল নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীনতা দিবস পালনের অধিকার রয়েছে। এই দিন একটি দলের হতে পারে না। এটা পুরো বাঙালি জাতির আনন্দের দিন। কিন্তু উল্টো। 

বিএনপি অনুষ্ঠানটি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দলটিকে শুনতে হলো নতুন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে..(গণমাধ্যম)। অতপর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নেয়া সব কর্মসূচি ৩০শে মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করল বিএনপি। সাধারণ মানুষ তো এটায় বিশ্বাসি নন। স্বাধীনতার স্বাদ সবাই পাক।

আসুন সিঙ্গাপুরে। ১৯৪২ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সিঙ্গাপুর জাপানি সাম্রাজ্যের দখলে ছিল। বিনা রক্তপাতে ১৯৬৫ সালের ৯ আগস্ট সিঙ্গাপুর স্বাধীন হয়। মাত্র ৫৬ বছরে দেশটি বিশ্বের মডেল। সিঙ্গাপুরেও মূলত একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাব বেশি। দেশের নির্বাহী ক্ষমতা সরকারের হাতে ন্যস্ত। 

আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সরকার ও আইনসভার দায়িত্বে পড়ে। বিচার বিভাগ নির্বাহী ও আইন প্রণয়ন বিভাগ থেকে স্বাধীন।

আইনসভার সদস্যরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান হলেও তার ভূমিকা মূলত আলংকারিক। ১৯৫৯ সালের নির্বাচন থেকে সিঙ্গাপুরের রাজনীতিকে পিপল্স অ্যাকশন পার্টি নামের রাজনৈতিক দল নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে। 

একাধিক বিরোধী দল উপস্থিত থাকলেও ক্ষমতায় তাদের প্রতিনিধিত্ব নেই বললেই চলে। তাই অনেক বিদেশী পর্যবেক্ষক সিঙ্গাপুরকে কার্যত একটি এক-দলীয় শাসনব্যবস্থা হিসেবে গণ্য করে থাকেন। এরপরও সিঙ্গাপুরের সরকার সবসময়েই একটি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত সরকার হিসেবে বহির্বিশ্বে পরিচিত।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের মতে সিঙ্গাপুর বহুদিন ধরেই এশিয়ার সবচেয়ে দুর্নীতিমুক্ত দেশ। সিঙ্গাপুরের সংস্কৃতি পশ্চিমা ঘরানার হলেও এখানে গোঁড়া হিন্দুবাদ, গোঁড়া খ্রিষ্টানবাদ, গোঁড়া ইসলামবাদ (মালয় সংস্কৃতি) এবং গোঁড়া বৌদ্ধবাদ (চাইনিজ সংস্কৃতি) আছে।

বলতে চাচ্ছি সিঙ্গাপুরে তো কোন দূণীতি নেই। এজন্য জনগণ সন্তুষ্ট। নেই আন্দোলনও। নানা ধর্মের লোক বাস করার পরও নেই হিংসা। এর প্রধান কারণ নিয়মণীতি।

আবারও বলব, স্বাধীনতার স্বাদ সবাই পাক। কাওকে বাদ দিয়ে স্বাদ পাওটাকে স্বাদ বলা যায় না। সবাই মিলে একসাথে স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করবো এটাই প্রকৃত স্বাধীনতা। আমাদের দেশের প্রতিটি দপ্তরে দুর্নীতি। কয়েকদিন গণমাধ্যমে ফলাও হয়। পরদিন নিভে যায়। জবাবদিহিতা নেই বললেই চলে।

দেশের অগ্রগতি চাইলে জবাবদিহিতা থাকবে। উন্নত দেশের অসংখ্য জবাবদিহিতার মধ্যে একটি উদাহরণ দেব। সিঙ্গাপুরে চা বা কফি পার্সেল করার ব্যবস্থা আছে। একটি ব্যতিক্রমী পলিব্যাগে চা - কফি বহন করা যায়। ধরার জন্য ব্যাগে হাতল লাগানো থাকে।গরম রাখার জন্য ব্যাগের ওপরে গিট দেওয়া হয়।

সিঙ্গাপুরের জবাবদিহিতা হচ্ছে, প্রতিটি কাস্টমারকে ওই গিট খোলার নিয়ম দেখিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় গ্রাহক খুলবে কিভাবে। ওদের জবাবদিহিতা আর আমাদের জবাবদিহিতা তুলনা করুন। উন্নয়ন ও জবাবদিহিতার সূত্রে আমরা পেয়ে যাবো। সবশেষে বলবো যে যেদলই করুক না কেন নিজের দলের সমালোচনা করার মতো সাহস ও মানসিকতা সৃষ্টি হলে দেশ ও জাতি পাবে আদর্শ বাংলাদেশ। 

জাতি এই প্রত্যাশায়..................

(রেজাউল করিম (সংবাদকর্মী), ঘাটাইল ডট কম)/-