টাঙ্গাইলে করোনায় প্রাণ গেল সিনিয়র নার্স মোর্শেদার

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইনচার্জ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স মোর্শেদার (৫৩) মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোখলেছুর রহমান।

ডা. মোখলেছুর রহমান বলেন, চিকিৎসা দিতে গিয়ে ১০ দিন আগে করোনায় আক্রান্ত হন টাঙ্গাইল হাসপাতালের নার্স মোর্শেদা। এরপর তার দেখা দেয় হৃদরোগের সমস্যা। এ কারণে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শনিবার (০১ আগস্ট) সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তিনি এক কন্যাসন্তানের জননী ও টাঙ্গাইল পৌর শহরের থানাপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

ঈদের দিনে বিদায় নিলেন ঘাটাইলের একজন আদর্শ শিক্ষক

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সকলের প্রিয় আদর্শ শিক্ষক এ কে এম শামসুজ্জামান স্যার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

গত শনিবার পবিত্র ঈদুল আযহার দিন দুপুরে তিনি ঢাকার বাসভবনে বাধ্যর্কজনিত কারনে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি ১৯৬৮ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ দুই যুগে বিদ্যালয়টিকে একটি সত্যিকারের গুরুসদন হিসাবে গড়ে তোলার মূল কারিগর ছিলেন তিনি।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী তিন পুত্র ও তিন কন্যা সহ অসংখ্য ছাত্র ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার প্রথম জানাযা নামাজ শনিবার বিকালে ঢাকায়, দ্বিতীয় জানাযা নামাজ বাদ এশা তার প্রিয় বিদ্যালয় সংলগ্ন ঘাটাইল সদর ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

তার তৃতীয় জানাযা নামাজ ২ আগষ্ট রোববার সকাল ১০ টায় টাঙ্গাইলের কেন্দ্রীয় গোরস্থান মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

পরে তাকে টাঙ্গাইলের কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম লেবু, পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান খান, ঘাটাইল প্রেসক্লাব, বংশাই সাহিত্য সংসদ. মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।

সংবাদ মাধ্যম ঘাটাইল ডট কম তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধা জানায়।

(নজরুল ইসলাম, ঘাটাইল ডট কম)/-

বদলে গেছে টাঙ্গাইল জেলা কারা হাসপাতালের চিত্র

কারাগারের অভ্যন্তরে হাসপাতাল। কারাবন্দী, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী বা প্রভাবশালী ব্যাক্তি এমনকি শীর্ষ অপরাধীদের জন্যে লোভনীয় একটি আবাসস্থল এই কারা হাসপাতাল। রোগী না হয়েও সুস্থ ও স্বাভাবিক একজন কারাবন্দী কারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে হাসপাতালে থাকার ব্যবস্থা করা যেন একটি স্বাভাবিক বিষয়।

টাঙ্গাইল জেলা কারাগারেও এমনি চিত্র ছিল দীর্ঘদিন। কিন্তু বর্তমানে সে চিত্র পুরোটাই পাল্টে গেছে। এখন আর রোগী ছাড়া কারাবন্দি কোন ব্যাক্তির কারা হাসপাতালে থাকার সুযোগ নেই।

হাসপাতালে থাকতে হলে তাকে অবশ্যই কারাবিধি মেনে শুধুমাত্র রোগীর থাকার সুযোগ রয়েছে। যত প্রভাবশালী ব্যাক্তিই হোক না কেন নিয়মের ব্যক্তয় ঘটিয়ে কারো কারা হাসপাতালে থাকার সুযোগ নেই এখন।

আর টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের এই সফলতা আনতে গিয়ে অনেক সময় নানা চাপের মুখে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে কারা প্রশাসনকে। কারা হাসপাতালের চিরাচরিত চিত্র পাল্টানোর পেছনে যে কয়জন কর্মকর্তা পরিশ্রম করেছেন তারমধ্যে অন্যতম ভুমিকা পালন করেছেন কারা চিকিৎসক ডাঃ মোঃ আবিবুর রহমান।

টাঙ্গাইল জেলা কারাগার সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারী ডাক্তার আবিবুর রহমান কারা চিকিৎসক হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে প্রায় সাড়ে চারবছর তিনি টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কারাগারে কয়েদী ও হাজতি ছাড়াও কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চিকিৎসা সেবা দেয়াই হচ্ছে কারা চিকিৎসকের প্রধান দায়িত্ব। দায়িত্ব নিয়েই ডাক্তার আবিবুর রহমান কারা হাসপাতালে প্রকৃত হাজতি ও কয়েদিদের ভর্তি করানোর পদক্ষেপ গ্রহন করেন।

প্রাথমিকভাবে কাজটি অতটা সহজ ছিলনা। তবে কারা তত্বাবধায়কসহ অন্যান্য কর্মকর্তার সহযোগীতায় অবশেষে সফল হন তিনি। টাঙ্গাইল কারা হাসপাতালে মোট বেডের সংখ্যা ২৪ টি।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ভর্তি থাকত ৩০/৩৫ জন। যাদের অধিকাংশই প্রকৃতপক্ষে রোগী ছিলনা। সুস্থ ও সবল দেহে শুধুমাত্র অর্থ আর ক্ষমতার জোরে হাসপাতালে জায়গা করে নেয় তারা। এদেরকে সরিয়ে প্রকৃত রোগীদের জায়গা করে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন ডাক্তার আবিবুর রহমান।

বর্তমানে কারা হাসপাতালে প্রকৃত রোগীরাই অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।ডাক্তার আবিবুর রহমান টাঙ্গাইল প্রতিদিনকে জানান, যদি মনে করা হয় একজন কারাবন্দীর হাসপাতালে ভর্তি থাকা প্রয়োজন তখন তাকে শারিরীক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে হাসপাতালে রাখা হচ্ছে।

মিথ্যা তথ্য দিয়ে বা অর্থের লোভ দেখিয়ে এখন আর কারা হাসপাতালে থাকার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে কোন প্রভাবশালী মহলের চাপের সাথে সমঝোতা করা হচ্ছে না। ব্যাথানাশক ও ঘুমের ঔষুধ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ব্যাথানাশক ও ঘুমের ঔষুধ দিয়ে বিভিন্ন কারাবন্দী ও হাজতীরা নেশার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করত বলে এমন একাধিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ভাল বিছানা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, খাওয়া দাওয়া ও গোসলের সু-ব্যবস্থার কারনে কারা হাসপাতাল অনেকটাই লোভনীয় বিষয় কারাবন্দীর কাছে।

কারা সূত্র জানায়, হাসপাতাল বর্তমান অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়। যেমন- ওষুধের অপব্যবহার বন্ধ করতে একজন রোগী ওষুধ নেয়ার পর সেই ওষুধের খোসা জমা দিয়ে পুনরায় ওষুধ গ্রহন করতে পারবে।

এছাড়াও অপ্রয়োজনে কাউকে ওষুধ দেয়া বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও আরো কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কারনে হাসপাতালে চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে। এদিকে করোনার ভয়াবহতা শুরুর পরপরই কারা হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা করা হয়।

যার ফলে এখনো পর্যন্ত কারাগারে কোন করোনা সংক্রমনের মত ঘটনা ঘটেনি। করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ার পর বেশ কয়েকজন কারাবন্দির পরীক্ষা করা হলে ফলাফল নেগেটিভ আসে। কঠোর নজরদারির কারনে টাঙ্গাইল জেলা কারাগার এখনো পর্যন্ত করোনামুক্ত অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কতৃপক্ষ।

কারা অভ্যন্তরে অবস্থিত হাসপাতালে দীর্ঘদিনের এই অনিয়ম এত অল্প সময়ের মধ্যে দুর করা কিভাবে সম্ভব হয়েছে জানতে চাইলে টাঙ্গাইল কারাগারের জেল সুপার মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন টাঙ্গাইল প্রতিদিনকে জানান, কোন কিছু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিজস্ব সৎ ইচ্ছাই যথেষ্ট।

রাজনৈতিক বা অন্য কোন চাপ আসতেই পাড়ে সে ক্ষেত্রে তাদের বুঝানোর মতো নিজস্ব কিছু উপস্থাপনা থাকতে হবে। সঠিক ভাবে তাদের বুঝাতে পারলেই সব কিছুই সহজ ভাবে করা সম্বভ। তবে এ ক্ষেত্রে টাঙ্গাইল কারাগারের জেলার মোঃ আমান উল্লাহ, ডা: আবিবুর রহমান-এর সহযোগিতার রয়েছে।

তাদের কারণেই জেলা কারাগার হাসপাতালের সকল অনিয়ম দূর করা সম্বভ হয়েছে। এখানে কর্মরত সকলেই অনিয়মের বিপক্ষে থাকায় জেলা কারাগারের চিত্র এখন পরিবর্তণ হয়ে সকলের সামনে পরিস্কার হয়েছে। তবে কিছু লোক আছে যারা বিভিন্ন ভাবে ধান্দা করার চেষ্টায় থাকে।

পর্যায়ক্রমে তাদেরও বিভিন্ন ভাবে কন্টোল করা হয়েছে। এখানে কোন অনিয়মের সুযোগ নেই। সুতরাং সব কিছুর মূলে নিজের সৎ ইচ্ছা। সকলের সহযোগীতা আর অর্থের লোভ সামলাতে পারলে আগামী দিনগুলোতেও কারা হাসপাতালে প্রকৃত রোগীরা চিকিৎসা সেবা পাবে।

একইসাথে কারা হাসপাতাল নিয়ে মানুষের মাঝে নেতিবাচক ধারনার পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন টাঙ্গাইলের অভিজ্ঞমহল।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনা ও বন্যার প্রভাবে টাঙ্গাইলে সোয়া লাখ তাঁতি পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই!

টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতি এলাকার এক লাখ তিন হাজার ২০৬ জন তাঁত শ্রমিক ও চার হাজার ৩৯১ জন তাঁত মালিকের পরিবারে এবার ঈদুল আযহার আনন্দ নেই। করোনার প্রভাবে গত মার্চ মাস থেকে তাঁত ফ্যাক্টরি বন্ধ রয়েছে। সাম্প্রতিক বন্যার কারণে তাঁত ফ্যাক্টরিগুলো আর খোলা সম্ভব না হওয়ায় তাঁতি এলাকায় অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব প্রকট আকার ধারণ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁত বোর্ডের স্থানীয় দু’টি বেসিক সেণ্টার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলায় তাঁত শিল্প ও তাঁতিদের উন্নয়নের জন্য তাঁত বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি বেসিক সেন্টার রয়েছে। এরমধ্যে কালিহাতী, ভূঞাপুর, ঘাটাইল, গোপালপুর, মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার জন্য কালিহাতীর বল্লায় একটি এবং সদর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, বাসাইল, সখীপুর, মির্জাপুর উপজেলার জন্য টাঙ্গাইল শহরের বাজিতপুরে একটি বেসিক সেণ্টার রয়েছে।

তাঁত বোর্ডের কালিহাতী বেসিক সেণ্টারে ১৭টি প্রাথমিক তাঁতি সমিতির দুই হাজার ১২৪জন ক্ষুদ্র তাঁত মালিকের ২১ হাজার ৯৭৩টি তাঁত রয়েছে। প্রতি তাঁতে তিনজন শ্রমিকের হিসেবে ৬৫ লাখ ৯১৯জন শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

টাঙ্গাইল সদর (বাজিতপুর) বেসিক সেন্টারে ৩২টি প্রাথমিক তাঁতি সমিতির দুই হাজার ২৬৭ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁত মালিকের ১২ হাজার ৪২৯টি তাঁত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৩৭ হাজার ২৮৭জন শ্রমিক কাজ করেন।

মোট ৩৪ হাজার ৪০২ তাঁতের এক লাখ তিন হাজার ২০৬ জন তাঁত শ্রমিক ও চার হাজার ৩৯১ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁত মালিকের পরিবার করোনা ও বন্যার প্রভাবে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

সরেজমিনে কালিহাতী উপজেলার বল্লা, রামপুর, মমিননগর, কোকডহড়া, দত্তগ্রাম, বেহেলা বাড়ী, ঘোণাবাড়ী, ছাতিহাটি, তেজপুর, কাজীবাড়ী; দেলদুয়ার উপজেলার চন্ডি, পাথরাইল, পুটিয়াজানী, রূপসী, সদর উপজেলার চরকাকুয়া, চরপৌলী, হুগড়া ইত্যাদি তাঁত শিল্প অধ্যুষিত এলাকা বন্যার পানিতে থৈ থৈ করছে। বেশিরভাগ তাঁত ফ্যাক্টরিতে পানি ঢুকেছে। তাঁতের তানা (কাপড় বুননের ভিম) উঁচুতে তুলে বেঁধে রাখা হয়েছে। বাড়ি-ঘরে পানি থাকায় তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা কোন রকমে একবেলা-আধপেটা খেয়ে জীবন ধারণ করছে।

তাঁত শ্রমিকরা জানায়, করোনা ভাইরাসের কারণে গত মার্চ মাস থেকে ফ্যাক্টরি বন্ধ রাখা হয়। এরমধ্যে সাম্প্রতিক বন্যা তাঁত শিল্পে মারাত্মক ধস নেমে এসেছে। অধিকাংশ তাঁত শ্রমিকের ঘরে পর্যাপ্ত খাবার নেই। এখন তারা কৃচ্ছতা সাধন করে কোন রকমে খেয়ে- না খেয়ে বেঁচে আছেন। কষ্টের এ সময়ে তারা ঈদ নিয়ে ভাবছেন না, পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাটাই এখন তাদের কাছে চ্যালেঞ্জ।

শ্রমিকরা আরো জানায়, প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাদের লোকদেরকেই সরকারি ত্রাণ সাহায্য দিয়ে থাকেন। জনপ্রতিনিধিদের সাথে সম্পর্ক ভালো থাকলে কেউ কেউ সুবিধা পেলেও অধিকাংশই পাচ্ছেন না।

তাঁতিরা সংখ্যালঘু হওয়ায় তারা সরকারি সহায়তায় পক্ষপাতিত্বের শিকার হয়ে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন।

কালিহাতী উপজেলার বল্লা ১নং প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন জানান, তার সমিতির সদস্য তিন হাজার ১০জন। করোনা ও বন্যার কারণে গত মার্চ মাস সকল তাঁত বন্ধ। তাঁত ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় তাঁত মালিক ও শ্রমিক সবাই ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থা বেশিদিন চললে তাঁতিদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। করোনার কারণে তাঁত শ্রমিকদের যৎসামান্য খাদ্য সহায়তা দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

তিনি বলেন, তাঁত শ্রমিকরা ত্রাণ সহায়তার জন্য হাহাকার করছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা চরম অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছে।

তাঁত বোর্ডের স্থানীয় বেসিক সেণ্টার সূত্রে জানা যায়, দুটি বেসিক সেণ্টার থেকে তাঁতিদের মাঝে বিতরণকৃত ৮ কোটি ৬৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকার ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখা হয়েছে।

এছাড়া তাঁত বোর্ডের চলতি মূলধন সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় এক কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ হিসেবে ৬৪জন তাঁতিকে দেওয়া হয়েছে।

বল্লা ইউপি চেয়ারম্যান হাজী চান মাহমুদ পাকির জানান, করোনা ও বন্যার প্রভাবে সব তাঁত ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় হাজার হাজার তাঁত শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের অনেকের ঘরে খাবার নেই, উপজেলা থেকে কোটা অনুযায়ী সরকারি ত্রাণ সহায়তা ইউনিয়ন পরিষদে আসে। সেখান থেকেও তিনি কিছু তাঁত শ্রমিকের মাঝে বণ্টন করে দিয়েছেন।

দেলদুয়ারের আটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম মল্লিক জানান, সরকারি বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ইউনিয়নের ভাতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতিত কর্মহীন শ্রমিকদের মাঝে ত্রাণ পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁত শ্রমিকদের মাঝেও সরকারি ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে।

টাঙ্গাইল শাড়ির রাজধানী পাথরাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারী তাঁত শিল্পের মালিকরা সাধারণত ব্যাংকঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন। বছরে দুটি ঈদ ও দুর্গাপুজায়ই তাঁত শাড়ির মূল ব্যবসা হয়ে থাকে।

করোনার সাথে ভয়াবহ বন্যা যোগ হয়ে তাঁতিদের পথে বসার অবস্থা হয়েছে। তাঁত মালিকদের সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁতিদেরকে ঋণ সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তাঁত বোর্ডের কালিহাতী বেসিক সেণ্টারের ভারপ্রাপ্ত লিয়াজোঁ অফিসার ইমরানুল হক জানান, করোনা ও বন্যার প্রভাবে তাঁত শিল্পে ধস নেমে এসেছে। কালিহাতী বেসিক সেণ্টারে পানি ঢুকে পড়ায় সকল কার্যক্রম স্থগিত করে ভবন পাহাড়া দিতে হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক তাঁত শ্রমিকের ঘরে খাবার নেই।

তাঁত বোর্ড থেকে পাওয়া দুই হাজার ৩০০ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী তিনি তাঁত শ্রমিকদের মাঝে বিতরণ করেছেন। ঈদুল আযহার আনন্দ তাদের মাঝে পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

টাঙ্গাইল সদর (বাজিতপুর) বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, করোনা ও বন্যার প্রভাব টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্পের জন্য অশনিসঙ্কেত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাঁতিদের জন্য আলাদা ভাবে কোন সরকারি ত্রাণ সহায়তা আসেনি।

দেলদুয়ার ও সদর উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাঁত শ্রমিকদের ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিরা তাঁত শ্রমিকদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছেন।

সরকারি প্রণোদনা তথা ঋণ সুবিধা না পেলে তাঁতিরা এ সঙ্কট মোকাবেলা করতে পারবে না বলে তিনি মনে করেন।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মোশারফ হোসেন খান জানান, অস্বচ্ছল তাঁত শ্রমিকদের মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হবে।

গত জুন মাসে তাঁতিদেরকে স্বাস্থ বিধি মেনে তাঁত চালু রাখতে বলা হয়েছে। করোনার সাথে বন্যা যোগ হওয়ায় তাঁতিরা সহ সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

(বুলবুল মল্লিক, ঘাটাইল ডট কম)/-

ড্রেজারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় টাঙ্গাইলে বন্যায় নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ব্রীজ

টাঙ্গাইলে বন্যা পূর্ববর্তী সময়ে অবৈধভাবে ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে বিভিন্ন এলাকার নদীতে ব্রিজ সংলগ্ন জায়গায় বালু উত্তোলনের ফলে এবারের বন্যায় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে একের পর এক ব্রিজ। এভাবে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভোগান্তিতে পরছে মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের সম্পদ।

গত কয়েকদিনে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার দাপনাজোর এলাকার ঝিনাই নদীর উপর নির্মিত ১২০ মিটার ব্রীজের মাঝখানের ৩০ মিটার স্ল্যাব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। টাঙ্গাইলের বাসাইল-কাঞ্চনপুর সড়কের ছনকাপাড়া এলাকায়ও সেতু ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বাসাইলের কাশিল ইউনিয়নের কামুটিয়া এলাকায় পানির উর্ধ্বগতি ও প্রচন্ত চাপে নদী রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে চারটি ইউনিয়নের বিস্তৃত এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসাইল ও মির্জাপুর উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ।

এছাড়াও কয়েকটি উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশ কয়েকটি ব্রিজ। সর্বশেষ সদর উপজেলার বড় বাসালিয়া ব্রীজের এপ্রোসটি মারাত্মকভাবে ধ্বসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পরে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বড় বাসালিয়া লৌহজং নদীর প্রবল স্রোতে ধ্বসে পরে ব্রিজটির পূর্ব দিকের অ্যাপ্রোচটি। এতে সদর উপজেলার বড় বাসালিয়ার এই ব্রিজের অ্যাপ্রোচ ধসে পরায় কুইজবাড়ী, গালাসহ কালিহাতীর এলেঙ্গা যাতায়াত বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে এ সড়কে চলাচলরত অসংখ্য মানুষ।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) টাঙ্গাইলের তত্ত্বাবধানে সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের বড় বাসালিয়ার লৌহজং নদীর উপর নির্মিত হয় ব্রিজটি। এটি সদর উপজেলার আঞ্চলিক সড়কের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রিজ। এটি উপজেলা সদরের মগড়া আর গালা ইউনিয়নের অন্যতম সংযোগ স্থাপনের ব্রিজ। এছাড়াও এ ব্রিজের উপর দদিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত হয় কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যায় নদীতে পানি বৃদ্ধি পাবে এটাই স্বাভাবিক। সাধারন পানি বৃদ্ধি বা স্রোতে কারণেই যদি মাত্র দুই তিন বছর আগে নির্মিত এমন জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের অ্যাপ্রোচ ধসে যায় এমন কাজের প্রয়োজন কি? অফিস ম্যানেজ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামমাত্র ব্রিজটির অ্যাপ্রোচ নির্মাণের ফলে এ ধ্বসের সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলেে ভোগান্ততিতে পরেছে এ অঞ্চলের মানুষ।

মগড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আজহার মিয়া বলেন, ব্রিজের অ্যাপ্রোচ ধসের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শন করেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) টাঙ্গাইল সদর উপজেলা প্রকৌশলী হেদায়েত উল্লাহ বলেন, প্রবল পানি স্রোতের ফলে আর লিগেজ সৃষ্টির মাধ্যমে ব্রিজটির অ্যাপ্রোচ ধসে পরেছে। পরিদর্শন শেষে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের বন্যা কবলিত এলাকার সাধারণ মানুষসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, বন্যা পূর্ববর্তী সময়ে অবৈধভাবে ড্রেজিং ও ভেকু বসিয়ে ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বালু উত্তোলনের ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটছে। এভাবেই একের পর এক ভেঙে পড়ছে ব্রিজ। ব্রিজগুলো দ্রুত চলাচলের উপযোগি করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

ফাঁকা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নেই গরুবাহী ট্রাকের চাপ। কোরবানি ঈদের গরুর ট্রিপ না পাওয়ায় হতাশ ট্রাকচালক এবং মালিকরা। বন্যা আর করোনাভাইরাসের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

টাঙ্গাইল ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ট্রাকের সংখ্যা চার হাজার ২০০। কিন্তু এবার বন্যা আর করোনাভাইরাসের প্রভাবে কোনো ট্রাকের ভাড়া নেই।

বুধবার (২৯ জুলাই) সরেজমিনে টাঙ্গাইল মহাড়কের আশেকপুর বাইপাসে দেখা গেছে এমন চিত্র। বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহন চলাচল করলেও নেই গরুবাহী ট্রাকের চাপ। অন্যান্য বছর এ সময় গরুবাহী ট্রাকের কারণে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হলেও এবার ফাঁকা এই মহাসড়ক। বাস চলাচল করলেও যাত্রীদের তেমন চাপ নেই।

ট্রাকচালক খলিল মিয়া বলেন, গত বছর কোরবানির ঈদের আগে এমন সময় ঢাকায় গরুর দুই ট্রিপ নিয়ে গেছি। গতবার তেমন গরুর ট্রিপ মারিনি। ট্রিপ পেয়েও ছেড়ে দিয়েছিলাম। এরপরও দুই ট্রিপে ২২ হাজার টাকা ইনকাম করেছিলাম। এবার কোনো গরুর ট্রিপ পাইনি। গতবার পেয়েও নেইনি এবার চেয়েও পাই না।

ট্রাক মালিক রহমান ও মজিবরসহ কয়েকজন জানান, কোরবানির ঈদ ঘিরে ট্রাক মালিক ও চালকদের একটা আশা-ভরসা থাকে। এবার সবার মাথায় হাত।

টাঙ্গাইল ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কোরবান মিয়া বলেন, করোনা আর বন্যার কারণে ট্রাকে গরু নেয়া হয় না। কিছু কিছু ট্রাক ট্রিপ পেলেও অধিকাংশ ট্রাকই পাচ্ছে না গরুর টিপ। করোনার কারণে বছরের শুরু থেকে এবার ব্যবসায় ধস নেমেছে। এরপরও কোরবানির ঈদের গরু পরিবহনের মাধ্যমে কিছুটা উপার্জনের আশায় ছিল ট্রাক মালিক, চালক আর শ্রমিকরা। এবার সেই আশাও মাটি হয়ে গেল।

টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, মহাসড়কে এখনও তেমন গরুবাহী ট্রাক লক্ষ্য করা যায় না। আগামী দিনগুলোতে বাড়তে পারে গরুবাহী ট্রাকের চাপ। বাসের তেমন চাপ নেই। মহাসড়ক ফাঁকা।

(আরিফ উর রহমান টগর, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে বাঁধ ভেঙে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গাফিলতিতে টাঙ্গাইলের এলানজানি নদীর বাঁধ ভেঙে সদরসহ উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) ভোর রাতে সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের নওগা এলাকায় এ বাঁধ ভেঙ্গে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বার বার অবহিত করলেও প্রয়োজনীয় কোন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন কাজ চলমান ছিলো। শুকনো মৌসুমে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করার আশ্বাস দেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সৈয়দ কবিরুজ্জামান ডল জানান, বন্যার শুরু থেকে বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার জানালেও তারা কোন প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। গত কয়েকদিন যাবত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু বস্তা ফেললেও তা পানির স্রোতে ভেসে যায়।

পরে আজ ভোরে বাঁধ ভেঙ্গে ওই এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ও বল্লা ইউনিয়ন এবং বাসাইল উপজেলার ফুলকি ও কাশিল ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

ঘারিন্দা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আঃ বারেক জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফলতিতে প্রায় দুইশ ফুট বাঁধটি ভেঙ্গে গেছে। আস্তে আস্তে ভাঙ্গার পরিধিও বাড়ছে। ইতিমধ্যে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান আনছারী জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড সময় মতো কাজ করলে বাঁধটি রক্ষা করা যেতো। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বন্যার্তদের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ভাঙ্গা বাঁধের বিষয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, বাঁধটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো। ওই বাঁধে গত চার পাঁচদিন যাবত কাজ চলমানছিলো। গত রাতেও ১১ টা পর্যন্ত কাজ করা হয়েছে। পরে রাত তিনটায় বাঁধটি ভেঙ্গে যায়। পানি শুকিয়ে গেলে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে ইলিশ ভর্তি কাভার্ড ভ্যান খাদে

টাঙ্গাইলে ইলিশ ভর্তি একটি কাভার্ড ভ্যান খাদে পড়লে আটকে পড়া দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল সাতটার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের শিবপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহত দুইজনকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন বরিশাল জেলার মূলাদি উপজেলার চর কালেখা গ্রামের কাভার্ড ভ্যান চালক  ফারুক হোসেন (৩০), চট্টগ্রাম জেলার খোলশি উপজেলার হাজিঘোনা গ্রামের আব্দু কাশেম (৪৭)।

টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. সফিকুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম থেকে ইলিশ ভর্তি কাভার্ড ভ্যান টাঙ্গাইল পার্কের বাজার যাওয়ার সময় সকাল সাতটার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের শিবপুর নামক স্থানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়।

এ সময় চালক এবং মাছের ব্যাপারী গাড়িতে আটকা পড়ে।

সংবাদ পেয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার স্টেশনের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালক মো. ফারুক এবং মাছ ব্যবসায়ী মো. আবুল কাশেমকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

(কামাল হোসেন, ঘাটাইল ডট কম)/-

বন্যায় টাঙ্গাইলে মানবিক বিপর্যয়

টাঙ্গাইলে তৃতীয় দফার বন্যায় জেলার ১২ টি উপজেলার মধ্যে ১১টিই এখন বন্যাকবলিত। বন্যায় এসব অঞ্চলের প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষাধিক। দীর্ঘ মাস ধরে বন্যা স্থায়ী হওয়ায় চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে সর্বত্রই।

গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ৩ সে.মি কমেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে জেলার অভ্যন্তরীণ সবকটি নদীতে। অভ্যন্তরীণ নদীগুলির প্রায় সবকটিই বিপৎসীমার একশ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্গত মানুষের সংখ্যা। পুরো জেলায় দেখা দিয়েছে তীব্র মানবিক সংকট।

জেলা প্রশাসন অফিসের তথ্যমতে, ১১ উপজেলার ৮৩টি ইউনিয়নের অন্তত ৬৫২ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অপরদিকে ৬টি পৌরসভা আংশিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় ৫ লাখ ১২ হাজার ৪২১ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ৫৭ হাজার ৪৯ টি। আর পানিবন্দি লোক সংখ্যা ২ লাখ ২৮ হাজার ১৯৬ জন।

অপরদিকে ৭৬১টি ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে এবং আরো আংশিক ৩০ হাজার ৫০৫ টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২ টি স্কুল নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আরো ৮৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদী ভাঙনে ১ টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৮৭ টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার ৬৪১ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২ কি.মি. সম্পূর্ণ কাঁচা রাস্তা এবং আংশিক ৬৯৩ কি.মি. কাঁচা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে ১৬০ কি.মি. পাকা রাস্তা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও সম্পূর্ণ ৭টি ব্রিজ এবং আংশিক ৪৯টি ব্রিজ ক্ষতি হয়েছে। টিউওবেল ৭৯৪১ টি এবং ৫.৩ কি.মি. আংশিক নদীর বাঁধ ক্ষতি হয়েছে।

দুর্গত মানুষের জেলায় মোট ৪৫ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা রয়েছে। এই আশ্রয় কেন্দ্রে সংখ্যা ৩ হাজার ৪৬৫ জন আশ্রয় নিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা চলমান রাখতে ১১৩টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জেলায় ৯০০ মে.ট্রন চাল, নগদ ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। শিশু খাদ্য ২ লাখ টাকা এবং গোখাদ্য ৯ লাখ টাকা এবং শুকনা প্যাকেট ১০ হাজার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ১০ হাজার ৭৪ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে বোনা আমন, রোপা আমনের বীজতলা, আউশ, সবজি, লেবু এবং আখসহ নানা ফসল রয়েছে।

(সোহেল তালুকদার, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে মহাসড়কে যানজট নিরসনে মাঠে ৬১২ পুলিশ

ক’দিন পরই ঈদুল আজহা। ঈদ সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলার ঘরমুখো মানুষ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে তাদের গন্তব্যে ফিরবেন। এসময় যানবাহনের চাপ থাকায় বিগত বছরগুলোতে এই মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কে থাকতে হয়েছে। তাই আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে যানজট নিরসনে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের মির্জাপুরের ধেরুয়া থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর গোলচত্বর পর্যন্ত ৬১২ জন পুলিশ সদস্য মাঠে থাকবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর দুইটা থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্র জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের মির্জাপুরের ধেরুয়া থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর গোলচত্বর পর্যন্ত এলাকাকে পাঁচটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে মির্জাপুরের ধেরুয়া ওভার ব্রিজ থেকে নাটিপাড়া পর্যন্ত এক নম্বর সেক্টর, নাটিয়াপাড়া থেকে ঘারিন্দা ওভারব্রিজ পর্যন্ত দুই নম্বর সেক্টর, ঘারিন্দা ওভারব্রিজ থেকে এলেঙ্গা ব্রিজ পর্যন্ত তিন নম্বর সেক্টর, এলেঙ্গা ব্রিজ থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত চার নম্বর সেক্টর ও ময়মনসিংহ লিংক রোড থেকে মধুপুরের অরণখোলা পর্যন্ত পাঁচ নম্বর সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। চার নম্বর সেক্টরকে আবার তিনটি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে।

এলেঙ্গা ব্রিজ থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের সাত নম্বর ব্রিজ পর্যন্ত এক নম্বর সাব সেক্টর সাত নম্বর ব্রিজ থেকে ১৫ নম্বর ব্রিজ পর্যন্ত দুই নম্বর সাব সেক্টর ও ১৫ নম্বর ব্রিজ থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর গোলচত্বর পর্যন্ত তিন নম্বর সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে।

প্রতিটি সেক্টরে একজন করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সেক্টর ইনচার্জ, একজন সহকারী পুলিশ সুপার সহযোগী ইনচার্জ, সহযোগী ইনচার্জ হিসেবে দুই জন পুলিশ পরিদর্শক, সার্বিক সহযোগিতায় দুইজন টিআই ও দুইজন সার্জেন্ট ও টিএসআই দায়িত্ব পালন করবেন।

এছাড়াও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৩৫টি পিকেট ডিউটি মোতায়েন করা হয়েছে। অপরদিকে প্রতি দুই কিলোমিটারে একটি করে মোট ৩৪টি মোটরসাইকেল টিম মোতায়েন এবং গুরুত্বপূর্ণ লিংক রোডের মাথায় ১৫টি অস্থায়ী বাঁশকল স্থাপন করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, মহাসড়কের টাঙ্গাইলের অংশে যানজট নিরসনে ৬১২ পুলিশ সদস্য তৎপর রয়েছে। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করে যাতে যানজটের সৃষ্টি না করে সে লক্ষ্যে পরিবহন নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে।

অপরদিকে ঈদ উপলক্ষে যানবাহন থেকে যাতে চাঁদাবাজি করতে না পারে সেদিকে নজর রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ করোনা প্রতিরোধক সামগ্রী দেওয়া হয়েছে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-