সড়কে বন্যার পানি উঠে নাগরপুরে ভেঙ্গে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে দ্বিতীয় দফা ভয়াবহ বন্যায় সাধারন মানুষের জীবনযাপন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বন্যার পানির স্রোতে ভেসে গেছে উপজেলার কাচাঁপাকা অধিকাংশ সড়ক। ইতিমধ্যে টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বন্যার পানি উঠে মানিকগঞ্জ হয়ে ঢাকার সাথে সরাসরি নাগরপুরের সড়ক যোগাযোগ বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

এছাড়া ঢাকার সাথে যোগাযোগের নাগরপুর- মির্জাপুর ভায়া মোকনা সড়কেরও বিভিন্ন পয়েন্টে বন্যার পানি উঠে যোগাযোগে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

মোট কথা টানা এক মাসের বন্যায় নাগরপুরের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

চলমান দীর্ঘমেয়াদি বন্যার পানিতে ডুবে আছে উপজেলার ১১ ইউনিয়ন। পানির স্রোতে কাঁচা-পাকা রাস্তা, ব্রিজ কালভার্ট ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সংকটের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে যাওয়ায় কোরবানির ঈদের কেনাকাটার জন্যও মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন গরুর খামারিরা।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় তারা তাদের গরু-ছাগল কোরবানির হাটে সহজে নিয়ে যেতে পারছে না। গরু ভর্তি ট্রাক সড়কের ভাঙ্গা অংশে এসে ফেসে যাচ্ছে। টানা বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে ডুবে থাকায় এ উপজেলার ৩ লাখ মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে গেছে উপজেলার গয়হাটা-সিংজোড়া সড়কের সেতু। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে সিংজোড়া সহ আশপাশের ৪ গ্রামের সঙ্গে নাগরপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা।

পানিতে ডুবে থাকায় ও রাস্তা-ব্রিজ বিধ্বস্ত হওয়ায়, নাগরপুর-সহবতপুর, নাগরপুর-চৌহালী, নাগরপুর- সলিমাবাদসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বন্ধ হয়ে গেছে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা।

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, বন্যার পানিতে ডুবে বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা, ১টি ব্রিজ ভেঙ্গে গেছে এছাড়া ৩টি ব্রিজ ভাঙ্গন হুমকীতে রয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে দুর্গত এলাকার গ্রামীণ জনপদের ১ শত কিলোমিটার কাঁচা-পাকা রাস্তা, ২৩ টি ব্রিজ কালভার্ট ও ১/২ কিলোমিটার বাঁধ।

(মাসুদ রানা, ঘাটাইল ডট কম)/-

করোনা ও বন্যার প্রভাবে টাঙ্গাইলে সোয়া লাখ তাঁতি পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই!

টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতি এলাকার এক লাখ তিন হাজার ২০৬ জন তাঁত শ্রমিক ও চার হাজার ৩৯১ জন তাঁত মালিকের পরিবারে এবার ঈদুল আযহার আনন্দ নেই। করোনার প্রভাবে গত মার্চ মাস থেকে তাঁত ফ্যাক্টরি বন্ধ রয়েছে। সাম্প্রতিক বন্যার কারণে তাঁত ফ্যাক্টরিগুলো আর খোলা সম্ভব না হওয়ায় তাঁতি এলাকায় অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব প্রকট আকার ধারণ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁত বোর্ডের স্থানীয় দু’টি বেসিক সেণ্টার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলায় তাঁত শিল্প ও তাঁতিদের উন্নয়নের জন্য তাঁত বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি বেসিক সেন্টার রয়েছে। এরমধ্যে কালিহাতী, ভূঞাপুর, ঘাটাইল, গোপালপুর, মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার জন্য কালিহাতীর বল্লায় একটি এবং সদর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, বাসাইল, সখীপুর, মির্জাপুর উপজেলার জন্য টাঙ্গাইল শহরের বাজিতপুরে একটি বেসিক সেণ্টার রয়েছে।

তাঁত বোর্ডের কালিহাতী বেসিক সেণ্টারে ১৭টি প্রাথমিক তাঁতি সমিতির দুই হাজার ১২৪জন ক্ষুদ্র তাঁত মালিকের ২১ হাজার ৯৭৩টি তাঁত রয়েছে। প্রতি তাঁতে তিনজন শ্রমিকের হিসেবে ৬৫ লাখ ৯১৯জন শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

টাঙ্গাইল সদর (বাজিতপুর) বেসিক সেন্টারে ৩২টি প্রাথমিক তাঁতি সমিতির দুই হাজার ২৬৭ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁত মালিকের ১২ হাজার ৪২৯টি তাঁত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৩৭ হাজার ২৮৭জন শ্রমিক কাজ করেন।

মোট ৩৪ হাজার ৪০২ তাঁতের এক লাখ তিন হাজার ২০৬ জন তাঁত শ্রমিক ও চার হাজার ৩৯১ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁত মালিকের পরিবার করোনা ও বন্যার প্রভাবে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

সরেজমিনে কালিহাতী উপজেলার বল্লা, রামপুর, মমিননগর, কোকডহড়া, দত্তগ্রাম, বেহেলা বাড়ী, ঘোণাবাড়ী, ছাতিহাটি, তেজপুর, কাজীবাড়ী; দেলদুয়ার উপজেলার চন্ডি, পাথরাইল, পুটিয়াজানী, রূপসী, সদর উপজেলার চরকাকুয়া, চরপৌলী, হুগড়া ইত্যাদি তাঁত শিল্প অধ্যুষিত এলাকা বন্যার পানিতে থৈ থৈ করছে। বেশিরভাগ তাঁত ফ্যাক্টরিতে পানি ঢুকেছে। তাঁতের তানা (কাপড় বুননের ভিম) উঁচুতে তুলে বেঁধে রাখা হয়েছে। বাড়ি-ঘরে পানি থাকায় তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা কোন রকমে একবেলা-আধপেটা খেয়ে জীবন ধারণ করছে।

তাঁত শ্রমিকরা জানায়, করোনা ভাইরাসের কারণে গত মার্চ মাস থেকে ফ্যাক্টরি বন্ধ রাখা হয়। এরমধ্যে সাম্প্রতিক বন্যা তাঁত শিল্পে মারাত্মক ধস নেমে এসেছে। অধিকাংশ তাঁত শ্রমিকের ঘরে পর্যাপ্ত খাবার নেই। এখন তারা কৃচ্ছতা সাধন করে কোন রকমে খেয়ে- না খেয়ে বেঁচে আছেন। কষ্টের এ সময়ে তারা ঈদ নিয়ে ভাবছেন না, পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাটাই এখন তাদের কাছে চ্যালেঞ্জ।

শ্রমিকরা আরো জানায়, প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাদের লোকদেরকেই সরকারি ত্রাণ সাহায্য দিয়ে থাকেন। জনপ্রতিনিধিদের সাথে সম্পর্ক ভালো থাকলে কেউ কেউ সুবিধা পেলেও অধিকাংশই পাচ্ছেন না।

তাঁতিরা সংখ্যালঘু হওয়ায় তারা সরকারি সহায়তায় পক্ষপাতিত্বের শিকার হয়ে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন।

কালিহাতী উপজেলার বল্লা ১নং প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন জানান, তার সমিতির সদস্য তিন হাজার ১০জন। করোনা ও বন্যার কারণে গত মার্চ মাস সকল তাঁত বন্ধ। তাঁত ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় তাঁত মালিক ও শ্রমিক সবাই ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এ অবস্থা বেশিদিন চললে তাঁতিদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। করোনার কারণে তাঁত শ্রমিকদের যৎসামান্য খাদ্য সহায়তা দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

তিনি বলেন, তাঁত শ্রমিকরা ত্রাণ সহায়তার জন্য হাহাকার করছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা চরম অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছে।

তাঁত বোর্ডের স্থানীয় বেসিক সেণ্টার সূত্রে জানা যায়, দুটি বেসিক সেণ্টার থেকে তাঁতিদের মাঝে বিতরণকৃত ৮ কোটি ৬৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকার ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখা হয়েছে।

এছাড়া তাঁত বোর্ডের চলতি মূলধন সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় এক কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ হিসেবে ৬৪জন তাঁতিকে দেওয়া হয়েছে।

বল্লা ইউপি চেয়ারম্যান হাজী চান মাহমুদ পাকির জানান, করোনা ও বন্যার প্রভাবে সব তাঁত ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় হাজার হাজার তাঁত শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের অনেকের ঘরে খাবার নেই, উপজেলা থেকে কোটা অনুযায়ী সরকারি ত্রাণ সহায়তা ইউনিয়ন পরিষদে আসে। সেখান থেকেও তিনি কিছু তাঁত শ্রমিকের মাঝে বণ্টন করে দিয়েছেন।

দেলদুয়ারের আটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম মল্লিক জানান, সরকারি বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ইউনিয়নের ভাতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতিত কর্মহীন শ্রমিকদের মাঝে ত্রাণ পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁত শ্রমিকদের মাঝেও সরকারি ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে।

টাঙ্গাইল শাড়ির রাজধানী পাথরাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারী তাঁত শিল্পের মালিকরা সাধারণত ব্যাংকঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন। বছরে দুটি ঈদ ও দুর্গাপুজায়ই তাঁত শাড়ির মূল ব্যবসা হয়ে থাকে।

করোনার সাথে ভয়াবহ বন্যা যোগ হয়ে তাঁতিদের পথে বসার অবস্থা হয়েছে। তাঁত মালিকদের সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক তাঁতিদেরকে ঋণ সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তাঁত বোর্ডের কালিহাতী বেসিক সেণ্টারের ভারপ্রাপ্ত লিয়াজোঁ অফিসার ইমরানুল হক জানান, করোনা ও বন্যার প্রভাবে তাঁত শিল্পে ধস নেমে এসেছে। কালিহাতী বেসিক সেণ্টারে পানি ঢুকে পড়ায় সকল কার্যক্রম স্থগিত করে ভবন পাহাড়া দিতে হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক তাঁত শ্রমিকের ঘরে খাবার নেই।

তাঁত বোর্ড থেকে পাওয়া দুই হাজার ৩০০ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী তিনি তাঁত শ্রমিকদের মাঝে বিতরণ করেছেন। ঈদুল আযহার আনন্দ তাদের মাঝে পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

টাঙ্গাইল সদর (বাজিতপুর) বেসিক সেন্টারের লিয়াজোঁ অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, করোনা ও বন্যার প্রভাব টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্পের জন্য অশনিসঙ্কেত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাঁতিদের জন্য আলাদা ভাবে কোন সরকারি ত্রাণ সহায়তা আসেনি।

দেলদুয়ার ও সদর উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাঁত শ্রমিকদের ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিরা তাঁত শ্রমিকদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছেন।

সরকারি প্রণোদনা তথা ঋণ সুবিধা না পেলে তাঁতিরা এ সঙ্কট মোকাবেলা করতে পারবে না বলে তিনি মনে করেন।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মোশারফ হোসেন খান জানান, অস্বচ্ছল তাঁত শ্রমিকদের মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হবে।

গত জুন মাসে তাঁতিদেরকে স্বাস্থ বিধি মেনে তাঁত চালু রাখতে বলা হয়েছে। করোনার সাথে বন্যা যোগ হওয়ায় তাঁতিরা সহ সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

(বুলবুল মল্লিক, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলছে পশুর হাট

টাংগাইলের নাগরপুরে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। হাটে আগত অধিকাংশ ক্রেতা বিক্রেতার সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই, নেই মুখে মাস্কও। ফলে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি নিয়েই চলছে পশুর হাট।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোরবানির হাটগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্রয় বিক্রয়ের কথা থাকলেও তা মানছে না হাট কমিটি ও ক্রেতা বিক্রেতারা। উপচে পড়া ভিড়ে উপজেলার তেবাড়িয়া, খোরশেদ মার্কেট, শাহজানী পশুর হাটে চলছে ক্রয় ও বিক্রয়।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাট পরিচালনা করার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও এ বিষয়ে প্রাশসনিক ভাবে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

করোনা ভাইরাস এর কারণে সকাল ১০ ঘটিকা হইতে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত পশুর হাট চালানোর নির্দেশ থাকলেও ক্রেতা বিক্রেতা ও হাট কমিটি তা মানছেন না।

খোরশেদ মার্কেটের হাটে কোরবানি জন্য গরু কিনতে আসা জাফর মিয়া জানান, এমন ভাবে পশুর হাটে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা না হলে, করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করতে পারে। এখানে কোন স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, পশুর হাটে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও মুখে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে গনসচেতনতা তৈরী করতে মাইকিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় মেডিকেল টিম প্রতিটি হাটে রাখা হয়েছে।

(নাগরপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে বন্যার পানির স্রোতে ভেসে যাওয়া ব্রীজ পরিদর্শনে ডিসি

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বন্যার পানির স্রোতে ভেসে যাওয়া ব্রীজ পরিদর্শন করেছেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গণি।

উপজেলার গয়হাটা-সিংজোড়া সড়কের ঘুণী খালের উপর স্থাপিত ব্রীজটি বন্যার পানির স্রোতে মঙ্গলবার রাতে ভেসে যায়।

পরে ভেসে যাওয়া ব্রীজটির এলাকা আজ বুধবার দুপুরে পরিদর্শন করেন তিনি।

ব্রীজটির এলাকা পরিদর্শনকালে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক জনসাধারনের আপদকালীন সময়ে চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থানিতে স্থানীয় প্রশাসনকে তাগিদ দেন।

এসময় উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে বন্যা পরবর্তী সময়ে দ্রুত ব্রীজটি নির্মান করে দেওয়ার জন্য বলেন তিনি।

এসময় তার সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম, সহকারি কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুর, নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবীল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দিকী প্রমূখ।

ব্রীজটি ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে সিংজোড়ায় অবস্থিত স্কুল, কলেজ, হাট, বাজার ও পার্শ্ববর্তী শ্যামপুর, তেহালিয়া, বাটরা সহ বিভিন্ন এলাকার জনসাধারনের সরাসরি উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

(মাসুদ রানা, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে ৯ উপজেলায় বন্যা, পানিবন্দি দেড়লক্ষাধিক মানুষ

টাঙ্গাইলে যমুনা, ঝিনাই, বংশাই নদীর পানি সামান্য কমলেও বংশাইসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে ৪ নদীর পানি বিপদসীমার উপরে রয়েছে।

তবে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তীত রয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের গ্রামগুলো নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে।

নতুন নতুন রাস্তা ঘাট ও ব্রিজ পানিতে ভেঙে যাচ্ছে। জেলার নিচু অঞ্চল ও চরাঞ্চলের অনেক গ্রামের ঘড়-বাড়ি, ফসলি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। বন্যা দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

এছাড়া ত্রাণ সহায়তাও পাচ্ছে না অনেকেই।

বন্যায় জেলায় এখন পর্যন্ত দুই লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে বিভিন্ন এলাকার রক্ষাবাধ। জেলায় দেড়লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

আর দ্বিতীয় দফার বন্যায় ৬ হাজার ১৬৪ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়েছে।

জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বুধবার সকালে ধলেশ্বরী নদীর পানি ৭ সে.মি. কমে বিপদসীমার ১৪৬ সে.মি., যমুনা নদীর পানি ৩ সে.মি. কমে বিপদসীমার ৬৪ সে.মি. এবং ঝিনাই নদীর পানি ৬ সে.মি. কমে বিপদসীমার ৭৩ সে.মি. উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া বংশাই নদীর পানি ১৫ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্র জানায়, জেলায় এখন পর্যন্ত (মঙ্গলবার পর্যন্ত) টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর, দেলদুয়ার, ভূঞাপুর, কালিহাতী, ধনবাড়ী, গোপালপুর, বাসাইল এবং মির্জাপুর উপজেলায় নিমাঞ্চল এবং চরাঞ্চলের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এ ৯ উপজেলার ৪৭ টি ইউনিয়নের অন্তত ৪১৩ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

অপরদিকে ৪টি পৌরসভা আংশিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে বন্যার পানিতে ডুবে কালিহাতী এবং নাগরপুরে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বন্যায় ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৩১ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ৩৮ হাজার ৪৭৮টি। আর পানিবন্দি লোক সংখ্যা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯১২ জন।

অপরদিকে ৭৩৭টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে এবং আরো আংশিক ১১ হাজার ৫১২ টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়াও নাগরপুরে ১টি স্কুল নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আংশিক আরো ৫৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়া নদীভাঙনে ১ টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এবং আংশিক ৩১ টি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ৯ উপজেলার ৪৪৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, জেলায় এখন পর্যন্ত ২ কি.মি. সম্পূর্ণ কাচা রাস্তা এবং আংশিক ৩১৪ কি.মি. কাঁচা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপরদিকে ৭১ কি.মি. পাকা রাস্তা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও সম্পূর্ণ ৫টি ব্রিজ এবং আংশিক ৪৩টি ব্রিজ ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে টিউওবেল ১৪১ টি এবং ২.৫ কি.মি. আংশিক নদীর বাঁধ ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া জেলায় ৪০০ মে.ট্রন জির চাল, নগদ ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। অপরদিকে শিশু খাদ্য ২ লাখ টাকা এবং গোখাদ্য ২ লাখ টাকা এবং শুকনা প্যাকেট ৬ হাজার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এগুলো বিতরণ কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, প্রথম দফায় বন্যায় টাঙ্গাইলে ৩ হাজার ৮৩৯ হেক্টর ফসলী জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ২৭ হাজার ২৩৩ জন। আর দ্বিতীয় দফায় বন্যায় এখন পর্যন্ত (মঙ্গলবার) ৬ হাজার ১৬৪ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে বোনা আমন, রোপা আমন (বীজতলা), আউশ, সবজি, তিল রয়েছে।

টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিজ্ঞান শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, কিছু কিছু নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, আবার কিছু নদীর পানি কমছে।

তবে বর্তমানের বৃষ্টির কারণে নদীগুলোতে আবারো পানি বৃদ্ধি পাবে। পানি সরে গেলে নদীভাঙন তীব্র হবে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বন্যা দূর্গত অসহায় ৩ শত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে উপজেলার দপ্তিয়র ও সহবতপুর ইউনিয়নের নদী ভাঙ্গন এলাকায় সরকারি বরাদ্দের পরিবার প্রতি ১০ কেজি চাল, ১ কেজি করে ডাল ও শুকনো খাবার বানভাসী এসব পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়।

গত কয়েকদিনে যমুনা নদীর পানি অব্যাহত ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ও দপ্তিয়র ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ফলে এসব এলাকার মানুষের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দেখা দেয়।

নদী পাড়ের ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের দূর্দশা বিবেচনা করে সরকার তাদের দিকে সাহয্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

সোমবার সকালে দপ্তিয়র ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর, কামুটিয়া, ছিটকীবাড়ি সহ নদী পাড়ের মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, দপ্তিয়র ইউপি চেয়ারম্যান এম ফিরোজ সিদ্দিকী, নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ পান্না, দপ্তিয়র ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো.আবুল হাসেম, সদস্য শাহ আলম সিদ্দিক, ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, আব্দুস ছালাম প্রমূখ। অপরদিকে সহবতপুর ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া, নলসন্ধ্যা, নন্দপাড়া সহ ধলেশ্বরী নদীর ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন সহবতপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো.তোফায়েল আহম্মেদ মোল্লা।

(মাসুদ রানা, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে গোসল করতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার উপেন্দ্র সরোবরে (দিঘী) গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে শ্রাবণী (১০) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার দুপুরে উপজেলার কাঠুরীতে অবস্থিত দিঘীতে এ ঘটনা ঘটে।

সে সদর ইউনিয়নের কাঠুরী গ্রামের মো. হোসেন আলীর মেয়ে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সোমাবার দুপুরে শ্রাবনী সঙ্গীদের সাথে উপেন্দ্র সরোবরে গোসল করতে এসে নিখোঁজ হয়। সঙ্গীরা তাকে না পেয়ে বাড়ীর লোকজন ও আশপাশের মানুষকে বিষয়টি জানায়।

এরপর এলাকাবাসী উপেন্দ্র সরোবরের পানিতে শ্রাবনীকে খুঁজতে থাকে। প্রায় ঘন্টা খানেক পর তাকে পানি থেকে তুলে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার শিশুটিকে মৃত ঘোষনা করে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

নাগরপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএম কামরুজ্জামান মনি বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। আমার গ্রামের হোসেন আলীর মেয়ে শ্রাবনী গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে যায়। আমি যতটুকু জেনেছি শিশুটির মৃগী রোগ ছিল।

(মাসুদ রানা, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি

দ্বিতীয় দফায় যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীতে পানি বাড়ায় টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে।

নাগরপুর সরকারি কলেজ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নাগরপুর-চৌহালী সড়ক সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বন্যার পানি উঠায় চরম বিপাকে পড়েছে সাধারন মানুষ। মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় তাদের গবাদি পশু নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটছে শত শত মানুষ।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

উপজেলার নাগরপুর, সলিমাবাদ, দপ্তিয়র, গয়হাটা, ভারড়া, মোকনা, পাকুটিয়া, ধুবড়িয়া, সহবতপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার বসতঘরে পানি ওঠায় ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে শত শত পরিবার।

এছাড়া উপজেলার যমুনা ও ধলেশ্বরী নদী সংলগ্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। কোনো কোনো এলাকার কাঁচা-পাকা রাস্তা ডুবে গিয়ে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

জানা গেছে, গত তিনদিন ধরে যমুনায় পানি বাড়ায় ভারড়া, গয়হাটা, সলিমাবাদ ও দপ্তিয়র এলাকার হাজার হাজার মানুষের ঘরে পানি উঠেছে। বসতঘরের পাশাপাশি ডুবে গেছে টয়লেট, নলকূপ, রান্নাঘর, গোয়ালঘর। ফলে রান্না করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির।

দুর্গত এলাকায় অনেকে ঘরের ভেতর মাচা পেতে হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু নিয়ে থাকছেন। আবার অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে ছুটছেন নিরাপদ স্থানে।

বন্যার পানির স্রোতে চৌহালী-আরিচা সড়কের উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের তেবাড়িয়ায় বেইলী ব্রিজ ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এছাড়া নাগরপুর শাহাজানী সড়কের বনগ্রামে পাকা রাস্তায় পানি উঠে পার্শ্ববর্তী চৌহালী উপজেলার সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, গত দুদিনে জেলার নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রবিবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত দুদিনে নাগরপুর উপজেলার যমুনা নদী বেষ্টিত চারটি ইউনিয়নে বন্যার পানি বেড়েছে।

এদিকে যমুনা নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙনও। পানি উন্নয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্ট এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতি দেখতে উপজেলা প্রশাসনের টিম শনিবার সারাদিন উপজেলার বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছে। এসময় পানিবন্দি মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।

সলিমাবাদ ইউনিয়নের পাইকশা এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, গত কয়েকদিন ধরে প্রচুর পানি বেড়েছে। এবার ঘরের চাল ছুঁইছুঁই করছে পানি। এ এলাকার অনেকেই ঘরবাড়ি ফেলে আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এতো পানি গতবারেও হয়নি। গরু-ছাগল নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে তাদের।

সহবতপুর এলাকার মো.মন্টু মিয়া নামের এক ব্যক্তি বলেন, পানি বাড়ায় আমার মাছের ঘের ভেসে গেছে। লক্ষাধিক টাকার মাছ বের হয়ে গেছে পুকুর থেকে।

আরেক মৎস্য চাষি মো. সোহেল মিয়া বলেন, এবারের বন্যায় আমার তিনটি পুকুর ভেসে গেছে। এতে প্রায় ৮লক্ষাধিক টাকার মাছ বের হয়ে গেছে।

অপর দিকে ভাই ভাই নার্সারির মালিক মো.তারা মিয়া বলেন, যমুনা নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় লোকালয়ে বন্যার পানি ঢুকে পরে আমার প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ তলিয়ে গেছে। বন্যার পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে গাছের চারাগুলো মরে যাবে ।

এদিকে বানভাসী এলাকার মানুষ অভিযোগের সূরে বলেন, বন্যায় তারা দূর্বিসহ জীবনযাপন করলেও সরকারি কোন সহায়তা এখন পর্যন্ত পাননি।

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম জানান, যমুনা নদী সংলগ্ন এলাকার পানিবন্দি মানুষদের গতকাল থেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হচ্ছে। বন্যা কবলিতদের সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। আরো খাদ্য সহায়তা দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। তাছাড়া ভাঙন কবলিত এলাকা রক্ষার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।

(মাসুদ রানা, ঘাটাইল ডট কম)/-

নাগরপুরে যৌতুকের জন্য অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে নির্যাতন

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের পর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে তাসলিমা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে।

ছয় মাস আগে বিয়ে হলেও শুধুমাত্র যৌতুকের জন্য স্বামীর বাড়িতে যেতে পারছিল না ওই গৃহবধূ।

এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ বুধবার থানায় অভিযোগ করেন।

অভিযোগে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়নের জালাই গ্রামের তৈজুদ্দিনের মেয়ে তাসলিমা আক্তারের বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী পাঁচআড়া গ্রামের সিরাজুল মোল্লার ছেলে শহিদুল ইসলামের সাথে।

বিয়ের পর গৃহবধূ স্বামীর বাড়িতে যেতে চাইলে বিভিন্ন তালবাহানায় স্বামী তাকে নিয়ে যেতে অপরাগতা প্রকাশ করে।

গৃহবধূ তাসলিমা তার শ্বশুর বাড়ি যেতে স্বামী শহিদুলকে চাপ দিলে তখন সে ৫ লাখ টাকা দাবি করে।

যৌতুকের এত বড় অংকের টাকা তাসলিমার পরিবার দিতে না পারায় সে দীর্ঘদিনেও তার স্বামীর বাড়ি যেতে পারছিলো না। এরই মাঝে তাসলিমা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে বাধ্য হয়ে গত সোমবার বিকেলে তাসলিমা একাই তার স্বামীর বাড়িতে চলে যায়।

সেখানে যাওয়ার পর তাসলিমার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে তাকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়।

পরে নির্যাতিতা গৃহবধূ স্বামীর পরিবারের নির্যাতন সইতে না পেরে পার্শ্ববর্তী শাহজাহানের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরের দিন আবার স্বামীর বাড়িতে গেলে তাকে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে মারার হুমকি দেন স্বামীর পরিবারের লোকজন। পরে তাসলিমার পরিবারের লোকজন তাসলিমাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বুধবার সকালে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

এ ব্যাপারে গৃহবধূর স্বামী শহীদুলের সাথে যোগাযোগ করলে সে যৌতুকের বিষয়টি অস্বীকার করলেও তার স্ত্রীকে মারধরের কথা স্বীকার করে ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাগরপুর থানার ওসি আলম চাঁদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

(টাঙ্গাইল সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

কোরবানির হাট কাঁপাতে আসছে নাগরপুরের খোকা বাবু

আর কয়েকদিন পরেই কোরবানির ঈদ। আর ঈদকে টার্গেট করে সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলের নাগরপুরের খামারীরাও প্রস্তুত তাদের গরু নিয়ে। এবার কোরবানির হাট কাঁপাতে আসছে নাগরপুরের খোকা বাবু।

কালো সাদার মিশেল রঙের সুঠাম স্বাস্থ্যের অধিকারী ষাঁড়টিকে আদর করে নাম দেওয়া হয়েছে খোকা বাবু। খোকা বাবু খুবই শান্তশিষ্ট একটি ষাড় গরু।

গরুটি টাঙ্গাইলের নাগরপুরের নঙ্গীনা বাড়ির মো. আবুল কাশেম মিয়ার আদর যত্নে পালিত গরু। যার ওজন প্রায় ২৭ মণ। খুবই শান্ত, রোগ মুক্ত এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই খোকা বাবুর।

প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষ টাঙ্গাইলের নাগরপুরের নঙ্গিনাবাড়ির কাশেমের বাড়িতে এসে খোকাবাবুকে দেখে যান।

গরু পালনের বিষয়ে খামারি কাশেম বলেন, গরুর ফিট খাবার খাওয়ানোর সাধ্য আমার নেই। তাই নাগরপুর উপজেলার প্রাণী সম্পদ দপ্তরের ডা.রফিকুল ইসলাম স্যারের সাথে যোগাযোগ করি। স্যার বলেন, আপনি গরুর ওজন এবং প্রয়োজন এর ভিত্তিতে প্রাকৃতিক (ব্যালেন্সড) সুষম খাবার খাওয়ালে অর্থ ও ঝুকি দুইই কমবে এবং নিরাপদ মাংস উৎপাদিত হবে।

খোকা বাবুর দামের প্রত্যাশায় কাশেম আরো বলেন, বাজার বরাবর বিক্রি করতে হবে। বাজারে ক্রেতা ও গরুর সরবরাহের উপর নির্ভরশীল তবে আমি ১২ লক্ষ টাকা চাচ্ছি।

আগামী ঈদেও তিনি এমন গরু নাগরপুরবাসী কে উপহার দেবে কি না প্রশ্নের জবাবে বলেন, যদি পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাই তবে অবশ্যই চেষ্টা করব আরো ভাল মানের গরু তৈরি করার।

খোকাবাবুর খাদ্য তালিকার মধ্যে রয়েছে, বিভিন্ন ধরনের সবুজ ঘাশ, গাছের পাতা, খর, ভূষি, ভুট্টা ভাঙ্গা, সরিষার খৈল, নালি, চাউলের কুড়া, লবন, পরিমান মত পানি। নিয়মিত গোসল করানো, পরিস্কার ঘরে রাখা, বাবুর ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখা, নিয়মিত হাটানো, রুটিন অনুযায়ী ভ্যাকসিন দেওয়া ও কৃমির ঔষধ খাওয়ানো এ সকল বিষয় স্যারের পরামর্শেই আজ খোকাবাবু ১ টন।

খোকাবাবুকে মোটা তাজা করার ব্যাপারে কোন প্রকার ঔষধ ও ইনজেকসন ব্যবহার করা হয়নি বলে জানান তিনি।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ সম্প্রসারন কর্মকর্তা আশিক সালেহীন বলেন, গরুটি সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার খাইয়ে লালন পালন করা হয়েছে। গরুটির জাত হলো ফিজিয়াম। এ জাতের গরু আমাদের দেশে এখন খামারিরা পালন করছে। আমার জানা মতে গরুটি নাগরপুর উপজেলায় সর্বচ্চো বড়।

(মাসুদ রানা, ঘাটাইল ডট কম)/-