মির্জাপুরে সেতুর ওপর পলিথিনের ছাউনিতে শতাধিক পরিবারের ঈদ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় বন্যার কারণে শতাধিক দরিদ্র পরিবারের ঈদ কাটল বংশাই নদীতে নির্মিত একাব্বর হোসেন সেতুর ওপর পলিথিনের ছাউনিতে।

গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও পানিতে নিমজ্জিত বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলোর দুর্ভোগ কমেনি। খেয়ে না-খেয়ে অতি কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

মির্জাপুর পৌর এলাকার পোষ্টকামুরী পূর্বপাড়া (সওদাগরপাড়া) বন্যার পানিতে অধিকাংশ বাড়িঘর নিমজ্জিত হয়ে গেছে। এতে ওই পাড়ার অন্তত শতাধিক পরিবার বংশাই নদীর ওপর নির্মিত একাব্বর হোসেন সেতুতে আশ্রয় নিয়েছে।

আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলো প্রায় দুই সপ্তাহ যাবৎ ওখানে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বসবাস করছে। কখনো রোদে পুড়ছে আবার কখনো বৃষ্টিতে ভিজে খেয়ে না-খেয়ে দিন কাটাচ্ছে তারা।

সরেজমিন ওই এলাকার মানুষগুলোর দুর্ভোগের কথা জানা গেছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বংশাই নদীর পাশে দুই শতাধিক পরিবার বসবাস করছে। যাদের অধিকাংশেরই পেশা ছাতা, গ্যাসলাইটার মেরামত, ফেরি করে কাচের জিনিস, ক্ষুদ্র কসমেটিক্স বিক্রি ও মুদি দোকান করা।

অনেকেই আবার অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। তারা মূলত বেদে সম্প্রদায়ের বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।

ওই এলাকার বাবলী জানান, বন্যার পানিতে ঘর ডুবে যাওয়ার পর তিনি স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে প্রায় ১২ দিন আগে আশ্রয় নেন একাব্বর হোসেন সেতুর ওপর।

বাবলীর স্বামী আসাদ গ্যাসলাইটার ও ছাতা মেরামত করেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির জন্য কয়েক মাস ধরে তেমন কাজ নেই। তার ওপর বন্যা। বাড়ি ছেড়ে সেতুর ওপর ঠাঁই নেওয়ার পর কোনোরকমে সন্তানদের নিয়ে খেয়ে না–খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

মাহাবুব মিয়া (৩২) জানান, তিনি ফেরি করে গ্যাসলাইটের কাজ করেন। বন্যার কারণে কোথাও যেতে পারেননি।

শাহানা আক্তার (৫৫) জানান, তিনি ব্রিজের কাছে ছোট একটি দোকান করেন। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।

দুই পা হারা পাভুজ আলী (৭০) জানান, তিনি কোনো কাজ করতে পারেন না। তাই ভিক্ষা করেন। বন্যার কারণে কোথাও যেতে পারেন না।

রোকসানা (৪৫) জানান। তিনি একজন গৃহিণী হলেও অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। তার চার ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। করোনার জন্য কেউ কাজে নিচ্ছে না। তার মধ্যে আবার বন্যা। সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে বলে জানান।

পা হারা জিহাদ মিয়া (১৪) জানায়, সে চকির ওপর বসে পেয়ারা বিক্রি করছেন। এতে সে প্রতিদিন ১০০/১৫০ টাকা উপার্জন করছে বলে জানায়।

তারা জানান, ঘর ছেড়ে আসার পর দিনে দুবেলা খান তারা। ঈদের দিনও তিন বেলা খেতে পারেননি। অনেকেই আলুভর্তা ভাত খেয়েছেন।

এছাড়া সেতুতে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো শিশু সন্তানদের নিয়ে ‍দুশ্চিন্তায় রয়েছে।

সেতুটির ওপরে দুই পাশে পলিথিনে মোড়ানো প্রায় শতাধিক ছোট ছোট পৃথক ছাউনি রয়েছে। সেখানে তারা আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়স্থলে ছোট ছোট শিশুরা খেলা করছে। অনেক শিশু চৌকিতে ঘুমাচ্ছে। বড়দের অনেকে ক্লান্ত শরীরে গবাদিপশুর সঙ্গে একই ছাউনিতে ঘুমাচ্ছেন।

বৃদ্ধ সোনাভানু বলেন, ১২ দিন ধইরা এনে আইছি। খ্যায়া না খ্যায়া দিন কাটাইতাছি। একবার একজনে আয়্যা কয়ডা চ্যাল দিল। তারপর আর কেউ খবর নিল না। কাম নাই। ভালো খাওন নাই। খালি ঘুম আর ঘুম। খালি প্যাটে তো ঘুমও আহে না। গরু-ছাগল নিয়ে সেতুটিতে আশ্রয় নিয়েছেন ছমন মিয়া। তিনি সেই গবাদিপশুর সঙ্গে একই পলিথিনের ছাউনিতে ঘুমাচ্ছিলেন।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল মালেক বলেন, সেতুর ওপর আশ্রয় নেওয়া লোকদের সরকারিভাবে কিছু সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরো সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে নৌকায় চলাচল করছেন ডাক্তার ও নার্সরা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালের সামনের সড়কে প্রায় ৩ ফুট উচ্চতায় পানি উঠে পুরাতন বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। হাসপাতাল ভবনের চারপাশ, ভারতেশ্বরী হোমসের সামনে ও ভেতরে পানি প্রবেশ করেছে। কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, ছাত্রী হোস্টেল মাঠ ও নার্সিং হোস্টেল ভবনের সামনেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। হাসপাতালের ওয়ার্ডে পানি প্রবেশ না করলেও ডাক্তার ও নার্সরা নৌকায় চলাচল করছেন। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও আত্মীয়-স্বজনদের পানির ভেতর হেঁটেই চলাচল করতে হচ্ছে। এতে তাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল রোডে পানির মধ্যে সীমিত আকারে রিকশা চলাচল করলেও ১০ টাকার ভাড়া ৩০-৪০ টাকায় যেতে হচ্ছে। এতে দরিদ্র রোগীদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সদরের পোস্টকামুরী গ্রামের কলেজ ছাত্রী লাবনী আক্তার বলেন, হাসপাতলের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে রিকশার পাশাপাশি নৌকাও ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে রোগী ও তাদের স্বজনদের নৌকায় নেয়া হচ্ছে না।

এছাড়া হাসপাতাল রোডে একাধিক স্পিড ব্রেকার (গতিরোধক) থাকায় নৌকাও চালানো যাচ্ছে না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

হাসপাতাল রোডে চলাচলকারী রিকশাচালকরা জানিয়েছেন, যাত্রী নিয়ে পানির ভেতর হেঁটে রিকশা টেনে নিতে হয়। প্রায় কোয়াটার মাইল রাস্তা যেতে ১২-১৫ মিনিট সময় লাগে। ৪-৫ বার যাতায়াত করলে পা ব্যথা হয়ে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। এজন্য বেশি সময় রিকশা টানতে পারেন না। তাই একটু বেশি টাকা নিচ্ছেন।

ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষিকা হেনা সুলতানা বলেন, কুমুদিনী হাসপাতালের ক্যাম্পাস জুড়ে পানি। তবু কাজ তো থেমে থাকে না। বাসা থেকে বের হলেই পানি। চলাচলের জন্য রিকশার পাশাপাশি আমরা নৌকাও ব্যবহার করছি।

কুমুদিনী হাসপাতালের সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক (অপারেশন) অনিমেষ ভৌমিক বলেন, বন্যা ও ঈদের কারণে রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। আগে আউটডোরে প্রতিদিন ১৫০০ থেকে ২০০০ রোগী চিকিৎসা নিত। এখন ৫শ থেকে ৬শ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। এছাড়া ১০৫০ বেডের এই হাসপাতালটিতে নিয়মিত ৭/৮শ রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিত। এখন দুই শতাধিক রোগী আছে। পানি বৃদ্ধির ফলে আমাদের কাজের গতি সঞ্চারে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটলেও চলাচলের জন্য রিকশার পাশাপাশি তিনটি নৌকা ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া আউটডোর থেকে হাসপাতাল ভবন পর্যন্ত বেঞ্চ দেয়া হয়েছে।

এদিকে বংশাই ও লৌহজং নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার অধিকাংশ আঞ্চলিক সড়ক তলিয়ে গেছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে উপজেলার ৩ হাজার ১শ হেক্টর জমির বোনা আমন, ১৪ হেক্টর জমির আউশ ধান, ১২৫ হেক্টর জমির সবজি আবাদ, শতাধিক পোল্ট্রি ফার্ম ও মাছ চাষের শতাধিক পুকুর।

এতে মাছচাষিদের প্রায় ২ কোটি টাকার মাছ বেরিয়ে গেছে। এছাড়া পোল্ট্রি ফার্মের মালিকরা নির্দিষ্ট বয়স হওয়ার আগেই মুরগি বিক্রি করে দিয়েছেন বলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে।

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকাংশ আঞ্চলিক সড়ক।

এক মাছচাষি জানান, পৌর এলাকার সাহাপাড়া গ্রামে ৮০ শতাংশ জমির একটি পুকুরে তিনি মাছ চাষ করেছেন। পুকুরটিতে রুই, কাতল, গ্লাসকার্প, পাঙ্গাস, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে। ১০-১২ দিন আগে কিছু মাছ বিক্রি করলেও দাম কম থাকায় আর বিক্রি করেননি। পুকুরটিতে বর্তমানে প্রায় তিন লাখ টাকার মাছ রয়েছে। মঙ্গলবারের বৃষ্টির পানিতে পুকুরের পার তলিয়ে গেছে। এছাড়া পাশের খাল দিয়ে লৌহজং নদী থেকে পুকুরের আশপাশে পানি প্রবেশ করছে। পুকুরটি তলিয়ে গেলে সব মাছ বেরিয়ে যাবে। এতে তার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান জানান, এ উপজেলার ৩ হাজার ১শ হেক্টর জমির বোনা আমন, ১৪ হেক্টর জমির আউশ ধান ও ১২৫ হেক্টর জমির সবজি আবাদ পানিতে তলিয়ে গেছে।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে টাকা না পেয়ে মাকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে মারল মাদকাসক্ত ছেলে

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাদক কেনার জন্য টাকা চেয়ে না পেয়ে নিজের মাকে খুন করেছেন মাদকাসক্ত ছেলে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মাদকাসক্ত ছেলে মহর আলীকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামে মা ময়সুন্দুরীকে (৭৫) বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন ছেলে মহর।

এলাকাবাসী জানান, মহর আলী দীর্ঘদিন ধরে নেশা করেন। তার বাবা আবদুল মজিদ কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। তাদের অভাবের সংসার। সকালে মহর আলী মায়ের কাছে টাকা চান। কিন্তু তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তিনি মাকে বঁটি দিয়ে মাথার পেছনে ও কানে কোপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই ময়সুন্দুরী মারা যান।

এদিকে শাশুড়িকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন মহরের ছোট ভাই বাবুল মিয়ার স্ত্রী তাসলিমা আক্তার ও প্রতিবেশী চাচা হাকিম মুন্সীর স্ত্রী মোমেনা বেগম। মহর আলী তাদের দুজনকে কুপিয়ে জখম করেন। পরে স্থানীয় লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে মহরকে আটক করেন। চিকিৎসার জন্য মোমেনা বেগমকে গুরুতর অবস্থায় মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে ও তাসলিমাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেয়া হয়েছে।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ওই যুবক মস্তিষ্ক বিকৃত বলে তিনি শুনেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার ও অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

টাঙ্গাইলে মাস্ক বিক্রি করছে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিদ্যুৎ

মুখে মাস্ক, মাথায় টুপি, পরনে গেঞ্জি আর থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট, হাতে বাঁশের লাঠিতে ঝুলছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম-মাস্ক। ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন দামের মাস্ক বিক্রি করছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার সরকারি এস কে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিদ্যুৎ ইসলাম।

মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতাল রোডে দেখা মেলে ওই মাস্ক বিক্রেতার। শুধু হাসপাতাল রোডে নয়, করোনায় মাস্কের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন হাট-বাজারে গিয়েও মাস্ক বিক্রি করে সংসার চালায় বিদ্যুৎ।

মাস্ক কিনতে গিয়েই দেখা বিদ্যুতের সঙ্গে। তুমি পড়াশোনা করো না? আমার প্রশ্নের সহজ উত্তর, ‘অহন তো স্কুল বন্ধ, শুনছি এই বছর আর পড়ালেখা হইবো না। তাই বইয়্যা থাইক্যা কী লাভ? অহন মাস্ক বেচি।’

মা-বাবাসহ দুই ভাই ও এক বোন নিয়ে বিদ্যুতের ছয় সদস্যের পরিবার। ছোট থেকেই মির্জাপুরে নানা বাড়ি থেকে চলে পড়াশোনা। বাবা-মা ও ভাই-বোনেরাও থাকে নানা বাড়িতেই। তার দুই ভাই যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে স্থানীয় স্কুলে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে বোন। বাবার আয়ে চলতো পরিবার। কিন্তু মহামারি করোনায় কাজ হারিয়েছেন তিনি। আয় না থাকলেও খরচ বেড়েছে।

সংসার চালাতে তাই কাজে নামে বিদ্যুৎ। মাস্কের পাইকারি বিক্রেতা মামা ওয়াহেদুলের কাছ থেকে মাস্ক নিয়ে শুরু করে বিক্রি। ১ হাজার ৬০০ টাকা নিয়ে মাস্ক বিক্রি শুরু করে বিদ্যুৎ। চারদিকে যখন করোনা আক্রান্ত হওয়ার ভয়, তখন পেটের দায়ে মাস্ক বিক্রিতে নামা ছেলেকে বাঁধা দেননি মা-বাবা। প্রথমবার ৩ হাজার টাকা বিক্রি করে দেনা পরিশোধ করে ওই ‍স্কুল শিক্ষার্থী।

‘প্রথম দিকে পুলিশ এবং আর্মি কড়া টহল দিত। আর মাস্ক বিক্রি করতে দেখলে মা-বাবা নিয়া গালি দিত। খুব খারাপ লাগত। এখনো অনেকে খারাপ ব্যবহার করে’, জানায় বিদ্যুৎ।

মাস্ক বিক্রি করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় অনেকের দুর্ব্যবহার সহ্য করতে হয়েছে তার। আক্ষেপের সুরে বিদ্যুৎ আরও জানায়, ‘পেটের জন্যই তো আহি। হুদাই ধমক দিয়া তাড়িয়ে দেয়। দোকানের সামনে দাঁড়ালে দোকানদার গালি দেয়।’

‘প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বিক্রি করি। ভালো লাভ থাকে। তবে আমি টাকা নেই না। মার কাছে নিয়্যা দেই। গত ঈদে আমার টাকায় ছোট ভাই-বোনরে নতুন জামা কাপড় কি-না দিছি। ওরা তো ছোট। বোঝে না’, বলে বিদ্যুৎ।

অনলাইনে ক্লাস করছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ বলে, ‘আমার তো স্মার্টফোন নাই। তাই অনলাইনে ক্লাস করতে পারি না। তবে প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পড়তে বসি। ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা আমার। এখন প্রাইভেট পড়া বন্ধ। স্কুলরে অনেক মিস করি আর বন্ধুদেরও।’

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে বন্যায় মানুষের মানবেতর জীবনযাপন

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দিন দিন বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়ে পরিস্থিতি চরম অবনতি ঘটছে। গত ২৪ ঘন্টায় বংশাই ও লৌহজং নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় বসত ঘর এবং বাড়ি বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

বিশেষ করে মির্জাপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এতে করে পানি বন্দী দেড় হাজার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, বংশাই নদীর পানি বেড়ে গিয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যার ফলে নদী তীরবর্তী এই ওয়ার্ডের সওদাগরপাড়া ও বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকার কয়েকশ পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।
এছাড়া বংশাই নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় উঁচু স্থানে ও ব্রীজে আশ্রয় নিয়েছে অনেকে।

এদিকে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বন্যা কবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বন্যা পানিতে বাড়ি-ঘর তলিয়ে যাওয়ার কারণে সওদাগরপাড়ার ৩৫০ টিরও বেশি পরিবার গবাদিপশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে নিকটবর্তী বংশাই ব্রীজে।

এতে করে বন্যা কবলিত বিশাল জনগোষ্ঠীর মাঝে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। একই সাথে গো খাদ্যের অভাবে গরু-ছাগল নিয়ে বিপাকে পড়েছে অনেকেই।

এছাড়াও বন্যা দুর্গত পরিবারের শিশু ও বয়স্করা পানিতে পড়ে যাওয়ার আশংকায় রয়েছেন। সেই সাথে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগের সংক্রমণের সম্ভাবনা আছে। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে বিষাক্ত সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় এবং গাদাগাদি করে থাকার কারণে করোনার বিস্তার লাভের শংকা রয়েছে। যার ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে অতি কষ্টে জীবনযাপন করছে অসহায় এসব পরিবার।

বন্যা দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, রাতের আঁধারে সামর্থ্যবান অনেককেই স্বজনপ্রীতি করে জনপ্রতিনিধিরা ত্রাণ বিতরণ করলেও ব্রীজে আশ্রয় নেয়া মানুষেরা কোনো খাদ্য সহায়তা পাননি।

তারা দাবি করেন সরকারের দেয়া ত্রাণ সহায়তার সুষম বণ্টন করা হলেও তাদের কাছে এসে সেই ত্রাণ পৌঁছায় না। এমতাবস্থায় দু-এক বেলা কোনোমতে খেয়ে জীবন অতিবাহিত করছেন এসব নিম্ন আয়ের মানুষ।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক বলেন, তিনি বন্যা কবলিত ওই এলাকাটি পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের সাথে কথা বলে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। এসময় তিনি তাদের বন্যার পানি থেকে শিশু ও বয়স্কদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। কেউ ত্রাণ পেয়ে না থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

এছাড়া মির্জাপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যায় ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে ঘরবাড়ি, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তলিয়ে যাচ্ছে বাড়িঘর। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজারো পরিবার। এদিকে বন্যা ও নদী ভাঙন আতঙ্কে আছেন নদী পারের মানুষ।

সরজমিনে দেখা যায়, অবিরাম ভারী বর্ষণ ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নতুনসব এলাকা প্লাবিত হচ্ছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায়।

মির্জাপুর পৌর শহরের কয়েকটি ওয়ার্ড বর্তমানে পানির নিচে। এতে করে বাড়িঘরের সাথে রাস্তাঘাট প্লাবিত হওয়ায় প্রধান বাজারে আসার বেশ কয়েকটি সড়ক দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে শতাধিক পরিবার। ইতোমধ্যে বেশকিছু বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ইউনিয়নের প্রধানসব রাস্তা প্লাবিত হয়েছে। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছে ওই ইউনিয়নের মানুষ।

এছাড়াও বহুরিয়া মহেড়া, ভাদগ্রাম, লতিফপুর, আনাইতারা, বানাইল, ভাওড়া, জামুর্কী, উয়ার্শী, তরফপুর ইউনিয়নে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রায় হাজার হাজার পরিবার বন্যার কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এদিকে বানভাসী মানুষের জন্য বিভিন্ন সহায়তার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের ত্রাণ সহায়তা বন্যা কবলিত এলাকা ফতেপুর, মহেড়া, ভাদগ্রাম, তরফপুর, লতিফপুর, বহুরিয়া ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ২৭ টন চাল বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

পর্যাপ্ত ত্রাণ ও শুকনা খাবার আছে উল্লেখ করে বলেন, পানিবন্দি মানুষের তালিকা করা হচ্ছে, এছাড়াও আমাদের হট লাইন নাম্বার-০১৩০০৭৪৮২৮৭ চালু আছে। সেখানে কেউ যোগাযোগ করলে তাদের সহায়তা করা হবে।

(রাইসুল ইসলাম লিটন, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বলরাম রাজবংশী নামে এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ভাওড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বলরাম রাজবংশী উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের বহুরিয়া গ্রামের আনন্দ রাজবংশীর ছেলে। তিনি মির্জাপুর সরকারি কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বর্ষার শুরুর পর থেকে বলরাম নৌকায় যাত্রী পারাপার করার কাজ করতো। মঙ্গলবার বিকেলে নৌকায় যাত্রী নিয়ে বহুরিয়া থেকে উপজেলার সরিষাদাইড় যাওয়ার পথে ভাওড়া বিলে পৌঁছালে বিদ্যুতের মেইন তারের সাথে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়।

এতে সে নৌকা থেকে ছিটকে পানিতে পড়ে যায়। নৌকার যাত্রীর চিৎকারে লোকজন গিয়ে খোঁজাখোঁজি পর প্রায় ১৫ মিনিট পর পানির নিচ থেকে তাকে উদ্ধার করে।

আহত অবস্থায় কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাতে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ওসি সায়েদুর রহমান বলেন, আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহ বিনাময়না তদন্তে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে ভুতুড়ে বিল দিয়ে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

প্রায় দেড় লাখ গ্রাহকের নামে ভুতুড়ে বিল দিয়ে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বিরুদ্ধে।

ফারিদা ইয়াসমিন নামে বাড়ির ভাড়াটিয়া গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, তার নামে মাসিক বিলে ৫০০ টাকার বিলে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে ১৫ হাজার টাকার বিল। অথচ প্রতি মাসে তিনি ৩৫০-৫০০ টাকা বিল দিয়ে আসছেন।

ভুতুড়ে বিলে হাতিয়ে নেওয়া টাকার পরিমান প্রায় ১০ কোটি টাকা বলে ভুক্তভোগী অসহায় গ্রাহকরা জানিছেন।

করোনার ভাইরাসের সুযোগ নিয়ে এই দুর্যোগের মুহুর্তে গ্রাহকদের জিম্মি করে ভুতুড়ে বিল নেওয়ায় চরম বিপাকে পরেছেন ভুক্তভোগী অসহায় দেড় লক্ষাধিক পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক।

আজ রবিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শতশত গ্রাহক এ অভিযোগ তুলে ধরেন।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর পৌরসভা, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, গোড়াই, লতিফপুর, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়ন এবং পাশ্ববর্তী সখীপুর উপজেলা এবং বাসাইল উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ অধীনে মির্জাপুর জোনাল অফিস এবং গোড়াই জোনাল অফিস। সব মিলিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ এর গ্রাহক সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার।

এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক এক লাখ ১৮ হাজার ৩৮৮ জন, বাণিজ্যিক গ্রাহক ১০ হাজার ২১৭ জন, ক্ষুদ্র শিল্প গ্রাহক ৩৮৫, সেচ পাম্প গ্রাহক ৩ হাজার ৫৫০ জন, ব্যাটারি চালিত ছোট শিল্প গ্রাহক ৩ হাজার এবং অন্যান্য গ্রাহক ৯৭০ জন।

অভিযোগ উঠেছে জুন ক্লোজিংয়ের নামে এপ্রিল, মে ও জুন মাসে প্রায় দেড় লাখ গ্রাহকের নামে ভুতুড়ে বিল দেওয়ায় অতিরিক্ত টাকা গুণতে হচ্ছে অসহায় গ্রাহকদের।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি না গিয়ে মিটারের রিডিং না দেখেই অফিসে বসে নিজেদের ইচ্ছেমত বিল বানিয়ে গ্রাহকদের পাঠিয়েছেন।

প্রায় দেড় লাখ গ্রাহকের নামে গড়ে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা ভুতুড়ে বিল দিয়ে এপ্রিল ও মে মাসে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মির্জাপুর ও গোড়াই জোনাল অফিস।

শনিবার গ্রাহকদের মধ্যে তক্তারচালা এলাকার আবাসিক গ্রাহক ফরিদা ইয়াসমিন অভিযোগ করেন, তিনি প্রতি মাসে ৩৫০-৫০০শ টাকা বিল দিয়ে আসছেন। এ মাসে তার নামে ১৫ হাজার টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। এটা কি করে সম্ভব। আমরা কি বিদ্যুৎ ভাতের পরিবর্তে খাই।

জামুর্কি ইউনিয়নের আগধল্যা গ্রামের আবাসিক গ্রাহক খন্দকার আশরাফুল আলম অভিযোগ করেন, প্রতি মাসে তিনি ৩৫০ টাকা থেকে ৫৬০ টাকা বিল দিয়ে আসছেন। মে মাসে তার নামে বিল দেওয়া হয়েছে ৫ হাজার ২৯৫ টাকা।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ দেওয়ার পরও কোন প্রতিকার পাননি। বাধ্য হয়ে ৫ হাজার ২৯৫ টাকা বিল পরিশোধ করেছেন।

একই অভিযোগ করেছেন মির্জাপুর বাজারের খান টেড্রার্সের মালিক ব্যবসায়ী মো. আতোয়ার রহমান খান সাদত।

তিনি অভিযোগ করেন, করোনার কারণে গত তিন মাস তার দোকান বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়নি। তারপরও তাকে ৫০০শ টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ অফিসে বার বার অভিযোগ দিয়েও তারা কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। বরং বিল পরিশোধ না করলে মিটার কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

একই অভিযোগ তুলে ধরেন গোড়াই শিল্পাঞ্চলের বেশ কয়েকজন শিল্প, সেচ ও ক্ষুদ্র শিল্পের গ্রাহক। তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শতশত গ্রাহক।

টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ মির্জাপুর এবং গোড়াই জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মোর্শেদুল ইসলাম এবং (ডিজিএম) মো. সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, গত কয়েক মাস ধরে তীব্র গরম থাকায় গ্রাহকরা বিদ্যুৎ ব্যবহার বেশি করেছেন। এ জন্য বিল বেশি এসেছে। বিদ্যুৎ ব্যবহার সম্পর্কে গ্রহকরা জানেন না। যারা বিল পাওয়ার পর অফিসে যোগাযোগ করছেন তাদের বিল সমন্ময় করা হচ্ছে। যাদেও নামে বিল বেশি দেওয়া হয়েছে পরবর্তী মাসের বিলের সঙ্গে অতিরিক্ত টাকা সমন্নয় করে দেওয়া হবে বলে তারা দাবি করেন।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

স্বপরিবারে করোনামুক্ত মির্জাপুরের সাবেক এমপি আজাদ

টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী সপরিবারে করোনামুক্ত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাদের সুস্থ ঘোষণা করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ২৪ জুন তিনিসহ তার ছেলে-মেয়ের নমুনা সংগ্রহ করে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা পরদিন ঢাকায় প্রেরণ করেন। এরপর ২৮ জুন পরীক্ষার প্রাপ্ত রিপোর্টে সাবেক এমপি কালাম ও তার মেয়ে তানিয়া আজাদের করোনা শনাক্ত হয়।

পরের দিন ২৯ জুন তার ছেলে ফারহান আজাদ মুগ্ধর করোনা পজিটিভ আসে।

পরবর্তীতে তারা তিনজন বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নেন।

এরপর তার স্ত্রী ফাতেমা আজাদও করোনায় আক্রান্ত হলে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) তার ফলোআপ রিপোর্ট নেগেটিভ আসলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে সুস্থ ঘোষণা করে।

বর্তমানে তারা সবাই সুস্থ অবস্থায় নিজ বাসভবনে অবস্থান করছেন।

আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ঈদুল ফিতরের পূর্বে তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এবং পৌরসভার ওয়ার্ডগুলোতে কর্মহীন প্রায় সাত হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছেন। করোনাকালে মির্জাপুরবাসীর পাশে থেকে অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন।

পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর থেকে দলীয় নেতা-কর্মীসহ যারা নিয়মিত তার খোঁজ-খবর নিয়ে রোগমুক্তি কামনা করেছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও একই বছর ১২ জুন অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসন থেকে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ধরে মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-

মির্জাপুরে করোনায় ব্যবসায়ীর মৃত্যু

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে করোনা ভাইরাসে মো. আবু হানিফ মিয়া (৬২) নামে এক ব্যবসায়ী মারা গেছেন। বুধবার (১৫জুলাই) সকাল ১০ টার দিকে সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আবু হানিফ মিয়ার গ্রামের বাড়ি মির্জাপুর পৌরসভার পুষ্টকামুরী গ্রামে।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল জেলায় আজ বুধবার নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩১ জন। মির্জাপুর উপজেলায় ৩৩৮ জনসহ টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলায় মোট আক্রান্ত সংখ্যা ১ হাজার ৩০ জন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূত্র জানায়, মির্জাপুর পৌরসভায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মির্জাপুর উপজেলায় এ পর্যন্ত ৩৩৮ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং করোনায় মারা গেছেন ৭ জন যা টাঙ্গাইল জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে সর্বাধিক। প্রতিদিন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৬২ জন। হাসপাতাল ও বাসা বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন ১৬০ জন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক মোস্তাকিম বলেন, ‘করোনায় যারা আক্রান্ত হয়েছেন তারা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ বাহিনী এবং স্বাস্থ্য বিভাগ দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার জন্য জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে।’

(মির্জাপুর সংবাদদাতা, ঘাটাইল ডট কম)/-